Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sayandipa সায়নদীপা

Romance


3  

Sayandipa সায়নদীপা

Romance


কুলফি

কুলফি

7 mins 17.5K 7 mins 17.5K

ঘুম থেকে উঠেই মেজাজটা বিগড়ে গেল রিমিলের, বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে। কতক্ষণ থেকে হচ্ছে কে জানে! ঘড়িতে দেখল আটটা বেজে গেছে। ঠান্ডা পেয়ে ঘুমিটা হয়েছে জব্বর, এলার্ম কখন যে বেজে বেজে বন্ধ হয়ে গেছে জানেইনা ও। ব্রাশ করে নীচে নেমে এসো দেখলো বাবা অফিসের জন্য ভাত খেতে বসে পড়েছেন। রিমিলকে দেখে বললেন, “আজ কলেজ যাওয়ার দরকার নেই।”

রিমিলের বুকটা চ্যাঁত করে উঠলো, “বলছি বাবা আজ না খুব ইম্পরট্যান্ট একটা ক্লাস থাকে।”

“তোমার কি মনে হচ্ছে এই বৃষ্টিতে কেউ আসবে এবং ক্লাস হবে?”

“না… মানে, যাদের কাছাকাছি বাড়ি তারা তো…”

“ভালো তো তাহলে, যদি ক্লাস হয় ওদের কাছে নোটস নিয়ে নিও।”

“কিন্তু বাবা…”

“আমি বোধহয় তোমাকে যেতে বারণ করলাম।” বাবার এই কঠিন গলার স্বরের ওপর কথা বলার সাহস রিমিলের নেই।

বাবা তো নিষেধ করে অফিসে বেরিয়ে গেলেন কিন্তু রিমিল কি করে বলে যে আজ তাকে যে করে হোক যেতেই হবে কলেজ! মোবাইলটা তুলে রোশনিকে ফোন লাগলো, “হ্যালো রোশনি, শুন না ইয়ার আজ কলেজ আ রহি হ্যা?”

“পাগল হ্যা তু? স্যাটার ডে কো ম্যায় কাভি কলেজ যাতি হুঁ ক্যায়া!”

“আরে ইয়ার প্লিজ আ যা না, কাল ম্যায়নে তুঝে বাতায়া থা না বো মেরি প্রবলেম কে বারে মে, প্লিজ ইয়ার তেরে ঘর সে তো কলেজ বস দশ মিনিট লাগতা হ্যা, আনা না।”

“আচ্ছা ঠিক হ্যা দেখতি হুঁ, মম আগর পারমিশন দে তো হি…”

“ওকে থ্যাংক্স ইয়ার, ট্রাই প্লিজ।” ফোনটা রেখে একটা বাঁকা হাসি হাসলো রিমিল, ও জানে রোশনি আসবে না। রোশনি মেহেরাকে আর যাই করতে হোক কোনো কাজের জন্য মা বাবার পারমিশন অন্ততঃ নিতে হয়না আর এই কথাটা এই একবছর একসাথে থেকে ভালোভাবেই জানে রিমিল। পিং করে একটা মেসেজ ঢুকলো ফোনে, “কি রে… কি খবর? ভিজে ভিজে কলেজ যাচ্ছিস নাকি?” মেসেজদাতার মুখটা মনে মনে কল্পনা করে দাঁত কিড়মিড় করলো রিমিল। ছেলেটা আর কিছু পারুক না পারুক লোকের লেগ পুলিং করতে বেশ পারে বা বলা ভালো লোককে আঘাত দিতে এক্সপার্ট। রিমিল মাঝে মাঝে ভাবে কি কুক্ষনেই যে মুহূর্তের দুর্বলতায় ওর কাছে ঋষিদার ব্যাপারটা বলে ফেলেছিলো। উফফ… সেই থেকে সুযোগ পেলেই সেটা নিয়ে লাগাবে। কি করবে রিমিল! ঋষিদার লেখালিখি দেখে ওর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল রিমিল। তাই ঋষিদা প্রপোজ করাতে “হ্যাঁ” বলতে সময় নেয়নি ও কিন্তু সম্পর্কের দু’মাসের মাথায় রিমিল বুঝতে পারে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ নিয়ে বড় বড় কবিতা লেখা ঋষি আসলে ভেতরে ভেতরে নিজেই একটা পারভার্ট। ভাগ্যিস রিমিল আগেভাগেই জানতে পেরে গিয়েছিল নয়তো ওর ভাগ্যেও যে কি বিপদ লেখা ছিল কে জানে! এবার এই ঋষিকে নিয়ে রিমিলের লেগ পুলিং করার কোনো মানে হয়! কষ্ট পায় রিমিল, নিজের অল্প বয়েসে নেওয়া একটা ভুল সিদ্ধান্তের কথা ভেবে হাত কামড়াতে ইচ্ছে করে। কিন্তু নাহ, সে কথা কে বোঝাবে মিঃ স্বয়ম চ্যাটার্জিকে! তার তো একটা খোরাক পেলেই হলো, আবার রিমিল যদি চরম রেগে যায় তখন কি বলে না ঋষির ব্যাপারটা একটা ছোটখাটো ব্যাপার ছিল, ওটাকে জোক হিসেবে নেওয়াই ভালো; আর তিনি নাকি ব্যাপারটাকে লঘু করে তুলতেই এমন ইয়ার্কি মারেন। ভালো!

ফোনটা তুলে সোলাঙ্কিকে ডায়াল করার আগে কি মনে হতো স্বয়মকে একটা ছোট্ট রিপ্লাই দিয়েই দিলো রিমিল, “হুম।”

সোলাঙ্কির ঠান্ডা লাগার অজুহাতটা শুনে ফোনটা রেখে বাইরের দিকে তাকালো ও, বৃষ্টিটা কমছে মনে হয়। বন্ধু ভাগ্যটা রিমিলের কোনোদিনই ভালো নয়, চিরকাল যাদের জন্য প্রাণপাত করে দিয়েছে তারাই কাজ ফুরোলেই ওয়েস্ট বক্সে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ওকে। আর সেই সব তথাকথিত বন্ধুদের লিস্টটা নেহাত ছোটো নয়, তবে রিমিলের সব থেকে বেশি কষ্ট হয় নীহারিকা আর অঙ্কুশের কথাটা মনে পড়লেই। ওদের রিমিল নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতো, ওরা যখন যা সাহায্য চেয়েছে রিমিল সাহায্য করেছে, শুধু পড়াশুনার ক্ষেত্রেই নয় নিজের সময় নষ্ট করে ওদের সমস্যা শুনে সমাধান করার চেষ্টা করেছে, ওদের বিপদে চিন্তা করে করে নিজের মানসিক ক্ষতি অবধি করেছে কত। কিন্তু বিনিময়ে ওরা কি প্রতিদান দিয়েছে! উফফ… সেগুলো মনে পড়লে এখনো রিমিলের বুকটা ব্যাথায় টনটন করে ওঠে। কেন এমনটা হয় বারবার? আচ্ছা রিমিল কি খুব বোকা, লোককে সহজে বিশ্বাস করে ফেলে! নাকি ওর মধ্যেই কোনো ত্রুটি আছে যার জন্য ও অন্যদের সাথে মানসিকভাবে একাত্ম হয়ে গেলেও তারা হতে পারেনা! ওর চোখের কোণটা অজান্তেই আদ্র হলো। তবে যা হওয়ার ওই স্কুল জীবনেই হয়েছে, এখন রিমিল নিজেকে অনেক শক্ত করে নিয়েছে। আর কাউকে ও না সহজে বিশ্বাস করে না মানসিকভাবে কারুর সাথে ঘনিষ্ট হয়। এই কারণেই বোধহয় কলেজে ওর ভালো বন্ধুর সংখ্যা মাত্র এক, স্বর্ণালী। আচ্ছা আজ স্বর্ণালী বাড়ি থাকলে কি ও রিমিলের সাথে যেত! কে জানে! ও আর এখন কারুর থেকে কিছু এক্সপেক্ট করেনা। যা হবে হবে আজ ওকে একাই কলেজ যেতে হবে।

বৃষ্টিটা ভাগ্যিস একটু কমলো। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে রিমিলকে। মা তীব্র আপত্তি জানাচ্ছিলেন কিন্তু রিমিল অনেক ভুজুংভাজুং দিয়ে অবশেষে মাকে রাজি করালো। কিন্তু বেরোবার সময়ই হলো যত বিপত্তি। রিমিলের হাতে পুরোনো একটা ছোটো ছাতা দেখে মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোর ভালো বড় ছাতাটা কোথায়? এই তুমুল বৃষ্টিতে কোথা থেকে একটা পুরোনো ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়লি!” ঢোঁক গিললো রিমিল, “মা আসলে বড় ছাতাটা আলমারিতে ভালো করে গুছিয়ে রেখে দিয়েছি, আজ তো এমনি লেট হয়ে গেছে তাই…”

“এতো বৃষ্টিতে বড় ছাতাটা নিবি না তো… রিমিল… রিমিল…” “আসছি মা।” বলেই চিতা বাঘের ক্ষিপ্রতায় ছুটলো রিমিল, ও জানে কাদা ছিটকে ওর জিন্সটার দফারফা করছে কিন্তু উপায় নেই। মায়ের কাছে বেশিক্ষণ থাকলে ঠিক ধরা পড়ে যেত। এমনিতেই রিমিল জানে মায়ের ভ্রুটা এতক্ষণে কুঁচকে গেছে একটা গন্ডগোলের আভাস পেয়ে। মায়েরা তো আসলে সব বুঝতে পারে। রিমিলেরও ভালো লাগেনি মাকে মিথ্যেটা বলতে কিন্তু ও নিরুপায়, ফিরে এসে সব সত্যি বলে দেবে। আসলে কাল কলেজে গিয়ে মামার জাপান থেকে আনা সেই সুন্দর বড় ছাতাটা রিমিল ফেলে এসেছে ক্লাস রুমে। এবার মা-বাবাকে ওটা এখনই বললে রক্ষা থাকতো না ওর; তারচেয়ে বরং আজ কলেজ গিয়ে চুপচাপ নিয়ে চলে আসবে ভেবেছিল কিন্তু এই বৃষ্টিটাই যত নষ্টের গোড়া।

কলেজের সামনে যখন বাস থেকে নামলো রিমিল তখন তুমুল আকারে শুরু হয়েছে বর্ষণ, সেই সাথে ঝোড়ো হাওয়া। পুরোনো ছোটো ছাতাটায় আটকানো যাচ্ছেনা সে হাওয়ার ঝাপটা। বাসে শুনেছিল এই দিকে নাকি সকালে বৃষ্টি হয়নি, এই এতক্ষণে বৃষ্টি নামলো। আশেপাশের দোকানপাটগুলো দেখে মনে হচ্ছে জনমানবহীন, রাস্তার ওপারে থাকা কলেজটাকেও দেখে যেন মনে হচ্ছে বৃষ্টির চাদর মুড়ি দেওয়া কোনো অথর্ব বৃদ্ধ। এমনিতেই শনিবার ওরা সবাই অলিখিত ছুটি নিয়ে নেয়, তাও বা যে ক’জন হয়তো আসে তাদেরও এলাকায় হয়তো বৃষ্টি হয়েছে তাই তারাও আজ রেনি ডে পালন করছে। কলেজের ভেতর আদৌ কেউ আছে! সিকিউরিটি গার্ডগুলো নিজেদের শেডের তলায় বসে লক্ষ্য করছে রিমিলকে, ওরা হয়তো পাগল ভাবছে ওকে। কিন্তু গেটের সামনে ছাতা মাথায় কে দাঁড়িয়ে আছে না! ব্যাগটা বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে সামনের দিকে গলিয়ে নিয়েছে। রিমিলের মনে একটু হলেও সাহস এলো। দেখাই যাক না গিয়ে…

রাস্তা পেরিয়ে কলেজের গেটের সামনে পৌঁছতেই হোঁচট খেলো ও, এ কে দাঁড়িয়ে আছে! স্বয়ম! রিমিলকে দেখতে পেয়ে ব্যাজার মুখে সে বললো, “সরি রে, তোর ছাতাটা ক্লাসে নেই। হেমন্তদাকে বলে এসেছি যদি কেউ জমা দিয়ে যায় তো নিয়ে রাখতে। আজ আবার রবিবাবু আসেননি, হেমন্তদা বললো অফিসের স্টোর রুমের চাবি নাকি ওর কাছে। কেউ যদি ওখানে রেখে থাকে তো… তুই চাপ নিসনা, সোমবার দেখা যাবে।”

স্বয়মের অনর্গল কথার সামনে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল রিমিল, কথা ফুটেছে না ওর মুখে।

“কিরে কিছু তো বল।” বললো স্বয়ম।

“তুই এখানে কি করছিস?”

“যাহ বাবা! তোর ছাতা খুঁজতে এলাম তো।”

“ইয়ার্কি মারছিস! তুই আমার ছাতা খুঁজতে ট্রেনে করে এতদূর চলে এলি বৃষ্টির মধ্যে!”

“ভালো, খুব ভালো। আপনার রোশনি আর সোলাঙ্কিকে হোয়াটসএপ করে জানলাম তারা আসছেনা। এদিকে আপনাকে আসতে বারণ করলেও আপনি যে শোনার পাত্রী নয় তা আমি ভালোভাবেই জানি। একে শনিবার তার ওপর এমন বৃষ্টি… কলেজে যে কেউ আসবেনা সে আমি ভালো করেই জানতাম। আপনার কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই বলে আমারও কি নেই! এমন দিনে আপনি নির্দ্বিধায় একা একা কলেজ আসবেন আর আমি তা শুনেও চুপচাপ বসে থাকবো!”

“তুই আমার জন্য!”

“নে নে এতো সেন্টু ফেস বানানোর দরকার নেই, কুলফি খা।” এতক্ষণে রিমিল খেয়াল করলো ছেলেটার একহাতে ছাতা আর অন্যহাতে ধরা একটা কুলফি। রিমিল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কুলফি!”

“হুম, আজ তো ঠান্ডা আছে, আজ খেলে কিছু হবে না।”

রিমিলের মনে পড়ে গেল ফার্স্ট ইয়ারে একদিন ও স্বর্ণালীকে বলেছিল যে ও কুলফি খেতে প্রচন্ড ভালোবাসে কিন্তু কুলফি গাড়ি গুলো ওদের পাড়ার দিকে আর যায়না এখন। এদিকে টনসিলের সমস্যা আছে বলে ডাক্তার গরমে ওকে আইসক্রিম খেতে একদম বারণ করেছেন, ঠান্ডা ওয়েদারে থাকলে খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কলেজে চাইলেই কি সেরকম উপযুক্ত আবহাওয়া পাওয়া যায়! স্বর্ণালীর সাথে সেদিন স্বয়মও শুনেছিল সে কথা, কিন্তু ও এতদিনেও সেটা মনে রেখেছে!

রিমিলের বুকের ভেতরটা মুহূর্তে কেমন তোলপাড় হয়ে গেল। যে স্বয়মকে সেই কলেজের প্রথমদিন দেখেই অহংকারীর তকমা লাগিয়ে দিয়ে ওর সাথে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছিল রিমিল, নেহাত একটা গ্রূপ এসাইনমেন্টে একসাথে কাজ করতে হয়েছিল বলে ফোন নম্বর বিনিময় ও কথা বলার সূত্রপাত হয়। একদিন স্বয়ম একটা নোটস চেয়েছিল বলে রিমিল ধরেই নিয়েছিল ছেলেটা অহংকারী হলেও নিজের স্বার্থটা ভালোই বোঝে। নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতাসমূহের ফলশ্রুতি হিসাবে রিমিল সিদ্ধান্তে এসে গিয়েছিল যে ওর কাছ থেকে সুযোগসুবিধা পাওয়ার জন্যই স্বয়ম কথা বলে ওর সাথে। কিন্তু আজ…!

“নে রে খা কুলফিটা।” স্বয়মের ডাকে স্তম্ভিত ফিরলো রিমিলের, কুলফিটা টুপটুপ করে গলতে শুরু করেছে। স্বয়ম দুঃখী দুঃখী মুখ করে বললো, “যাহ, কুলফি ওয়ালাটা বৃষ্টিটা বাড়তেই চলে যাচ্ছিল বলে তড়িঘড়ি কিনে নিলাম কিন্তু তুই এমন দেরি করলি আসতে!”

স্বয়মের মুখটা দেখে হেসে ফেললো রিমিল, হাত বাড়িয়ে নিতে গেল কুলফিটা… স্বয়মের আঙুলে ছুঁয়ে গেল ওর আঙ্গুল আর সঙ্গে সঙ্গে কুলফির ভিজে ওঠা বিস্কুটটা ভেঙে গিয়ে ক্রীমটা গলে মাখামাখি হয়ে গেল ওদের হাতে।

“সরি সরি…” বলে উঠলো স্বয়ম। খিলখিল করে হেসে উঠলো রিমিল। স্বয়মের হাতটা টেনে বাড়িয়ে দিলো সামনের দিকে, নিজের হাতটাও বাড়ালো রিমিল। বৃষ্টি এসে ধুয়ে দিতে লাগলো ওদের হাতদুটো।

রিমিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা তিক্ত অভিজ্ঞতার শক্ত পাথরটাও কুলফিটার সাথে গলে গিয়ে এখন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যেতে থাকলো একটু একটু করে...


Rate this content
Log in

More bengali story from Sayandipa সায়নদীপা

Similar bengali story from Romance