নিউলিডের শুটিংস্টার
নিউলিডের শুটিংস্টার
কি! নাম শুনে অবাক লাগছে? শুটিং স্টার মানে তো জানি লিওনিড টা আবার কি?
লিওনিড সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে শুটিং স্টার কি?
আসলে শুটিং স্টার এর আরেকটা নাম আছে যাকে বলে উল্কা।
উল্কা হল কোন ধূমকেতুর অংশবিশেষ কক্ষ পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষনে জ্বলে ওঠে তাই উল্কা। ইংরেজিতে একে বলে "Meteoroid"।
তোমরা কি জানো, মহাকাশে পরিভ্রমণরত পাথর বা ধাতু দ্বারা গঠিত ছোট মহাজাগতিক বস্তু যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে বায়ু সংঘর্ষে জ্বলে ওঠে। তখন তাকে উল্কাপাত বলে। উল্কাপাতের জন্য দায়ী বস্তুগুলো হলো উল্কা। উল্কাপিণ্ড গ্রহাণুর তুলনায় অনেক ছোট। আকারে এরা ধূলিকণা থেকে এক মিটার দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে। এর চেয়ে ছোট বস্তুগুলোকে মহাজাগতিক ধূলিকণা বলে।এসব উল্কার বেশীরভাগই গ্রহাণুর বা ধূমকেতুর অংশবিশেষ। বাকী অংশ মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ।
তোমরা কি জানো?
যখন কোন উল্কা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন এর গতীবেগ প্রতি সেকেন্ডে ২০ কিমি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় (৭২,০০০ কিমি/ঘণ্টা; ৪৫,০০০ মাইল/ঘণ্টা।)। এসময়ে এ্যারোডাইনামিক্স তাপের কারণে উজ্জ্বল আলোক ছটার সৃষ্টি হয়। এই বাহ্যমূর্তীর কারণে উল্কাপাতকে "তারা-খসা" বা "নক্ষত্র-খসা" ( shooting star/falling star) বলে। কিছু কিছু উল্কা একই উৎস হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে প্রজ্জ্বলিত হয় যাকে উল্কা বৃষ্টি বলা হয়।
তোমরা জেনে অবাক হবে যে-
প্রায় ১৫,০০০ টন পরিমাণ উল্কা, ক্ষুদ্র উল্কাকণা এবং মহাজাগতিক ধূলিকনা প্রতি বছর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে।
মনে প্রশ্ন এসেছে নিশ্চয়ই, তাহলে লিওনিড টা আবার কি?
কিন্তু লিওনিড সম্পর্কে জানতে হলে আরেকটা বিষয় জানতে হবে?
হ্যাঁ। ঠিক ধরেছো!
উল্কাপিণ্ড!
ভূপৃষ্ঠে পতিত হবার পর উল্কা কে উল্কাপিণ্ড বলে।
মূলত তিন ধরনের উল্কাপিণ্ড দেখা যায়।
যথা:
১. পাথর সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড যা খনিজ সিলিকেট দ্বারা গঠিত।
২. লোহা সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড যা লোহা এবং নিকেল দ্বারা গঠিত।
৩. পাথর লৌহসমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড যা বিভিন্ন ধরনের ধাতব পদার্থ ও পাথর দ্বারা গঠিত।
তোমরা কি জানো, বেশিরভাগ উল্কাপিণ্ড ই পাথরের যেগুলো কন্ড্রাইট এবং একড্রাইট শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। মাত্র 6 শতাংশ উল্কাপিণ্ড হচ্ছে লোহা এবং পাথর-লোহা দ্বারা তৈরি!
এবার তাহলে তোমাদের কৌতূহল মেটানো যাক?
রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় নক্ষত্রের মতো উজ্জল প্রস্তুত পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দেখা যায়।আর তাই হল উল্কা বৃষ্টি। রাতের আকাশে তারা গুনত যেমন মজার, তেমনই মজার উল্কা বৃষ্টি দেখা।
মেঘহীন আকাশে হঠাৎ আমরা উল্কাবৃষ্টি দেখি।
ঝাকে ঝাকে, দলে দলে উল্কা যখন দুষ্টুমি করে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তখন তাকে বলা হয় উল্কা বৃষ্টি বা উল্কা ঝড়। দেখে মনে হবে যেন প্রকৃতি উৎসবে মেতেছে। উল্কাপাতের ঘটনাকে বলা "ইটা-আ্যকুয়ারাইডস"।
আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উল্কা বৃষ্টি হচ্ছে পারসাইড, যা প্রায় প্রত্যেক বছরের ১২ অগস্ট দেখা যায়, তা-ও প্রতি মিনিটে ১টি। এছাড়াও অন্যান্য সময় মাঝে মাঝে দেখা যায়। নাসার এক বিশেষ গণনাকারী যন্ত্র রয়েছে যার মাধ্যমে তারা প্রতি মিনিটে উল্কার সংখ্যা হিসাব করতে পারে।
লিওনিড প্রত্যেক বছরের ১৭ নভেম্বর দৃশ্যমান হয়। প্রায় ৩৩ বছর পর পর, লিওনিড উল্কা বৃষ্টি এক ধরনের উল্কা ঝড় সৃষ্টি করে, যার ফলে ঘণ্টায় হাজারেরো বেশি উল্কা দৃশ্যমান হয়। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দের পর লিওনিড থেকেই সর্বপ্রথম উল্কা বৃষ্টি নামকরণ করা হয়। ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দের দিকে উল্কা বৃষ্টি হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, তা বিচ্ছুরিত হয়েছিল গামা লিওনিস নামের তারকা থেকে। তোমরা জেনে অবাক হবে যে,
আধুনিক যুগে সর্বপ্রথম সবচেয়ে বিরাট উল্কা বৃষ্টি হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে যা লিওনিড নামে পরিচিত। আনুমানিক ঘণ্টায় এক হাজারেরো বেশি উল্কা পৃথিবীতে এসে পড়েছিল।
ভাবা যায়!! আসলে এই মহাবিশ্বে আরো কত অজানা সব জিনিস রয়েছে তা বের করতে হয়তোবা ১০০০ বছর ও লেগে যেতে পারে!
কে জানে, একথা সত্যি সম্ভব হবে কিনা। হয়তো বা বিজ্ঞানের আরো অগ্রগতির ফলে একদিন এইসব সম্ভব হতেও পারে।
