পরিচয়
পরিচয়
সোনার মা তুমি কি দেখেছিলে? আর বোলো না,দিদি সাড়া দিন এ কাজ ও কাজ করতে করতে , কিছু মনে করো না একদম ভুলেগেছি তোমার কথা ।দেখ ,কাল ই আমি যাবো খোঁজ নিয়ে আসবো এই কাপড়ে গাঠ দিয়ে রাখলুম ।আর ঐগাঠ দেওয়া কি আর মনে থাকবে ।এক বার নিজেই দেখো কাপড়ে আজ কটা গাঁঠ দিয়েছো । তা বলেছো সব সময় মনে থাকে না ঠিকই কিন্তু জানো গাঁঠটা হাতে পড়লেই তখন চিন্তে করি কি যেন কাজ কোন কাজটা রয়ে গেলো ।তা তোমার কথা মনে থাকবে ।না হয় তুমি একবার মনে করিয়ে দিও সকালের দিকে বাজারে যাওয়ার সময়ে ।কখন তুমি সকালে বেরিয়ে পড়বে তা আমি কি করে জানব । বরং তুমি যখন বেরোবে তখন একবার ঢু মেরে যেও। যদি কোন কথা বা জিনিষ আনার থাকে, যদি হয় তাহলে বলে দেব । ঠিক আছে বলে সোনার মা দোতলায় চলে যায় ।
সোনার মা পাড়ার সব খোঁজ খবর রাখে ।কে কোথায় কবে এলো ।কত দিন থাকবে ।সব গুছিয়ে ঘরের খবর হাসিমুখে লোকেদের কাছ থেকে আদায় করে নেওয়ার কায়দা জানা আছে । তা ছাড়া লোকের আপদে বিপদে দৌড়ে যাওয়া ,তাদের সাহায্য করা এ গুণটা সোনার মার মধ্যে আছে ,এটা স্বীকার করতেই হবে ।অবিশ্যি এর জন্যে কথা ও কম শোনে না লোকদের কাছ থেকে । তা সত্ত্বে দৌড়ে যায়।এটা সোনার মার স্বভাব যা সে ছাড়তে পারে না ।
শিউলির বাবা আজকাল শিউলিকেপড়াবার সময় পান না মোটে ।তাই সোনার মাকে বলেছিল তুমি তো এদিক ওদিক যাওতো শিউলির জন্যে পড়াবার একজন মাষ্টার যদি খোঁজে থাকে তো বলো । শিউলির দিদিমা কয়েক দিন পরে সোনার মাকে জিজ্ঞেস করে ।কিখবর পেলে? সোনার মাকেও সব সময় বলা যায় না । নিজের সংসারের সব কাজ করে কারখানায় কাজ করে। তারপর অন্যদের কাজ যে যা বলছে তা করে দেওয়া হাসি মুখে অনেকেরই সাধ্যের বাইরে ।
কিবলবো দিদি,তোমার সামনেই তো গাঁঠটা বাধলুম,দেখলে তো কিন্তু সত্যেনের ছেলটা এসে তারপর বাবার শরীর খারাপ বলে ডেকেনিয়ে গেলো রাতে ব্যস।তারপর দিন ফিরলুম ।তোমার কথা বেমালুম মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে ।এমন কি তোমাকে যে সত্যেনের কথা জানিয়ে যাব সেটা ও হয়নি । সেই রাতেই সত্যেনকে হাসপাতাল ভর্তি করে রাত ভোর সেখানে থেকে পরের দিন আসি ।তবে সত্যেন আগের চেয়ে ভাল আছে । তুমি চিন্তে করো না ।দু এক দিনের মধ্যেই খবর ঠিক এনে দেবো ।তবে শিউলির বাবা যা বলেছে ,তাই ।তার বেশি যদি চায়,তাহলে কিন্তু আমরা পারবো না।এটা জেনো ।তা ঠিক আছে ।যা বললে সে রকম বলবো ।
তারপর দিন সোনার মা বাজার করতে যাওয়ার সময় চারুদির বাড়িতে উপস্থিত ।চারুদি জিজ্ঞেস করে ,কি ব্যাপার এত সকালে এসে হাজির।কিখবর আবার নিয়ে এলে ।সব ঠিক আছে তো? তা সত্যেনের কথা কালকেই রমেন বলছিলো । না না ,সত্যেন আগের চেয়ে ভাল আছে।দু চার দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেবে বলে শুনেছি ।তা তোমার কাছে এয়ে ছিলেম, তুমি তো জানো শিউলিদের। হ্যা,তা কি হলো কি? না ,শিউলির বাবা বলছিলো যে শিউলিকে যদি সৌমেন সময় করে একটু পড়িয়ে দেয়,তাহলে ভাল হয়। তাই । শিউলির বাবা সেই সকালে বের হয় আর রাত্রিতে ফেরে, সংসারে কি হচ্ছে না হচ্ছে দেখার সময়টুকু পর্য্যন্ত পায় না ।তাই ভাবলাম চারুদিকে একবার বলে দেখি, যদি সৌমেন পড়াতে পাড়ে,যদি সময় হয় । ঠিক আছে এখন তো তোমার সৌমেন একটু বাইরে গেছে আসলে বলবো ।তুমি সোনার মা তাহলে কাল এসো ।ও কখন পারবে না পারবে জেনে রাখবো ।ও যদি বাড়ি থাকে তাহলে তো সামনা সামনি কথা হয়ে যেতে পারবে ।তাহলে আজ চলি ।কাল এসে সব জেনে নেবো । সোনার মা বাজার করে সদর দরজা দিয়ে ঢুকছে সে সময়ে শিউলির দিদিমা সদরে দাড়িয়ে ।সোনার মা বলে আজ বাজার যাওয়ার রাস্তায় আগে চারুদির বাড়িতে খবরটা নিয়ে এলাম, সৌমেন বাড়ি ছিলনা না হলে ,আজকেই কথাটা হয়ে যেত ।কাল পাকা খবর নিয়ে আসবো বুঝলে ,দিদি ।যাই আমার আবার যাওয়া আছে ।তো তুমি এখানে দরজায়?না হেমেন দেখা করতে এসেছিল।চলেগেল ।তাই দাঁড়িয়ে ছিলাম । সোনার মা আর কথা না বাড়িয়ে দোতলায় চলে গেল । তারপর দিন সোনার মা আর চারুদির বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠেনি।কি এক কাজে সোনার মার দেরি হয়ে যায় ।অবিশ্যি সে কথা শিউলির মাকে এসে বলেছিলো ।বলেছিলো কাল তোমায় শিউলির খবরটা এনে দেবো । আজকে আর হয়ে উঠলো না ।পরের দিন কারখানা থেকে ফেরৎ রাস্তায় সোনার মা খবর নিয়ে আসে । সৌমেন পড়াতে রাজী আছে তবে রোজ আসতে পারবে না ।তবে তোমরা যেটা ভয় করছিলে তাতে না করেনি ।তিন দিন আসবে ।এখন তোমাদের মত যদি হয় তা হলে দু একদিনের মধ্যে চারুদিকে বা সৌমেনকে জানিয়ে দিলেই হবে।এখন ভেবে দেখে যেটা হয় বলো ।তা শিউলির বাবা রাতে ফিরলে,কথা বলি তারপর যা ঠিক হয় সেটা তোমায় বলবো ।তোমায় খবর বলে গেলুম ,তোমরা চিন্তে ভাবনা করে আমাকে বলো,তাহলে । কয়েক দিন পর, সোনার মা চারুদিকে গিয়ে শিউলির পড়ানোর কথা বলে আসে ।
। এর পর সৌমেন তার সময় মতো শিউলির বাড়িতে সন্ধ্যেতে এসে উপস্থিত হয় ।সৌমেনকে ঘরে বসিয়ে শিউলির দিদিমা শিউলিকে সৌমেনের সামনে নিয়ে আসেন ।এই হলো শিউলি, একেই তোমায় পড়াতে হবে ।কথা কিন্তু কম বলে । তোমাকে সব আর কি বলবো যাতে পড়টা ভাল করে সেটা করো । প্রথম প্রথম হয়তো তোমার অসুবিধে হবে একটু ।যা হয় নাহয় বলো আমাদের , এই বলে শিউলির দিদিমা বেরিয়ে গেলেন । সৌমেন সাধারন ভাবে স্কুলের পড়ার বই গুলো উলটে পালটে দেখে ক্লাসে কিভাবে পড়ায় জেনে শিউলিকে ছেড়ে দেয় ।যাওয়ার সময় শিউলির দিদিমাকে বলে যায় আজ প্রথম দিন তো তাই তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলাম। আগামী দিন থেকে পড়াব । এই বলে সৌমেন চলে আসে ।তবে শিউলিকে বলেপড়ার সাথে সাথে আমরা যে পড়াটা পড়লাম সেটা লেখার অভ্যাস করলে সে পড়াটা বেশী দিন মনে থাকবে ।তাতে পরীক্ষার সময় অনেক সুবিধে হবে ।তবে পড়ার বিষয়টা ছোট করে ধারা বাহিক ভাবে লিখলে বিষয় বস্তু মনে রাখতে সহজ হয় । যেটাই হোক না কেন একটা রাস্তা আমাদের নিতে হবে ,যে ভাবে যার সুবিধে ।
তোমার কি ভাবে সুবিধে সে বিষয়টা আমাকে বলবে ।অনেকে পুরোপুরিভাবে মুখস্থ করে খাতায় লিখে দিয়ে আসে।অনেকে নিজে বুঝে নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করে ।যদিও সে রকম ছাত্র ছাত্রীদের মাত্রা কম ।তুমি নিজে ভাল জান আর এটাও জানো এত বড় প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করা সম্ভব নয় ।সে জন্য বিষয় বুঝে নিজের ভাষায় উত্তর দিতে হবে । আজ এপর্য্যন্ত। তবে একটা কথা খেয়াল রাখতে হবে যে পরীক্ষায় বেশী পাতা লিখলেই যে বেশী নম্বর আসবে এটা নয় । উত্তর সঠিক হতে হবে ,খাতার পাতা নয় । যদি খাতার পাতা যে যত বেশী লিখতে পারবে সে তত বেশী নম্বর পাবে এরকম হতো তাহলে অনেকেই ইকড়ি মিকড়ি লিখে পাতা ভরিয়ে নম্বর পেয়ে যেত । কিন্তু তা হয় না ।
সৌমেন চলে যেতেই শিউলির দিদিমাএসে জিজ্ঞেস করলো ,কিরকম পড়ালে ।কি আবার পড়াবে তোমার, এরমধ্যেই শিউলির ছোট বোন শান্তা বলে উঠলো কিছু না খালি বক বক করেছে।আর দিদি হু হা করছে,আমি সব দেখেছি । শিউলির দিদিমা বলেন পড়াতে আসলে তুমি পড়াবার সামনে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে না ।আগে থেকে ।না আমি দেখছিলাম দিদি কি করছে ।কথা তো বলে না শুধু চিমটি কাটতে পারে । একদিন সৌমেনকে শান্তা বলে যা ভাবছেন দিদি কথা বলতে পারে না তা কিন্তু একদম নয় ।ভিজে বিড়াল হয়ে থাকে ।যাকে বলার তাকে ঠিক সময় মতো শুনিয়ে দেয় । খাপ পেতে থাকে।বুঝতে পারবেন না , আপনি । শুধু পড়ার সময় এমন ভাবটি করবে যেন মাছটি উলটে খেতে জানে না । বুঝতে পারবেন আপনি দু চার দিন পড়ে ।তখন আপনি আরে না তানয় তোমাকে তখন ডেকে নেব ,যখন এমন অবস্থা হবে । শিউলি এর কোন উত্তর দেয় না । শুধু বলে শান্তা, ও বলতেই থাকে ।এটা বোঝা যায় যে এক জন আরেক জনের স্বভাব ভিন্নতর ।যদিও একবারেই পুরো পুরি বলা সহজ নয় । শান্তা বলে দিদিমার আদরে শিউলির এটা হয়েছে ।দিদি যা বলছে আর যা করছে সবতাতেই দিদিমার সায় আছে ।আমি তখন কিছু বললে পড়েই সাতটা কৈফিয়ত ,কেন, কি, কোথায় কিভাবে সব নাড়ীভূড়ি খুলে বলতে হবে ।তবেই পার পেলে ।না হলে ঝুলে থাকো ।
।সৌমেন বেশ কিছু দিন যাতায়াত করার পর, শান্তার সমস্যাটা কোথায় সেটা জানতে পারে । এজন্যে শিউলি র ওপর রাগ বেশী ।শান্তাকে দেখে মনে হতো কাজে বেস চটপটে ।ওই রোজ সৌমেনের চা বানিয়ে দিয়ে যেতো পড়াবার সময়ে , সাথে দরকার হলে কথার চটপটিও । শিউলি সে কাজের দিক থেকে একটু দর মনেহয় ।পড়ার বিষয়গুলো ওযত তাড়াতাড়ি করা দরকার সেখানে ও আলসেমী । সেই আলসেমীর ফল দেখা দেবে পরীক্ষাতে।একথা সৌমেন সবার সামনেই বলেছিলো ।সেখানে শান্তাও দাঁড়িয়ে ছিলো ।মানুষ যে ভাবে নিজেকে গড়তে চাইবে সে অনুসারে সে গড়ে উঠবে,তার ভবিষ্যৎ হবে । শিউলি এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে , বন্ধু বান্ধবদের সাথে মিশছে,দেখছে জানছে ।আমরা তাকে তার উন্নতির জন্য যে সাহায্য চায় সেটার প্রতি সচেষ্ট হতে পারি । এটাই আমাদের কাজ ।
পরের দিন যখন সৌমেন পড়াতে আসে , শিউলি এদিক ওদিক তাকিয়ে কেউ আসছে নাতো ,দেখে নিয়ে সৌমেন কে বলে ওভাবে না বললেই চলছিলো না সবার সামনে আপনার । সবাই ভাবলো আমি পড়া সব ডকে উঠিয়েছি । তার জন্যে আমায় কথা শুনতে হলো । আপনি নিজে মাষ্টারমশাই গিরি দেখিয়ে নাম করলেন ।আহা রে টিচার ।এর মধ্যে শান্তা চা নিয়ে উপস্থিত ।কি হলো আপনার।না,কথা শুনছি ।
হ্যা,।হা করে শুনুন,এইবলে শান্তা হেসে বেরিয়ে গেলো ।শান্তার সাথে শিউলির একদম আদায় কাঁচ কলার সম্পর্ক। যদিও শিউলি কি বলে সেটা সব সময় শোনা যায় না ।তবে শান্তার কথা সবাই জানতে পারে, বাড়িতে যারা থাকে ।কেন জানা নেই শান্তা ধীরে বলতে পারে না । ওবলেঐমিনমিন করে বলা ও আমার পোষায় না ।ওটা দিদিই ভাল রপ্ত করেছে ।ওর কথা শুনতে গেলে আধ ঘন্টা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকো ।অত কিসের ?যা বলবো জোড়ে বলবো, মুখের দিকে না তাকিয়ে ও বুঝতে পারবে ।দিদির মাষ্টার যে কি করে যে দিদির কথা বোঝে তা সেই জানে ।সেদিন তাই দিদির মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলো ।আমি দেখেছি ।তা না তাকিয়ে বা করবে কি? ঐধীরে ধীরে ঠোঁট নাড়লে কে কি বুঝবে ।তবু সবার কাছে দিদি ভাল । দিদি ভাল ,ধীর ,স্থির ,সাত চড়েও রা করে না ।আর যদি রা করেও তা কান পর্যন্ত পৌঁছবে না ।দিদিমা বলে শিউলির বিয়ে দিতে কোন কষ্ট হবে না ।আর দিদি দেখতে ও মোটা মুটি পছন্দ না করার মত নয় । একবার দিদিকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসলেই হল ।ছেলে পক্ষ আসতেই যা দেরী ।যত গন্ডগোল এই শান্তাকে নিয়ে ।যা গলা মেয়ের দেখতে এসে গলা শুনেই বলবে আমাদের ঝিয়ের দরকার নেই । কোথায় দিদিমা বলবে তোরা ভালো করে পড়াকরে চাকরি কর,বড় হ তা না ,আগেই বিয়ে বিয়ে গান বাজাতে থাকে । যে কথাই বল না কেন ,দিদিমা,মাসিমারা ঠিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিয়ের একটা টান টেনে আনবে ।বুঝিনা ,দিদিমার একটাই কাজ। আমি বলি মেয়েদের আর কি কোন কাজ নেই?সরলা মাসিও সে দিন মাকে বললে ,দেখ মেয়ে বড় হয়ে উঠছে , সাবধান।যত সব সাবধান বাণী ।কেন মেয়েরা কি করেছে শুনি? কার পাকা ধানে মই দিয়েছে?কোথাওযেতে গেলে পাঁচ বার বল,তার পুরো নকশা শোনাও।তবে তুমি যেতে পারবে ।তা কেন? হরেন ,বাসু ওদের বাড়ির সরমা ওরা দিব্যি যখন ইচ্ছে বেরিয়ে পড়ে । ওদের বাবা ,মা কি ওদের মানা করে না ।যত মানা সব কি মেয়েদের জন্যে । আমাদের।
দেখ শান্তা তোমাকে সব বিষয়ে মাথা গলাতে হবে না । তোমাকে যা বলা হচ্ছে তা শুনবে ।দিন কাল ভাল নয় ।সরমা তপতীদের মত কথায় ়কথায় তর্ক করতে শিখো না ।দাদু বলতো আরে সব সময় ওদের বলা করো না । ওদের উঠতি বয়েস ,কোথায় খেলবে হুটো পাটি করবে তা নয়,যখন ই শুনি এটা করবি না,ওটা ধরবি না ।আরে ওদের, ওদের মতো একটু করতে দেও ।এবয়েসে না করবে তো করবে কি আমার বয়েসে ।থাক্ ,থাক্ তুমি এই করে আর নাতনিদের মাথাটা ঘুরিয়ো না । এমনিতেই যা হচ্ছে,তোমাকে আর তাল ধরতে হবে না । তোমার তো সংসারের কিছু পোহাতে হয় না তাই ।কি করে বুঝবে ।দাদু আর কথা না বাড়িয়ে বারান্দার দিকে এগিয়ে যেতো ।দিদিমা যা বলার বলে যেত ।দাদু এক কান দিয়েশুনতো আর এক কান দিয়ে বের করে দিত ।দাদুর অত বেশী আমাদের জন্যে বাধা ছিলো না । দিদিমা বা মা বেশী আমাদের ওপর বাঁধন দিতে গেলে, তখন দাদু বলতো তোমরা একবার নিজেদের সেই বয়সটাকে এক বার ভেবে দেখো ।অবিশ্যি যদি তোমাদের মনে পড়ে । কেন না, তোমাদের তো সেই কার কবে অন্নপ্রাশন হয়েছিলো , সেকি শালু পড়েছিলো সে দিন ।আরে না,সেকথা আমি বলছি না ।আমি বলছি তোমাদের তো আবার ভুলো মন ।তুমি তো বলো ,তোমার টাকা পয়সা গুনতে ভুল হয়ে যাচ্ছে,সোনার মাকে কি আনাবার জায়গায় কি আনিয়ে ফেলছো ।সব গুলিয়ে যাচ্ছে ।তাইবলা । ওদের বয়েসটার দিকে তাকিয়ে যদি বলো ।আর নাহয় সোনার মাকে বলো ও তো প্রায় বাজারে যায় ও যেন তোমার জন্যে মনে করে এক আঁটি ব্রাহ্মী শাক এনে দেয়,শুনছি ঐ শাক খেলে স্মরণ শক্তি বাড়ে ।আর আজকাল তোমার আবার ভুল হয়ে যাচ্ছে। ওটা খেলে যদি কিছু ঊনিশ বিশ হয় ।
আর এনিয়ে তোমাকে আর মস্করা করতে হবে না । তোমাকে তো সংসারের হাল ধরতে হয় না ।যদি রোজকার হাল ধরতে তো বুঝতে ।বলতে ওরকমই লাগে ।কি আর তোমরা কর ।ঐ তো সমান্য রান্না ।একদিন করে দেখাও ,তো জানি ।মুখ নাড়তে , অমন সবাই পারে ।যাও এখান থেকে ।মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে আরকথা ক ইও না । নাতনিদের তালে তাল দেও ।
দু দিন পরে শিউলি ,শান্তা পরের ঘড়ে যাবে,গাল মন্দ তোমায় শুনতে হবে না ।বলতে বলবে মা ,বাবা বাড়িতে কোন শিক্ষাই দেয়নি । সবারই একটা নিয়ম আছে ।খালি নাচলেই হলো ।বলা নেই ক ওয়া নেই ইচ্ছে মত বের হলাম আসলাম গেলাম সেটা কি সাজে ।না মেয়েদের পক্ষে ভালো ।আমার যা বলা সেটা ওদের ভালর জন্যে ।দেখলে না সে দিন সোনার মা এসে প্রশান্তের বোনের কথা বলছিল। ধর এই যে শিউলি স্কুলে যাচ্ছে সে যদি না বলে কোথাও যায় সেটা তার দায়িত্ব ।এটা তাকে বোঝা দরকার আর এমন শিক্ষা হবেই বা কেন যে সে যাবে তোমাদের না বলে ,অজান্তে ।যদি কোথাও যেতেই হয় সে ছেলেই হোক বা মেয়ে তাকে তো বলা একান্ত দরকার ।ছেলে বলেই যে মাথা কিনে নিয়েছে তা তো নয় । কিন্তু সেটা হচ্ছে কোথায় ।বিপিনের মা সেদিন বলছিলো ,বিপিন আজকাল কথাই শুনতে চায় না ।পড়ার দিকে ও মন নেই ।দেখলে তো কিছুটা বোঝা যায় ।কথা বললে চুপ করে শুনে ।জবাব দেয় না ।বড় তো হলো ।তা ,দিদি জানো বয়সটাইএমনি ।আরে দেখোনা আমাদের শিউলি ,শান্তাকে দিয়ে দেখতে পাচ্ছি,তাও তো ওরা মেয়ে তাই ।আর বিপিন তো তোমার ছেলে ।বাগে আনাই মুশকিল ।আমি তো শিউলির মাষ্টারকে বলে রেখেছি যদি তোমার কাজ শিউলি না করে বা কোন রকম এদিক ও দিক দেখ তাহলে সোজা আমাদের বলে দেবে ।কোন ভয় ডর করবে না ।আমি বলি দিদি তোমাকে, মাষ্টারকে ও অত বিশ্বাস করো না ।বলাতো যায় না শিউলির বাড় বাড়ন্ত শরীর বুঝতেই তো পারো ।তা তুমি কিছু মনে করো না , নিজের বলেই বললাম।
কাল দিদি তাহলে তোমাকে জামাগুলো সবদিয়ে যাব । আজ তা হলে আসি । দেখতে দেখতে শিউলির বছরের পরীক্ষা এসে গেল । কিন্তু শিউলির পড়া খুব একটা এগোয় না।বললেই বলে অত চিন্তা করতে হবে না । কিন্তু মাষ্টারকে নম্বর পাওয়ার চিন্তা করতে হয় ।যদি খাতায় কিছু লিখেই না আসে তাহলে নম্বর তো উড়ে এসে বসবে না ।সৌমেন অনেক বার শিউলিকে বুঝিয়েছে ।জোড়ে বললে আবার শিউলির অপমান ।এর আগে সবার সামনে বলে শিউলির কথা সৌমেন শুনেছে ।শান্তা এর আগেই বলেছিলো দেখবেন, শুনবেন, হা করে,যে কথা বলতে জানে না তার কথা ।আমি তো জোড়ে বলি, এইবলে শান্তা সেদিন ঘড় থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ।কথাটা পরে মনে হয়েছে শান্তা কথাটা ঠিকই বলেছিলো । শিউলি একে ধীরে কথা বলে যে অনেক সময় মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে হয় ।আর এক এক সময় দুবার বলো বলে বলতে হয় । শিউলির বাবা পরীক্ষার কিছু দিন আগে সৌমেনকে জিজ্ঞেস করলেন কি ব্যাপার মাষ্টার , শিউলির পাশ করার আশা ভরসা আছে তো ?না ,বলবে এক বছরে এত পড়া ,পড়া যায় না ।একটু বরং জিড়িয়েনি । সৌমেন বলে দেখুন শিউলি এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবে ।আরে ওকি আর জবাব দেয় ঠিক মতো ।এক জানতে চাইলে সেটার কথা না বলে অন্য কাহিনী জুড়ে দেবে । তুমিও হয়তো এটা লক্ষ্য করে থাকবে ।এতদিনে ।সত্যিকথা বলতে সেরকম পরীক্ষার তৈরি শিউলির হয়নি ।তারপর শিউলি তখন পরীক্ষার খাতায় কিলিখে আসবে তার ওপর নির্ভর করবে ।তবে আমি যখন শিউলিকে পরীক্ষার কথা বলেছি ,ও আমাকে বার বারই বলেছে অত চিন্তা করতে হবে না । সামনেই বসে আছে শিউলিকেই জিজ্ঞেস করতে পারেন ।শিউলি একদম চুপ।যদিও সৌমেন জানত যে এরপরের দিন আসলেই শিউলির কাছ থেকে দু চারটে কথা শুনতে হবে । কিন্তু সৌমনের কিছু করার ছিল না ।সৌমেনের মাষ্টার গিরির কথা শিউলি আগেই বলে রেখেছে । শিউলি সৌমেনকে ঠিক পছন্দ করে না । তার কারন সৌমেন অনেক সময় শান্তার কথায় সায় দেয় ,যেটা শিউলি একদম অপছন্দ ।শিউলি বলে শান্তার কথায় সায় দিতেই হবে। কেন না, ওতো আপনাকে রোজ চা এনে দেয় ।তার পক্ষে তো বলতেই হবে । সৌমেন বলে চা আনা আর না আনার সাথে সম্পর্ক টা কোথায় ?আমাকে যে কেউ এনে দিতে পারে ।তা বলে আমার যার কথাটা ঠিক মনে হবে তার পক্ষে তো কথা বলবো ।শান্তার কথা যদি ঠিক মনে হয় তাহলে তার পক্ষে আর যদি মনে হয় শিউলির কথাটা ঠিক তাহলে তার দিকে ।শিউলি ধীরে কথাবলে বলে শিউলির কোন ঠিক কথাকে সৌমেন ভুল বলেছে বলে মনে হয় না । কিন্তু সে দিন বাবার সামনে শিউলিকে সোজা সুজি জবাব দিতে বলায় শিউলি যে সৌমেনকে ছেড়ে কথা বলবে না সেকথা সৌমেন আগেই জানত ।শিউলি শুধু সময়ের অপেক্ষায় ছিল ।সে দিন শান্তা দিদিমার সাথে বাজার গিয়েছিলো। সেই সময়ে এদিক ওদিক লক্ষ্য করে কেউ যেন না শুনতে পায় ধীরে ধীরে সৌমেনকে বলে সেদিন আপনি বাবার সামনে বড় সাধু সেজে সব নাপড়ার দোষ চাপিয়ে দিলেন ।কেন আপনার এটা বলতে মুখে বাধলো যে না শিউলি চেষ্টা করছে,তা কেন বলবেন ? তাহলে আপনার প্রেস্টিজ এ আঘাত লাগবে ।তাই তো ।আপনি চলে যাওয়ার পরে সবাই মিলে আমাকে বলেছে ,আর স্কুল গিয়ে কাজ নেই, অনেক হয়েছে এবার ঘড়ে বসো ।মাষ্টার রেখেই বা কি ফল হচ্ছে।যদি বছরের পর বছর এক জায়গাতেই হাবু ডুবু খেলে । শুধু দাদুই তখন বললো শিউলি চেষ্টা করছে ঠিক পাশ করে যাবে ।ওর ওপর কিছুটা ভরসা তো রাখো । সবাই মিলে তোমরা তোওকে অভিমণ্যু বধের মতো করে তুললে ।শান্তা চুপ করে সব দেখছিলো ।দিদিমা বললো তাকিয়ে কি দেখছো ? এঅবস্থা তোমার ও হবে যদি না তুমি ঠিক করে এগোও । তাই বলছিলাম আপনি দয়া করে শিউলি পড়া করছে না ,কাজ করছে না এ কথাটা আর বাবার কাছে বলবে না ।তাহলে বাবা স্কুল থেকে নাম কাটিয়ে দেবে।
আগেই আপনাকে বলেছিলাম আমার ঘুরতে ভাল লাগে ।স্কুল না যেতে পারলে আমার বাইরে বের হওয়া বন্ধ ।বসে থাক বাড়িতে ।আর রাম নাম শোনো ।কার কি হলো ,কে কোথায় গেলো , কিভাবে গেলো,বিপিন কি করলো এইতো রাত দিন কথা শোনা ।আপনি কি চান আমি ঘড়ে বসে থাকি?
আপনাকে আগেও বলেছিলাম আমার ঘুরতে ভাল লাগে ।তাই আমি যখন স্কুলে যাই তখন চার দিক দেখতে দেখতে পার্কের পাশ দিয়ে ঘোরা পথ দিয়ে স্কুলে যাই ।তুমি যদি চাও যা তুমি বলছো তোমার বাড়ির বাইরে বের হওয়া বন্ধ না হোক, তাহলে একটাই কাজ সেটা তুমি নিজেও জান পড়াটাকে যতটা সম্ভব ,তোমার পুরো করা । তাহলেই আমার যা বলার সেটা পুরো হবে,আর তোমার যা ইচ্ছে তা অসম্ভব হবে না । নিশ্চয়ই তুমি আমার কথা বুঝতে পেরেছো ।যতখানি তুমি নিজেকে বোকা ভাব বা বলো তা তুমি ন ও ।
।শিউলি বলে আপনি ও খুব চালাক লোক ঠিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের কথাটা রাখলেন ।কি করা আমার কাজ ই এই ।আপনি উকিল হলে ভাল হতো । ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা রাখতে পারতেন ।তা তোমাদের সাথে থাকলে ও সে ওকালতি বিদ্যা আমার রপ্ত হয়ে যাবে । তা ভাল ই তো ।কালো কোট পড়ে বসবেন, আমাদের ঘ্যান ঘ্যান আর আপনাকে শুনতে হবে না ।আর শান্তার বাজখাই গলাও।সেটা ঠিক ।কালো কোটেরধারাটাইএকদম অন্য ।কথা তো অনেক হলো ।আমার কথা যেন মনে থাকে তাহলে স্কুল যেতে গিয়ে অনেক রাস্তা ঘুরতে পারবে ।আর নতুন রাস্তায় পৌঁছে ও যাবে ।তখন আপনি আমাকে সেই রাস্তা থেকে খুঁজে আনবেন? কথা না বাড়িয়ে সৌমেন উঠে পড়ে ।
বেশ কিছুদিন পরে এদিক ওদিক ঘোরার কথা ওঠায় শিউলি বলেআমি দিদিমাকে ঘুরবার কথা বলেছিলাম রাজ বাড়ি, রাজ বাড়ি বল তোমরা চল একবার দেখে আসি । কিন্তু দেখাবার বেলায় সব চুপ ।তখন কথা, কে যাবে । হাঁটতে পারব না বয়েস হয়েছে ।দেখ তোর বাবার ও সময় নেই,নানা বাহানা ।মোট কথা ঘরে মধ্যে থাকো ।আর আমাদের রামায়ন,মহাভারত শুনতে থাকো ।শিউলি আজ দেরিতে উঠলো । শান্তা আজ চা আনতে গিয়ে কাপটা ফেলে দিয়েছে ।কোন কান্ডজ্ঞান নেই ।সোনার মা আজ সকালেই বাজারে চলেগেছে, কিছু জিনিষ আনার ছিল,বলা হয়নি ।এইতো রোজকার খবর ।
কদিন হলো মাসিমার ঘরে মাসিমার আত্মীয় নাতি রজত এসেছে । শিউলির থেকে সামান্য বয়েসে বড় হবে ।মাসিমা শিউলির সাথে রজতকে পরিচয় করিয়ে দেয় ।মাসিমা বলে কাজের জন্য এসেছে দু চার দিন থাকবে। ঠাট্টা করে মাসিমা বলে দেখ শিউলকে তোর কেমন লাগে ।রজত ।দিদিমা বলে ওপছন্দ আর না পছন্দের বোঝে কি?
তৎখনাৎ শান্তা বলে একবার দোকানে দিদিকে নিয়ে গিয়ে দেখো ।দিদির কি কি পছন্দ তোমাদের দেখিয়ে দেবে । শুধু তাই নয় দোকানদার ওনাচতে থাকবে ।দোকানদার হাত জোড় করে বলবে এরকম খদ্দের যদি একটা পাই তাহলে আমার দোকান লাটে উঠতে সাত দিন ওসময় লাগবে না ।কেন দিদিমা তোমার মনে নেই সোনার মা সে দিন তোমাকে এসে বললো আরে বাপ ,শিউলিকে নিয়ে আর দোকানে যাচ্ছিনে ।সাড়া দোকান মাথায় করে শেষে বললো কিজানো দিদি,আমার পছন্দ হয়নি ।এই না বলে শিউলি দোকান থেকে বেরিয়ে এলো ।
শিউলিকে বলতেই বললো জিনিষ পছন্দ না হলে ও নিতে হবে, এটা কোথায় লেখা আছে ।তাই দিদি, তোমার ওই জিনিষ গুলো সব কেনা হলো না ।তুমি বরং এক দিন দেখে শুনে কিনে নিয়ে এসো ।তা হবে ।আজ ই যে দরকার ছিল এমন নয় । তবে তুমি ও দিকে যাচ্ছিলে তাই ভাবলাম যাচ্ছেই যখন তখন শিউলি ও সাথে গেলে ওর পছন্দমতো আনতে পারবে । আগেকার দিন নেই যে আমাদের পছন্দেই সব পছন্দ । দিন পাল্টেছে,সোনার মা ।তা তো আমি দেখেছি ।সে দিন সন্ধ্যের পর অফিস থেকে ফিরে দাদু শান্তাকে জিঞ্জেস করলো হ্যা রে ,শুনলাম শিউলি বাজারে গিয়েছিলো।তা কি বাজার করে ফিরলো ।এবার শিউলি বড় হয়ে গেছে আর চিন্তা নেই দর দস্তুর করে তাহলে জিনিষ পত্তর কিনতে পারবে ।তা তুইওতো সাথে যেতে পারতিস ,দেখতিস কিভাবে শিউলি দর কষাকষি করে । আমাকে সাথে নিলে ,তো যাব ।
।দিদিমা বললো ,আজ থাক তুই বরং আমার সাথে যাবি ।দু জনে যদি এক সাথে যায় তাহলে আর বুঝতেই পারছো কি কান্ডটা হবে।সোনার মার ক্ষমতা নেই সামাল দেয়া র ।তাই আমিই মানা করেছি ।শিউলি ও তো কম নয় । এদিকে সৌমেন বার বার শিউলিকে পরীক্ষার কথা বলে যাচ্ছে ।যা করার এসময়ের মধ্যে আমাদের সেরে নিতে হবে ।সরস্বতী পূজোর পর স্কুল থেকে পরীক্ষার তৈরী জন্য ছুটি দিয়ে দেবে ।স্কুলের পাট বন্ধ । একদম পরীক্ষার এড্ মিট কার্ড নিয়ে সোজা পরীক্ষার হলে । কিন্তু শিউলি সেই ধীমে চালে চলেছে ।মনে হয় পরীক্ষার বিষয়ে সৌমেনের চিন্তা একটু বেশি । সৌমেন কয়েক দিন লক্ষ্য করেছে শিউলি পড়ার ঘরেতে রজতের সাথে বসে হাসা হাসি করছে । সৌমেন তা দেখে একদিন বলেই ফেলে হাসা হাসির সাথে পড়ার পাতাটা উল্টে নিলে আখেরে কাজ দেবে ।আপনি যেন কি রকম মানুষ।একটু হাসাহাসি করছি তাও আপনার সহ্য হচ্ছে না?তোমরা হাসবে তাতে আমার আপত্তি নেই কিন্তু আগ ই বলেছি আমাদের কাছে দিন গুনে সময় বাকি আছে ।তারপরে যত ইচ্ছে হাস কেউ বলতে আসবে না । নিন ,এই নিয়ে আসলাম বইগুলো, এবার হয়েছে তো । শান্তা অবিশ্যি চা দিতে দিতে এর আগে একদিন বলেছিলো দিদির তো আজকাল রজতাদার সঙ্গে হাসা হাসিতেই কাটছে ।দিদিমা বেশ রাগ করেই দিদিকে বলেছিলো অত আড্ডা দেওয়া ভাল নয়।এর ফল কিন্তু ভাল হবে না । দিদিমা বলেছিলো কাজের সময় তখন তোমার দেখা পাওয়া যায় না । সেই সময় তোমার যতপড়ার কথা মনেপড়ে । এমন করলে চলবে না । কাজ সকলকেই করতে হবে ।খালি দাদুকে দু খিলি পান তৈরি করে দিয়ে দাদুকে হাতে রাখলাম আর কাজের বেলায় ফাঁকি দিলাম তা চলবে না । দিদি এক কান দিয়ে শুনে আর এক কান দিয়ে বের করে ফেলে।কেন আপনি এত দিনে ও দিদিকে বুঝতে পারেননি কি?বুঝেও কিছু করার নেই । শুধু বার বার বলা ছাড়া ।যদি কথা মানলো তো ভালো ।না মানবে সে সেই তার ফল ভোগ করবে ।এর মধ্যে স্কুলে গিয়ে শিউলি বন্ধুদের সাথে দেখা করে স্কুল থেকে এডমিট কার্ডনিয়ে আসলো । আবার কবে বন্ধুদের সাথে দেখা হবে তা জানা নেই । বা আর অনেকের সাথে হয়ত দেখা না ওহতে পারে ।কে কোথায় চলে যাবে । তাই শিঊলি ওদের ঠিকানা লিখে নিয়ে এসেছে ।এটাই সংসারে বর বিচিত্র যেসবার সাথেই ছেড়ে যাওয়ার কাহিনী সব সময়েই রয়েছে । কারো বেশি কারো একটু কম । এ ছাড়া কেউই নেই।যে হৈ হুল্লোর ওরা এত দিন সবাই মিলে স্কুল করেছে,আজ এডমিট কার্ড পাওয়ার সাথে সাথে মনে হয়, ওদের কাছে সকলে এক সাথে থাকার আনন্দের সময়ের দিনগুলো শেষ হয়ে গেলো । সাথে সামনে পরে রইল অজানা পথ । আবার যাত্রা ।
শিউলি সবার ভালবাসা ওআশীর্বাদ নিয়ে ইন্টার পরীক্ষা দিলো ।দাদুই শিউলির ভরসা ।দাদু বলে যাই হোক তোমরা যত বল না কেন ওঠি
