অন্য পুরুষের গল্প

Drama Action Thriller

3  

অন্য পুরুষের গল্প

Drama Action Thriller

পুরুষ দেহব্যবসা (চতুর্থ পর্ব)

পুরুষ দেহব্যবসা (চতুর্থ পর্ব)

6 mins
444


“তুই!!!”


ছিটকে পিছিয়ে আসে সাত্ত্বিক।


মলিনতার মায়া মুখের ছায়া

দুই চোখের পাতাতে ভালোবাসার ঘাতকতা।

অধরের ফাঁকে আত্মসম্মান হারানোর স্পষ্ট ছাপ,

শিশ্ন, পায়ু, বক্ষের বিভাজিকাতে চাহিদার নষ্ট হবার দাগ!!!

অন্ধকার গলির বাঁকে বাঁকে একটুখানি নীলাকাশ দেখার সুযোগ পায়না এই রাতের

পুরুষ পতিতা।

পার হয় রাত থেকে দিন তবুও সে আশা ছাড়ে না পবিত্রতার

বার্তা পাঠায় নীলকণ্ঠ পাখির ঠোঁটে

‘মেঘবালিকার সঙ্গ চাই আমার’...


“আজ তো তুই অনেক খুশী তাই না। তুই বা তোরা আমার জীবন নষ্ট করতে চেয়েছিলিস ঝিলিক। চেয়ে দ্যাখ আমাকে, আমার দিকে। আজ তোরা সবাই জিতে গিয়েছিস। আজ আমি পরাস্ত!!! লড়াই করতে করতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে আমার। আমার কাছে যাবার আর কোন উপায় নেই। চোখ দিয়ে জল পড়ছে কেন তোর? আজ প্রাণ খুলে হাস তুই। তোকে আমি বারবার সাবধান করেছি কিন্তু তুই না শুনে নিজের কারণে ফেঁসে আমাকে বিপদে ফেলেছিলি। তুই ‘বন্ধুত্ব’ শবটাকে কলঙ্কিত করেছিস ঝিলিক। তোর জন্য আজ আমার বাব-মায়ের মনের ইচ্ছে আমার দুই চোখের সব স্বপ্ন শেষ!!!” 


কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে মাটিতে বসে পড়ে সাত্ত্বিক। ক্লান্ত পথিকের মতন আজ সে হয়ত ছায়া খুঁজছে। আজ সব কষ্ট-ব্যথা-বেদনা, সব অভিযোগ, সব মানঅভিমান বেড়িয়ে আসতে চাইছে। ক্রমশ সে আরও জোরে কাঁদছিল।


আচমকা সাত্ত্বিকের পায়ের কাছে বসে পড়ে ঝিলিক।


“আমাকে ক্ষমা করে দে বাবু। আমি জানি সবার সব অপরাধের শাস্তি মানুষ দেয় না সেটা দেয় ঈশ্বর। দ্যাখ আজ আমিও ভালো নেইরে। আমিও খুব কষ্টে আছি। প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা রাত আমার কাছে বিভীষিকা। রোজ মরতে ইচ্ছে করলেও শুধু তোর কাছে ক্ষমা চাইব বলে আমি আত্মহত্যা করিনি।”


সাত্ত্বিক ঝিলিককে ধরে বিছানায় বসায়। আজ সত্যি গ্রামের উচ্চবিত্তের সুন্দরী সেই মেয়েকে চেনাই দায়। শাঁখা-সিঁদুরের আড়ালে কোথাও সেই প্রাণোচ্ছল গ্রাম্য কিশোরীকে খুঁজে পায় না সাত্ত্বিক। শহরের বড়লোকের বউ বলেই শরীরে দামী শাড়ি-গয়না-ক্রিম আর পারফিউম।


“ঝিলিক। আমার কাছে কেন চাইছিস ক্ষমা? কি লাভ বলতে পারিস? পরবি আমার সেই গ্রামের বাড়ি, উঠোন, সেই মাঠ-ক্ষেত ফেরত দিতে পারবি? পারবি ঝিলিক? পারবি আমার বাবা-মা আর আমার দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া জোড়া দিতে? পারবি আমার অতীত ফিরিয়ে দিতে?”


আচমকা তুমি?

এসেছো কি পথ ভুলে?

শোণিতধারায় বইছে স্পর্ধার শিখা

দাঁড়িয়ে রইলাম আমি নাম-না-জানা উপকূলে।


রিক্ত একাকী গোধূলির সাক্ষী আবদারি ঢেউ...

সুউচ্চ সেই উপন্যাস

ক্ষতবিক্ষত দঙ্গলে প্রেমের আলপনা আঁকে না কেউ।


পরিবর্তনের ফাঁকে পরিচিত শিহরণ খোঁজে স্নায়ু, 

মনখারাপ করা মেঘের ক্যানভাসের

জাতিস্মর একাএকাই লিখে যায় অনুভূতির পরমায়ু। 


রাধা চোখের জল মুছে সাত্ত্বিককে পাশে বসায়।


“তুই গ্রামে ফিরে চল। আমাকে ক্ষমা করতে হবে না কিন্তু তুই ফেরত চল বাবু। সবাই তোকে চায় সবাই তোকে খুব মিস করছে। কিন্তু তুই এই লাইনে? কেন? পালিয়ে অন্য কোথাও যেতে পারিস নি? এমন কোথাও যেতে পারতিস যেখানে আমরা তোকে খুঁজে পেতাম না, সমাজের খারাপ লোকেরা তোকে ছুঁতে পারত না। পড়াশুনা শেষ করেছিস তুই? ব, না বাবু আমাকে বল...”

“কি শুনবি ঝিলিক? কি লাভ শুনে? হ্যাঁ আমি পড়াশুনা শেষ করেছি। আর এই লাইনে এসেছি আমার ভাগ্যের ফেরে।”


সাত্ত্বিক তার কলকাতায় আসা থেকে পলাশদা সব কথা বলে।


“কিন্তু ঝিলিক, তোকে তো মনে হয় বিবাহিত? তুই আজ এইভাবে?”

“জানিস তুই পালিয়ে যাবার খবরে আমি হতবাক হয়ে বসে ছিলাম দাওয়াতে। বাড়ির লোকেরা আর সবাই আলোচনা করছিলো। আমি ফোন নিয়ে সুইচঅফ করে দিই। আমারও একটা সময় মনে হয়েছিলো তোকে খুঁজি কিংবা আমিও পালাই। তুই ছিলিস আমার একমাত্র বন্ধু। আমি তোর কথা শুনিনি বলেই আমার আজ এই অবস্থা। আমি ভেবে পেলাম না তুই পালালি কেন? না পালিয়ে আমাকে বিয়ে করলে কি হতো তোর? দুইজনে সংসার করতাম... কিন্তু...”


আস্তে আস্তে অতীতে ডুবে যায় ঝিলিক


ফ্ল্যাশব্যাক


ঝিলিক একমনে ভাবছে সাত্ত্বিককে নিয়ে। সত্যি তো বিয়ের পর একজন ছেলেকে সংসারের হাল ধরতে হয়, টানতে হয় জোয়াল। একমাত্র ভালো রেজাল্টের জন্য চাকরি পেলে উজ্জ্বল ভবিষ্যত নাহলে সব সার্টিফিকেট ফাইল বন্দী। সেই সময়ে আর অতীতের ভালো রেজাল্টের কথা মাথায় আসে না কারণ চিন্তা হয় কিভাবে সংসার চালাবো।


একজন পুরুষকে শরীরের শেষ ঘাম দিয়ে পরিশ্রম করতে হয় ভাতের কারণে। সবই পেটের দায়। অর্থের দিক থেকে গরিব হলেও সাত্ত্বিকের মা স্বপ্ন দেখেছিলো ছেলে বড় হবে আর আজ তার কারণে সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ।


নিজের ভুলের খেয়ারত দিতে হচ্ছে তারই একমাত্র বন্ধু সাত্ত্বিককে।


ঝিলিক একটা ঘোরের মধ্যে হাঁটতে থাকে গ্রামের পথ দিয়ে। গাছের ফাঁক গলে চাঁদের আলো মাটিতে পড়ে রুপালী রঙ নিয়েছে। ঝিলিক মন খারাপ করে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছে সবাই এবার তার বদনাম করবে। লোকের অপবাদে সে হারিয়ে ফেলবে বেঁচে থাকার ইচ্ছে।


“কাকিমা!!! আমাকে ক্ষমা করে দাও...”


সাত্ত্বিকের মা কিছু না বলে ঝিলিকের মাথায় আদর করে বলে...


“আমি তো নিমিত্তমাত্র। ওই ওপর জগতের অধীশ্বর বসে আছে। তিনি সব দেখে সবার বিচার করেন মা। আমাকে কি লাভ বলে।”

“কিন্তু কাকিমা...”

“দ্যাখ দ্যাখ কতো ভালো রেজাল্ট করেছে বাবু। ওই দ্যাখ সবাই এসেছে। পুরস্কার দিচ্ছে সবাই ছবি তুলছে...”

“কি সব বলছো তুমি?” 

“এই দ্যাখ ও চাকরি পেয়েছে। এবার আর দুঃখ থাকবে না। দ্যাখ ঝিলিক দ্যাখ আমার বাবু কতো বড় চাকরি পেয়েছে এবার রোজগার করবে।”


আমার জন্য একটা রক্তপলাশ আকবে তোমার সাতরঙা ক্যানভাসে?

মনের আবেগ আর অনুভূতি নীরবেই আঁকিবুঁকি কাটতে ভালবাসে।


প্রদীপের সলতেতে জমিয়ে রেখেছি আলো-আঁধারের লুকোচুরি,

বইয়ের মলাটে না হয় সাজিয়ে দিও মেঘ-বৃষ্টির লাভস্টোরি।


সমপ্রেমের স্টেশান হুইসেলের আদুরে সুর পাঠিয়েছও যেই,

মল্লার রাগ জানে অভিধানে কোথাও দুঃখ লেখা নেই...


“জানিস বাবু আমি তোর মায়ের কথাগুলো একমনে শুনছিলাম কিন্তু বলতে পারছিলাম না। সত্যি তো আমার কারণে আজ এই দশা। কিন্তু গর্ভের মধ্যে একজনের আগমনের অনুভূতি হচ্ছিলো আমার।”

“ঝিলিক!!!”

“হ্যাঁ রে সেদিন উপলব্ধি করলাম সব অপরাধ আমার। আমি ঈশ্বরের কাছে নিজের সব পাপের শাস্তি চাইলাম আর চাইলাম তুই যেন তোর লক্ষ্যে পৌঁছাস।”

“তোর সেই সন্তান?”

“পরেরদিন বাড়ির লোক আমার সেই পাপকে মেরে ফেলে। আমিও তো পাপী, সাজিয়েছিলাম একটা পাপের অলীক গল্প আর তাই যা হবার তাই হলো।”

“আমার মা!!!”

“দিনের পর দিন গ্রামের লোকের অপমান আর সইতে পারছিলো না কাকিমা।”

“ঝিলিক!!!”

“আমি সহ্য করতে না পেরে সবার সামনে সত্যি স্বীকার করলাম কিন্তু কাকিমা আর বদলালো না। আমি চেয়েছিলাম পাপের শাস্তি আর কাকিমার শান্তি কিন্তু পারলাম না। তোর কোন খবর নেই, নেই কোন ঠিকানা, ফোন নম্বর। কাকিমার কাছে গিয়ে বাবা-মা-দাদা গ্রামের সবাই ক্ষমা চায় কিন্তু কেউ বোধহয় কষ্টটা কমাতে পারে নি। কাকিমা সব সময়ে বলতেন একমাত্র আমার বাবুই পারবে এই অশিক্ষার অন্ধকার দূর করতে।”

“ঝিলিক তোর জন্য...”

“আমার একমাত্র আমার জন্য সবকিছু বলেই আমার বাড়ির লোক আর গ্রামের সবাই তোর আর কাকিমার এই অবস্থার জন্য দুষতে লাগল। কতো অপবাদ, বদনাম, দুর্নাম, মার খেয়েছি সেটা আমিই জানি। আসলে সেটাই আমার প্রাপ্য ছিলো। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিলো তোকে খুঁজে তোর কাছে ক্ষমা চাই। আমার কারণে গ্রামের স্কলার ছেলে আজ গ্রামছাড়া।” 


নিদ্রামগ্ন তিলোত্তমা যখন...

একজন পুরুষ

না ঘুমিয়ে শরীর সে বিক্রি করে তখন

মানুষরুপী পিশাচদের সাথে বিছানায়

রোজ রাতে ছিঁড়ে খায় তার শরীরটাকে

দলার মতন কান্না লুকোয় সে হাসির মাঝে,

কালচে দুইচোখের স্বপ্নগুলো

ভঙ্গুর... একাধিক জোরজার বৃথা চেষ্টা

আকাশের পানে চেয়ে আজো সে স্বপ্ন আঁকে

না হয় একটু বেঁচে থাকা

আজ সময়ের বাঁকে নিজের নাম হারিয়ে

সমাজের তকমা গায়ে

বেশ্যা নয়ত কতি

ভুলিয়ে দিয়েছে সভ্যতা

রক্তমাংসে গড়া- সে যে পুরুষ!!!


“কিন্তু ঝিলিক কি কারণে তোর সেই অবস্থা হয়েছিলো?”

“শুনবি?”

“হ্যাঁ বল আমাকে।”

“ছেলেটার নাম ছিলো মাধব প্রসাদ। মেদিনীপুরের ব্যবসায়ী।”

“আলাপ তোর সেই ফেসবুক থেকে?”

“হ্যাঁ। আমি মেসেঞ্জারে পাঠানো ছবি দেখে পুরো পাগল হয়ে গিয়েছিলাম।”

“বুঝলাম।”

“তোর মনে আছে তুই অসুস্থ হয়েছিলি।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ।”

“সেইসময়ে আমারা দেখা করতাম ঝাড়গ্রামে রোজ।”

“কজেল আর টিউশানে না গিয়ে?”

“হ্যাঁ। বিশাল পয়সা, হ্যান্ডসাম ছেলে। আমরা ঘুরতাম, মজা করতাম আর রোজ হোটেলে গিয়ে মাততাম শরীরের খেলায়। ওই কয়েকদিন রোজ আমাদের সেক্স হয়। আমি তোকে যেভাবে চেয়েছিলাম বাবু সেইসময়ে আমি সেই ছেলেটার সাথে মিলেছিলাম।”

“ঝিলিক!!!”

“আমি কোথাও তোকে ভালবেসেছিলাম। সেটা কি আমার অপরাধ ছিলো?”

“হয়ত না কিন্তু তারপরে।”

“তারপরে একদিন আমি অপেক্ষা করলাম ওই ছেলেটার জন্য কিন্তু সে আসে নি। সেইদিন না আর কোনদিন আসেনি। ফোন সুইচঅফ এমনকি ফেসবুকের সেই প্রোফাইলের কোন হদিশ নেই। পরেরদিন একটা মেসেজ ‘আমাকে খুঁজে লাভ নেই কারণ আমি প্রত্যেক সাত-দশদিন বাদে একটা করে গার্লফ্রেন্ড বদলাই।” 


দিনের আলো আঁধার নামে, জ্বলে জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ

লোলুপ চোখ মাপে শরীর, কতটা খারাপ, হিসেব দিকবিদিক,

ঠোঁটে রঙ, চুলে ক্লিপ, শরীর এলিয়ে দাঁড়ায়,

কামুক চোখ গিলে খায় আমায় অপরিচিত হাত ছোঁয়ায়...

টাটকা শরীর চলে দরদস্তুর, “কতো দেবে বলো সোনা”

“আর কোন কতির এমন শরীর পাবি আমার মনা”!!!

হিসাব বরাবর শুরু হয় ঘরে তাড়াহুড়ো

উলঙ্গ আমি এবার ক্রমশ শরীরের খেলা শুরু।

ছিঁড়ে ফেলা বাইরের চামড়া সত্তা থেকে আমার

আঁচড়ানো-কামড় ঠিক যেন কসাইয়ের খামার।

মনের তৃপ্তি হলে উঠে যাস তোরা চলে

‘মালটা তুই খাসা’ এটা যাস বলে,

এই বাজারে শরীর চাই সবার, শরীরটা তো পণ্য

মনের খবর কেই বা রাখে, পুরুষ বেশ্যা মন হলো নগণ্য।


“কি জানিস বাবু। আমি আবার সেই ফাঁদে পা দিলাম। সেই অনলাইনের খোঁজা। পেলাম একজনকে আর তার হাত ধরে গ্রাম-বাড়ি সবার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে এখানে চলে এলাম। কেউ আসেনি, খোঁজ নেয়নি। শহরে আসার কয়েকদিনের মধ্যে আমার রাজপুত্রের আসল রূপ বাইরে এলো।”

“মানে কি বলছিস তুই?”

“হ্যাঁ রে আর সেটাই হয়ত আমার প্রাপ্য শাস্তি। তুই আজ বেশ্যা সেটা সবাই জানে কিন্তু একই কাজ রাতের পর রাতে করে আমি কেন বেশ্যা মাগী না সেটা বলবি বাবু?”

“ঝিলিক!!!”


সমপ্রেম, তুমি জানলার কাঁচে রেখে দিও জলের ছাপ,

সমপ্রেম, তুমি থার্মোমিটারে দিয়ে যেও উত্তাপ।

সমপ্রেম, তুমি তানপুরার সুরে লিখে যাও শ্রাবণের গান,

সমপ্রেম, তুমি আঙুলের ফাঁকে মুছে দিও অভিমান।

সমপ্রেম, তুমি কবিতায় এসো, এঁকে যেও আলপনা

মেঘমল্লার আবেগ জমিয়ে ভাসিয়ে দাও কল্পনা।

সমপ্রেম, তুমি নীলচে আদরে থামাও এই হাহাকার...

নীলকণ্ঠ পাখী প্রশ্ন পাঠায় সমপ্রেম তুমি কার?


ক্রমশ


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama