Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

Akash Karmakar

Drama Romance Tragedy


3  

Akash Karmakar

Drama Romance Tragedy


প্রাক্তন

প্রাক্তন

6 mins 284 6 mins 284

(দীর্ঘ দশবছর পর)


হ্যালো! ভালো আছিস? আমি রাহুল বলছি।

নামটা অনেকদিন পর জিয়াকে আবার নাড়িয়ে দিল। কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে, হ্যাঁ ভালোই আর কি। তোর খবর বল, কেমন আছিস? এখন কোথায়? 

আমি কিন্তু ফোনে আড্ডা দেব বলে কল করিনি। 

তাহলে? 

আজ বিকেলে আসতে পারবি? 

কোথায়? 

চেনা জায়গাটায়, মনে আছে নাকি ভুলে গেছিস? 

যতদিন নিশ্বাস চলছে আর মস্তিষ্ক স্বাভাবিক রয়েছে ভোলা যে আদৌ সম্ভব নয় সেটা তুই ভালো করেই জানিস। যাইহোক আর কেউ আসছে নাকি? 

সঞ্জয়কে দেখতে চাস সেটা বলতে এতো ইতস্ততঃ বোধ করছিস কেন? বুঝি তো সবই

হ্যাঁ মানে ঐ আর কি। ন্যাকামি করে না টা আর বললাম না।

হ্যাঁ তাকেও ফোন করেছিলাম। আসবে বলেছে।

বেশ, কটায় আসতে হবে বল? 

পাঁচটা নাগাদ আয় তবে। 

ঠিক আছে, দেখা হচ্ছে। একটু আগে আসিস প্লিজ, একা দাঁড়াতে খুব বোর হয় জানিসই তো।

হ্যাঁ তুই আয়। আমি, বা আমরা অপেক্ষা করব।


(দশ বছর আগে)


কি দরকার ছিল জিয়া এই খেলাটার! মানলাম আমি খুব সাদামাটা, আর তুইও তো সেটা দেখেই একদিন ভালোবাসার হাতটা ধরেছিলি। তোর কি মনে হয়, তুই আমাকে বলে গেলে আমি তোকে নিষেধ করতাম? যদি এটাই তোর ধারণা হয় তাহলে তুই আমাকে আজও চিনতে পারিস নি। আর হ্যাঁ রাহুল, তুই তো একবার বলতে পারতিস। তোরও মনে হল না একবার আমাকে জানানোর কথা? বাহ্! এরপরও তোরা বলবি যেনো আমি সমস্ত কিছুকে চোখবন্ধ করে ভরসা করি। 


Calm down সঞ্জয়, আমরা জাস্ট ঘুরতে গেছলাম। আর সেটাও জিয়া চেয়েছিল তাই। 


What do you mean by জিয়া চেয়েছিল? জিয়া তোকে যা বলবে তুই সব করবি? তুই জানিস না ওর সাথে আমার বিগত পাঁচ বছরের সম্পর্কের কথা, তাহলে? আর জিয়া তুই; তোর সাথে কথা বলতেই আমার বিরক্ত লাগছে।


সঞ্জয় দেখ, ফালতু মাথা গরম করিস না। তুই কিন্তু বেকার বেকার সন্দেহ করছিস। That's not fair buddy 


বেকার বেকার? তোরা দুজনে পরিকল্পিতভাবে সন্ধ্যাবেলায় নদীর চরে বাইক নিয়ে ঘুরতে গেছলি সেটাও একবারও কাউকে না জানিয়ে; আর এখন আমি সন্দেহ করছি বেকার বেকার!


হ্যাঁ করছিস কারণ ও আমার কাঁধে হাত রেখেছিল শুধু, আর কিছুই হয়নি আমাদের মধ্যে।


Please Rahul don't give me any explanation. 

আর জিয়া তোর সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই, তুই আজকের পর থেকে যতখুশি যেখানে খুশি যেমনভাবে খুশি যার তার সাথে খুশি ঘুরতে যাস, আমার আর কোনো সমস্যা হবে না। আমার বাইক তো নেই, তাই তোকে ঘোরাবার মতন কোনো উপায়ও নেই।


(কাঁদতে কাঁদতে) please Sanjoy stop it. কি পাগলের মতন বকছিস? দেখ এভাবে কোনো সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না। আমি তো বলছি আমি ভুল করে ঘুরতে চলে গেছি, আর যাব না কোনোদিন। 


দেখ জিয়া, বিশ্বাসটা এমনিই। একবার সেখানে সন্দেহের বীজ বপন হয়ে গেলে তুই যতই চেষ্টা কর তা মরে না। পার্থেনিয়াম গাছের জঙ্গল হলে আমরা নানারকম স্প্রে করে তার হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি পাই ঠিকই তবে আবার পরের ঋতুতে তা ঠিক বেড়ে ওঠে। তোকে আমি এই পাঁচবছরে ভালোবেসেছি ঠিকই তবে সেভাবে দিতে পারিনি কিছুই। রাহুল পারবে, নাহলে অন্য কেউ আসবে। 


সঞ্জয় ভুল করিস না। তোদের সকল সমস্যার জন্যে দায়ী আমি তো, ওক্কে আজকের পর থেকে তোদের আর কোনো আড্ডাতে আমি থাকব না। 


ভুল আমি নয়, তুই করছিস রাহুল। কারণ তোকে দেখার পর থেকেই কোথাও না কোথাও জিয়া তোকে পছন্দ করে, সেটা আমিও বুঝি।


পছন্দ করা আর ভালোবাসা কি এক? 


না, এক নয়। কারণ তুই অজয়কেও পছন্দ করিস কিন্তু ওর সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবিস নি। ভেবেছিস রাহুলের সাথে। এর আগেও সরস্বতী পুজোতেও আমার সাথে দেখা করতে আসার সময় রাহুলই তোকে আনতে গেছল। 


হ্যাঁ সে তো শাড়ি পরেছিলাম বলে। 


শুধুই কি শাড়ি? ছাড়, আর এনিয়ে কথা বলে লাভ নেই। রাহুল, জিয়াকে ঘুরিয়ে আনিস।


এবার কিন্তু তুই বাড়াবাড়ি করছিস। তোকে এতবার বোঝানোর পরেও কোনো পরিবর্তন নেই তোর মধ্যে। আর হ্যাঁ যদি আমি ওকে ঘুরতে নিয়ে গেছি তো ভুল কি করেছি। তোর প্রেমিকাই যেতে চেয়েছিল, ফোন করে বলেছিল তাই। দিনের শেষে আমিও একটা ছেলে, তাই ভাই আমার কাছে তো ভালো লাগবেই। 


বেশ, বললাম তো এরপর যতখুশি ঘোরাঘুরি করিস তোরা। আমি না ফোন করব আর না কোনোরকম বিরক্ত করব তোদের।


...সেদিনের কলেজ ক্যাম্পাসের পর আর কোনোদিন কেউ কথা বলেনি তারা। পাস আউট হয়েছে তিনজনেই ভালো মার্কস নিয়ে, একে অন্যের খোঁজ নিয়েছে বাকিদের কাছে তবে ফেরাঅয়েলের পার্টিতেও তারা দূরত্ব বজায় রেখেছিল। 


(দশ বছর পর)


ঘড়িতে পৌনে পাঁচটা। রাহুল আগেই পৌঁছে গেছে; এখন সে কলেজের প্রফেসর। ও হ্যাঁ তিনজনের বিষয়ই কিন্তু ছিল ইংলিশ। আগের বাইকটা আর নেই, এখন অন্য একটা। আগে সে বাইক নিয়ে দৌড়াত আর এখন সংসার হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই একটু ধীরস্থির হয়েছে। 


ঠিক মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়াল সঞ্জয়। সেদিনের পর এই প্রথম দুজন মানুষ মুখোমুখি; কি বলবে কারোরই জানা নেই। কে আগে কথা বলবে তাও বুঝতে পারছে না। কিই বা বলবে তারা। আগে দেখা হলে একসাথে খাওয়া, কোলাকুলি করা, রাহুলের মেসে সঞ্জয়ের টিউশন বাঙ্ক করে ঘুমোতে আসা সবই স্মৃতিতে রয়েছে। আজকে তবে সৌজন্যতা দেখিয়ে হ্যান্ডশেকটাই করল, জড়তাটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি যে দুজনেই। সঞ্জয় এখন হাইস্কুলের টিচার, তবে সংসারটা এখনও করা হয়ে ওঠেনি। 


ঘড়িতে পাঁচটা পাঁচ, সামনে দিয়ে হেঁটে এগিয়ে এলো জিয়া। রাহুল এগিয়ে গেলেও সঞ্জয় আজও পারল না। জিয়া বর্তমানে একটা সরকারি অফিসে কর্মরতা।


কেমন আছিস সঞ্জয়? 


ভালো, তুই? 


আমিও ভালোই। 


আচ্ছা এখানে দাঁড়িয়ে গল্প না করে চল ঐ জায়গাটাই বসা যাক্। 


তিনজন গিয়ে বসল; সঞ্জয়, জিয়া আর রাহুল। 


কিরে বিয়েতে ডাকলি না বল। ভাবিস কি জানতে পারব না। বন্ধুদের এভাবে কেউ ভুলতে পারে, সত্যিই তুই! 


আরে না সেরকম নয়। ওটা তো সেই গ্রামের বাড়িতে হল তাই আর বলা হয়ে ওঠেনি আর কি। এই তো এখন এসেছি এখানে, এরপর একদিন পার্টি দেবই।


ছাড়, তোর পার্টি। যাইহোক বিবাহিত জীবনের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। উপহারটা তোলা থাক, ওটা পার্টিতেই পাবি।


অভিনন্দন রাহুল, ভালো হোক্ আগামী সব কিছু। 


তারপর বল, তোরা কবে করবি? 


কি? 


আরে বিয়ে ভাই। 


হ্যাঁ করব দেখি। এখনও ভাবিনি তেমন। 


আর তুই জিয়া? 


আমার আবার বিয়ে! হলে হবে, নাহলে না। না, আমাকে কেউ ভালোবাসে আর না আমি পেরেছি কাউকে ভালোবাসতে। 


হ্যাঁ ভালোবাসার অনুভূতিগুলো বাবুই পাখির বাসার মতো। ধৈর্য্য ধরে নিখুঁত ভাবে গড়ে ওঠে; ঝড়ে ভেঙে গেলে কষ্ট হয়। পাখি তবুও নতুন বাসা বাঁধার চেষ্টা করে; মানুষ পারে না। মানুষের ক্ষমতা তাদের থেকেও যে অনেক সীমিত।


হ্যাঁ ঠিক বলেছিস সঞ্জয়; আজ এত বছরেও আমি পারলাম কই। আর পারব বলে মনেও হয় না।


তোরা দুজনেই কি এখন ইংলিশ ছেড়ে দর্শন পড়া শুরু করেছিস? 


না, মানে হঠাৎ? 


না এই ফুরফুরে বিকেলে যাসব ভারী ভারী বাণী দিচ্ছিস হজম করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে আর কি।


না না সেসব কিছুই না, এসব এমনিই পাগলের প্রলাপ। 


দিয়ে বল রাহুল, বিবাহিত জীবনের অভিজ্ঞতা কেমন? বৌদি খাতির করছে তো?...


এইভাবেই নানারকম আলাপচারিতায় কথোপকথনের মাধ্যমেই কখন যে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল বুঝতে পারেনি কেউই। উঠতে হবে এবার, বাড়ি ফেরার পালা। বন্ধুত্বের আসরের আজকের মতন যবনিকা। রাহুল হঠাৎ করেই একটু দূরে সরে গিয়ে জিয়া আর সঞ্জয়কে লক্ষ্য করতে লাগল। দুজনেরই বলার আছে অনেক কিছু কিন্তু ভাষা হারিয়েছে দুজনেই। চোখের দিকে তাকাতেই সঞ্জয় বলে উঠল, ওঠা যাক্ তবে। বাড়ি ফিরতে হবে তো। 


আমাকে একটু ড্রপ করে দিবি আজ? 


কথাটা আঘাত করল সঞ্জয়কে, হ্যাঁ না কিছুই বলে উঠতে পারল না স্পষ্টভাবে। 


ছাড়, এতো ভাবিস না। আমি চলে যাব।


না, দাঁড়া।


রাহুলকে জড়িয়ে ধরল সঞ্জয়। এই মুহূর্তের জন্যই বোধহয় সময় থমকেছিল আজ আবার। দুজনেরই চোখের কোণাটা চিকচিক করে উঠল। মুচকি হাসিতে জিয়াও বুঝিয়ে দিল, আজ অনেকদিন পর স্বস্তি পেল সে। 


রাহুল বেরিয়ে গেল। জিয়াকে চাপিয়ে নিয়ে সঞ্জয়ও চলে এলো। জিয়ার বাড়ির সামনে তাকে নামিয়ে বাইকটা ঘোরাতে ঘোরাতেই জিয়া জিজ্ঞেস করল; আমরা কি এখন তাহলে প্রাক্তন হয়ে গেছি?


সঞ্জয় ক্ষণিকের স্তব্ধতা কাটিয়ে বলল; সেটাও তো একটা বৈধ সম্পর্কের নাম। সবাই প্রাক্তন হতে পারে না, তার জন্য যোগ্য হতে হয়।


চলি, ভালো থাকিস। 



Rate this content
Log in

More bengali story from Akash Karmakar

Similar bengali story from Drama