Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sharmistha Mukherjee

Drama Tragedy Thriller


4  

Sharmistha Mukherjee

Drama Tragedy Thriller


কালো মেয়ের উপাখ্যান

কালো মেয়ের উপাখ্যান

30 mins 213 30 mins 213


এই গল্পটি কৃষ্ণকলি ও অন্যান্য কিছু কালো সাধারণ মেয়েদের বেদনাদায়ক উপাখ্যান । মূল গল্প শুরু করার আগে জেনে রাখা প্রয়োজন গায়ের রং কালো হওয়া কোনো অভিশাপ নয় । এটি সম্পূর্ণ রূপে বিজ্ঞানভিত্তিক । গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য একটি নারী ও পুরুষের শারীরিক বা চারিত্রিকগত কোনো পার্থক্য হয় না । তবে কালো গায়ের রঙের প্রতি কিছু মানুষের ভ্রুকুটি মানসিকগত ভাবে নিতান্তই হানিকারক । 


মানুষের গায়ের রং সাধারণত দুই প্রকার : সাদা ( ফর্সা ) এবং কালো । ত্বকের দুটি স্তর থাকে । বাইরের স্তরকে বলা হয় বহিঃত্বক বা এপিডার্মিস আর ভিতরের ত্বককে বলা হয় অন্তঃত্বক বা ডার্মিস । বহিঃত্বকের অর্থাৎ এপিডার্মিসের কয়েকটি স্তর আছে । সবচেয়ে ভিতরের স্তরে কয়েকটি বিশেষ ধরনের কোষ থাকে । যাকে বলা হয় 

ম্যালানোসাইট । এটি ম্যালানিন নামে একটি কালো পিগমেন্ট তৈরি করে । এই ম্যালানিন - এর পরিমাণ বেশি হয়ে গেলেই ত্বক কালো হয় । 

ম্যালানিনই ঠিক করে কার গায়ের রং কেমন হবে । ম্যালানিনের মাত্রা আবার নির্ভর করে জাতিসত্তা , বংশগতি ও সূর্যালোকের উপস্থিতির উপর । অনেক ক্ষেত্রে ম্যালানিনকে আবার দেহের কিছু হরমোনও প্রভাবিত করে । সুতরাং একটি নারী বা পুরুষের গায়ের রং কালো না ফর্সা তা নিয়ে নিন্দাচর্চা করা কোনো সুস্থ মানুষের কাছে কাম্য নয় । এটি একেবারেই হীনমনস্কতার পরিচয় মাত্র । 


এবার ফিরে চললাম মূল গল্পে " কালো মেয়ের উপাখ্যান " । গল্পের প্রয়োজনে কিছু অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী । দয়া করে মার্জনা করবেন । 


কৃষ্ণকলি আপনমনে জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখছে , চোখেও তার নীরব বারিধারা । হঠাৎ পিছন থেকে সিতারা ডাক দিয়ে বললো, " আরে ক্যায়া কর রহী হ্যায় , ধূর ফিরসে রোনাধোনা চালু ? ইতনা রোনেসে কুছ নেহী হোগা । চল্ চল্ তুঝে মৌসি বুলা রহী হ্যায় । শায়েদ কোই আদমি আয়া হ্যায় খুন চুষনেকে লিয়ে । শালা ইস্ বারিষমেভি চলা আয়া কুত্তা কহিকা । চল্ চল্ আশু পোছ । অউর হা আগর বো আদমি জাদা পরেশান করে তো লাথ মারকে ভাগা দেনা "

এই বলে সিতারা চলে যায় । চোখ- মুখ ধুয়ে সামান্য একটু সেজেগুজে নিশি গেল মৌসি মানে বেশ্যাদের প্রধান মাথা কান্তা মৌসির কাছে । আগেই বলে রাখি কৃষ্ণকলির বেশ্যাবৃত্তির ক্ষেত্রে নতুন নামকরণ হয় 

" নিশি " । যদিও এই নামের পিছনে কারণটা অবশ্যই কালো গায়ের রং । রাতের অন্ধকার কালো আর রাত মানেই নিশি । 


নিশি মৌসির ঘরে ঢুকতে গিয়ে শুনলো একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব লোক মেয়ে নিয়ে শোয়ার জন্য দরকষাকষি করছে । লোকটি বলছে , " কি বলছো কান্তা মৌসি একটা মেয়ের জন্য পাঁচশো টাকা ! তা টাকাটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না ? তাও তোমার সব পুরানো মেয়ে, ও সবগলোকেই চেখে দেখেছি । হ্যাঁ তবে নতুন কিছু যদি থাকে তাহলে পাঁচশো কেনো বেশিও দিতে পারি । কিন্তু মালটা একটু খাসা চাই । " এই শুনে মৌসি বললো, " আরে হা বাবু , একদম আনকোরা লড়কি হ্যায় । সির্ফ সাত দিন হুয়া হ্যায় ইস 

ধান্দেমে । অভীতক দো - চার বার শোয়া হ্যায় । শালী বহত নখরেওয়ালি হ্যায় । জাদা নখরে দিখায়েগি তো দো থাপ্পড় লাগা দেনা , আপনে আপ লাইনমে আ জায়েগী । লেকিন এক বাত পহেলেহি বাতা দেতি হু , ও লড়কি নয়িতো হ্যায় পর্ থোড়িসি কালী হ্যায় " সব শুনে লোকটা বললো , " তো একবার ডাকুন , দেখি তাকে " । নিশি বাইরে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল , হঠাৎ দরজার পর্দা সরিয়ে বললো , " আমাকে ডেকেছো মৌসি ? " সাথে সাথে মৌসি বললো, " হা বেটা, ইয়ে হ্যায় হামারা খাস ম্যাহেমান অবিনাশ বাবু । " অবিনাশ বাবু ততোক্ষণে নিশির মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিয়েছে । মৌসি বললো, " ক্যায়া হুয়া বাবু , ইয়ে হ্যায় নিশি । ইহাকা নয়ি লড়কি । ইসকি বারেমে ম্যায় বোল রহিথি । চলেগা আপকো ? ইয়া কোই দুসরি " মৌসির কথা শেষ না হতেই অবিনাশ বাবু বলে উঠলো , " আরে শুধু চলবেনা, দৌড়াবে । কি সুন্দর শরীর , কি সুন্দর 

ঠোঁট " এই বলে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বার কয়েক ঢোক গিলে নিলো । মৌসি নিশিকে বললো , " চল্ উনকো লেকে যা আপনি রুমমে । অউর হা য্যারা আচ্ছেসে খাতিরদারি করনা , কোয়ি নখরা নেহী চাহিয়ে । চল্ অব যা । " নিশিও লোকটাকে সাথে করে নিজের ঘরে চলে গেল । 


নিশি ঘরে ঢুকতেই অবিনাশ বাবু তড়িঘড়ি দরজা বন্ধ করে দিল । নিশি বললো, " কিছু খাবেন ? কি দেবো ? " অবিনাশ বাবু উত্তর দিল, " তোমাকে খেতেই তো এসেছি , আর কি খাবো ? " নিশি বললো , " না মানে হুইস্কি না অন্য কিছু ? " অবিনাশ বাবু উত্তর দিল, " না না ঐসবে নেশা হয় না আমার , তোমার নেশা ধরেছে যে । তোমার শরীরের নেশা করলেই চলবে " বলেই নিশির বুকের থেকে একটানে কাপড় সরিয়ে দেয় । নিশি সাথে সাথে দুই বুকের কাছে জড়ো করে পিছনে ঘুরে যায় । এটা দেখে অবিনাশ বাবু বলে ওঠে , " আমাকে লজ্জা কিসের ? আর বেশ্যার ধান্দায় এইসব লজ্জা-টজ্জা করে লাভ নেই । এবার কাছে আসো দেখি " বলেই ক্ষুধার্তের মতো লাফিয়ে পড়ে নিশির উপর । 


অবিনাশ বাবু এমন ভাবে নিশির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যে নিশি অনেক চেষ্টা করেও তাকে আটকাতে পারে না । তার হাত আনাগোনা করতে থাকে নিশির সমগ্র শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে । একে একে টেনে খুলে দেয় শাড়ি, ব্লাউজ, সায়া এবং অন্তর্বাস । দাঁত দিয়ে কামড়ে রক্তাক্ত করে নিশির ঠোঁট । প্রায় একঘন্টা ধরে নিশির উপর চলে যৌনপিপাসায় তৃষ্ণার্ত শরীরের যৌনশোষন । তারপর খাটের উপর দুটো পাঁচশো টাকার নোট ছুড়ে দিয়ে জামা-কাপড় পড়ে বেরিয়ে যায় নিশির ঘর থেকে । যাবার সময় বলে যায় , " নিশি আজ রাতে তৈরি থাকিস আমি আবার আসবো । " নিশি তখন শাড়িটা নগ্ন দেহের উপর চেপে ধরে চীৎকার করে কাঁদতে শুরু করে । নিশির কান্নার শব্দে ছুটে আসে সিতারা , তিতলি , মনিকা , বিভা এবং আরও অনেকে । সবাই এসে নিশিকে দেখে রীতিমতো আৎকে উঠলো । নিশির তখন অবস্থা খুব খারাপ । ঠোঁটের কোণ থেকে রক্ত পড়ছে , শরীরের যত্রতত্র কামড়ের দাগ , স্তনবৃন্তেও কামড়ের দাগ সুস্পষ্ট । সিতারা এই দৃশ্য দেখে বলে ওঠে , " হারামি শালা , ক্যায়া হাল কিয়া ইসকা ! পুরা নিচোড়কে ছোড় দিয়া বুড্ঢা । ইতনা ভুখ আতা কাহাসে । শালা রেন্ডিকা ঔলাদ । " ততোক্ষণে বিভা গিয়ে মৌসিকে ডেকে আনে । মৌসি এসে নিশিকে দেখে সিতারাকে বলে , " শুন সিতারা, আজ আগর বো হারামিকা পিল্লা ফিরসে আয়ে তো এয়স্যা সবক শিখানা কে নানী ইয়াদ আ জায়ে । হামলোগ ধান্দা করতে হ্যায় লেকিন ইয়ে ঘৃনোনাপন বরদাস্ত নেহী হোতা । এ বিভা য্যারা দাবাই কা ডাব্বা লাদে । অউর হা, আজ কোইভি নিশি বিটিয়াকো বাহার নেহী লানা । আজ নিশি পুরা আরাম 

করেগি । ম্যায় ইতনাভি বুরা নেহী হু কে ইয়েসব জখম দেখতে হুয়ে আজ ফিরসে ইসকো ধান্দেমে বিঠাউঙ্গি । বুড্ঢা শালা , আজ আনে দে একবার ....." এই বলে নিশির সারা শরীরের ক্ষতগুলিতে ওষুধ লাগিয়ে দিয়ে আরাম করতে বলে চলে 

যায় । নিশি তখন প্রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন । সেদিন সারা দিন পালা করে সবাই নিশির দেখাশোনা করে নিশিকে অনেকটা সুস্থ করে তোলে । 


সেদিন রাতে অবিনাশ বাবু এলে সিতারা মৌসিকে বলে , " মৌসি ইস বুড্ঢেকো মেরে পাস ভেজদে । আজ ইসকো এ্যায়সা সবক শিখাউঙ্গি কে হাম সবকোভি শালা " মা " বোলকে পুকারেগা " বলে অবিনাশ বাবুকে নিয়ে নিজের ঘরে যায় । যাবার সময় অবিনাশ বাবু একবার আপত্তি করে জানায়, " আরে আরে তুমি কেনো , নিশি রানী কোথায় ? " বলার সাথে সাথে মৌসির হুঙ্কারে ভয় পেয়ে আর কিছু না বলে সিতারার সাথে চলে যায় । 


অবিনাশ বাবু সিতারার ঘরে ঢুকতেই সিতারা দরজা বন্ধ করে দিল । তারপর অবিনাশ বাবুকে খাটের উপর বসিয়ে হুইস্কির একটা পেগ বানিয়ে এনে তার হাতে দিল । বেশ কিছুটা আদর করার ভঙ্গিতে অবিনাশ বাবুর বুকে - পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে গল্প জুরে দিল । এভাবে প্রায় ছয় পেগ খেয়ে তিনি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়েন । কথায় কথায় সিতারা জিজ্ঞাসা করে , " তো বাবু আপকে ঘরমে কৌন কৌন হ্যায় ? " অবিনাশ বাবু বললো , " আমার বৌ , দুই মেয়ে আর এক ছেলে । বৌটা বড় বেরসিক , গায়ে হাত দিলেই ফোঁস করে ওঠে । বলে বুড়ো বয়সে নাকি আমার ভীমরতি হয়েছে । মাগী রাতের বেলা মেয়েদের সাথে ঘুমায় আর আমার কাছে ছেলে ঘুমায় । তাই এখানে আসি । কি করবো শরীরের যে কি ক্ষিদে! " বলেই সিতারার গালে পুচ পুচ করে কয়টা চুমু খেয়ে নিলো । সিতারা আবার বললো, " আপকি বিবি জানতি হ্যায় আপ হার রোজ ইয়াহা আতে হ্যায় ? " অবিনাশ বাবু বললো, " মাথা খারাপ নাকি । জানতে পারলে আর আস্ত রাখবে না " । নিমেষের মধ্যে সিতারার চোখ দপ করে যেন জ্বলে উঠল । সে মনে মনে বললো, " কাল তুনে নিশিকা যো হালত কিয়া অব দেখ ম্যায় ক্যায়া চিজ হু " । সিতারা ধীরে ধীরে অবিনাশ বাবুকে শুইয়ে দিয়ে তার সারা শরীরে চুমু খেতে লাগলো । কামের জ্বালায় তখন ছটফট করছে অবিনাশ বাবু । হঠাৎ করেই সিতারার চুমু পরিণত হোলো কামড়ে । হ্যাঁ অবিনাশ বাবুর সারা শরীর গালে - ঠোঁটে - গলায় - বুকে - পেটে - উরুতে ইত্যাদি সর্বত্রই আদরের ছলে কামড় বসিয়ে চলেছে সিতারা । অবিনাশ বাবুর কামের শীৎকারে তখন পরিত্রাহি সুর । বাইরে থেকে অন্যান্য সবাই ভাবছে সিতারা আজকে কি পরম সুখটাই না দিচ্ছে বাবুকে । ওদের শীৎকার বাইরে থেকেই শোনা যাচ্ছে বলে সবাই রীতিমতো হাসাহাসি শুরু করে । প্রায় একঘন্টা এরূপ চলার পর সিতারা বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে

 আসে । বাইরে এসে সবাইকে বলে, " শালা বুড্ঢেকো আজ এ্যায়সা সবক শিখায়া, কালসে কোইভি লড়কিকে সামনে যা নেহী পায়েগা । এ হরিয়া ,বাবলু, কানাই কাহা মর গ্যায়া সবকে সব । জলদি ইধার আ " । সিতারার ডাকে ওরা তিনজনেই ছুটে

 আসে । সিতারা ওদের বলে , " বুড্ঢা ঘরমে পড়া হ্যায় , উনকো উনকি ঘরমে ছোড়কে আনা, অউর হা উনকি বিবিকো বাতা দেনা ইয়ে বুড্ঢা হার রোজ ইয়াহা আতা হ্যায় " এই আদেশ দিয়ে হনহন করে হেঁটে চলে যায় নিশির ঘরে । উঠে বসার ক্ষমতা না থাকলেও নিশি বাইরে শোরগোল শুনতে পাচ্ছিল । সিতারাকে দেখেই বলে উঠলো , " কি হয়েছে সিতারা , বাইরে এতো শোরগোল কিসের ? " 

সিতারা বললো, " তু একবার চল মেরে সাথ , তুঝে কুছ দিখানা হ্যায় " বলে নিশিকে ধরে ধরে বাইরে নিয়ে গেল । ততোক্ষণে হরিয়া, কানাই আর বাবলু প্রায় নগ্ন অবস্থায় অবিনাশ বাবুকে সিতারার ঘর থেকে বের করে এনেছে । অবিনাশ বাবুকে দেখে বাকি মেয়েরা শিউরে ওঠে । নিশি এই প্রথম বার বাজারি ভাষা প্রয়োগ করে বলে ওঠে , " বুড়ো মিনসে, শুয়োরের বাচ্চা এবার দ্যাখ কেমন লাগে । কালকে ঠিক এইভাবেই আমার শরীরটা ফালাফালা করেছিলি, আজকে কেমন লাগলো " বলেই সজোরে দুটো চড় মেরে সিতারাকে জরিয়ে ধরে চীৎকার করে কেঁদে ওঠে । তখন অবসন্ন অবিনাশ বাবুর সারা শরীর কামড়ে কামড়ে রক্তাক্ত । হরিয়ারা তিন জন অবিনাশ বাবুকে নিয়ে বেরিয়ে যায় । সিতারা ও অন্যান্য মেয়েরা নিশিকে নিয়ে নিশির ঘরে চলে যায় । এই ঘটনার পর সিতারার সাথে নিশির একটা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন হয় । বাকি মেয়েদের সাথেও যথেষ্ট ভাব জমে

 ওঠে । 


নিশি আস্তে আস্তে নিজেকে ওই পরিবেশে মানিয়ে নেয় । অবশ্য এছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই । এভাবে কেটে যায় এক

 মাস । রাতের বেলা শারীরিক খেলায় অনিচ্ছা স্বত্বেও মেতে ওঠা আর সারা সকাল সবাই মিলে আড্ডা দিয়ে, হাসিঠাট্টা করে অতিবাহিত হচ্ছিল শুধু নিশি নয় বাকি সব মেয়েদের খাঁচা বন্দী জীবন । রান্না করা , কাপড় ধোয়া , ও বাকি সব কাজের জন্য লোক রেখে দিয়েছে কান্তা মৌসি । মৌসি বলে, " সারি রাত ধান্দা করকে শুভা ফির ঘরকা কাম করনেসে তবিয়ত বিগড়

 যায়েগি । ইস লিয়ে রাতমে ধান্দা অউর পুরা দিন সির্ফ খানাপিনা, আরাম ব্যস । " এইজন্য সকালে কারো কোনো কাজ থাকে না । শুধু স্নান করা, খাওয়া আর আড্ডা । নিশি আর সিতারা বিছানায় শুয়ে থাকে আর বাকি সবাই মেঝের উপর বসে থাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে । সিতারা ও নিশিকে নিয়ে সব মিলিয়ে মোট এগারোটি মেয়ে । নিশি আসার মাস চারেক আগে শশী নামের একটি মেয়ে অবশ্য আত্মহত্যা করেছিল নিজের শাড়ির ফাঁস দিয়ে । একথা নিশি আজকেই জানলো । সবার মুখেই একটা থমথমে ভাব , চোখে জল আর অসম্ভব চাপা রাগ । এদের মধ্যে বিভা বলে উঠলো, " জানিস নিশি আমাদের প্রত্যেকের এক একটা ভালো - মন্দে মেশানো অতীত ছিল , যা আজ শুধুমাত্র অন্ধকার ছাড়া কিছুই না " এই বলে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চুপ করে যায় । এদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ইতিমধ্যেই নিশি লক্ষ্য করেছিল যে, এদের মধ্যে তিনজন ছাড়া বাকি সবারই গায়ের রং কালো এবং গায়ের রঙের সাথে নামের দারুণ মিল । নিশি বললো , " তোরা এক এক করে বল তোদের অতীত, আর তোরা এই পাঁকে নামলি কিভাবে ? " নিশির কথা শুনে একজন একজন করে বলবে ঠিক করলো । সিতারা বললো, " তোরা সবাই বল, তারপর আমি আর নিশি বলবো " । শুরু হোলো এক একটি রোমহর্ষক কাহিনীর বেদনাদায়ক বর্ণনা । প্রথম বলা শুরু করলো বিভা । 

বিভা বলতে শুরু করলো । 

 

বিভা : " আমার নাম বিভাবরী । পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে আমার বাড়ি । আমি এক বোন ও আমার তিন দাদা । জন্ম থেকেই আমার গায়ের রং কালো বলে ঠাকুমা আমার নাম দিয়েছিলেন বিভাবরী । পরে জানলাম বিভাবরী মানে রাত্রি । রাতের কালোর সাথে গায়ের রং এক হওয়ায় হয়তো এই নামকরণ । আমরা গরীব ছিলাম ঠিকই কিন্তু বাবা কোনো অভাব রাখতেন

 না । আমি ছোটো হওয়ায় আদুরে ছিলাম খুব । আমার যখন পনেরো বছর বয়স তখন আমার সাথে ঘটে যায় " এই বলে একটু চুপ করে থাকে । তারপর কাকে যেন বীভৎস গালিগালাজ করতে করতে আবার বলতে শুরু করলো ।" আমার যখন বছর চৌদ্দ তখন আমার বড় দাদা কাজের সন্ধানে চলে যায় কলকাতায় । মেজ দাদা কিছু বাজে ছেলেদের সঙ্গে পড়ে নিতান্তই মাতাল হয়ে ওঠে দিন দিন । প্রচন্ড অভাবে ছোটো দাদা ও আমার লেখাপড়া অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যায় । ছোটো দাদাও বেগতিক দেখে বেরিয়ে যায় কাজের চেষ্টায় , কিন্তু কোথায় গিয়েছে তা আমরা কেউ জানতাম না । অভাবের তাড়নায় চিকিৎসার অভাবে মা মারা 

গেলেন । বাড়িতে শুধু পড়ে রইলাম আমি, বাবা এবং মেজ দাদা । বাবা ছিলেন পুরোহিত । পূজা করে যা রোজগার হোতো তাতে কারো দুবেলা খাবার জুটতো না । এর মধ্যে মেজ দাদার দৌরাত্ম্য অনেক গুণ বেড়ে গেল । একদিন রাতে আমি ঘুমিয়ে আছি হঠাৎ মেজ দাদা প্রচন্ড নেশা করে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকলো । বাবার শরীর খুব একটা ভালো ছিল না তাই বাবা আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিল । আমি মেজ দাদাকে বললাম , " যা গিয়ে শুয়ে পড় , বাবা আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে " এই বলে আমি শুয়ে পড়লাম । সবে ঘুমটা এসেছে তখন বুঝলাম কেউ আমার বুকের উপর হাত বোলাচ্ছে , চোখ খুলেই দেখি মেজ দাদা । আমি ভয়ে চিৎকার করতে গেলাম তখনই মেজ দাদা আমার মুখ টিপে ধরলো । আমি দেখলাম ঘরের মধ্যে মেজ দাদা একা নয় , আরও দুজন আছে ওর সাথে । তাদের মধ্যে একজন একটা ওড়না দিয়ে শক্ত করে আমার মুখ বেঁধে দেয় , আর একজন বেঁধে দেয় আমার দুই হাত । জানো নিশি হাত বাঁধা অবস্থায় আমি অনেকবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু ওরা তিনজন আমার ওপর হামলে পড়ে । নিমেষের মধ্যে টান দিয়ে আমার সব জামাকাপড় খুলে একে একে তিনজন আমার উলঙ্গ শরীরটার উপর নিজেদের পৌরুষত্ব ফলায় । প্রচন্ড যন্ত্রনায় আস্তে আস্তে আমি বোধহয় অজ্ঞান হয়ে যাই । যখন চোখ খুললাম তখন আমি এই কান্তা মৌসির ডেরায় । মৌসির মুখে শুনেছি , মৌসি নাকি উলঙ্গ অবস্থায় আমাকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছে । পুরো দুদিন আমি অজ্ঞান ছিলাম । আমার পুরোপুরি ঠিক হতে একমাস লেগে যায় । আর তার পর থেকেই আমি এই অন্ধকার গলিতে পড়ে আছি । আর কোথায় বা যেতাম ? " এই বলে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে চুপ করে হাটুতে মাথা নুইয়ে কাঁদতে শুরু করে । সবাই মিলে কিছুটা বাচ্চা ভোলানোর মতো ভুলিয়ে তাকে শান্ত করে । 


বিভার গল্প শুধু জানতো কান্তা মৌসি ও সিতারা । আজ তা সবাই জানলো । নিশি বললো, " এইজন্যই বোধহয় বোনেরা ভাই বা দাদার মঙ্গলের জন্য ভাইফোঁটা দেয় তাইনা ? ছিঃ ছিঃ ভাইয়ের নামে নরখাদক পশু একটা " । তারপর খানিকক্ষণের নিস্তব্ধতা পুরো ঘর জুড়ে । বিভা তখন নিজেকে একটু সামলে নিয়ে কোমড়ের মধ্যে গুঁজে রাখা বাংলা মদের বোতল বের করে ঢোকঢোক করে একটু মদ গলায় ঢেলে নিলো । 


বলাই বাহুল্য এইসব এলাকার মেয়েদের মধ্যে বিভিন্ন নেশার একটা প্রচলন থাকে । কেউ নেশা করে সব ভুলতে আবার কেউ ঐ পরিবেশে টিকে থাকতে । 


এবার মুখ খুললো তিতলি । 


তিতলি শুরু করলো নিজের নষ্ট জীবনের করুণ কাহিনী । 


তিতলি : আমার নাম তিতলি দেবরায় । বাড়ি ছিল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে । বাড়িতে ছিলাম আমরা পাঁচ জন । আমার বাবা, মা, আমি, কাকু ও কাকীমা । কাকুর ছেলে মানে মুকুল থাকতো ওর মামা বাড়িতে । যেহেতু আমার বাবা - মা ও কাকীমা চাকরি করতেন তাই মুকুলকে ওর মামার কাছে রাখা হয় । আমার কাকুর একটি বড়ো মুদিখানা ছিল তাই দুপুরে বাড়িতে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে আবার সন্ধ্যায় দোকান খুলতো । কাকুকে আমি খুব ভয় পেতাম কিন্তু কেনো তা কোনোদিন কাউকে বলতে পারি নি । আমি যখন খুব ছোট্ট তখন মাঝে মাঝে কাকু আদর করার জন্য আমাকে কোলে নিতো , তারপর আদর করতে করতে হাত দিয়ে আমার বুক টিপে ধরতো । কখনো আবার আঙুল দিয়ে আমার ওইখানে নাড়াচাড়া করতো । আমি ব্যাথা পেয়ে কাঁদলে, কোলে করে ছাদে নিয়ে গিয়ে ছুড়ে নীচে ফেলে দেওয়ার ভয়

 দেখাতো আর বলতো, " খুকি শোন ভালো করে যদি একথা বা ব্যাথার কথা কোনোদিন কাউকে বলতে শুনি তাহলে এই ওপর থেকে তোকে নীচে ফেলে দেব । কথাটা যেন মনে থাকে । " সেই সাত বছর বয়স থেকে পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর সেসব চলতে থাকে । শুধু মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যখন কাজ হবে না মনে হোলো তখন থেকে আমাকে পাচার করে দেওয়ার ভয় দেখানো শুরু হয় । নিত্যদিন এই শারীরিক অত্যাচার সহ্য করতে করতে আমার শরীর খারাপ লাগতো , খেতে পারতাম না , ঘুমাতে পারতাম না এমনকি কারও সাথে কথা বলতেও ভালো লাগতো 

না । খালি মনে হোতো এর থেকে মরে যাওয়াই ভালো ছিল । কাকুর অত্যাচারের মাত্রা রীতিমতো আমার মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে । একদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আমি লুকিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই । প্রায় দুদিন লুকিয়ে থাকি আমার এক বান্ধবীর মাসির বাড়িতে । যেহেতু আগেও 

দু - তিন বার ওর মাসির বাড়িতে গিয়েছিলাম তাই ওরা আমাকে চিনতো । তারপর আমার বান্ধবীর মাসতুতো দাদা একদিন বললো, " তিতলি তুই বরং একটা কাজ কর , আমার সাথে কালকে কোলকাতায় চল । ওখানে আমার জানাশোনা একটা অনাথ মেয়েদের আশ্রম আছে । সেখানে তোর একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেব । " 

"একথা শুনে আমিও রাজি হয়ে গেলাম । পরের দিন সকালে রওনা হলাম কোলকাতায় । কোলকাতায় এসে এই বাড়িটাকে আশ্রম বলে আমাকে এখানে রেখে চলে যায় । পরে মৌসির কাছে শুনেছি আমাকে দিয়ে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা গুনে নিয়ে গেছে হারামিটা । আর এখানে একবার ঢুকে পড়লে আর বেরোনো যায় 

না । এরপর থেকে বাধ্য হয়ে এখানেই রয়ে গেলাম । দেখতে দেখতে এখানে দীর্ঘ দশ বছর হয়ে গেছে । এখানে এসে থেকে কতো কিছুযে দেখলাম আর সহ্য করলাম তার কোনো হিসেব নেই । 


নিজের কথা শেষ করে তিতলি বাবা - মায়ের নাম নিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে উঠেই এক ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল । আবারও ঘরের মধ্যে পিন পতন নিস্তব্ধতা । খানিকক্ষণ পর মুখ খুললো শর্বরী অর্থাৎ শাবরী । কিন্তু শর্বরী কথা শুরু করার আগেই কানাই এসে বললো , " দিদি চলো তোমরা , দুপুরের খাবার তৈরি । মৌসি তোমাদের খেতে ডাকছে । দেরী কোরো না যেন " এই বলে চলে গেল । মৌসি কিন্তু সবাইকে না নিয়ে খেতে বসতো না । সবাই যাতে পেট ভরে খায় সেটা সবসময় খেয়াল রাখতো । 


দুপুরের খাবার শেষ করে সবাই মিলে আবার গল্প করতে বসে পড়লো । এখন যদিও বেশিক্ষণ কথা বলা যাবে না , কারণ সন্ধ্যা হতেই সেজেগুজে প্রত্যেককে রং বাহারি ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট করতে হবে মৌমাছির মতো বাবুদের । যাইহোক এবার শর্বরী শুরু করলো তার কাহিনী । 


শর্বরী : আমার আসল নাম শর্বরী

 মজুমদার । এখানে আসার পর অবশ্য শর্বরী থেকে শাবরী হয়ে গেছি । বাবা ছিলেন আমাদের গ্রামের একটা ছোট্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক । বাড়িতে আমি , মা, বাবা, ছোট দুটি বোন আর এক পিসি । আমাদের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না । কোনোরকমে সংসার চলতো বাবার সামান্য রোজগারে । তবে পিসিমা নিজের খরচ নিজেই চালাতো । কিন্তু তার রোজগারের পথটা যে কি কেউ জানতাম না । বেশ ভালোই রোজগার ছিল তার । যদিও বাবাকে কোনোভাবেই পিসি সাহায্য করতো না আর বাবাও কিছু বলতেন না । তবে শুনেছিলাম আমার পিসি গ্রাম ও গ্রামের আশেপাশের এলাকার মেয়ে - বৌদের শহরাঞ্চলে কাজের ব্যবস্থা করে দিতো টাকার বিনিময়ে । আমার বাবার এ বিষয়ে সন্দেহ হয়, তখন বাবা পিসিকে জিজ্ঞাসা করেন , " শান্তি তুই কি কাজ করিস বলতো ? পড়াশোনা খুব একটা জানিস না তাও এতো রোজগার কি করে সম্ভব ? তুই কি কোনো বাজে কাজ..... " । বাবার কথা শেষ না হতেই পিসি বলে উঠলো, " আরে নারে দাদা, ঐ কিছু গরীব ঘরের মেয়ে - বৌদের বড় বড় বাড়িতে ঠিকা কাজের জোগাড় করে দেই আর সেসব বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে কিছু টাকা পাই এই আর কি । " বাবার যেন কথাটা বিশ্বাস হোলো না তাও আর অযথা কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন । পিসিও যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো । আমার যখন সতেরো বছর বয়স তখন আমার বিয়ে ঠিক হয়, সম্বন্ধটা পিসিই এনেছিল । এতো কাঁচা বয়সে বাবা কিছুতেই আমাকে বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না । তখন পিসি প্রথমে মাকে বোঝায়, তারপর মা বাবাকে বলে , " কিগো বলছি ময়ূরীও বড়ো হচ্ছে এরপর ওকেও বিয়ে দিতে হবে । তোমার এই সামান্য রোজগারে দুবেলা ওদের দুই বোনকে ভালো করে খেতে দিতে

 পারিনা । শর্বরীকে ভালো ছেলের হাতে পাত্রস্থ করতে পারলে সেও ভালো থাকবে আর আমরাও নিশ্চিন্ত হতে পারবো । " মায়ের অনেক পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে বাবা রাজি হলেন । আমারও বিয়ে হয়ে গেল বিজয় নামে একটি ছেলের সাথে । বিদায় হবার সময় কান্নাকাটি করে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ায় বিজয় আমাকে জলের বোতল দিয়ে বললো, " অনেক কান্নাকাটি করেছো , এরপর শরীর খারাপ হয়ে যাবে । এই নাও একটু জল খেয়ে চোখ বন্ধ করে বসো দ্যাখো ভালো লাগবে "। আমি ওর হাত থেকে জলের বোতল নিয়ে কিছুটা জল খেয়ে চোখটা বন্ধ করে বসলাম । তারপর কি যে হোলো জানি না । যখন চোখ খুললাম তখন আমি এখানে । ভালো মানুষের মুখোশ পরে শুয়োরের বাচ্চাটা আমাকে বিয়ে করে নিয়েসে আমাকে এখানে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে । আর কোনো পথ খোলা না থাকায় এখানেই রয়ে গেলাম । এখন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা । রোজ রাতে বাবুদের শরীরের চাহিদা মেটাতে মেটাতে আমি খুব ক্লান্ত । আর পারছি না । এই বলে একেবারে চুপ করে যায় । 


আবারও ঘরের মধ্যে একই রকম পিন পতন নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেল । 


আড্ডা আপাতত সেদিনের মতো শেষ করে সবাই চলে গেল সেজেগুজে তৈরি হতে । সন্ধ্যা হলেই বাবুরা আবার আসতে শুরু করবে নিজেদের শরীরের ক্ষিদে মেটাতে । 


এবার নিজের কাহিনী বলার পালা এলো রজনীর । রজনী হিন্দি - বাংলা মিলিয়ে বলতে শুরু করলো । 


রজনী : ম্যায় হু রজনী যাদব । নেহী নেহী হু নেহী পহেলে থি, অব সির্ফ রজনী । মেরি ঘর থি বিহারমে । আট বরস ইহা রহেকে থোড়ি বহত বাংলা বোল সকতি হু । মেরি পিতাজী এক সাহুকার কি জমিনমে খেতি করতা থা । ঘরমে আমরা গুল মিলাকে ছে লোগ । মেরি পিতাজী, মা, ম্যায় অউর মেরি দো বহেন - এক ভাই । ম্যায় সবসে বড়ি থি । আমি থোড়ি কালা ছিলাম ইসলিয়ে পিতাজীনে রজনী নাম 

দিয়া । পিতাজীকা মাননা থা ম্যায় উনকি বেটি নেহী হু । উনকে ঘরমে কভিভি কোই কালা লড়কি প্যায়দা নেহী হুয়া । ইসলিয়ে আমার মাকেভি বহত মারতো । পিতাজী মাকো মারনেকে ওয়াক্ত বলতো, " মেরে পিঠ-পিছে কাহা গয়িথি জিসমকি প্যায়াস বুঝানে ? কাহাসে পেটমে ইয়ে কালি - কুত্তি উঠা লায়ি ? " আমার মা চুপ রহিতি থি । মেরি প্যায়দা হোনেকি দো সাল বাদ স্বপ্না অউর উসকি তিন সাল বাদ নীনা প্যায়দা হুয়ি । ম্যায় যব দশ সালকি তব ভাই প্যায়দা হুয়া । স্বপ্না অউর নীনাকো পিতাজী বহত প্যায়ার করতে থে লেকিন কালা হোনেকে লিয়ে মুঝে কভি উনকা প্যায়ার নেহী মিলি । ম্যায় যব তেরা সালকি হুয়ি তব পিতাজী একদিন মুঝে সাহুকারকে পাস লেকে

 গ্যায়া । ম্যায় কালা জরুর থি লেকিন দেখনেমে বহত আচ্ছি থি, অউর তেরা সালকি কাচ্চি উমরমে ষোলা সালকি লড়কি লগতি থি । উস সাহুকারকা নজর মেরি বদনপে থা । পাতা নেহী পিতাজীকে সাথ ক্যায়া বাত হুয়া, সাহুকারনে পিতাজীকো কুছ প্যায়সা দিয়া অউর পিতাজী মুঝে সাহুকারকে পাস ছোড়কে চলা গ্যায়া । ম্যায় রোনে লগি তব সাহুকার জবরদস্তি খিচতে হুয়ে মুঝে আন্দার লে গ্যায়া । ফির মুঝে দো - চার থাপ্পড় লাগাকে হাত - মু অউর পাও বাঁধ দিয়া । ফির উসনে ......এই বলে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করে ।


 নিশি বলে উঠলো , " থাক আর বলতে হবে না বুঝতে পেরেছি । কিন্তু তুই এখানে আসলি কি করে ? " 


রজনী আবার বলতে শুরু করলো । 


রজনী : " উসদিন উনকে বাদ অউর তিন আদমি আয়া থা উস ঘরমে । দুসরি দিনসে সির্ফ রাতকো নেহী বো লোগ দিনমেভি আতা থা । ম্যায় বিনা কাপড়োকি তিন - চার দিন পড়ি রহী । না নাহানা , না বাথরুম যানা , না খানাপিনা কুছভি নেহী মিলতি থি । পাঁচোয়া দিন উন লোগোকো লগা ম্যায় মর গয়ি হু ইসলিয়ে মুঝে উঠাকে গাঁওসে দূর এক তালাবকে পাস ফেক দিয়া । মেরি বদনমে একভি কাপড়া নেহী থা । হামারা হরিয়া বিহারকা আদমি থা । কুছ কাম লিপ্টাকে হরিয়া উসদিন উস রাস্তেসে আ রাহা থা । তালাবকে পাস মেরি করার শুনকর দৌড়তে হুয়ে আয়া । মেরি শরীরকো তলিয়েসে ঢাক দিয়া । ব্যস ইতনাহি ইয়াদ হ্যায় । হরিয়া মুঝে ইহা লেকর আয়া । তবসে ম্যায় ইহা

 হু । হরিয়া তবসে মুঝে ছোটি বহেন মানতা হ্যায় । আজ উসকে লিয়ে ম্যায় অভিতক জিন্দা হু " - এই বলে একটা ছোট্ট অথচ করুণ নিঃশ্বাস ছেড়ে ঘড়ঘড় করে হুকোয় একটু সুলটান দিলো । 


রজনীর চোখে তখন এক বিন্দু জলও নেই কিন্তু বাকি সবার চোখেই বারিধারা । 


এবার নিজের কাহিনী বলতে শুরু করলো সন্ধ্যা । তার বিশেষ কিছুই বলার নেই তবুও যা বললো তা অতি নিন্দনীয় । 


সন্ধ্যা : আমার নাম সন্ধ্যামালতী হাঁসদা । সুন্দরবনের রূপমারি গেরামে ছিল শ্বশুরঘর। 

আমার মরদটা একবার সেই যে মাছ ধরনের লইগ্যা লদীতে গেল আর ঘরে ফিরলো নি । কি জানি কি হোলো জানি নে । শ্বশুড় মইরা গ্যাছে বহুকাল আগে , তহোনো আমার বিয়া হয় নাই । শ্বাশুড়ীটা ভালো ছেলো নি । পাশের পাড়ার একটা মরদের লগে খুব পিরিত ছেলো । গেরামের লোকগুলান তো ওনারে দ্যাখতেই পারতো না । আমি সারাদিন ঘরের কাম কইরা যহোন ঘুমাইয়া পড়তাম তহোন ঘুমের মধ্যেই শুইনতে পাইতাম শ্বাশুড়ী আর ওই মরদটার নষ্টামির 

আওয়াজ । এরহমটা বহুদিন চইলতে 

ছেলো । একবার এক ঝড় জলের রাইতে শ্বাশুড়ীটা ঐ মরদটারে ঢুকাইয়া দিলো আমার ঘরে । তারপর ঐ ব্যাটায় যখন আমার লগে....... জানো আমি কতো কাঁইদলাম শ্বাশুড়ীটার পা জইরে ধরে, কতো বইললাম মা আমারে বাঁচান কিন্তু মাগী তহোন থুতু লাগাইয়া ট্যাকা গুইনতাছে । তাইরপরে একদিন আমারে বেইচ্যা দেলো একটা ব্যাটার কাছে । এ হাত ও হাত ঘুইরতে ঘুইরতে এহানে আইয়া পড়লাম । তাও বছর আটেক হইয়া গ্যাছে । শরীরডার

আর কিস্যু নাই রে ...... বলে কথা শেষ করলো । 


সিতারা বলে উঠলো , " হায়রে নসীব ! হাম লড়কিয়া না ঘরকা না ঘাটকা । ক্যায়া তকদির লিখা হ্যায় উপরওয়ালেনে । " 


নিশি বললো , " আজকে আর ভালো লাগছে না এতো কষ্টের কথা শুনতে । এই সিতারা একটু নাচগান করলে কেমন হয় ? 

সাথে সাথে সিতারা বললো, " ঠিক বোলা তুনে , দো দিনসে ইয়েসব দর্দনাক কাহানী শুন শুনকে..... এ লায়লা গানা চালা দে । "

লায়লা উঠে গিয়ে মিউজিক সিস্টেমে গান চালিয়ে দিলো । করিনা কাপুরের " চামেলী " সিনেমার গান 

 " মন সাত সমুন্দর ডোল গ্যায়া 

  যো তু আঁখোসে বোল গ্যায়া

  লে তেরি হো গ্যায়ি ইয়ার

  সাজনা ভে সাজনা

  ও সাজনা মেরে ইয়ার 

  সাজনা ভে সাজনা "

গানের সাথে সাথে সবাই খুব নাচলো । ওদের সাথে এই প্রথম বার পা মিলালো নিশি । হৈচৈ করে সবাই কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেল নিজেদের বিভীষিকাময় অতীত । 


অনেক নাচানাচি করে প্রত্যেকেই খুব ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো । বিভা কোমড় থেকে মদ বের করে আবার বেশ খানিকটা গলাধঃকরণ করলো , কেউ দিলো হুকোয় ঘড়ঘড় করে টান আবার কেউ গাঁজার ছিলিমে । 


কিছুক্ষণ পর কানাই যথারীতি দুপুরের খাবারের জন্য হাঁক দিয়ে চলে গেল । 

সেদিন দুপুরের খাবার শেষ করে আর কেউ গল্প করতে বসলো না । সন্ধ্যার সময় আবার বাবুদের আসর বসলো । প্রত্যেকের ঘরেই একটি করে ক্ষুধার্ত পুরুষ । রাত দশটার সময়ও সেখানে যেন একেবারে সন্ধ্যার মতো চাঞ্চল্য । প্রত্যেকটি মেয়ে ব্যস্ত টাকার বিনিময়ে বাবুদের কামের জ্বালা মিটাতে । হঠাৎ বাইরে প্রচন্ড হট্টগোল শুনে যে যার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে । সিতারা আর নিশি ভয়ে আৎকে উঠে ছুটে নীচে নেমে যায় । কান্তা মৌসি সেদিন কোনও বিশেষ কারণে ডেরায় ছিল না । 


নীচে বাবলুর কোলে একটি বছর দশেকের মেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় । সারা শরীরের জামাটা ছিন্নভিন্ন , দু পা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে , মুখে - গলায় - বুকে অমানুষিক অত্যাচারের ছাপ স্পষ্ট । বাচ্চাটির ঐ অবস্থা দেখে নিশি কেঁদে উঠলো । সিতারা হুকুম দিল, " বাবলু তাড়াতাড়ি একে আমার ঘরে নিয়ে যা । হরিয়া তুই গিয়ে ডাক্তার ম্যাডামকে নিয়ে আয়, দেখি ওকে বাঁচানো যায় কিনা । "

বাবলু তাড়াতাড়ি মেয়েটিকে সিতারার ঘরে শুইয়ে দিলো । মিনিট পনেরোর মধ্যে ডাক্তার পামেলা বোস চলে আসেন হরিয়ার সাথে । 


এই ডাক্তার পামেলা বোস সম্পর্কে একটু বলি । উনি বছর পঁয়তাল্লিশের একজন নামকরা গায়নোকলজিস্ট । কলকাতার কিছু বেসরকারি নার্সিংহোমের সাথে যুক্ত । তবে কলকাতার কিছু নিষিদ্ধ পল্লীতে বিনা মূল্যে চিকিৎসা করা ওনার ভালো লাগার মধ্যে অন্যতম । বিশেষ করে সিতারার সাথে ওনার খুব ভালো সম্পর্ক । কাজেই সিতারার ডাক কোনোভাবেই উনি অগ্রাহ্য করতে পারেন না । 


ডাক্তার ম্যাডাম বাচ্চা মেয়েটিকে পরীক্ষা করার সময় সিতারা বললো , " ক্যায়া হুয়া ম্যাডাম বাচতো জায়েগি না ? কুছ পাতা চলা ? " 

ডাক্তার বোস বললেন , " হ্যাঁ বেঁচে যাবে 

ঠিকই কিন্তু সুস্থ হতে কতোদিন লাগবে তা জানি না । এই বাচ্চাটার উপর একজন নয় কম করে তিনজন অত্যাচার চালিয়েছে । অনেক রক্তপাত হয়েছে । তার উপর যৌনাঙ্গে রীতিমতো স্টিচ করতে হবে । একে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা যাবে না । "


সিতারা সাথে সাথে বলে উঠলো, " নেহী নেহী , যোভি করনা হোগা ইয়েহী কিজিয়ে । যো কুছ বন্দোবস্ত করনা হোগা কিজিয়ে লেকিন ইলাজ তো ইয়েহী হোগা । "


বাধ্য হয়ে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সব ব্যবস্থা করেন স্বয়ং ডাক্তার ম্যাডাম । দেখতে দেখতে সিতারার ঘরটা পরিণত হোলো নার্সিং হোমের কক্ষে ।  


কান্তা মৌসির ডেরায় সিতারার ঘরেই শুরু হোলো বাচ্চা মেয়েটির চিকিৎসা । গরম জল দিয়ে ভালো করে শরীরটা পরিস্কার করে একটা জামা পড়ানো হোলো । তারপর ডাক্তার বোস যৌনাঙ্গে মোট তেরোটি স্টিচ করলেন । স্যালাইনের বোতল চড়ানো হোলো । সারারাত ডাক্তার বোস মেয়েটির কাছেই থাকলেন । সিতারা আর নিশি বাদে সবাই গিয়ে শুয়ে পড়লো । হরিয়া আর কানাইকে সিতারা বললো, " শুন আজ অউর কোয়ি বাবু আয়ে তো বোল দেনা আজ কোয়ি ব্যায়পার নেহী হোগা । " 

তারপর বাবলুকে বললো , " বাবলু ইয়ে বাচ্চি তুঝে কাহা মিলি ? "


বাবলু বললো, " দিদি আমি আজকে একটু কাজে গিয়েছিলাম । যখন ফিরছি তখন রাস্তার কাছে একটা ঝোপের মধ্যে গোঙানির শব্দ শুনতে পাই । বাইকে আমি আর কানাই ছিলাম । তাড়াতাড়ি কোমর থেকে ছুড়িটা বের করে এগিয়ে যাই ঝোপটার দিকে । গিয়ে দেখি এই বাচ্চাটা পড়ে আছে । তখনো জ্ঞান ছিল । আমরা তাড়াতাড়ি করে ওকে তুলে এখানে আনলাম । রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ওর শরীরটা । "


সিতারা শুধু " হুম " শব্দ করে চুপ করে

 গেল । ডাক্তার বোস একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন , " আজও মানুষের এই পাশবিক বৃত্তি মেয়েদের পিছু ছাড়লো না । এইতো আমাদের উন্নত সমাজ । "


দেখতে দেখতে ভোরের আলো ফুটলো । কিন্তু বাচ্চাটির জ্ঞান তখনও ফিরলো না । সকাল হতেই ডাক্তার বোস বললেন, " শোনো সিতারা এখন আপাতত ভয় কেটে গেছে । ওর এখন ভালো করে দেখাশোনা করা দরকার । আমি এখন আসি , যদি প্রয়োজন হয় খবর দিও । আমি অবশ্য দুপুরের পর একবার ওকে দেখে যাবো ।

 তাহলে আসি । " এই বলে ডাক্তার বোস চলে গেলেন । 


সারাদিন সিতারা ও নিশি পালা করে মেয়েটির দেখাশোনা করতে থাকে । ইতিমধ্যে কান্তা মৌসি ফিরে এসে সব ঘটনা শোনে বাবলুর কাছে । তারপর সিতারার ঘরে আসে মেয়েটিকে দেখতে । মেয়েটিকে দেখে মৌসির মতো জাদরেল মহিলার চোখ থেকেও জল গড়িয়ে পড়লো । 

মৌসি সিতারাকে ডেকে বললো, " শুন বিটিয়া ইসকা আচ্ছি তরহা দেখভাল করনা । কুছভি জরুরত পড়ে তো মুঝে বোলনা " এই

বলে মৌসি সিতারার ঘর থেকে বেরিয়ে

 যায় । 


বিকেল চারটা নাগাদ ডাক্তার বোস আবার আসেন মেয়েটিকে পরীক্ষা করার জন্য । 


ডাক্তার বোস মেয়েটিকে পরীক্ষা করে যৌনাঙ্গের স্টিচের জায়গা ভালো করে ড্রেসিং করে দেন এবং সিতারা ও নিশিকে দেখিয়ে দেন কিভাবে ড্রেসিং করতে হবে । এমন সময় হঠাৎ মেয়েটা নড়ে উঠলো । তারপরেই অসহ্য যন্ত্রনায় কাঁদতে শুরু

 করে । নিশি ছুটে গিয়ে অনেক কষ্টে তাকে শান্ত করে । ডাক্তার বোস বলেন, " আর কোনো ভয় নেই । এবার আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে । এখন অনেক যত্নের 

প্রয়োজন । "


নিশি বলে, " আমরা খুব ভালো করে ওর দেখাশোনা করবো । কোনো কষ্ট পেতে দেব না " বলেই মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে । ডাক্তার বোস এবার নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে

 যান । স্যালাইন আর বাকি চিকিৎসার সামগ্রী সাথে নিয়ে যান । যাবার সময় কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে যান । 


সিতারা ও নিশির অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবাযত্নের জোরে দিন সাতেকের মধ্যে মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে । যদিও সেদিনের সেই আতঙ্কে আজও সে ঘুমের মধ্যেই ঘেমেনেয়ে লাফিয়ে উঠে পড়েই কাঁদতে শুরু করে । অনেক কষ্টে সিতারা আর নিশি আদর করে তাকে শান্ত করে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেয় । এভাবেই দীর্ঘ একমাস কেটে যায় । বাচ্চা মেয়েটি এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিক । সিতারা আর নিশির মারাত্মক নেওটা হয়ে উঠেছে দিনে দিনে । আসলে অসুস্থ অবস্থায় যখনই কেঁদে উঠেছে তখনই পাশে থেকে মায়ের মতো করে আগলে রেখেছে ঐ দুজন । 


আবার মৌসির ডেরায় তার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসে । আবার সেই দিনের বেলায় আড্ডার আসর আর রাতের বেলায় নিত্য বাসর । 


নিশি ঠিক করলো বাচ্চা মেয়েটির কাছে সব জানতে চাইবে সেদিন কিভাবে কি হয়েছিল । 

কিন্তু সিতারা বললো, " নেহী নেহী নিশি, অভি নেহী । কুছ দিন অউর বিত জানে দে । নেহী তো তবিয়ত ফিরসে বিগড় সকতি

 হ্যায় । " সিতারার কথায় নিশি সায় দিল । 

আবার সকালে সবাই স্নান - পূজা ইত্যাদি সেরে আড্ডার আসরে বসলো । আজকে থেকে তাদের আসরের নতুন সদস্যা শ্যামা । 

শ্যামাকে নিজের নাম অনেক বার জিজ্ঞাসা করায় সে বলেছিল, " আমার নাম 

শ্যামাঙ্গিনী । " ব্যস এইটুকুই জানতে চেয়েছিল নিশি । সুস্থ হয়ে উঠলে সব জানতে চাইবে সেই আশায় নাম জেনেই জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধ করে দেয় । 

সিতারা বললো, " চল চল শুরু কর , আজ কৌন বোলেগা আপনে বারেমে । এ হরিয়া....হরিয়া ... আরে এ হরিয়া কাহা মর গ্যায়া শালা ? " সিতারার ডাক শুনে হরিয়া ছুটতে ছুটতে এসে বললো, " জী দিদি বলিয়ে , কুছ চাহিয়ে আপকো ? " 

সিতারার স্বর আবার নরম । সে শান্ত স্বরে বললো , " হরিয়া , য্যারা মেরি হুক্কা লাদে । অউর হা শ্যামাকে লিয়ে কেলা অউর সন্তরা লানা মত ভুলনা । চল অব যা জলদি " বলে আড্ডায় মন দিলো । যামিনী বললো, " দিদি আজকে আমি বলবো ? " সিতারা বললো, " হুম, বোল " । 


সিতারার অনুমতি পেয়ে যামিনী বলতে শুরু করলো । 


যামিনী : আমার নাম ছিল যামিনী দে । আমার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী । অবস্থা যথেষ্ট ভালোই ছিল আমাদের । আমি তখন ক্লাস এইট । আমার দুই বান্ধবী সুমি আর দেবিকার সাথেই স্কুলে যাতায়াত করতাম । রোজ যখন স্কুলে যেতাম আর ফিরতাম তখন দেখতাম একটা ছেলে রোজ আমাদের পিছনে আসে । বেশকিছু দিন পর আমরা ছেলেটাকে ডেকে কথা বলি । ছেলেটার নাম ছিল বিষ্ণু পান্ডে । প্রায় কিছুদিন কথা বলতে বলতে আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয় । ছেলেটা ছিল রং মিস্ত্রি । বাড়ি ছিল বিহারের কাটিহারে । আমি জানতাম বাবা কোনোদিনও এই সম্পর্ক মেনে নেবে না , তাই একদিন স্কুলে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে গেলাম ওর সাথে । কালিঘাটের মন্দিরে ও আমাকে বিয়ে করে । বিয়ের ঠিক দুদিন পর আমরা বিহারে ওর বাড়িতে চলে যাই । ওখানে সবাই আমাকে খুব আদর যত্ন করে বাড়িতে নিয়ে যায় । বেশ ভালোই ছিলাম । বিহারে যাবার পর দিন আমি বাবাকে ফোন করি কিন্তু বাবা আমাকে চেনে না বলেই ফোন কেটে দেয়। মাস ছয়েক বেশ ভালোই কাটলো । তারপরেই শুরু হোলো অশান্তি । বিষ্ণু একদিন বললো , " শোন তুই তোর বাবার কাছে যাবি । যেভাবেই হোক বাবার কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা নিয়ে আসবি । "

আমি একথা শুনে বললাম, " এটা কি বলছো ? বাবা আমার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না জেনেও তুমি একথা বলছো ? আমি পারবো না । " একথা বলার সাথে সাথেই বিষ্ণু আমার চুলের মুঠো ধরে মারতে শুরু করে । সেসময় বিষ্ণুর মা, দিদি সবাই সামনেই থাকতো তাও কিছু বলতো না বিষ্ণুকে । উল্টো ওরা আমাকে আরও বেশি করে মারতে ইন্ধন দিতো । এভাবে সপ্তাহ খানেক চলার পর ওরা আমাকে বললো ,

 " ঠিক আছে , ছাড়ো অনেক হয়েছে । তা তুমি যখন বাবার কাছ থেকে টাকা আনবেই না তাহলে........ " এই কথার সাথে সাথেই বিষ্ণুর মা ভোজপুরি ভাষায় কি যেন চেঁচিয়ে বলে উঠলো তা আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না । আসলে সবাই আমার সাথে হিন্দি বাংলা মিশিয়ে কথা বলতো তাই আমার কোনো অসুবিধা হোতো না । কিন্তু সেদিন বিষ্ণুর মা - বোন - বাবা সবাই যা বললো সব ভোজপুরি ভাষায় । আসলে ওরা জানতো ঐ ভাষায় কথা বললে আমি ওদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পারবো না । তাই হোলো, আমি এটা বুঝতে পারলাম ওরা কিছু একটা ষড়যন্ত্র করছে কিন্তু সেটা যে কি কিছু বুঝতে পারলাম না । সেদিন অনেক রাত মোটামুটি একটা বাজে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল । সেদিনই বুঝতে পারলাম ওরা সবাই কি ষড়যন্ত্র করেছিল । আমি তখন ভয়ে ঘরের এক কোণে পাঁচিলের গায়ে সেঁটে বসে 

আছি । ভয়ে সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে । ঘরের বাইরে তখন 

সাত - আটজন । দুজন মহিলা মানে আমার শ্বাশুড়ী ও ননদ আর ছয়জন পুরুষ । পুরুষদের মধ্যে দুজন বিষ্ণু ও আমার শ্বশুর , বাকি চারজনকে আমি চিনি না । তাহলে ওরা কি আমাকে মেরে ফেলবে ? এই ভেবে ভয়ে পুরো কাঠ হয়ে গেছি তখন । এমন সময় ঘরের দরজা খুলে গেল , দেখলাম........ "


দরজা খুলতেই দেখলাম ছয়টা লোক ঘরে ঢুকে আসলো । ওরা আমাকে মেরে ফেলবে সেই ভয়ে আমি লুকিয়ে বসে আছি ঠিক তখনই বিষ্ণুর চোখ পড়লো আমার ওপর । সবাই মিলে টেনে হিচরে আমাকে বিছানায় ফেললো । তারপর বিষ্ণু ও আমার শ্বশুর বেরিয়ে গেল ঘর থেকে । আর বাকি চারজন টেনে আমার সব কাপড় ছিড়ে নিজেদের পৌরুষত্ব ফলালো আমার শরীরের উপর । টানা একঘন্টার এক নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি জ্ঞান হারালাম । সেদিনের পর থেকে রোজ রাতেই আমার শরীরের ওপর চলতো পৈশাচিক অত্যাচার । আর বিষ্ণু ও বিষ্ণুর পরিবার আমার শরীরটা বিক্রি করে রোজগার করতে শুরু করলো । আমাকে ওই ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হোতো যাতে পালাতে না পারি । একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওরা ভাবলো আমার শরীরে ক্ষমতা নেই পালাবার , তাই আর ঘরের দরজায় তালা দিলো না । আমি এই সুযোগটাই কাজে লাগাই । কোনোরকমে অসুস্থ কালসিটে পড়া শরীরটা নিয়ে পালিয়ে আসি । স্টেশনে একটি লোক আমাকে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে কাকে যেন ফোন করে বললো , " একটি অসহায় মেয়েকে ট্রেনে উঠিয়ে দিলাম । কালকে সকালে ট্রেন হাওড়ায় পৌঁছে যাবে । তোমরা স্টেশনে থেকে ওকে নামিয়ে নিয়ে ওখানে পৌঁছে দিও । " আমি ভাবলাম উনি সত্যিই মানুষের রূপে ভগবান । পরে যখন ওনার লোক আমাকে নিয়ে এসে এখানে রেখে মৌসির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে গেল তখন বুঝলাম আমি আবার বিক্রি হয়ে গেলাম । জানো নিশি আগে যদি জানতাম ভালোবাসার মধ্যে এতো ছলনা থাকে তাহলে হয়তো এই ভুল করতাম না । তবে এখন বেশ ভালো আছি । 


এই বলে হুকোয় ঘড়ঘড় করে টান দিয়ে চুপ করে বসে রইলো । ততোক্ষণে হরিয়া এসে বাচ্চা মেয়েটির জন্য কলা আর কমলালেবু এবং সিতারার জন্য হুক্কা সাজিয়ে আনলো । 


নিশি শ্যামা অর্থাৎ বাচ্চা মেয়েটিকে ফল খেতে দিতে দিতে বললো , " আমাদের মেয়েদের দাম শুধু মাত্র শরীরের জন্য । মা - বোন - স্ত্রী হিসেবে আমাদের ভূমিকা কিছুই নেই । " 


সিতারা বললো , " ইয়ে যামিনী ভি দোবার জান দেনেকি কৌসিস কিয়া থা লেকিন বরাতমে মরনা লিখা নেহী তো শালী বাচ্ গ্যায়া । মেরি দিমাকমে শালা এক বাত নেহী ঘুসতা লোগ প্যায়ার কিউ করতে হ্যায় ? দর্দ কে ইলাভা অউর ক্যায়া মিলতা হ্যায় ইস প্যায়ার মে । " সবাই চুপ করে তাকিয়ে রইলো সিতারার দিকে । 


সিতারা তখন লায়লাকে বললো , " তু বোল

অব " । লায়লা চুপ করে থেকে বললো , 

" আমার তো কিছু মনেই নেই । কি হয়েছিল, কি করে এখানে এলাম কিচ্ছু, কিচ্ছু মনে নেই । এইটুকু জানি আমার মাথায় একটা চোট লেগেছিল , মৌসি আর তুমি আমাকে

বাঁচিয়েছো । "


সবার মধ্যে থেকে বিভা বলে উঠলো , " ভুলে গিয়ে বেঁচে গেছিস । নাহলে ঐ ঘটনা তোকে দিনরাত কুরে কুরে খেতো । "


সিতারা কৃষ্ণাকে বললো , " তো অব তুলে বোল " । 


কৃষ্ণা শুধু বললো , " আমি কালো বলেই হয়তো আমার এই অবস্থা । না আমি, আমি কিছু মনে করতে চাই না । কিছু বলতে পারবো না । সেসব কথা মনে পড়লেই....... "

বলতে বলতে প্রচন্ড রকম কেঁপে উঠলো

 সে । তারপর উঠে বেরিয়ে গেল ঐ ঘর থেকে । বিভাও দৌড়ে যেতে গেল কৃষ্ণার পিছনে কিন্তু তখনই সিতারা বললো, " রুখ , যানেকি কোয়ি জরুরত নেহী । জীভরকে রোনেদে উসকো । থোড়ি দেরমে ঠিক হো যায়েগী । তু ব্যায়ঠ ইয়েহী । " 


এক নিমেষে সিতারার ধমকানিতে সবাই চুপ করে বসে রইলো । আসলে মৌসির খাস লোক বলে সবাই সিতারাকে ভয় পেত আবার ভালোও বাসতো খুব । 


  ক্রমশঃ প্রকাশ্য






Rate this content
Log in

More bengali story from Sharmistha Mukherjee

Similar bengali story from Drama