Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Mitali Chakraborty

Romance Inspirational


3  

Mitali Chakraborty

Romance Inspirational


ব্যতিক্রম:-

ব্যতিক্রম:-

4 mins 222 4 mins 222

গত শুক্রবারে পাত্রপক্ষেরা দেখতে এসেছিলেন তন্তুজাকে। সেদিন পাত্র তথা পাত্রপক্ষের সকলেই পছন্দ করেছিলেন তন্তুজাকে। তন্তুজার নিজেরও খুব মনে ধরেছিল শুভাশীষকে। তন্তুজা একটি বেসরকারি স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষিকা। আর শুভাশীষ তাদের পৈতৃক ব্যবসার পরিধিকে আরও বিস্তীর্ণ করার পক্ষপাতি।

গত শুক্রবারে তন্তুজাকে 'পাত্রী হিসেবে পছন্দ' বলার পর শুভাশীষের বাবা তন্তুজার পরিবারকে আগামী বুধবার বিকেলে তাদের বাসভবনে উপস্থিত থেকে বিয়ে সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ জানান। তন্তুজার মাতা পিতা উভয়েই সানন্দে নিমন্ত্রণ স্বীকার করে আগামী বুধবার সন্ধ্যায় ওনাদের বাড়িতে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।


আজ বুধবার। সময় তখন প্রায় সন্ধ্যা ছ'টা। তন্তুজার পরিবারের সকলেই কথা বলছেন শুভাশীষের বাবা মা, কাকা কাকী, জেঠি সহ বাকিদের সঙ্গে। শুভাশীষের জ্যাঠাও আছেন সকলের সঙ্গে, কিন্তু তিনি নিজের মতামত দিচ্ছেন কম এবং বাকিদেরটা শুনছেন বেশি। বিয়ে সংক্রান্ত ছোট বড় সমস্ত আলোচনাই যখন চলছে তখন শুভাশীষের বাবা বলেন,

- আচ্ছা বেয়াইমশাই, কিছু যদি না মনে করেন তাহলে ঐ বিষয়েও একটু আলোচনা করে নেওয়া যাক।


তন্তুজার মা একটু শুকনো হাসি হেসে তাকালেন ওনার কর্তার দিকে। তন্তুজার বাবাকে দেখে মনে হচ্ছিল উনি যেন তৈরিই ছিলেন এই প্রসঙ্গটির জন্য।

- আপনারা তো জানেনই যে আমার ছেলে বি.বি.এ পাশ করার পরেই আমাদের পারিবারিক ফার্নিচারের ব্যবসাতে যোগ দিয়েছে। আমার দাদার ছেলে আর শুভ এরাই এখন ব্যবসাটাকে আরও বিশালাকার রূপ দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। আমি আর দাদা আমরা দুইভাই তো এখন সিনিয়ার-সিটিজেন পর্যায়ে চলে এসেছি। কিন্তু আমাদের ছোটভাই অলকেন্দু তার দুই ভাতিজাকে কেতাদুরস্ত ব্যবসায়ী হওয়ার নিপুণতা শেখাচ্ছে। আমরা সকলেই মা জগদ্ধাত্রীর বড় উপাসক। আর মা জগদ্ধাত্রীর কল্যাণে আমাদের ব্যবসা বেশ ভালো চলছে এবং রমরমিয়ে চলছে এতবছর ধরে। আমাদের সকলেরই শুভাশীষের জন্য তন্তুজাকে জন্য আদর্শ মনে হয়েছে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই বিয়ের পরেও তন্তুজা যদি শিক্ষকতার চাকরিটা করে যায়, বরং চাকরীটা করে যাওয়াই ভালো। দুজনেই বুঝবে টাকাপয়সা রোজগারের গুরুত্বটা।

আপনি তো জানেনই বেয়াইমশাই যে সমাজে আমাদের পরিবারের অনেক নাম, আর বিয়ের সান্ধ্যবাসরে আমাদের সমাজের-মাথা তারা সকলেই নিমন্ত্রিত থাকবেন। আপনি ভুল বুঝবেন না বেয়াইমশাই আমরা কিছু দাবি করছিনা, শুধু চাইছি যে বিয়ের দিন আপনি মেয়েকে সাধ্যানুরূপ যতোটা পারেন সাজিয়ে গুছিয়ে দেবেন। আমাদের পরিচিত সকল মান্যগণ্যরাই উপস্থিত থাকবেন তো, তারাও যেন দেখে সন্তুষ্ট হন যে শুভাশীষের শ্বশুরঘর যথেষ্টই সম্পন্ন। দেখুন সব কিছু তো আখেরে আপনার মেয়েরই থাকবে। আপনার একমাত্র কন্যাকে রকমারি গয়না আর অলংকারে সুসজ্জিত দেখলে আপনার মন ভরে যাবেনা বলুন? 

তন্তুজার বাবা মা একবার একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে নিজেকে একটু প্রস্তুত করে নিয়ে বললেন


- নিশ্চই বেয়াই মশাই। আপনার কথাটিতে যুক্তি আছে অবশ্যই। আর আমরা যেহেতু মেয়ের বাবা মা, আমরা তো চাইবোই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে মেয়েকে ভালো কিছু উপহার দিতে। আখেরে তো সব আমাদের মেয়েরই হবে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করবো তন্তুজাকে অলঙ্কার তথা নানান উপঢৌকনে সাজিয়ে গুছিয়ে দেওয়ার। 

- না!

আচমকা ' না ' উক্তিটি শুনে সকলেই বিস্মিত হয়ে পড়েন। সকলের চোখ তখন শুভাশীষের দিকে। সে বলতে শুরু করলো,

- আমায় ক্ষমা করে দিয়ো বাবা। কিন্তু আমার কিছু বলার আছে। তোমরা বড়োরা যখন কথা বলছিলে আমি পাশের ঘরেই ছিলাম। একটা ব্যাপারে আমার একটু দ্বিমত।

- কি ব্যাপারে? তুই খুলে বল, তোর মনের কথাটা। আমরা শুনবো। তন্তুজাকে নিয়ে কি.....


- না না ওনাকে নিয়ে নয়। আমি বলতে চাইছি যদি তন্তুজা দেবীকে অলঙ্কারের আতিশয্যে সাজানো হয় তাহলে তো আমাকেও গয়না পড়ে সাজতে হবে। তাই না? এখন তো নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সমান! আমাদের অতিথিরা যেমন তন্তুজা দেবীর অলংকার আর সাজসজ্জা দেখে নিরূপণ করবেন ওনারা সম্পন্ন ঘর কিনা! তেমনি ওনাদের পরিবারের অতিথিরাও তো নিরূপণ করবেন আমরা সম্পন্ন ঘর কিনা! তাদের মেয়ে খেয়ে পরে সুখে থাকতে পারবে কিনা? যেহেতু এখন যুগটাই ইকোয়ালিটির যুগ, তাহলে তো আমাকেও দেহভরা সোনার গয়না পরে বিয়ে করতে যাওয়া উচিত? 

- তুই বলতে চাইছিসটা কি তাহলে? তার মানে এখন.... 

- হ্যাঁ বাবা, তার মানে এখন তোমাকেও সাধ্যমত গয়না গড়াতে হবে আমার জন্য। আখেরে সব গয়না তো আমারই থাকবে তাই না?


*******************

ঘরে তখন নীরবতা বিরাজ করছে। এইবারে কথা শুরু করলেন শুভাশীষের জ্যাঠামশাই,

- কথাটা একদম ভুল বলেনি যদিও আমাদের ছেলে। এই দিকটা ভেবে দেখলাম না আমরা কেউই। ঠিকই তো। ঘরে বাইরে, টি.ভি তে পত্রিকাতে সর্বত্রই এখন একটাই স্লোগান 'সাম্য সকলের জন্য' তাহলে গয়না নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছি কেন আমরা? সম-অধিকারের দাবিদার তো পাত্র পাত্রী উভয়েই। বাইরের লোকেদের দেখানোর জন্য পাত্রীকে আমরা সুসজ্জিত রূপে চাইবো, কিন্তু নিজের ছেলেকেই সুসজ্জিত রূপে সাজাবো না, তাহলে আর সাম্য থাকলো কোথায়? 

শুভাশীষের দিকে তিনি তাকিয়ে বললেন


- ঠিক বলেছিস শুভ। তুই আমাদের চোখ খুলে দিয়েছিস। তাহলে বেয়াইমশাই আপনি আর অযথা চাপ নেবেননা। শুভাশীষ আর তন্তুজা উভয়েই উভয়ের অধিকার বজায় রেখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে, কারণ আমি মুখে মুখে সাম্য আর সমানাধিকারের বুলি আওড়ানোর চেয়েও সেটাকে কাজে রূপান্তরিত করে দেখানোর পক্ষপাতী। আমার চোখে তন্তুজা আর শুভাশীষ উভয়েই সমান। অনেকেই বলবে হয়তো যে এই রকম বাস্তবে কোনো পাত্রপক্ষ করেনা, তবে আমি বলবো কেউ করেনা বলে আমরাও করবোনা তা তো নয়। আমরা নাহয় ব্যতিক্রমী হবো। 




Rate this content
Log in

More bengali story from Mitali Chakraborty

Similar bengali story from Romance