Silvia Ghosh

Classics

2  

Silvia Ghosh

Classics

বইমেলা

বইমেলা

2 mins
833


(১)


#এই_মুহূর্তে


স্টেজগুলোর কাজ এখনও শেষ হয়নি, শেষ হয়নি অস্থায়ী বইঘর গুলোও ... কত কাজ বাকী... তবুও কনট্রাকটর শোভনলালের সাথে কাজ করতে পেরে নতুন বছরে কিছু টাকা রোজগার করতে পারছে সফিকুল। এ’ বছর কষ্ট করে বই খাতা কিনে দিলো নাজনীন কে। সামনের বছর কন্যাশ্রী পেলে বইমেলাতে নিয়ে এসে কিছু গল্পের বই কিনে দেবে ওকে। মেয়েটা বড্ড বই পড়তে ভালোবাসে...


(২)


#এই_মুহূর্তে  


পাটের কাজ করা ব্যাগ গুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাত চালিয়ে তৈরি করতে উৎসাহ দিচ্ছে তালবান্দার ইন্দিরা। বইমেলাতে কিছু বড় বড় প্রকাশনী নেবে বলেছে। তা নিক তারা, কিন্তু ইন্দিরা নিজেই যে একটা স্টল নিয়েছে। এতদিনে বাবা নামক মাতাল, অমানুষ লোকটাকে একটা যোগ্য জবাব দিতে চলেছে সে। ভীষণ উত্তেজিত সে.. 


(৩)


#এই_মুহূর্তে


  


এবারে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছে সাইমন আর শুভাশিষ। কিছু ছোট ছোট ভুল যে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা ওরা কল্পনাও করতে পারেনি। অথচ গতবছর 'স্টারমার্কের' স্টলে ধরা পড়েছিল বামাল সমেত দু’জনে।


তারপরের কথা গুলো তেমন ভাবে মনে করতে চায় না ওরা... 


(৪)


#এই_মুহূর্তে


বইমেলা ফেরত আনাড়ী ক্রেতা দেখলেই ঢাকাই শাড়ীগুলো একবার করে বের করছে ব্যাগের ভিতর থেকে, আবার ঢুকিয়ে রাখছে পুলিশ দেখলে। নেই নেই করে তিনটে শাড়ী বিক্রিও তো হলো!


বড় বাজারের গোডাউন থেকে সোয়েটারের তলায় বয়ে এনেছিলো যখন, তখন কম অপমান তো সহ্য করেনি সে। সবই তো ছোট্ট অনাথ নয়নের জন্য করে সে। ওকে যে বড় হতেই হবে। ডাস্টবিনের থেকে তুলে মানুষ করছে যে... 


(৫)


#এই_মুহূর্তে 


 লিটল ম্যাগের টেবিলে ঘোরা ফেরা করছে একদল উঠতি ফেবু কবি -সাহিত্যিকের দল। সকাল থেকে মুড অফ উঠতি প্রকাশনীর সম্পাদকের। ইমেলের পর ইমেল, মেসেজের পর মেসেজ এসে যাচ্ছে মুঠোফোনে। এমন ভাবে বিরক্ত করছে ,আজে বাজে কথা দিয়ে যা সহ্য করতে হচ্ছে ...


 সহ্য না করে তো উপায় নেই। সম্পাদক তো জানেন এবং চেনেন নিজের রক্ত কে, একমাত্র ও ই জানে পি এ শ্রীমন্তের সাথে ওর মায়ের সম্পর্কের কথা...


(৬)


#এই_মুহূর্তে


সরস্বতী পুজোর পর এই প্রথমবার একটা ডেটে যাবার জায়গা পেলো পিয়াল আর সৌমিলি। সেই কবে থেকে দিন গুনছে ওরা। বাসে পাশাপাশি বসে সামান্য কথা হবার পর দুটো হাত ছুঁয়ে থাকে অনেক কটা রূপকথার বইগুলোকে। ঘুরে ফিরে সেই ফেলুদা -ব্যোমকেশ, মিতিনমাসী, হ্যারি পটারের গন্ধ নেয় খানিকটা....


তারপরেই বলে 'এসব আছে রে, চল্ কিছু খেয়ে আসি, আজ মিউজিক ডেস্কে রূপম এসেছে দেখে আসি সামনাসামনি'। অমনি আর একজন বলে --'ধুর তুই যা, আমি বরং সিগনেটে যাই শ্রীজাত দা কে দেখতে। দেখে আসি আমার স্বপ্নের কবি কে। যাবি?'


(৭)


#এই_মুহূর্তে


প্রতিবারের মতন এবারেও অনেকটা লাইন দিয়ে আনন্দ পাবলিশার্সে ঢুকে তন্নিষ্ঠা    সুদীপ্তা  সেনগুপ্তার 'আন্টার্কটিকা'  বই টিতে হাত বুলোতে থাকে। এবারে ছেলের বউ শর্বরী  দেখতে পেয়ে দৌড়ে আসে শাশুড়ি কে আগলে রাখতে। ততক্ষণে ওশানোগ্রাফিতে ফার্স্ট ইয়ারে ফার্স্ট হওয়া তন্নিষ্ঠার  চোখে মুখে  ডিপ্রেশনের চিহ্ন ফুটে উঠেছে..... 


বাবা আচমকা মারা না গেলে তন্নিষ্ঠা ও দ্বিতীয় বাঙালী হতেন আন্টার্কটিকার অভিযাত্রী রূপে।


(৮)


#এই_মুহূর্তে


ফুড কোর্টের সামনে লোকজন ডেকে আনে যে শাওন তাকে দেখলে ঘেন্না করে। নোংরা তেল চিটচিটে সোয়েটার আর নোংরা সাদা জামাটা পরে আজ ঠাণ্ডায় যখন লোকজন ডেকে আনছিলো, আর অবসর সময় কুকুর গুলোর সাথে খেলা করছিলো , তখন ওরই বয়েসী কামারুজল তার আব্বাকে দেখায় কলেজের কেমিস্ট্রির স্কলার কে। সে আর কেউ না - শাওন নায়েক।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics