ভোরদুপুর
ভোরদুপুর
ভরদুপুর হতে এখনো অনেক বেলা বাকি, বের হলাম তোমার খোঁজে। মনে প্রশ্ন জাগলো বার বার, ভরদুপুরেই কেন আমার তোমাকে খুঁজতে হবে? সে সময় আমি যে বাড়িই থাকি না। স্কুল বন্ধের সুবাদে আমি কাল বাড়িতেই ছিলাম। না জানি তোমার বাড়ি, না জানি কোথায় তুমি। তবুও চললাম, কিছু টা এগোতেই দেখি এক ফেরিওয়ালা উল্টো দিক হয়ে হেকে চলেছেন, তাকে গিয়েই বললাম ,"আচ্ছা আজ কোথাও কি দাওয়াত রয়েছে?" আমার অহেতুক প্রশ্নের ছাকা জবাব দিয়ে তিনি বললেন," সামনে কিছুটা পথ গেলেই বামে একটা রাস্তা পাবে সেটা ধরেই চলতে শুরু কর।" তার জবাব মতোই চলতে লাগলাম কিছুদূর গিয়ে দেখি বামে তো কোনো রাস্তাই নেই! অপ্রস্তত আমি, নির্জন রাস্তায় একা, আশেপাশে একটি পিঁপড়ে পর্যন্ত নেই, নেই কোন মানুষের আওয়াজ,কোলাহল কিংবা চেঁচামেচি! শীতের হালকা হাওয়ায় ধুলোগুলো উরছে, তার শব্দও স্পষ্ট! আমি এভাবে চলতে চলতে সামনে কিছুটা গিয়ে দেখি ডানে একটা ছোট গলির পথ! সেটা ধরেই চললাম, অবাক কান্ড! এক মেয়ে, মোটামুটি বলতে পারি সাদা-গোলাপি রঙের একটা শাড়ি, হাতে নীলিমার রঙের মতো ছ'পাচেক চুড়ি আর ঠোঁটে গাঢ় জবার ন্যায় রঙ! মনে হয় তার বিবরণ নিয়ে লেখতে পারলে একটা উপন্যাস না হোক ১০০ পৃষ্ঠা লেখা যাবে! খুব বেশি হলে তার বয়স ২০-২৫ এর মাঝেই হবে!আমি তার পাশ দিয়ে তাকে উপেক্ষা করেই যাচ্ছিলাম, কিন্তু তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি উপেক্ষা করে চলবার জো কি আমার আছে? আমাকে থামিয়ে প্রথমেই বলল ," আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসেছিলেন কেন?" আমি ভারি লজ্জা পেলাম, কোন মতো নিজেকে সামলে বললাম "এদিক ওদিক তাকাতেই আপনার চোখে চোখ পরে গিয়েছিল!" এ বিষয়ে সে আর কোন কথা না বলে বিদ্যুৎ এর ন্যায় জিজ্ঞেস করল, "কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি?" বললাম আমি গন্তব্যহীন কোন এক ঠিকানার খোঁজে চলছি, তবে শর্ত হলো দুপুরে আগেই খুঁজে নিতে হবে!সে শব্দ করে হেসে উঠলো বললো," সে আর এমনকি ব্যাপার? আপনি যেখানে আছেন সেখানে তো রাত হয় না! সব সময় দিনই থাকে, একেবারে ভোর দুপুর!" আমি অবাক হয়ে দেখলাম ঘড়ি থেমে আছে একি জায়গায়।যেন তার কাঁটাগুলোকে দু'বিপরীত পাশ থেকে বাধা দেয়া হয়েছে!তার দিকে তাকাতেই সব উধাও হয়ে গেল! শিট! মনে পরলো দুপুরে তো ঘুমিয়ে ছিলাম।।
