সেদিনের আমি
সেদিনের আমি
তোমাদের সাথে অনেক কথাই হয়েছে । তোমরা নানা ভাবে প্রশ্ন করেছো । কিন্তু জানো তো সবার উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়না ।না বলাই সবার সামনে ভালো ।সবাই তো তোমাদের মতো হয়তো সরল নয়,তাই সহজ কথাটা সহজ ভাবে নেবে না ।তার ডাল পালা গজিয়ে দিয়ে বিরাট এক গাছ তৈরি করে ফেলবে ।তখন সেই গাছকে নোয়ানো সহজ হবে না ।তার ডাল পালা কাটতে কাটতে সময় বেরিয়ে যাবে ।তোমরা জানতে চেয়েছিলে সবার ই এটা মনে হবে সত্যি তাহলে এমনটাও হয় ।হয় । অনেক কিছু ঘটে যার ব্যাখ্যা সোজা সুজি দেওয়া যায় না । দেখতে দেখতে এত দিন কেটে গেলো ঝগড়াঝাঁটি,মান অভিমান সব কিছু ই হয়েছে ।আমরা তো দেবতা নই ।
আমরা মানুষ। তাই সব কিছুই আছে আর থাকবেও ।
এই যে থাকা এই যে আমাদের মধ্যে হাসি কান্নার পাওয়া না পাওয়া সেটাই তো তোমার আমার আমাদের জীবনের কাহিনী ।
এ চলাই তো জীবন । সেখানে কারো ওঠার কাহিনী সেই ঘুড়ি র মতো উড়ে যাওয়া কোথাও গোতা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়া,সব ই জীবন ।জীবনে সব মেনে নেওয়া আর মেনে চলার এক মাঠ । যেখানে তোমাকে শেষ পর্যন্ত দৌড়ে যেতে হবে । কতখানি তুমি সেখানে শ্বাস রেখে দৌড়তে পারবে সেটা তোমার প্র্যাক্টিস এর ওপর নির্ভর করবে।
সেই একদিন ছোট জানালার সামনে ইলা দি তোমাদের দাঁড়িয়ে ছিলো।
তখন চুলটা খোলা ,হয়তো চুল আঁচড়ে থাকবে, চোখে পড়লো ,আগেও তোমার ইলা দিকে সামনে থেকে কয়েক বার আমি দেখেছি কিন্তু বলতে এখন কোন বাধা নেই,
চুলখোলা সে ছবিটা মনের মধ্যে ঘর করে ছিলো।আজ ও সেই দেখাই চলছে ।
তবে সাধারণ কথা যা সবাই বলে থাকে তোমারা ও শুনে থাকবে তোমার জন্যে আমার জীবনটা কালো হয়ে গেলো ,এ সংসারে এসে একটু শান্তি পেলেম না, এটা আমাকে ও বহুবার বহুভাবে শুনতে হয়েছে ।তাতে কোন অংশে তোমার ইলাদি কম ছিলো না আর আজ ও নেই ।
সব কথা সব সময় মনে থাকেনা আর সময়কালে মনেও পড়েনা ।তাই কথা আর বিষয়গুলো একেরপর এক না হয়ে ওলোট পালোট হয়ে যায় ।আজ ইলা দির বয়েস হয়েছে এতদিন সংসারের ঘানি টেনেছে আজ ও টানছে তবে কিছু রকম ফের ।দুটো ছেলেকে পিটিয়ে পাটিয়ে স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছে । পরীক্ষায় তারা পাশ করেছে ।
তবে একটা কথা লেখা পড়া শিখলেই যে সে মানুষ হলো এমনটা নাও হতে পারে ।
তুমি বলতে চাও তাহলে তোমার ছেলেরা অশিক্ষিত । সেটা নয় ।শিক্ষিত লেখা পড়া শেখা সে তো অনেকেই শেখে কিন্তু মানুষ কয়জন হয় । আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা করো ।লেখা পড়া আর মানুষ হওয়া এর মধ্যে একটু তফাৎ আছে ।এই নিয়ে কয়েক বার জোড় তর্ক হয়েছে । কিন্তু সমাধান হয়নি ।
তোমার ইলাদির চোখের জল পড়েছে ।শেষ পর্যন্ত কাপড় দিয়ে জল মুছে ,তুমি আমার কোন কথাই কোন দিন গুরুত্ব দেওনি ,আজ ও দেওনা বলে কথা শেষ হয়েছে । আমাকে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে ।
প্রিয় দা বললো এতদিন এভাবে এখানে সেখানে কাটালে কি বুঝলে ,এর মধ্যে আর বোঝাবুঝি র কি আছে সেই থোড় বড়ি খাড়া, যা তোমরা বুঝছো ।
প্রথমদিকে টান, মধ্যে মান অভিমান আর শেষে তুমি
গতি ।এই তিন নিয়ে চলা ।
যা বলেছো ।এ গতি ছাড়া আর রাস্তা নেই ।
তবে আমরা বুঝি ঠিক ই অনেক ঠেকে । ততদিনে রস সব শুকিয়ে যায় ।
আর যাই বলো সময় পাল্টেছে । আমাদের দিন নেই । সেই রাতে শোয়ার আগে সোরষের তেল পায়ে মালিশ করে দিয়ে , আজ্ঞা নিয়ে, তবে শুতে যাওয়ার দিন শেষ
হয়েছে ।
কি যে বলো, এখনো শেষ হয়নি শুধু রূপ পাল্টেছে, সে আছে ।
বুঝলে ,যতদিন আমাদের নিজেদের মধ্যে তাদের প্রতি সমবেদনা না জাগবে, তাদের কাজের মহত্ত্ব কে স্বীকার না করবো, তাদের নিঃস্বার্থ ভাবে পরিবারের ও সমাজের প্রতি তাদের ত্যাগ কে মেনে না নেব ততদিন তারা এ ভাবে লাঞ্চিত হতে থাকবে এটা জেনো ।
বিগত দিনে ও হয়েছে এখনো হচ্ছে । আমরা ফুল চন্দন দিয়ে নারীদের পূজো করেছি কিন্তু নারীদের অবদান কে আমরা স্বীকার করিনি । শুধু মুখে আর বইয়ের পাতায় লিখে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছি কিন্তু বাস্তবতা সে অন্য কিছু ই বলে চলেছে।
আর এখন যা চলছে সেটা ওপরের ঘরের চূণকাম ।আর কিছুই নয় ।বাইরে ফিটফাট করে রাখো ,ভেতরে সেই
খড় ।
দেখলে না চৌধুরী তার মেয়েকে এত দেখে শুনে পড়ে লিখে সম্বন্ধ বার করলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হলো আট মাস ও গেলো না ,ফেরত আসলো ।বললো ওখানে আমার পোষাবে না । জামাই উকিল, নোটিশ দিয়ে রেখেছে ।চলছে ।এই হলো জীবন ।
অন্যেরটা দিয়ে আর কি হবে । আমাদের ফেলুর ই দেখে নেও ,ঘটি বাটি এই নিয়ে রোজ তুমুল করে চলেছে ।এই যে অশান্তি এটা আমাদের নিজেদের তৈরি ।আগেও হয়েছে তবে এখন রূপটা কিছু আলাদা ।আজ যা খোলাখুলি ভাবে হয়ে চলেছে সেটা আমাদের সময়ে ছিলো না ।
নতুনের প্রতি আকর্ষণ চিরকাল আছে ও থাকবে ।তখন আমাদের সময়ে মেয়েরা সাইকেলে চড়ে স্কুলে খুব কম যেতো আর যে যেতো তার ওপরে নজর সবার ই
পড়তো । আমাদের ও পড়েছে । পেছন থেকে দুই একজন হাঁক ও পেড়েছে । ওই পর্যন্ত ।
তারপর যে যার রাস্তায় কেউ বাঁয়ে কেউ ডাইনে বলে দিয়ে এগিয়ে চলে গেছে । বলতে পারো এটা নতুন নতুন
দেখা ।তবে দু একজন কি এর মধ্যে বদ ছিলো না,এমন নয় ।তারা ডানপিটে ।
তবে এখন যেটা সবার সামনে হচ্ছে সবাই আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই একসাথে বসে সিনেমা দেখছে, তার রস বিভিন্ন ভাবে সবাই আস্বাদন করছে ,এমন তো ছিলো না, একটু রাখ ঢাক ছিলো । তোমরা এখন বলবে সব কিছু জানা দরকার তাই এই ধরন ধারন ।তার পরিণতি সমাজে কোথায় এসে দাঁড়াচ্ছে সেটা একবার ও হয়তো আমরা চিন্তা করিনি । কেননা আমরা সব জিনিসের খোলাখুলি ব্যাখ্যাতে বিশ্বাসী ।
এই খোলাখুলি ভাবটা সে সময়ে ছিলো না ।তারা বলতেন সময়ে সব শিখে যাবে । বয়েসের নিজের গুণ আছে।
তবে জানো প্রিয় দা লুকোচুরি র মধ্যে যে জিজ্ঞাসা যে আনন্দ তার একটা অনুভূতি আছে সেটা একদমই আলাদা ।তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়তো অসম্ভব ।
সরোজ মাসির মাধ্যমে ই বলতে পারো সেদিন তোমাদের ইলা দির সাথে আমার কথা ।তারপর আর যাতায়াত হয়ে ওঠেনি, একবার এক পরীক্ষার হলে মেলামেশা র সুযোগ হয়েছিল কিন্তু সেখানে অন্য বন্ধুদের সাথে ।
সময় বেরিয়ে গেলো। তোমরা লক্ষ্য করেছো কিনা জানি না, সময়ে অন্তরালে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ অনেক কিছু জানে আবার অনেক কিছু ই ভুলে যায় তার আর স্মরণে থাকে না ।
এবং ঈশ্বর এই ভুলে যাওয়ার অসীম ক্ষমতা দিয়েছেন বলেই মানুষ শত দু:খ সহ্য করেও হাসিমুখে এ সংসারে বেঁচে থাকে ।যদি মানুষ ভুলতে না পারতো তাহলে সে নিজেই এক মৃত মমির মতো হয়ে বেঁচে থাকতো।
ইলা দি আমাকে ভুলে গেলো। কিন্তু আমার মনে ইলার ছবিটা রয়ে গেলো।
রাস্তায় যাতায়াতের সময় মনে হয়েছে একবার যদি ইলা জানলায় দাঁড়িয়ে থাকে । কিন্তু সেটা অনেক সময় সম্ভব হয়নি।
মধ্যিখানে শুনেছিলাম ইলার বিয়ে জন্যে ছেলে দেখা আরম্ভ হয়েছে । এ কথা শুনে মনে একটা কিন্তু ভাব এসেছিলো ,একথা এখন বলছি ঠিক ই তখন কিন্তু রাগ ই হয়েছিলো ।
পরে জেনেছিলাম ওর দিদি র বিয়ের তোড়জোড়
চলছে । একদিন সেই তোড়জোড় পুরো হলো ,ইলা র দিদির বিয়ে হলো ।বেশ জাঁকজমক করে । অনেক লোকজন খাওয়া দাওয়া করলো ।
আমার যাতায়াতের রাস্তায় কখনো সখনো ইলা কে দেখতে পেতাম ।মুচকে সে হাসতো ।
বিভাদি ওদের বাড়িতে ই থাকতেন ,কথায় কথায় তিনি একদিন হয়তো বলেছিলেন ইলা র সাথে মীনার সময় যে ছেলেটি আসতো আগে ,এখানে তার সাথে ইলার মানাবে ভালো। আমি তো দেখেছি কথা বলে দেখতে পারো একবার । যদিও অনেক আগের কথা ।
আসলে এর আগে ইলা কে দেখে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের পছন্দ হয়েছিলো এবং কথাও অনেক টা দূর এগোয় বাস্তবে ইলা র পছন্দ ছিলো না একথা ইলা আমাকে পরে বলেছিলো, তাছাড়া মনে একটা ভয় সেটা হলো অজানা ।
অজানা কেই তো নিজের করে নিতে হয় একথা দিদিমা ইলা কে কতকরে ওকে বুঝিয়েছে কিন্তু ওকে বুঝিয়ে
পারা যায়নি ।কেন এ ভয় এসেছিলো তার মনে সেটা পরিবারের সদস্যরা জানার চেষ্টা হয়তো করেন নি।
শেষ পর্যন্ত না করতে বাধ্য হলেন । পরিবারের লোকজন এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না । মধ্যিখানে একটা ভালো সম্বন্ধ হাতছাড়া হয়ে গেল । আজকাল কার মেয়েদের কি যে পছন্দ সে তারাই জানে । তোদের পছন্দ তোরাই জানিস ।
দিদিমা আগে সামনের পরীক্ষা টা আগে, আমি দিয়ে নি তারপরে তোমাদের কথা চিন্তা করবো ।
দেখতে দেখতে পরীক্ষা র সময় বেরিয়ে গেলো ,দেখো আমার ইচ্ছে ছিলো চাকরি করবো , কিন্তু তোমরা একটাই গান বাজিয়ে চলছো । তোমাদের রেকর্ডটা বেশ মজবুত।গান গেয়েই যায় থামে না ।
বাবার রিটায়ার এর সময় হয়ে আসছে,এসময় যদি বিয়েটা হয়ে যেতো তাহলে বুঝতে তো পারিস,টাকা পয়সার দিক থেকে কিছু সুরাহা হতো ।এখনো ভাইয়ের কোন কাজ হয়নি, আর যেটাও হয়েছে তার কোনো স্থিরতা নেই ।
তোর কাকা ও বলছিলো যদি এত ই চাকরি করার ইচ্ছে তাহলে বিয়ের পরেও করতে পারে।এখন দেখ, যেটা ভালো মনে হয় ।
তোমাদের একটাই গান আমি আগেও তোমাদের বলেছি, দেখ ,তোর সাথে জ্যোতি তার দেখ বিয়ে হয়ে গেলো ।ওর ইচ্ছে হয়েছেও করেছে ।ও করেছে বলেই যে আমাকেও করতেই হবে এমন কথা আছে।
আমি এম, এ,তে পড়ার জন্যে ফর্ম ভরেছি ।বাবাকে আগেও বলেছিলাম।যদি হয়ে যায় তাহলে আগে আমি এডমিশন নেবো ।তারপর যা তোমরা করার করো ।
ভাই কে আমি চিনি ও কেবল নিজের টা নিয়েই ব্যস্ত।বাড়ির দিকে এখনো কোন খেয়াল নেই ,আগেও থাকবেনা ।বিভাদি বললেন যদি পড়ার ইচ্ছে থাকে কমলা ওকে পড়তে দেও । ওর যখন মন হবে বুঝতে পারবে তখন দেখা যাবে ।
আমি তোমাকে যে কথাটা আগে বলেছিলাম মনে পড়ে ।সে কথাটা একবার ওকে আলাদা ভাবে জিজ্ঞেস করো । আমি কিছু দেখেই তোমাকে বলেছিলাম কমলা ।মেয়েদের মন তো ।
এরমধ্যে একদিন ইলা র দিদির শরীর হঠাৎ খারাপ হয়ে পড়ে আমার সেখানে ডাক পড়েছিলো। সেই দেখা ।
যে ডাক্তার কে ইলা রা দেখায় সে আমার সাথে পরিচিত ছিলো বলেই আমার ডাক পড়েছিল।
পরে বুঝতে পেরেছিলাম বিভাদির ইচ্ছে এর মধ্যে কাজ করেছিলো ।তখন কেন বলি এখনও পূর্ব বাংলার সাথে পশ্চিম বঙ্গের লোকদের মধ্যে একটা মনকষাকষি
আছে ।আগে বেশি ছিলো ।এখন অনেক টা তুলনামূলক ভাবে এটা কমে এসেছে।
সুযোগ বুঝে ইলা র মাসি একদিন আমার কাছে ইলার বিয়ের প্রস্তাব টা করেন ।এ ভাবে প্রস্তাব হঠাৎ আসবে আমি ঠিক আশা করিনি । আগে নিশ্চয়ই নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে কথাবার্তা হয়ে থাকবে নাহলে হঠাৎ করে এমন প্রস্তাব তো হয় না ।
আমি বললাম বাড়িতে এ বিষয়ে কথা বলা দরকার।সে তুমি কথা বলো ,তবে তোমার পছন্দ বা ইচ্ছে আছে কিনা ,সেটা আগে জানা দরকার ।সব ই তোমার ইচ্ছে র ওপরে। তুমি নিজেই বুঝতে পারছো আমি কি বলতে চাইছি । তুমি ও আমাদের কে এতদিন ধরে দেখেছো ।আর আমরাও তো তোমাকে দেখেছি ।
যদি তুমি রাজি থাকো তাহলে আমরা না হয় তোমাদের পরিবারের সাথে কথা বলতে পারি ।
হয়তো তোমাদের পরিবার আমাদের কথা স্বীকার করবেন না । কেননা আমরা পশ্চিম বঙ্গের লোক।
জানো কোন সময়ে আমাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ এ ছিলেন ।তবে কোথায় ছিলেন আজ সঠিক তোমাকে বলতে পারবো না । একথা হয়তো তুমি বলতে পারো
যে আমরা সেভাবে জানার চেষ্টা করি নি ।
তবে শুনছিলাম বর্ধমানে বৈচিতে জমি জমা ছিলো, কোন সময়ে ।কোন কারনে আমারা একদিন পশ্চিম দেশে চলে আসলাম আর এই দিকে চলে আসায় চাল চলন ও ব্যবহারে ভিন্নতা এসে গেল ।
আর এই আচার আচরণে র মধ্যে ভিন্নতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ব বঙ্গের লোকদের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়লেন ।তবে এই যে গোঁড়ামি সেটা অনেক ক্ষেত্রেই আজ শিথিল হয়েছে অনেকেই আজ আর মানেন না ।তবে দেখে মনে হয় তোমাদের পরিবারে এখনো সেই আগের ধারনায় রয়ে গেছেন ।
যাই থাক, তুমি আমাদের কিন্তু তোমার কথাটা বলবে ।তোমাকে বললাম একটু জোড় দিয়ে মনে কিছু করো না ।চাইলে তুমি ইলার সাথে কথা বলতে পারো । যদি মনে করো । বলতে গেলে এটা প্রিয় দা ভয়ের সাথে আমার নতুন কে জানা অজানা র উৎসুকতার প্রথম পর্ব বলতে পারো ।
অসুবিধে টা হলো বাড়িতে এ কথাটা কিভাবে বলবো ।
ইলা দের বাড়ি থেকে সোজা আমাকে বলে দিয়ে তারা নিজেদের কাজ এগিয়ে রাখলেন । কিন্তু আমি কি ভাবে বলি ।
আমার বাড়ির অবস্থা প্রিয় দা তোমার অজানা ছিলো
না ।বলা মানেই বাড়ি থেকে তখনকার মতো দরজা র বাইরে । আমি জানতাম, বাড়ির কেউ আমার এ কথাকে মেনে নেবে না ।
তবুও কেন যে আকর্ষণ ছিলো আমার সে জানা নেই ।আর এ আকর্ষণ কেন যে হয় আজ ও তার উত্তর দিয়ে উঠতে পারবো না।
শুধু এখন বলতে পারি এটাই প্রকৃতি। পুরুষের প্রতি নারীর আর নারী র প্রতি পুরুষের শারীরিক আকর্ষণের সাথে মানসিক টান।এটাই কি মায়া ।সৃজনের আকর্ষণ। তোমরা একে কি বলে ব্যাখ্যা করবে ।
আর সত্যি কথা বলতে কি,
আমি এ প্রস্তাব কে ছেড়ে দেব সেটাও মন চাইছিলো না ।
সে এক বিষম স্থিতি ।ছাড়তেও পারছিনা, না ধরতে পারছি ।কে এর উত্তর দেবে ।
প্রিয় দা, যারা এই প্যাঁচ ই বলবো, এর মধ্যে না পড়েছে, তাদের বোঝানো কোন ভাবেই সম্ভব নয় ।
বুঝলাম, ফেরার মধ্যে পড়লে এই হয় ।
একদিন সাহস করে ইলার পরিবারের কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসেছিলো।
মা বললেন, আপনাদের সব কথাই শুনলাম বুঝলাম তবে আমাদের পরিবারে আরো লোকজন আছেন, তাদের সাথে একবার কথা বলি, এছাড়া ছেলের মত আছে কিনা,আজকাল বুঝতেই তো পারেন ,সব কিছু কথা ছেলে মেয়েরা আজকাল খুলে বলে না, তারপর সেই নিয়ে পরে সংসারে নানা অশান্তি দেখা দেয় ।
তাহলে কথা থাকলো আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিয়ে যা হয় আপনাদের জানাব । ঠিক আছে ।
আমার প্রথমে যে নিজে থেকে বলা সে ভয়টা দূর হলো ।তবে জানতো আমাদের বাড়িতে এ ধারনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো যে ইলা র পরিবার দের এখানে আসার জন্যে আমি উসকে দিয়েছি। এবং এই ভাবে কথা বলার জন্যে যে আমি ই বলেছি এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই ।
আমি ইলা র মধ্যে কি এমন দেখেছি যে এভাবে তারা এসে ওনারা আমার মতো ছেলেকে অনুরোধ করেন ।এই রকম মেলামেশা জীবনকে গড়তে পারে না ।এমন না না কথা ঝড়ের মতো আমার ওপর দিয়ে বয়ে গেল । আমি বলি র পাঁঠা র মতো নির্বিকার মনে হয় কোন কথাই আমার কানে যাচ্ছে না, এভাবে সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলাম ।
সে দিনের ছবিটা যদি তুলে রাখা যেতো তাহলে তোমরা তখন আর বর্তমান কে বুঝতে পারতে যে এই বিগত ষাট সত্তর বছরে সমাজের অবস্থা কিভাবে পাল্টেছে ।
যাকে বলে আমাদের কাছে আমূল খোল নলচে
বদলানো । মধ্যবিত্ত সমাজের ধারনাগুলো ই পাল্টে
গেছে । বাহ্যিক আড়ম্বর এত বেড়েছে যে সেই আড়ম্বরের মধ্যে কোন কথা যে সত্যি আর কোনটা বিশ্বাস যোগ্য প্রতিপদে সে সন্দেহের অবকাশ রাখে ।
আজ একান্নবর্তী পরিবার প্রায় নেই বললেই চলে , এরকম পরিবার না থাকার পিছনে সামাজিক আর্থিক ব্যবসায়িক না না কারন আজ দেখা দিয়েছে, যাকে অনেক ক্ষেত্রে অস্বীকার করা যায় না ।এর সাথে আমাদের পরিস্থিতি র সাথে সাথে মানসিক পরিবর্তন ও
আছে ।আমরা ধীরেধীরে একক পরিবার হয়ে দেখা দিয়েছি ।
সেই আমাদের পরিবার আত্মীয়স্বজন বলতে যে টান বা কথাবার্তা আসা যাওয়া সে আর নেই বললেই চলে ।
পরিবার বলতে এখন স্বামী স্ত্রী আর সন্তান ।ছোট পরিবার। ।
আমরা ভুলে গেছি যে মানুষ মানুষ ছাড়া চলতে পারে
না ।বিভিন্ন পরিস্থিতি তে মানুষের, আমাদের আত্মীয় পরিজনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তখন অর্থ থাকলে ও তার সার্থকতা দেখা যায় না । আমাদের তখন নিঃস্ব
মনে হয় । একাকীত্বের হাওয়া চারিদিকে আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে আনে ।
যেখানে এখনো একান্নবর্তী পরিবার আছে সেখানে ও সেই বিগত দিনের মতো সেই ভালোবাসা র টান যার কিছু টা আমরা দেখেছি সে আর নেই, আত্মীয়তা র টানে ভাটা পড়েছে।
এর কারন কি জানো প্রিয় দা ,
আমার যতদূর মনে হয়েছে সেটা হলো অর্থ।
যে পুরোনো যে আর্থিক কাঠামো তার সাথে বর্তমানে র কোন মিল নেই।আজ কাজের ব্যবসার রূপ ধ্যান ধারনা শিক্ষা সব পাল্টাতে আরম্ভ করেছে । এই যে পরিবর্তন সে মানুষের বর্তমানে র স্থিতি গুলোকে নতুন ভাবে ভাবতে
বাধ্য করেছে ।যে মানুষ কোন পথ বেছে নেবে ।
বলতে পারো এটা সন্ধি কাল।
আর্থিক অসমানতা আর সামাজিক বৈষম্যতাকে কি ভাবে মেটানো যেতে পারে তার বিরাট পরীক্ষা ।
সেই পরীক্ষার সময়ে আমরা সংসারে এগোলাম ।
আমার জ্যাঠা বললেন এই বিয়ে আদৌ বিয়ে নয় । বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না । নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করে নিতে বলো ।
তারপর তোমার তো জানো চিনু দের বাড়িতে
উঠেছিলাম । আনন্দের সাথে তারা আমাদের রেখেছিলো ।
বাড়িতে অস্বীকার করার সেদিন টা, কি ভোলা যায় । আমি ভুলে গেলেও ইলা সে কথাটা আমাকে বারবার সতর্ক করে দিয়েছে । এতদিনে এসে,
আমি বুঝেছি যে বাবা মা এত কষ্টকরে তার সন্তান মানুষ করে , সেই সন্তান যদি তার বিরুদ্ধে যায় যা তারা মনে আশা পোষণ করেন ,তাহলে তাদের সে দু:খ কে বলার কোন জায়গা থাকেনা । সেই দু:খ ই ক্রোধ হয় দেখা
দেয় ।
কিন্তু জানো প্রিয় দা সেই প্রথম জীবনের ভালো লাগাই বলো আর ভালোবাসাই বলো তাকে ছাড়া যায় না ।তার রূপটাই আলাদা ।সেখানে পাওয়া না পাওয়ার অনুভূতি অজানা জীবনের প্রতি জানার মোহ তাকে আমি কথায় কি ভাবে বোঝাবো ।তার কোন শব্দ আমি খুঁজে
পাই নি ।তোমরা কি কোন শব্দ পেয়েছিলে।
তখন মনে হয়েছে আমাদের পরিবার যা বলছে সে সমস্ত ই ভুল । নতুন আর পুরোনো র মধ্যে চিরকালের এই দ্বন্দ্ব।
জীবনের শেষ ধাপে এসে,
আজ সেটা মনে হয় ।
ইলা আমাকে মনে করিয়েছে ,বলেছে সত হলেও
তোমার মা তাকে যেটুকু সাহায্য তোমার দ্বারা হয়
সেটুকু করে যাবে । তাঁর স্নেহ চিরকাল থাকে এটা
জেনো ।
যাই তিনি বলেন থাকুন । হয়তো পরিস্থিতি ও সমাজকে দেখে তারা মানা করেছেন কিন্তু মা র প্রাণ সব সময় সন্তানের দিকে থাকে ও থাকবে এটা জেনো । তিনি তার সন্তানদের ভুলতে পারবেন না।
মাস দুয়েক পরে, তোমাকে মনে পড়ে জানিয়েছিলাম যে তোমাদের সবার ও চিনু দের ভালোবাসা সাথে নিয়ে আগ্রায় কাজের তাগিদে চলে আসলাম । ইলাকে বললাম বরং তুমি বাড়িতে মাসখানেক থাকো ,আমি ওখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেখেশুনে তোমাকে নিয়ে যাবো কিন্তু সে কথা তুমি মানলে না । সাথে চললে । আমি কি পরিস্থিতিতে গিয়ে পড়বো সে জানা নেই তাই বলা ।
কিন্তু তুমি বোঝার পাত্র হলে তবে তো ।যা হবে দেখা যাবে ।এই বলে সাথে নিজের পোঁটলা নিয়ে চললে ।আমরা নতুন জায়গায় এগোলাম ।
বাড়িতে মা কে বললাম কাজে আগ্রায় যাচ্ছি , ওখানে গিয়ে ঠিকানা জানাবো ।তোমরা সুস্থ থেকো ।চিঠি দিলে তার জবাব দিও ।
ভুল তো মানুষেই করে । আমি ও সে ভুল তোমাদের কাছে করেছি ।তাকে সংশোধন করার আর উপায় নেই ।
আমাকে সেই ভুল কে নিয়েই চলতে হবে ।
মা শুধু বললে তোরা ভালো থাক ।
আমি বেরিয়ে আসলাম । ভাইদের সাথেও দেখা হয়েছিলো কিন্তু ওরা আমার সাথে কোন কথা না বলে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলো ।
বলতে পারো এটা আজকাল কার একপ্রকার সামাজিক বহিষ্কার।
একটা কথা জানো প্রিয় দা মা র সেই কথা যেটা মনে হয়ে ছিলো বারবার ,যে তোমার ভার তোমাকেই বহন করতে হবে,সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে উঠলো ।
কাজে জয়েন করলাম ।ভালো এটাই যে কোয়ার্টার এর ব্যবস্থা কাজের জায়গা থেকে তার ই করেছিলো ।
চাল ডালের হিসেব আরম্ভ হলো । নতুন সংসার,বাটি, ঘটি অনেক কিছু র অভাব সে সবকে গুছিয়ে নিতে সময় কেটে গেলো ।তাও পুরো হলো না ।
আমাদের এক আত্মীয় ছিলেন ভাবলাম তাদের সাথে দেখা করি । যদি ও আমরা দোমনা ছিলাম ।যাব কি যাবো না বলে ।ইলা বললো যদি দেখ তাদের সাথে যদি তোমাদের কথাবার্তা ইদানিং থেকে থাকে তাহলে দেখা করতে যাওয়া যেতে পারে, না হলে যাওয়ার কোন অর্থ থাকে না ।তারা মন করবেন কোথা থেকে এরা এসে উপস্থিত হলো বলা নেই কওয়া নেই । আজকাল সেদিন নেই যে আত্মীয় এসেছে,একথা শুনে উৎসাহিত হবে । হয়তো একটু কান পাতলেই শুনতে পাবে ওদের নিজেদের মধ্যে কথা হচ্ছে আমাদের আজকে বাইরে যাবার ছিলো কোথা থেকে এই সময়ে এরা এসে উপস্থিত হলো । আসার ছিলো তো আজকেই আসার ছিলো ।একথা কানে শুনতে পেলে ভালো লাগবে না । এবং তার প্রতি যে আত্মীয় সুলভ ভাব আছে সেটা ক্ষুন্ন ই হবে।
শুধু আমার বলে নয় সবার ই হয়ে থাকে ।তাই সেদিন আর যাওয়া হলো না । কিছু দিন পরে হঠাৎ ই একদিন রাজ মার্কেটে দেখা হয়েছিলো ,তখন রাস্তায় চলতে চলতে কথা হয় ।
তখন বলি যদি সম্ভব হয় তোমরা তাহলে একদিন রেল লাইনের ওপারটায় ,ব্যারাকে তিন নম্বরে চলে এসো, কোন ছুটির দিন বসে কথা হবে,এইবলে সেদিনের সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করি ।
পরে মনে হয়েছিল যে ইলার কথাটা একদম ফেলনা ছিল না।
কিছু দিন আগেই আমার পরম আত্মীয় এক ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম ।আগে থেকে আমাদের যাওয়ার কোন নিশ্চয়তা ছিলো না সময় হলে যাব এই মন নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম, দুপুর হয়ে গেল যেতে যেতে।আর ভাইয়ের ই তো বাড়ি। এখানে আবার আগে থেকে
বলে আসতে হবে এটা ভাবিনি। যাইহোক উপস্থিত হলাম। দরজায় যাওয়া মাত্রই তিনি বললেন এমন সময় কেউ আসে ,আরে আসার ই যদি এত ই দরকার ছিলো একটা ফোন করে আসলে ই হতো ।সব সময় তো আমি বাড়ি থাকিনা ।
আমি বললাম আমাদের আসার কোন ঠিক ছিলো না ।
ভুল হয়ে গেছে ।এবার আসলে ,ফোনে জানিয়ে আসবো। চলি ।
এই কার্ড টা দেওয়ার ছিলো তাই আসা ।এই বলে কার্ড টা ওনার হাতে দি। আর আজকে থাক ।
আবার অন্য কোন দিন সময় ঠিক করে আসবো ।
এইবলে দরজা থেকে ফেরত আসি ।মনে দু:খ হলো ।
এভাবেই সমাজের বা বলতে পারো আমাদের ব্যবহার আচার আচরণে র মধ্যে এক বিরাট শূন্যতা এসে যাচ্ছে । তোমরা যে সেটা অনুভব করতে না পারছো বা বুঝতে না পারছো এমন নয় ।আমরা ক্রমশঃ সবার প্রতি যেন দিনে দিনে অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছি।কেন আমাদের মধ্যে কথাবার্তা র মধ্যে আগের সে শালীনতা বজায় রাখতে পারছিনা । আমাদের ভুল কোথায় হচ্ছে ।
শিক্ষা র মানে । আমাদের আচরণে ,অশালীনতা ব্যবহারের অকুশলতায় তো নয় ।
সময়ের এমন কি পরিবর্তন হলো যে আমরা নিজেদের বিষয়কে শান্তভাবে বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললাম । মিথ্যা র আবরণে আমরা নিজেদের কে দিনে দিনে ঢাকতে আরম্ভ করলাম ,কেন ।
আমরা যা নিজে যা আমার নিজস্ব পরিচয় সে ধনী গরীব যাই হই, সেই সত্যকে কেন আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে অসমর্থ হলাম ।কেন ? আমরা কেন কি ভাবে নিজের চরিত্র গুলো পাল্টে দিলাম ।
এর উত্তর কে দেবে । দিনে দিনে আমরা বাহ্যিক আড়ম্বরে র দিকে নিজেদের পা রাখলাম ।সরলতা বোকামি র রূপে দেখা দিলো ।
বেশ কিছু দিন এখানে আগ্রায় কাটাবার পর,
একদিন অন্য জায়গায় যাওয়ার পরোয়ানা এসে হাজির হলো ।
এর মধ্যে ইলার বাবা গত হলেন ।আমরা অসুস্থের সম্বাদ যে কোনো কারনেই হোক দেরিতে পাই । পিনাকী কে আমার পরিস্থিতি জানিয়ে চিঠি লিখে ছিলাম ।যে চেষ্টা করবো উপস্থিত হওয়ার। তবে মানুষ পরিস্থিতি র দাশ। ইচ্ছে থাকলে ও সে কাজ হয়তো সে করতে পারে না এবং এই না পারা চিরদিনের জন্যে তার কাছে ক্ষোভ রেখে যায় । আমরা চারদিক দিয়ে বিভিন্ন ভাবে বাঁধা ।যার শেষ নেই ।
দু দিনের ছুটি সম্বল করে আমি ইলা কে নিয়ে পৌছ ই ।
শেষ দেখা দেখেছিলাম ।
বাড়িতে ও মা র সাথে একবার দেখা করে আসি ।ইলা প্রায় মাসখানেক নিজের বাড়িতে ই ছিলো । আমি নিজে কাজে র জায়গায় চলে আসি ।
এদিকে আমার এই বদলির পেছনে অনেকের অনেক রকম হাত ছিলো যা পরে আমি জানতে পেরেছিলাম।
সব জায়গায়তেই কিছু না কিছু খেলা আছে, সে বিভিন্ন স্বার্থে র সাথে জড়িত। যতক্ষণ না সেখানে তুমি থাকছ ততক্ষণ বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় নেই ।না কেউ জানতে পারে ।
সাধারণত আমরা, কেউ আনন্দে আছে বা সুখে আছে সেটা আমাদের দেখা ঠিক সহ্য হয় না ।হয়তো আমার ক্ষেত্রে ও সেটা কারন হয়ে থাকবে । একদিন মিঃ ভার্গব এসে বললেন আপনাকে নিয়ে অফিসে বেশ সরগোল হচ্ছে । আপনি জানেন না ।
আমি বললাম এখন ও আমার কান পর্যন্ত এসে পৌঁছয় নি ।কেন, কি ব্যাপার ।
আপনার এখান থেকে বদলীর পরোয়ানা তাড়াতাড়ি আসবে শুনতে পেলাম । মিঃ গুপ্তা ই বলছিলেন ।হবে হয়তো । মিঃ গুপ্তা ই ও সমস্ত বিষয়ে দেখে থাকেন ,
ওনার কাছে হয়তো এমন কোন চিঠি এসে থাকবে ।
আর বদলী হলেই বা কি করা ওপরের আদেশ কে তো মানতেই হবে । যদি কাজে থাকতে হয় । ঝগড়াঝাঁটি করে কাজে থাকা সম্ভব নয়,সে আপনি ও জানেন।এরমধ্যে অনেক দিন পরে বাড়ির এক চিঠি আসে,
তৃপ্তি র বিয়ে ঠিক হয়েছে। অনেক দিন ধরেই কথাবার্তা চলছিলো, এবার ঠিক হয়েছে ।কখনো ছেলে দের পছন্দ হয় তো আমাদের আপত্তি থাকে এভাবেই এতদিন কেটেছে । তৃপ্তি এর মধ্যে বি,এড,পাশ করেছিলো, তারপর কোন গার্লস স্কুল এ কাজ পায় ।এটা আমার শোনা । তৃপ্তি কাজ পাওয়া র পর আমার সাথে আর দেখা হয়নি ।
জানোই তো প্রিয় দা, আমার জীবন সে এক তরফা
হয়ে গেলো।হয়তো তখন এটা মনে সায় দেয়নি ।তবু মেনে নিতে হয়েছে । বিয়ে হলে ছেলেরা শ্বশুর বাড়ির দিকে ঝুঁকে পড়ে । এটা পুরোনো প্রবাদ।এটা নতুন নয় ।বলতে পারো দুটো পরিবারের কথা সমান ভাবে মেনে হেসে খেলে সমাজের মধ্যে দিয়ে নিজেকে সমান তালে সমান ভাবে নিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয় ।
ভালো ভালো মাঝি ও হিমশিম খেয়ে উঠবে । আমাদের কথা তো ছেড়ে ই দেও ।
তোমরা ও তো এভাবেই চললে।
আমার বিয়েতে কেউ আসেনি। যদিও হৃষীকেশ বাবু বাবাকে বুঝিয়ে ছিলেন ।বাবা বলেছিলেন সমাজ আত্মীয়তা বলেও একটা কথা আছে ।যাকে তাকে ধরে আনলাম তার কি আর মান থাকে ।নিয়মগুলো হয়েছে কেন ।দেখলাম আর তাকে নিয়ে চললাম। তোমাদের বুদ্ধি র ও বলিহারি ।এরপর আর কোনো কথা হয়নি । শুধু মার কথা যখন ছেলের পছন্দ তখন আমার কিছু বলার নেই ওদের আশীর্বাদ করি ওরা সুখী হোক ।
ইলাদের বাড়ি থেকে যেটুকু করার সেটা তারা
করেছিলো ।ইলা র বাবা মা এবং অন্য কয়েকজন পরিবারের সদস্য তারা আমাদের বাড়িতে অনুমতি নিতে একদিন এসেছিলেন।
তবে তারা অসম্মতি র বোঝা নিয়ে এগিয়ে যান ।
শুধু এটুকু আমি শুনেছিলাম যদি আপনারা বিয়ের সেই সময়ে উপস্থিত হন, তাহলে আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব ।
মীরা ,তপতী,বিকাশ কে আমি বিয়ের সময় দেখেছিলাম। বিয়ে দেখতে এসেছিলো কিন্তু সেই সময়ে ওদের সাথে কোন কথা হয়নি ।
এরপরের কাহিনী তোমার জানা ।
আমার চাকরি বদল হলো । আগ্রায় আসলাম।আসার আগে মার সাথে দেখা করে এসেছিলাম । জীবনের ওঠাপড়া চলতে থাকলো ।
যে চিঠি র কথা বলছিলাম ,
মা লিখেছে ছেলেদের তরফ থেকে কিছু চাহিদা আছে , আজকালকার দিন কাল সব ই তোদের জানা সুতরাং তাদের চাহিদা র বিষয় গুলো তোকে জানালাম এবিষয়ে তোর নিজের মত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে জানাতে ভুলিস না ।সব ব্যবস্থা তোদের ই করতে হবে ।
ইতি----মা । তোদের কুশল কামনা রইল ।
ইলাকে বললাম সামনে বিয়ে আর বদলির পরোয়ানা এসে হাজির হলো । আমি মা কে আমার বদলির কথা লিখে জানাই, হয়তো বিয়ের সময়তে উপস্থিত থাকা সম্ভব হবে না ,তবে সামান্য কিছু পাঠালাম যাতে এই পরিস্থিতিতে কিছু সাহায্য হতে পারে ।
ভালো ভাবে কাজ হয়ে যাক এবং ওদের জীবন আনন্দে কাটুক এই আমার ইচ্ছে রইলো ।যেমন থাকো জানিও । আমি বদলির জায়গায় গিয়ে তোমাকে ঠিকানা
জানাবো ।
বিয়ে হয়ে গেলো । মাসখানেক পরে মার এক চিঠি এসেছিলো বিয়ে কি ভাবে হয়েছে তার কথা দিয়ে ।বাবার শরীর ও বিশেষ সুস্থ নয় ।এই লেখা ।
ইলা কে বলি একবার এ সময়ে বাড়ি হয়ে আসলে ভালো হতো ।ইলা বললো যাওয়ার ইচ্ছে আছে হয়ে এসো,তবে নিজের এখানকার স্থিতি বুঝে । আমি গেলে বাড়িতে ই থেকে যাবো দু চার দিনের ব্যাপার বেশি দিনের ছুটি নেওয়ার দরকার নেই । তুমি বাড়িতে থেকে যেও,অযথা তোমাদের বাড়িতে গিয়ে অশান্তি কে ডেকে আনার কোন হেতু হয় না । তারপরে ওনারা এ বিয়ে কে বিয়ে বলে যখন স্বীকার করেন নি, সেখানে আমার যাওয়া ঠিক হবে না ।তারপর আমি যে তোমার সাথে এখানে এসেছি একথা না জানালেই ভালো ।
এদিকে র অবস্থা ঠিক রেখে চার দিনের ছুটি নিয়ে ঝরিয়া থেকে বের হলাম । এসে দেখলাম বাবা র শরীর অসুস্থ ই । চিকিৎসা চলছে।
মা বললে এসেছিস, ভালো ই হয়েছে। তৃপ্তি র বিয়ের পর থেকে শরীরটা খারাপ চলছে ।চিঠি পেয়ে ভাবলাম একবার দেখে আসি। তোমাদের সাথে অনেক দিন দেখা হয়নি ।রবি,তিনু এসে বললো হঠাৎ আসলে। হ্যাঁ,দেখার ইচ্ছে হলো ।
সম্পত্তি র লোভ কি আর ছাড়া যায় ।ভাগ বলে কথা।
বাবা বললে বাড়ি র সব ঠিক আছে তো। আমি বললাম
হ্যাঁ,সব ঠিক ।
কবে যাবি ।কাল । ছুটি তো নেই ,মন হলো তোমাদের একবার দেখে আসি । তাই আসা ।
শরীর আমার ঠিক আছে ।তোরা চিন্তা করিস না ।বয়েস হলে যা হয় । ঊনিশ বিশতো হতেই থাকে ।
মা কে বললাম যখন যেমন থাকে জানিও ।
একলা আসলি কি । হ্যাঁ। তোমাকে আগেই তো বললাম একটু মাথায় চিন্তা ছিল তাই দেখে গেলাম ।
ভালো থেকো।
চলি।সোজা স্টেশন যাবো । আবার আসিস ।
রবি র কাজ হয়েছে ভালো লাগলো । ওদের সাথে ও দেখা হয়ে গেলো ।এবার । আজকাল লোকেদের কাছে সময় খুব কম ।সময় মতো দেখা হয়ে গেলো সেই
অনেক ।বাড়িটা এবার বরং একটু রং করিয়ে নিও ।দেখতে ভালো হবে ।রবি র ও কাজ হলো বলে । বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম ।
যে কথা তোমাকে আগে বললাম তিন চক্কর খেয়ে, একদিন সোজা কয়লাখনি র দেশে এসে পৌঁছলাম ।
যা কোন দিন চিন্তা করিনি ।
যেখানে চারদিকে র হাওয়ায় কয়লার রেণুকণা ঘুরে বেড়ায়। মানুষ এখানে মানুষের মত বেঁচে নেই । বাঁচতে চাইলে ও হয়তো বাঁচতে পারবে না । এমনটাই আমার ধারণা ।কোলিয়ারির রূপ সব ই প্রায় একই ,ঝরিয়াতে
দিন মজুর আর কারিগরদের মধ্যে আমাদের স্থান হলো।তারা মনে করলো আমি তাদের ত্রাতা হয়ে এসেছি। আমার কাজ আরম্ভ হলো ।
এক এক করে ওদের জীবনের সে অসম্পূর্ণ কাহিনী আমার কাছে এসে হাজির হলো । যা খালি বেদনা আর চোখের জলে ভরা ।ধুলোর কাদায় মাখা ।
এদের জীবনের সুখ আর দুঃখ আমাকে বারবার বিচলিত করেছে ।
কিন্তু আমি সমস্ত দিক থেকে বাঁধা ছিলাম । কিছু করতে পারিনি ।তাদের সন্তান কি ভাবে মাটির ধুলোর সাথে মিশে বড় হয়ে ওঠে ,যারা না দেখেছে তারা বিশ্বাস করতে পারবে না, যে মানুষ এভাবেও বড় হয়ে ওঠে ।তারা দুমুঠো ভাতের জন্যে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয় শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে।তাও তাদের সমাজ ছেড়ে দেয় না।সব রকম ভাবে তারা নিষ্পেষিত হয় ।
আমরা শুধু চেয়ে দেখি ।
আমাদের শয়তানের চোখ ঘুরে বেড়ায় নিটোল নারীদেহের ওপরে । রাতের অন্ধকারে শুধু, তাই নয় দিনের সূর্যের আলোতে ।কে বলবে কার সাহস আছে সেই সব ঠেকেদারদে বিরুদ্ধে কথা বলে ,যাদের কথায় এই সব মজুর ওঠে বসে দিন মজুরি পায় ।
তবে সেই সব অলি গলি রাস্তায় ঝুপড়ি আড়ালে গেলেই শুনতে পাবে, তাদের বাস্তব জীবনের সেই চোখ ভেজা কান্না । সেই কান্না র কোন মূল্য নেই ।
লছমনিয়া র ওপরে সেই চোখের নজর ছিলো ।যে সারা দিন হাড় ভাঙ্গা মজুরি করে বাড়ির দিকে চলেছিলো সেদিন তার সংসারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে।সেও রেহাই পায়নি ।তবে সবাই বলেছিলো লছমনিয়া লড়াই করেছে কিন্তু বাঁচাতে পারেনি নিজেকে কিন্তু ঠেকেদারে র দুটো পা ভেঙ্গে দিয়ে নিজেকে দিয়েছে । শিক্ষা দিয়ে গেছে যে লছমনিয়া সে অশক্ত নয় ।
তবে লছমনিয়া মারা যাওয়ার পর মালু পাগল হয়ে গিয়েছিল। আমি মালু কে রাস্তায় কয়েক বার এমনি ঘুরতে দেখেছি ।ওর নামটা কোলিয়ারির রেজিস্টারে আছে এখনো।যখন মনে হয় কোন সময় কাজে যায় ।কোন সময় যায় না ।বাইরে ঝুগ্গির সামনে চুপ করে বসে থাকে ।কি যে ভাবে।কোন সময় নিজেই কথা বলে কি যে বলে সেই জানে ।
বিরা মধ্যে মধ্যে ওকে খাওয়ার দিয়ে যায় ।লে খেয়েলে ।ওঠ।
চল খাদে ।বসে একলা কি করবি ।
চল ।আজ খানা হবে ।
মালু ওর নোংরা গামছাটা ঝেড়ে উঠিয়ে নেয় ।
চল দেখ ছি,যখন বলছিস । টলতে টলতে চলতে থাকে । কখন যে কোন দিকে চলে ও নিজেও জানে না । এভাবেই বিরা র সাথে উঠে পড়ে ।বিরা র কথা মাঝে মাঝে শোনে ।
সাত বছরের হিমু রএক ছেলে আছে।
ও ওর বুআ র কাছে থাকে আজকাল।বুআ ই বললো পাশে ই ওকে কোলিয়ারি রএক স্কুলে ভর্তি করিয়ে ছি ।আখির বাবু জি ওকে মানুষ করতে হবে ।মা তো রইলো না ।মালু র কোন ঠিকানা নেই ।
পুলিশ কাছারি হলো কোন ফল হলো না ।মজুরের জীবনের কোন দাম নেই,বাবু জি ।মালু পাগল হয়ে
গেলো ।এই ধুলো মাটির মধ্যে দিয়ে। চারদিকে শুধু পয়সার খেলা । মজুরের কথা কে শোনে । এতদিন মালু তো ঘুরে বেড়ালো ,কি হলো বাবু জি লোকে উল্টে বললো লছমনিয়া কেন গিয়েছিলো সব জেনেও ।দোষ লছমণিয়ার ছিলো ।মালু তারপর মারতে ছুটেছিলো সবাই মিলে ওকে রুখে দাঁড়ায় ।তারপর বড় লোকদের পয়সা বাবুজি, বুআ র চোখের জল গড়িয়ে পরলো।আর কথা হলো না ।
আমার যাওয়ার সাথে সাথে,একথা আমি কোলিয়ারিতে শুনেছিলাম । আমার দিন মজুরির হিসেব রাখার সাথে রোজকার ঝগড়া মিটানো কাকে কাজ দিতে হবে কাকে কোন সিফ্ট এ, এক ঝামেলার কাজের ভার আমার ওপরে এসে পড়লো। এনিয়ে ই এদের জীবনের সাথে এগোলাম ।
মোটামুটি একটা মধ্যের পথ বেছে নিয়ে এগোলাম ।
তবে এদের ভেতরে ভেতরে যে সব প্যাঁচ সে বোঝা আমার সাধ্যের বাইরে ছিলো ,আর আজো আছে ।
ছোট আমাদের দুটো ঘরের সামনে খোলা এক ফালি জমি।সেই জমিতে পান্ডু এসে কয়েক টা লাউ শাক বুনে দিয়ে গেলো । আমি বললাম এটা কি দরকার ছিলো ।আরে বাবু জি যখন এরা বড় হয় উঠবে তখন দেখবেন।পান্ডু কি কাজ করেছে ।চারদিকে সবুজ হয়ে উঠবে ।জানিস পান্ডু আমি কতদিন থাকবো তার কোনো ঠিকানা আছে ।আজ আছি কাল ই হয়তো চলে যাবো তখন ।
যে আসবে সে দেখে লেবে ।এর আগে হরি বাবু ছিলেন , ভালো লোক। কিন্তু কি হলো তিন চার মাস পরে
কি ভূত দেখলো আর থাকলে না ।বললো ভূত আছে এখানে আমার থাকা চলবে না । রাতারাতি দিবো তাকে মাঠ পার করালে ।
জলাটার ওধারে কখনো সখনো লোকে আসতে গিয়ে ভয় পেয়েছে,জানিনা তবে ওখানে মাইতি কে কেউ মেরে ফেলেছিলো সে অনেক দিনআগে ।
মাইতি নিজের হোসে ছিলো না ছিমিয়ার সাথে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো,ফুলিয়ার সাথে ওর খুব দহরম ছিলো এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই খাদে লড়াই হয়েছে, মাইতি ওর ঘরে যেতো ।সবাই বলে ও ই মাইতি কে জলার ওখানে মেরে ফেলেছিলো ।পরে ফুলিয়া এখান থেকে চলে যায় ।তার আর কোন অতাপাতা পাওয়া যায়নি ।ফুলিয়ারির ঘরটা ওভাবেই আজ ও পরে আছে ।
থানা পুলিশ হয়েছিলো দু চার জন কে ধরে ও ছিলো। বিমলা, চতুর,সারেন কে এদের পুলিশ সন্দেহ করে ছিলো ঠিক ই কিন্তু পরে কি যে হলো পরে ছাড়া পেয়ে যায় ।আরে বাবুজি আমরা তো খালি ঝুগ্গিতে গিয়েছিলাম ,ফুলিয়া কে দেখতে কে জানে আমাদের পাকড়াও করবে । কয়েক রাত থেকে ছাড়া পেলাম । এখানকার জীবন ই আলাদা , বাবুজি। এখানে থাকলে তবে জানবেন । প্রধান বাবু জি কিছুটা জানে । এখানে তার পাঁচ বছর তো হলেবই ।
একদিন
লখবীর ছুটি চাইলো সেবার গ্রামে যাবে বলে ।এইতো হয়ে এলি আবার ছুটি হ্যাঁ, বাবুজি ঝুমরি র বিয়ে ঠিক করবো কথা তো হয়েছে, তবে বলছিলো ওদের কিছু আরো চাহিদা আছে ঘর থেকে বলছিলো ,সেটা একটু তাড়াতাড়ি বলতে হবে ছোট এক বিসা জমিন ওধারে পড়ে আছে,ভাবছি ওটা কে দিয়ে যদি হয়ে যায় । দেখ যা করবি বুঝে করবি,
তুই বলেছিলি জমিন তিন না চার বিসা আছে তাতে তোর সারা বছর ও চলেনা ।তার মধ্যে তুই এক দেড় বিক্রি করবি।তোর পরে কি হবে ।যা কথা বলে দেখ কি হয় । বরং কিছু এখান থেকে উধার নিয়ে যদি কাজ হয়ে যায় ।
জমি একবার বেচলে আর তুই জমি কিনতে পারবি না ।লখবীর ।গিরবী রাখবো বাবুজি ।দেখ যেটা ভালো হয় ।আমার কাছে পাঁচ দিনের ছুটি র এক কাগজ রেখে গ্রামের দিকে রওনা হলো ।লছমন বলেছিলো ও সারা পয়সা সট্টাতে লাগায় বাবুজি ।ঘরের থেকে পয়সা আনতে গেছে,বড়কি বলছিলো ওর সাথে পিয়ারীর
খুব ভাব আছে ওর পয়সার কিছু জরুরত আছে তাই আনতে গেছে । ওকে দেবে ।
তিন চারদিন পরে একজন গ্রাম থেকে গামছা কাঁধে অচেনা আমার দরজায় এসে হাজির । কি ব্যাপার । সাথে সতবীর ও আছে ।
সতবীর বললো বাবুজি লখবীরের চাচা আছে।লখবীর গ্রামে মারা গেছে । যাওয়ার পর হঠাৎ ঘরে বসে ছিলো হঠাৎ ই বুকে জোড়ে ব্যথা আরম্ভ হয় দুসরা গ্রামের ডাক্তার আনতে আনতে মারা যায় বাবুজি । হঠাৎ কি যে হলো আর রইলো না । ডাক্তার এসে বললো এআর বেঁচে নেই ।তারপর আর কি ।
সবাই বললো আপনাকে খবর দিতে ।
ঠিক আছে।
লখবীর যে মারা গেছেএকথা সরযূ ওর ছেল শিব একটা কাগজে লিখে দেবে ,সাথে ডাক্তার বাবুজি কোন কাগজ লিখে দিয়েছেন ,সেটা দিয়ে সতবীর তোমাদের গ্রামের লোক ওর হাতে পাঠিয়ে দিও ।তারপরে যা হয় আমরা টাকা পয়সার পাওয়ার জন্যে দপ্তর এ পাঠাবো ।বারবার আসতে হবে না ।
মাসখানেক পরে লখবীরের কাগজ আসলো । ডাক্তার সার্টিফিকেট ও ।
কিন্তু বাদ সাধলো পিয়ারী র এক বোন ।যার ওখানে
লখবীর আসতো যেতো ,বললো আমাকে বিয়ে করেছে, তিন বছরের এই ছেলে । অনেক ই এই যাতায়াত দেখেছে তবে বিয়ে করছে সে কথা কেউ বলেনি। মহেন্দ্র বলেছিলো একবার একথা লখবীর বলেছিলো যে আমি ওকে বিয়ে করবো ।
সব কথা হয়ে গেছে ।পিয়ারী র মা তখন বাধা
দিয়েছিলো ।বলেছিলো এদিকে যদি আর তোকে দেখি তাহলে তোর মাথা এখানে আর ধরটা গ্রামে পড়ে
থাকবে ।পিয়ারী র সাথে হয়নি ,এখন এদিকে এসেছিস । কিন্তু পিয়ারী র মা হঠাৎ মারা যায় ।তবে লখবীরের
সাথে পিয়ারী র বোনকে কেউ দেখেনি ।
কিন্তু বাদ সাধলো ।যখন পিয়ারী বললো বোনকে গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলো ।তারপর ওকে চাই বাসা নিয়ে যায় ।বছর দেড় পরে এসে আবার কাজে এখানে লাগে
বাবুজি ।দিত বাবু মেহেরবান লোক ছিলেন ,কাজে লাগিয়ে নেন ।এ নিয়ে কয়েক বার মারামারি হয়েছে সখুআ এ নিয়ে জেল ও কেটেছে । আবার কাজে লেগেছে হাতে পায়ে ধরে ।জলার ওপারেই তো সখুআ থাকে । সবাই ভয় করে ওকে সব সময় তো নেশা টেনে রয়েছে বাবু জি ।কে কথা বলবে উর সাথে ।তবে একটা কথা ও কাজ ভালো করে, সাহেবরা একথা বলেছে।
আমি কয়েক বার সতুওদের নেশা না করার কথা বলেছি কখন ও আমার কথা শুনেছে কখনো দলে পরে আবার শুরু ।
এভাবেই ওদের জীবন চলে চলেছে তবু ভালো যে আজকাল বাচ্চা দের ওই কোলিয়ারির আধ ভাঙ্গা
বেঞ্চে টেবিলে স্কুলের খাতায় নাম লেখাতে শুরু
করেছে । যদিও কোথায় কখন কে যে পড়ছে সে জানা নেই ।তবু দুচার জনকে স্কুলে যেতে দেখে আনন্দ হয় । এতদিনে হয়তোএটা হয়েছে ,নাম টা নিজে লিখতে পারবে ।
এখানকার দিন আমার ফুরিয়ে আসলো । লখবীর এর কাগজ পত্র হেড অফিসে পাঠালাম । কিন্তু যা আগেই বলেছি , কেসটা বাদ সাধলো যখন পিয়ারী ওর বোনের সাথে এক ছেলে আছে এই বলে এক এ্যাপ্লিকেশন আমার কাছে এনে হাজির করলো ।বাধ্য হয়ে ওর কাগজকে ও এর সমাধানের জন্যে ওপরে দপ্তরে
পাঠাতে হলো ।
পান্ডু আমার যাওয়া র সময় হয়ে এলো ।তোর তৈরি বাগান এখন যে আসবে সে দেখবে ।কি যে বলো বাবু ।এ কদিন হলে তো এলে, এবার যাবে ।বিবি জি সেও যাবে ।
হ্যাঁ,।সে কি এখানে একলা থাকবে ।দেখতে দেখতে পাচ ছয় বছর হয়ে গেলো ।
লখবীর এর কাগজ ওপরে দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি ।তবে কি হলো জেনে গেলে ভালো হতো ।
তোরা নেশাটা একটু কম করিস পান্ডু।তাহলে হয়তো ঝুগ্গি র ঘরে বাতি জ্বলবে । বাবুজি আপনি তো বাতি আনিয়ে দিয়েছেন । আবার কবে এদিকে আসবে ।সে আমি কি করে বলবো ।তবে জানিস পান্ডু যারা যায় তারা আর ফেরে না ।তোরা মালু কে স্কুলে পড়াস ।ও লেখা পড়া ভালো করবে । আমি আবার আসবো ।সরবতিয়া বলে ওঠে চলে বাবু আমাদের ছেড়ে । আমাদের কি ঠিকানা আছে রে ।আজ তোদের সাথে কাল আবার অন্য লোকদের সাথে ।তবে বাচ্চাদের দেখিস ওরা খুব ভালো হবে । যাওয়ার সময় চোখের জল ফেলতে নেই ।বাবু ঘরটা ফাঁকা হয়ে গেলো । ফাঁকা নয় রে আবার কেউ এসে ভরে দেবে । তোদের পেয়ার করবে ।সংসার এ ভাবেই চলে চলেছে ।
এই বোলে জিনিষগুলো রিক্সায় উঠিয়ে দিলো ।খবর দেবে বাবু । আচ্ছা।
এগিয়ে চললাম।
আবার নতুন জাগার খোঁজে ।
প্রিয়া দা মনে পড়ে লিখে জানলে এমন একটা জায়গায় গেলে তার বাস্তব জীবনকে জানতে পারলে না । শুধু কয়লার বোঝাই ঢুয়ে বেরালে। কয়লা র মধ্যে যে হীরে তাকে বের করতে পারলে না ।
হীরের জন্যে নিজেকে কয়লা হতে হয় প্রিয় দা সে আর কোথায় হওয়া গেলো ।দেখলেই তো চিরকাল অবাধ্য হয়েই রয়ে গেলাম ।সময় কেটে গেলো ।অ আ এই বুঝতে বুঝতে ই ।তাও বোঝা গেলো না ।সময় এতো কম যে দেখা আর বোঝার আগেই ডাক এসে গেলো , পরীক্ষার শেষ ঘন্টি এবার তোমার খাতা নিয়ে নেওয়া হবে তাই আর চেনা হলো না ।লেখা ওভাবেই কোথাও পুরো হলো না ।কোথাও অর্ধেক পাতা লেখা কোন ভাবে হলো কোথাও দু চার লাইন তাও পুরো হলো না । কোথাও খালি প্রশ্নের নম্বর টা লিখবো লিখবো করছি। এর মধ্যেই বললাম না ঘন্টি বেজে উঠলো সময় তোমার শেষ । তাড়াতাড়ি হুড়োহুড়ি করে শেষে রোল নম্বর টা লেখার চেষ্টা করছি ।
তোমাদের মত গুছিয়ে সংসার করা সে আর হলো না দেখতেই পাচ্ছো ।
আত্মা পরমাত্মা তার চিন্তা আর করবো কখন ।পেটের জ্বালায় চারদিকে ছুটে বেরলাম তার আগেই দেখা দিল ষড় রিপুর জাল ।জানা ই তো সেই জালে চোখের ভালবাসা য় ইলা কে ভালবাসলাম ।
ইলার লীলা ।তাও জানা হলো না । তাদের স্নেহ তাদের মমতা ও ত্যাগ সেটাও ঠিক ভাবে জানতে পারলাম না ।কি মায়ার মোহিনী র জালে তারা পুরুষকে চাইলে স্বর্গে র দেবতা করতে পারে আর চাইলে অতলে তলিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে বোঝার ক্ষমতা ও হলো না । খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন রয়ে গেলো ।
তাইতো প্রিয় দা নব্বইয়ের কোটা পার করে এসে কি বুঝলে সত্যি কি আমি কে কি তাকে জানা যায় ।
ছেলেদের বিয়ে হলো যে যার নিজের জায়গায় তাদের অনুসারে গুনে গেঁথে নিলো , দেখলাম তাদের মধ্যে আমাদের মিলিয়ে চলা সম্ভব নয় ।
তখন আমার মনে হলো সেই কথা তোর ভার তোকেই নিতে হবে । আমরা শুধু পাশে আছি ।একথা কতটা
খাঁটি ।
মানুষের ভালবাসা পেয়েছি না বলবো না তবে মানুষ চিনতে পারিনি । কে যে কখন নিজের স্বার্থ এর কাগজ নিয়ে এসেছে সব সময় বিচার করতে পারিনি ।তাদের মুখের হাসির পিছনে কতখানি পাওয়া না পাওয়ার এক বিরাট জাল ছিল তার বুঝে ওঠার ক্ষমতা হয়তো আমার ছিলো না । চেষ্টা করেছি । লোকদের বিশ্বাস করার ।সব ক্ষেত্রে সেটা হয়ে ওঠেনি প্রিয় দা ।
তুমি জানতে চেয়েছিলে কি বুঝলি ।
তাই বলার তাগিদে বলে গেলাম ,বাবা ,মা গত হলেন ।কেউ বলার রইলো না তোরা কি খেয়েছিস ।রাত হয়ে গেল শুয়ে পড় ।রাত জাগলে শরীর খারাপ হবে।ভোরে ওঠার আছে ।কাজ চিরকাল আছে থাকবে তবে শরীরকে ও তো দেখতে হবে ।এত কাজ করলে কি করে চলবে।এ বলার লোকগুলো কে হারিয়ে ফেললাম ।
শরীর ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে ।ইলার শরীর ও আর চলছে না ।তবু টেনে যাচ্ছে ।
তোমার লেখার শেষ নেই ।কি বুঝলে নিজেকে ।
এতদিনে ।যে যার নিজের যা করার তাই করবে তোমার দশটা কথা শুনে যাবে । কিন্তু করবে নিজের মতো ।অত ই যদি বুঝতে হয় গুহায় গিয়ে একলা বসে থাকো। নিজের আমি কে এই চিন্তা করো ।
হবেনা । যেখানেই যাও যতকাল এ শরীর আছে তার পেটের জ্বালা আছে তাকে মেটাতে হবে ।এটাই সত্য ।
এবং তার জন্যে তোমাকে কর্ম করতে হবে । এবং জানো এই কর্ম ই তোমাকে জানতে সাহায্য করবে তুমি কে ।চুপ করে বসে থাকলে কিছু ই হবে না । সাধু ই বলো আর
স্বামী জি বলো এই পেটে র জ্বালা থেকে কে বাদ গেছে শুনি ।আগে খাবার সামনে রাখো তার পর চোখ বুজে বসে থেকো ।তোমার জ্ঞান এর তর্ক তখন ই ভালো লাগবে । খাঁটি কথাটি বললাম ।
অনেক দিন ধরেই কথা হয়েছিল যে সমুদ্রের পারে পাড়লে সোমনাথ মন্দির দর্শন করবো ।অতল সমুদ্র ও দেখা হবে সাথে আদি দেবকে ও ।
কয়লা খনি র দেশ থেকে বিদায় নিলাম । দিল্লি তে পীযূষ এর কাছে এসে উঠি । আগেভাগে জানিয়েছিলাম যে আমরা কয়েক দিনের জন্যে অতিথি হতে চাই ।এরপর দেখেশুনে নিজেদের একটা বাস খুঁজে নেবো ।কোন দিন ই সময় মতো কোন কাজ হয়নি ।মনে করে নিতে হবে ওটাই সময় , কেননা অনেক দেখলাম যে নিজের চেষ্টায়
করেও যখন হয়না তখন সেটা অদৃশ্য সময় ও শক্তি র কাছে ছেড়ে দেওয়া ই ভালো ।
প্রিয় দা তোমার হয়তো মত ভিন্ন হতে পারে । তোমরা সব বেদান্ত বাদী । বিভিন্ন জ্ঞান এর কথা বলবে ।আসলে ও যদি ততদিনে কথাগুলো মনে থাকলে তাহলে তোমার কথা শোনা যাবে।
যে কথা তোমায় বলছিলাম । অসমাপ্ত কাজ রেখে সেই কয়লা খনি র দেশে হীরের খোঁজ না করেই আমরা দিল্লি আসলাম ।আমার হীরে চেনার ক্ষমতা ছিলো না । তুমি তো জানোই নিজেকেই ঠিক বুঝতে পারলাম না ।
পীযূষের কোয়ার্টার এ এসে উঠলাম ।
নাতি শ্রীমান ও পাপিয়া নাতনির সাথে বছর চারেক পরে আমাদের দেখা হলো ।বড় হয়ে উঠেছে ।
সেই যখন ছোট মুখে ভাত,
যখন তুমি এসেছিলে সেই দেখা । পৌলমী নিজের মতো করে মানুষ করে তুলছে । সাবিত্রী বলে এক সহায়িকাও আছে ।
আমি ওদের সংসারে ঢুকতে চাইনি আর পীযূষ ও ঠিক চাইতো না যে ওদের মধ্যে ঘর করি । আমি ও ভেবেছিলাম যতদিন এখানে আছি ততদিন এই দিনমজুর লোকদের সাথে ই জীবন কাটিয়ে দেব ।যারা সহজ সরল যারা শত দু:খের মধ্যে ও একজন আরেকজনের জন্যে হাত বাড়িয়ে দেয় সেখানে কোন মেকি নেই। কিন্তু সে হলো না । সেই কোলিয়ারির উঁচু নিচু ভাঙ্গা পথ দিয়ে বেরিয়ে আসতে হলো । পিছনে পরে রইলো সরবতিয়া, মালু, পান্ডুর ছবি ।
কয়েক দিন থাকার পর ঠিক করলাম দেখ কোথায় ঠাঁই নেব তার ঠিকানা নেই প্রিয় দা র চিঠি তুমি দেখেছিলে, লিখেছেন নব্বইয়ের কোটা পার করলাম আমাদের শাস্ত্রে আছে জীবেম শরদঃ শতম্ সেই শতের কাছে এসেছি, তোমাদের সাথে এ জীবনে একবার দেখার ইচ্ছে ছিলো যদি সম্ভব হয় তাহলে এসো ।
আমি ভাবছি কি জানো তোমার সমুদ্র দেখার ইচ্ছে ছিলো চিরকাল আর বারবার সোমনাথ মন্দিরের দর্শন করবো বলেছিলে,বলেছিলে বাবার দেখার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু হয়ে ওঠেনি ।দেখ আমার হয় কিনা । সেই বার পীযূষ দের সাথে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমার শরীর বাদ সাধলো ।এবার তাই ভাবছি যদি মনেকর তাহলে
সমুদ্র পার দেখে সোমনাথের মন্দির দর্শন করে
তারপর না হয় প্রিয় দা র ওখানে গিয়ে উপস্থিত হবো । মোক্ষ ধামে ।
নিয়ম মাফিক কোন কাজ ই কোন দিন হলো না ।তাই যেভাবে যেটা পুরো হয়ে যায় সেটাই নিয়ম ।দেখলে না পিনাকী র মেয়ের বিয়েতে যাবো আগের দিন পা জবাব দিলো, ভেঙ্গে গেলো । আমি হাসপাতালে তুমি বিয়ে বাড়িতে ।এই অবস্থা চিরদিন হয়ে এসেছে । বাড়ি সম্পর্কে আর চিন্তা করিনি যেভাবে ওরা সুখে থাকে সেই ভালো বলে ছেড়ে দিয়েছি। শুধু প্রথম জীবনের স্মৃতি হিসাবে থাক।মা যতদিন ছিল দুয়েক একবার করে গিয়েছি তারপর জানোতো সে ভালোবাসা থাকে না ।তখন হয়ে ওঠে কে কতো দিলো সেই দিয়ে তাকে
মাপো । যাওয়া আসা কমে আসলো বয়েস বাড়লো সবার ই ।
ত্রিদিব জানিয়েছিলো ,তোমাকে নয় আমাকে, হ্যাঁ, ছোটছেলে মায়ের বিশেষ প্রিয় যে যদি তোমরা ওদিকে যাও তারপর এদিকে একবার হয়ে যেও ।
সে না হয় হবে । হঠাৎ ডাক পড়েছে কেন ।কোন কারন তো হবে ।সেটা না হয় নাই জানলে । তথাস্তু।
তোমার সংসার আমার ওপর না, ঘাড়ে ছেড়ে দিয়ে বিশ্ব রাজ্যের তুমি কল্যাণ করে বেড়ালে ।আর নিজের ঘরে কি হচ্ছে সে দেখার দরকার নেই । সবাইকে তুমি নাচিয়ে বেড়ালে এতকাল । তুমি দু মিনিট সময় করে যে বসে আমার সাথে কথা বলবে সে অবসর তোমার হলো না। এদিকে উপদেশ দিয়ে চলছি লোক কল্যাণের ।
তুমি যে মাঝে মধ্যে কেন যে ক্ষেপে ওঠো সে আমার বোঝার বাইরে ।
আমি পীযূষ কে বলেছি বৌমাকে ও বললাম আমাদের একটু সোমনাথের দিকে যাওয়ার ইচ্ছে আছে গাড়ি তে অনেক সময় লাগবে , তোমাদের প্লেনে টিকিট করে দিচ্ছি অনেক সুবিধে হবে ।আসার ও ওই একই ভাবে । যাওয়ার দিন ঠিক হলো ।বৌমা আমার গোছগাছ করে দিলে ।আমরা দুবার ওদিকেই ঘুরে এসেছি তাই আর গেলাম না । এবার অন্য কোথাও গেলে তখন সাথে
যাবো । আমরা সোমনাথের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । ত্রিদিব কে ইলা তার সমস্ত বিষয় জানিয়ে চিঠি দিলো ।আমরা সময় পেলেই তোমার ওখানে হাজির হচ্ছি।কবে পর্যন্ত সেটা এখন বলা সম্ভব নয় ।
উড়ে চললাম দিল্লির আকাশ ছাড়িয়ে ।সোমানাথের শরণে ।মনে অনেক দিনের আশা ।
রাস্তায় শরীর খারাপ হয়ে পড়লো সঙ্গে সঙ্গে ফেরত আসলাম ।পীযূষ তাড়াতাড়ি গঙ্গা রাম হসপিটালে ভর্তি করলো । আরম্ভ হলো চিকিৎসা। ত্রিদিব কে সাথে সাথেই এই অবস্থা পীযূষ জানায় ।এসে উপস্থিত হয় । কিন্তু ইলা বুঝতে পারলো না যে তার ছেলেরা উপস্থিত হয়েছে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জ্ঞান আর ফিরল না । ধীরে ধীরে পরপারে চলে গেলো ।
একটা জীবন ।
আজ প্রিয় দা ,আমি সঙ্গী বিহীন। শুধু বুঝলাম কোন কিছু কেই ধরে রাখা যাবে না ।যত ই চেষ্টা করো না কেন।
তুমি একলা । তোমার এই যাত্রা পথে ।
তোমার বোঝা তোমাকেই নিয়ে চলতে হবে তাই নয় কি প্রিয় দা ।
আমি তোমার সেই স্মার্তপন্ডিত কমলা প্রসাদ নই যিনি বলেছিলেন, গঙ্গাধর সময় শেষ, যদি আরো কটা দিন সময় পেতাম তাহলে নতুন ভাবে স্মৃতি শাস্ত্র কে লিখে যেতাম।
এর ফের বদল করার দরকার ছিলো । স্মৃতি কার রঘুনন্দন বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছেন । আমাদের
সময় পাল্টেছে । যুগোপযোগী ব্যবস্থা হওয়া দরকার । প্রিয় দা আমি সে নই । আমার সব কিছু ই অজানা
রয়ে গেলো ।অমৃত কুম্ভ আর সেই হীরাকে জানতে পারলাম না । সেই মোহের মধ্যে রয়ে গেলাম ।
------------------------------০০০০০০০------------------------------
