STORYMIRROR

Tapan kumar Chakraborty

Others

4  

Tapan kumar Chakraborty

Others

অজানা

অজানা

9 mins
43

তোমাদের হয়তো মনে পড়বে নিকলনসন রোড থেকে মধুদার কথা । সেই ঝুনঝুনি দেখাতো আর বলতো বুঝলে চাঁদ, জীবনটা এই ঝুনঝুনি র মতো যতক্ষণ বাজবে ততদিন । তারপর আর কে কার ।বড় পাগল মানুষ ছিলো ।কোন চাহিদা ছিলো না ।যা পেল বা যা দিলে তাতেই খুশি ।সে একদিন ।
তারপর আবাহাওয়াই পাল্টে গেলো ।কি যে হলো মধুদার  ঠিক বোঝা গেলো না ।এখান থেকে চলে গেলো সেবার ।
 আবার কিছু দিন পর ঘুরে এসে হাজির ।বললো বেণু ,জানিস পাখি সে যতই  উড়ুক এদিকে ওদিকে যাক আবার সেই ডালেই এসে বসে ,এই বলে সেবার একটা টিয়া এনে হাজির ।সাথে খাঁচা ও ।এই রইলো মামা খাঁচা ।
বেণুকে কিন্তু কিছু বলো না ।ও ঠিক একে সামলে নেবে । নিজেদের কে দেখে তার ঠাঁই নেই তার মধ্যে আবার পাখি ।
বাস্তবে মধুদা আমাদের কোন রক্তের সম্পর্কের কেউ ছিলো না ।
তোমরা জানো কি না জানি না , আগে কুল গুরু হতেন এবং এখনো আছে। সেই বংশ পরম্পরায় তাদের কাছে দীক্ষা নেওয়ার এক  প্রথা ছিল । তাঁরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বা বিভিন্ন ধারার বলা যেতে পারে।যে যে সম্প্রদায়ের দীক্ষার আধারে তারা সেই সব দেব দেবীর উপাসনা করতেন ।তারা তাঁর শরণাপন্ন হতেন । এবং তারা সেই সেই সম্প্রদায় ভুক্ত হতেন ।
কেউ বৈষ্ণব  বিষ্ণু পূজা করতেন কেউ শৈব তিনি  শিবের আরাধনা করতেন,কেউ শাক্ত তিনি দুর্গা ,কালী র পূজা করতেন এইভাবে বিভিন্ন দেবদেবীর ধ্যান ধারণা তারা করতেন যে প্রথা বর্তমানে ও আছে।
সেই গুরু পরম্পরায়  একদিন মধুদা চন্দ্র নারায়ণ তর্কালঙ্কার অবিনাশ দার বাবা কাছ থেকে তিনি তখন অশীতিপর বৃদ্ধ তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা নিলেন ।
 বৃদ্ধ তর্কালঙ্কার মশায় বললেন বুঝলে মধুসূদন যদি পারো তার নামে আর যাই করো তাঁকে হাসির পাত্র বানিও না ।জানা নেই মধুদা তখন কি বুঝতে কি বুঝে ছিলো । তবে সেদিন আজ্ঞাবহ হয়ে , আবার আসবো বলে বিদায় নিয়েছিলো ।
মধুদা কিন্তু তখন বিয়ে করে পুরো সংসারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে । এদিকে কয়েক বার  মধুদা গুরু
গৃহে এসে থেকে গেছে । সেদিন অবিনাশ দা বলছিলো কেন মধু দা বিয়ের পর ও মুক্তাকে নিয়ে  এসেছে, থেকেছে তখন অতটা গা হয়নি বা তার জন্যে যে কোন অসুবিধে সে ও মনে হয়নি ।দু একজন লোক থাকবে কয়েক দিন,সে আর এমন বেশি কি কথা ।
মা বলতেন অতিথি হলো নারায়ণ। যা পারিস অন্তত দু মুঠো দিলে তোর সংসারে কিছু কম হবে না ।
এই যে মনের ভাবনা সেটা ইদানিং কালে কমে আসলো আমরা যেন নিজের দিকটায় বেশি সজাগ হয়ে পড়লাম ।তোমরা সেটা বুঝতে পেরেছো কিনা সে আমি ঠিক বলতে পারবো না ।
সময়টা মনে হয় পাল্টে গেলো ,ঠাকুর দা গত হলেন ।
একান্নবর্তী পরিবার কাজের তাগিদে পুরো পরিবারটাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো‌।বাবা বললেন এই যে তোরা এক এক জায়গায় বসত করলি, এ আর এক হওয়ার নয় ।এই যে ভাঙ্গন ধরলো এটাই চলতে থাকলো ।এক  পরিবারে এক সাথে থাকার যে ধৈর্য্য যে ত্যাগ সেটা আর তোদের মধ্যে কোন দিন হবে না ।
তোরা এখন সবাই একা । তোদের লড়াই  এখন একলার লড়াই। কিজানি আজ তোদের ডাকলেও সবাই এক জায়গায় হবি কিনা সেটাও সন্দেহ হয়।জানিস মন বড় ঠুনকো কোন কথা কখন যে  কে গায়ে মেখে নেয় তা বলা যায় না ।  
সেই সন্দেহ থাকা পরিবারে মধুদা থাকতো ।তিন চার মাস পাঁচ মাস । কখনো তার চেয়ে ও বেশী ।আবার কখনো মাথায় ক্ষ্যাপ চাপলো যে আজ যাবো তো আজ ই ।এই না বলে লোটা  কম্বলটা নিয়ে মধুদা উধাও হয়ে যেত । আবার কিছু দিন কোন খোঁজ খবর নেই ।  শুধু মামী চললাম এই বলে ।
তোমরা এমন ক্ষ্যাপা দেখেছো ।যার ঘর আছে, বাড়ি আছে , ছেলে আছে পুরো  সংসার সে যে এমন ক্ষ্যাপা হয়ে  কেন বেরিয়ে পড়তো এদিকে ওদিকে ঘুরে  আবার ফেরত আসতো বুঝতে পারতাম না ।
একবার সে কি বৃষ্টি তার মধ্যে মধু দা এসে হাজির । দরজা খুলে বাবা বললো এই বৃষ্টি তার মধ্যে কোথা
থেকে । রুদ্র প্রয়াগ হয়ে এলাম । আবার কোন প্রয়াগ যাওয়ার  ইচ্ছে।
এখন গুরুধাম । লোকে বলতেই বলে গুরুধাম। তার ঠাঁই  সকল ঠাঁই।তাই মাথা ঠেকানো ।
আমরা বলতাম মাথা ঠেকিয়ে গড় করতে গিয়ে তুমি তো মামা শুয়েই পড়লে ।আরে গুরুর বাড়ি বলতে কথা ।পরে বুঝবে মামা গুরু ঘর যা তা নয় ।
মধুদা চলে গেলে আমরা কাঁদতাম ।মা বলতো অত কাঁদতে নেই ।আবার আসবে ঠিক দেখেনিস ।ও হলো উড়ো পাখি ।কোন ডালে গিয়ে বসলেই হলো ।এক জায়গায় থাকতে পারে না ।
 মধু মামা সবার মামা আমাদের সব কথা শুনতো আর সেই বাঘের মামা ভোম্বল দাসের গল্প বলতো । আমরা হা করে সেই গল্প শুনতাম ।
 যতদিন থাকতো  হৈ হৈ করে কাজ করতো ।আর  তার মধ্যে কখন যে চলে যেত জানতেই পারতাম না । সেই মধুদা মারা গেলো । তখন আমাদের বয়েস হয়েছে । চাকরি করি ।
 কিন্তু কতগুলো প্রশ্ন রয়ে গেলো । সেই আমার সাথে শেষ দেখা ।
তোমরাও দেখেছো ঝুনঝুনি নিয়ে আসতে । গুরু কে সেবা করা মামা ভাগ্যের দরকার । সবাই পায় না ।
সেতো হলো ,তবে সাধু হয়ে এক কাপড়ে কত দিন
 চলবে ।
তোমার ভাগ্নে একটু ও মনে পড়ে না তাদেরকথা ।একটু হেসে মধু দা বলতো এখানে তোমরা হলে লেখাপড়া জানা বিদ্বান লোক । তোমাদের আর আমি কি বোঝাবো। ,যার যেটুকু পাওনা ওপরে যে বসে আছে সে ঠিক করে রেখেছে ।তার বেশি কেউ পায়না ।আমারসাথে মুক্তার ওটুকু পাওনা ছিলো ।কি বলো মামা ।
কথাটা কি ঠিক নয় । কথা হলো এই যে সাধুর বেশ ধরে চললে  চলাটা বর কথা নয় বর কথা হলো তাদের জীবনকে ঢেকলে দিলে এক অন্ধকার এ ।সেটা কি ভালো হলো ।কোথায় দাঁড়াবে তারা ।কার কাছে গিয়ে ভিক্ষা করবে ।সেটা একবার ও তোমার মনে হলো না ।তার মতামত নিয়েছিলে কি। বেরিয়ে আসার সময়ে । তুমিতো সংসার থেকে ভয়ে বেরিয়ে আসলে তার দায়িত্ব থেকে দায় মুক্ত হতে ।সে কি হওয়া যায় ।
 দেখো মামা বড় বিচিত্র এ জীবন ।সব কিছুই যে সমান ছকে আছে বা চলে এমন নয় ।
মামা যেকথা তুমি আজ বললে সেকথা যে আমার মনে  না হয়েছে  এমন নয় । অনেক বার প্রশ্ন করেছি কিন্তু জানো কোন উত্তর সঠিক পাইনি ।
তুমি কি বলতে পারো মামা ভালোবাসা কি ।কেন এই ফাঁদে আমরা জড়িয়ে পড়ি কখনো স্বেচ্ছায় কখনো অজান্তে ।কেন ।কেন এই মোহ জাগে মোহময়ী এ ধরায় ।যাকে যতবার ছাড়াবার চেষ্টা করেছি সে ততবার এক নতুন ভাবে দেখা দিয়েছে ।
তুমি যদি বলো মামা এটা দুজনের পারস্পরিক শারীরিক মিলনের একটা সামাজিক বৈধ অনুমতি । শুধু কি শারীরিক, সেটা হয়তো অর্ধেক  সত্যি। সেটা হলো  জৈবিক ক্ষুধা । সেটা মিটে যাওয়ার পর তারপর  তারপরেও আমাদের চলতে হবে মামা, সেটা কোন রসে ।কোন টানে । কেন  জানি এটা আমার মনে হয়েছে । বারবার ।আমি হিসাব মিলিয়ে উঠতে পারিনি।হাত ছানি দিয়েছে । সেই হাসি যার মধ্যে এক মোহিনী মায়া মিশিয়ে আছে ।ভুলতে পারিনি ।
কোন দিন  যদি এর উত্তর তোমার অভিধানে  থেকে থাকে মামা ,তাহলে বলো ।আমি কাউকে ছাড়তে চাইনি মামা ।
তারপর দিন নিজের সেই পাশ বালিশের মতো দুটো থলে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো অজানার দেশে ।
মা বললো  কি দরকার ছিল, এত কথা বলার ওর সংসার ও বুঝবে। তোমাদের জায়গা হয় থাকতে দিও ,
জায়গা না থাকে তাহলে বলে দিও যে না ওরা সব বড় হয়ে উঠছে তাই আর জায়গা দেওয়া সম্ভব এখন নয় ।
আমরা সব সময় দেখেছি আমাদের সদর দরজার মাঝে এক ফালি জায়গা সেখানেই মধুদা আরাম করে শুয়ে থাকতো । ঘর দিলেও বলতো ও আমার জন্যে নয় ।বললেই বলতো ,গুরুর পায়েই থাকতে  হয় বুঝলে মামা । এখানে তো তোমার পুরো পা মেলে শোয়ার জায়গা ও নেই ।
 না থাক, পুরো জায়গা ,আরে মামা তুমি একদিন শুয়েই দেখো তার নীচে থাকা কত আরামের ।বললেও শুনতো না ।
একদিনের কথা বলি পরিবারের সবাই প্রায়  খেতে বসেছে যেমন হয়ে থাকে মা এবং অন্য মেয়েরা খাবার পরিবেশন করছে ,যে যার মতো করে খাবার খেয়ে কোনটায় নুন কম হয়েছে ,কোনটায় বেশী কোন টায়
ভাজার দরকার ছিলো কোনটা কাঁচা এনিয়ে বেশ তর্কাতর্কি চলছে ,মধুদা এর মধ্যে থেকে  বলে উঠলো কেন এই সামান্য নুন কম বেশি নিয়ে মামা এত তান্ডব ।মামা  কিছু মনে করো না যতক্ষণ তোমার খাবার জিনিস টা জিভের আগে আছে, ততক্ষন মামা তার স্বাদ জানোনা আর তার খাবার পরেও  কোন স্বাদ নেই । শুধু এইটুকু জিভের জন্যে এত তান্ডব।
কিন্তু যারা এত কষ্ট করে মাথার ঘাম এক করে  সেটা তৈরি করলো ,আমাদের একটা কথা যে অখাদ্য হয়েছে, তাদের  মনে কতটা দু:খ দেবে সেটা কোন দিন মামা ভেবেছো  দেখেছো কি ।
 মধু দা কোনদিন খাবার নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি । যখনই মধুদা কে জিজ্ঞেস করেছি আজ কি রকম খেলে মামা ।বেশ পেট ভরে গেলো । ভালো ই হয়েছে ।তোমার এও ভালো সেও ভালো । খাবার নিয়ে অত হৈ চৈ করতে নেই মামা ।যা পাও গপা গপ  চামড়ার থলিতে দিয়ে নিশ্চিন্ত ।এ থলেটার বড় জ্বালা এই বলেই মধুদা হাসতো। আর পেটে হাত বুলোতো ।
 আমার বুঝলে বেণু  মামা তোমার বাবার মতো অত বিদ্যা বুদ্ধি নেই তাই যাপাই সব খাই । তুমি সব খেতো পারো ।সে সব পুরোনো দিনের কথা । হ্যাঁ সব পারি । আবার কবে আসবে ।তোমার থলের মধ্যে এত কি
 আছে ।দেখি ।
না ।ওর মধ্যে ভোম্বল দাস বাসা বেঁধেছে ।কি যে বলো । সত্যি  । হ্যাঁ।ওই কাপড়ের থলেতে আরামে বসে থাকে ।আর নাড়াচাড়া দিলেই বালিশের মতো ফুলে ওঠে  ।সে সব দিন ফুরিয়ে গেলো ।
বাবা তখন হাসপাতালে ধীরে ধীরে আমায় বললো, যদি মধুদা এর মধ্যে যদি আসে তাহলে মধুদা কে  বাড়িতে থাকতে দিস । বুঝলি বেণু ।জানি ও থাকার পাত্র নয় । তবু ও বলা ।মধুদা থাকলে তোর মা মনে একটু জোড়ে পাবে । তোদর ও বড় করলো ।ওর সামনেই বড় হলি । কতবার বললাম মধুদা তোমার পুরো সংসার তাদের তুমি ছাড়লে । এভাবে তোমার শেষ জীবন পড়ে আছে মানলে না ।
কয়েক বার মুক্তা এসেছে দেখা হয়েছে ।কথা হয়েছে ।হাসি ঠাট্টা সব হয়েছে কিন্তু উড়ো পাখি র মতো উড়ে বেরিয়েছে । বাড়ি মুখো হয়নি । মানুষের মন জানি না কিসের আকর্ষণ এ এভাবে সংসারে থেকে ও নতুন জায়গা খুঁজে বেরায় কিসের আশায়। মধুর মতো লোকেরা।
 নিকলসন রোডের বাড়িতে যাতায়াত ছিলো , নিজের মনেই সেই খঞ্জনি বাজিয়ে গান করতো ।আর বল তো বাবু ভায়া যতদিন বাজছে ততদিন, তারপর তো সব গুরু পদেই দিতে হবে ।
বাবা গত হয়েছন ।বেশ কিছু দিন হয়ে গেলো । আমাদের শোক করার অবসর নেই । প্রাইভেট চাকরি ।সময় শেষে কাজে যোগ দিতে হয়েছে ।মাকে বললাম যদি মধুদা আসে থাকতে দিও যদি চায় ।
মা বললো না আর নয় । যতদিন ছিলো তোর বাবা ততদিন ঠিক ছিলো ।   কেন সে এতদিন আমাদের সাথে থাকলো। হঠাৎ তুমি তাকে না করবে । কেন ।
মার চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসলো ,সে আমি বলতে পারবো না। বেণু ।সে কথা থাক।
অনেক দিন সে বছর দেড়েক পরে হবে একদিন সেই বালিশের মতো ঝোলা নিয়ে উপস্থিত। সংযোগে আমি ও বাড়িতে। দরজা খুলে দেখি মধুদা দাঁড়িয়ে ,এসো মামা ওভাবে কি দেখছো ।না ।
দেখে গেলাম মামীকে বলিস ।দূর থেকে আওয়াজ ভেসে আসলো ।কেমন যেন মনে হলো । হঠাৎ  চলে গেলো ।মধু মামা আসলো,
 ভেতরে ঢুকলো না ।গুরুর বাড়ির ধুলো মাখলো না ।চলে গেল ।কি রকম । আমাদের ওপর কি রাগ করেছে ।
মাকে বলি ।হবে কোন কারন ।পাগল ছাগল মানুষ ।কখনো কি মনে ভাবে বলা তো যায় না ।
এরপর বেশ কিছু দিন পরে‌ ।
খবর আসে মধুদা পাহাড়ে কোন গুহায় উঠতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ।সে নেই ।
মা বললো এতদিন কষ্ট করেই গেলো সুখ পেলো না জীবনে ।কত বললাম মুক্তা তোমাকে বিয়ে করেছে সে তার সর্বশেষ লজ্জাটুকু সে  তোমাকে দিয়েছে কিন্তু মানলে না । ভবঘুরে হলে ।কি পেলে এ জীবনে বলতে পারো কি । উত্তর নেই ।
মার অচেতন দেহ মাটিতে পড়ে আছে ।সরলা দি চিৎকার করছে মা ঠান ।কোন সারা নেই ।এর মধ্যে মাধুরী  দৌড়ে আসলো ।   

-----------------------০০০০০০০০০--------------------------------




Rate this content
Log in