Soumya Ghosh

Abstract Fantasy Others


4.7  

Soumya Ghosh

Abstract Fantasy Others


বাংলা কাব্যে শরতের বন্দনা

বাংলা কাব্যে শরতের বন্দনা

7 mins 440 7 mins 440


             "আজিকে তোমার মধুর মুরতী/হেরিণু শরৎ প্রভাতে/ হে মাত বঙ্গ শ্যামল অঙ্গ/ঝরিছে অনল শোভাতে।"


            শুভ্রতার ঋতু শরতের বর্ণনা দিয়ে এমনই পঙ্‌ক্তিমালা সাজিয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঝকঝকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর তার মধ্যে পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘমালা- এসব নিয়েই প্রকৃতি বরণ করে নেয় শরৎকালকে।বর্ষার ঝরঝর বাদল যখন বিরহকাতর প্রেমিক হৃদয়ের আকাশে কান্না হয়ে ঝরে,তখনি সজীব প্রকৃতি এই বিরহ- ব্যাথায় প্রশান্তির প্রলেপ দিতে নিয়ে আসে শরতের শুভ্রতার পবিত্র ছোঁয়া। এই পবিত্র ছোঁয়ার স্নানে শুদ্ধ হয় প্রতিটি হৃদয় মন। এর সাথে অনাবিল আনন্দের ঝর্ণা হয়ে আসে সুনীল আকাশের স্বচ্ছতায় শিমুল তুলার মতো শাদা শাদা মেঘ। প্রকৃতিও নানান বাহারী ফুলের সজ্জায় সাজিয়ে তুলে তার অঙ্গ সৌষ্ঠব। শিউলি, বেলী, কাশফুল, মাধবী, মলি­কায় বিমোহিত তৃষ্ণার্ত আঁখি। শরতকে বলা হয় ঋতু রাণী।

         শরৎ প্রকৃতিকে যে মোহনীয় রূপ-রসে সাজায় তাতে প্রতিটি হৃদয়কে উতলা করে তোলে।নীল আকাশের শাদা মেঘ নিয়ে আসে কোমল আনন্দের বার্তা।রপময়,নির্মল শরত প্রকৃতির সাথে সাথে মানুষের মনকেও করে তোলে কাব্যিক।রাতের অপূর্ব স্বচ্ছ জোছনায় ভিজে উঠে কবি-মন।সৃষ্টি হয় অসাধারণ সব কবিতা,গান আর সুরের।চর্যাপদের কবি থেকে শুরূ করে আধুনিক কবিরাও শরতের নান্দনিকতায় সৃষ্টি করেছেন সাহিত্যের অমিয় সুধা। 

       ঋতু পরিক্রমার তৃতীয় ঋতু শরৎকাল। গঠিত হয় ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে। খ্রিষ্টীয় পঞ্জিকা অনুসারে মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শরৎ ঋতুর পথচলা। 

            শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক! সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আলোছায়ার খেলা দিনভর- এইসব মিলেই তো শরৎ। শরৎকালের প্রথম মাস অর্থাৎ ভাদ্রের শুরু থেকেই শরতের আবির্ভাবটা লক্ষণীয়। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে পদসঞ্চার করে তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতের আগমন সত্যিই মধুর। 

        কাশফুলের এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুবাসে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া। শরতের মেঘহীন আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় মন। শরৎকালেও বর্ষণ হয়, তবে বর্ষার মতো অবিরাম নয়। বরং শরতের বৃষ্টি মনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা যেন আনন্দ-বারি! বৃষ্টি শেষে আবারও রোদ। দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু। প্রকৃতির এ অপরূপ যেন প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য চায়। হয়তো ইচ্ছা হয় গোধূলির ওপারে হারিয়ে যেতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে। 


        শারদসম্ভার নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। চর্যাপদের পদকর্তা থেকে শুরু করে আজকের তরুণতম কবির রচনায় ও শরৎকাল তার নান্দনিক ব্যঞ্জনা নিয়ে উদ্ভাসিত। বৈষ্ণব সাহিত্যেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভাদ্র মাস কে নিয়ে বৈষ্ণব পদাবলীর এই পদটি সম্ভবত বিদ্যাপতি রচিত রাধা বিরহের সর্বশ্রেষ্ঠ পদ।

      বৈষ্ণব সাহিত্যে শরতের সৌন্দর্য, বিরহের রূপ প্রতিটি মানুষের মনকে উদ্বেল করে তোলে।বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম কবি বিদ্যাপতি রাধা বিরহের যে চিত্র অংকন করেছেন তা শুনে প্রতিটি বিরহ কাতর হৃদয়ই হাহাকার করে উঠে।

‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।

এ ভরা বাদর মাহ ভাদর

শূন্য মন্দির মোর।’


         সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি কালিদাস। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘মেঘদূত’ কাব্যগ্রন্থ।বাংলা সাহিত্যে প্রচুর সংস্কৃত শব্দের উপস্থিতি।বাংলা ভাষাও নানান ভাবে সংস্কৃতের কাছে ঋণী।আর কালিদাসের মেঘদূত বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে আসছে বহু পূর্ব থেকেই। ‘মেঘদূতে’ স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে পতিত প্রেমিক যক্ষ তার প্রিয়ার বিরহে কাতর।বর্ষার আকাশের মেঘকে তাই সে দূত করে প্রিয়ার কাছে পাঠায়।বিরহী বর্ষা শেষে শরতের আগমনে তার মনোকাশেও প্রিয়া মিলনের আশায় চঞ্চল হয়ে উঠে।তিনি বলেন-

"প্রিয়তম আমার,ঐ চেয়ে দেখ,নববধুর ন্যায় সুসজ্জিত শরতকাল সমাগত।"


কবি কালিদাস "ঋতুসংহার "কাব্যে শরতকে নারী দেহের সাথে তুলনা করে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা অসাধারণ।এই বর্ণনা শুনে সবার মনই নারী কামনায় কাতর হয়ে উঠে।কবি লিখেছেন--

‘কাশফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল­ পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমনীয় যার নুপুরের শব্দ, পাকা শালি ধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নববধুর মতো শরৎকাল আসে।’


        বাংলা সাহিত্যের অমর বটবৃক্ষ বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঋতু বন্দনার কবিতা, গান রচনা করেছেন প্রকৃতির সাথে মিশে। বিভিন্ন ঋতু ভিত্তিক তাঁর গান,কবিতা আছে। আর ঋতুর রাণী শরতকে নিয়ে তাঁর সৃষ্টি যেন বাঙময় হয়ে উঠেছে সৃষ্টিশীল কলমে।শরতের বর্ণনাময় কবিতা-গানে আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও সুবাসিত করেছেন কবিগুরূ।যেমন তিনি শরত নিয়ে লিখেছেন--

শরৎ তোমার অরূণ আলোর অঞ্জলি

ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গুলি।

শরৎ তোমার শিশির ধোওয়া কুন্তলে

বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে

আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।’


      শরতের পরিষ্কার সুনীল আকাশ,ধানক্ষেতে বাতাসের খেলা,আকাশে শাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো দেখে যে ভালোলাগার খেলা মনে খেলে যায়। তাই কবিগুরুর কলমে :


‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায় লুকোচুরির খেলা

নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা।’


      বাংলা সাহিত্যাকাশে উজ্জ্বল ধুমকেতু কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অন্যায়, অত্যাচার, পরাধীনতা তাঁকে বিদ্রোহী করে তুললেও; প্রেম, বিরহের চির কাঙ্গাল কবি শরতেরও জয়গান গেয়েছেন তাঁর কবিতা আর গানে। চির সবুজ এসব কবিতা, গানে স্নাত হয় পাঠক মন। বিদ্রোহী কবির গহীন হৃদয়ে ঝর্ণার মতো জমানো এত প্রেম, সত্যিই বিস্মিত করে তোলে। "রাখি বন্ধন" কবিতায় কবি শরতের রূপ তুলে ধরেছেন এভাবে--

‘সই পাতালো কি শরতে আজিকে স্নিগ্ধ আকাশ ধরণী?

নীলিমা বাহিয়া সওগাত নিয়া নামিছে মেঘের তরনী!

অলাকার পানে বলাকা ছুটেছে মেঘদূত মন মোহিয়া

চঞ্চু রাঙা কলমীর কুড়ি মরতের ভেট বহিয়া।

সখির গাঁয়ের সেঁউতি বোটার ফিরোজায় ঢঙ পেশোয়াজ

আসমানী আর মৃন্ময়ী সখি মিশিয়াছে,মেঠোপথ মাঝ।’


      রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতার পঙক্তিতে পঙক্তিতে বাংলার প্রকৃতিকে এঁকেছেন। বাংলার হিজল, তমাল, ধানসিঁড়ি নদীর মতো শরত ও কবির কবিতায় এসেছে সার্থক রূপে।কবি শরতকে দেখেছেন একাকীত্বের দু:সহ বেদনায় রঙ এঁকে দিতে। তিনি বলেন--

‘এখানে আকাশ নীল/নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল/ফুটে থাকে হিম সাদা রঙ আশ্বিনের আলোর মতোন;আকন্দ ফুলের কালো ভীমরূল/এইখানে করে গুন্জরণ।’

             মাটি ও মানুষের কবি, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন। গ্রামীন পটভুমিকায় তিনি মানুষ ও প্রকৃতিকে কবিতায় জীবন্ত করেছেন। তাঁর মতো এত দরদ দিয়ে মানুষের জীবন আর কেউ আঁকতে পারেননি। শরতের বিরহী রূপটি ধরা পড়েছে কবির কবিতায়--

‘গুনিতে গুনিতে শ্রাবন কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস,

বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস।

আজকে আসিবে কালকে আসিবে, হায় নিদারূন আশা,

ভোরের পাখির মতোন শুধুই ভোরে ছেঁয়ে যায় বাসা।’

        সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম কবি, কবি আল মাহমুদ তাঁর কবিতায় আমাদের সমাজের, গ্রামের অন্ত্যজ শ্রেনীর মানুষের কথা কবিতায় আধুনিক ঢঙে উপস্থাপন করেছেন।কবি তাঁর জীবন সায়াহ্নে এসেও বাংলার শরতের ঘ্রাণ পান,ভুলতে পারেন না কাশফুলের শুভ্রতাকে। "একটি শরৎ সন্ধা" কবিতায় কবির হাহাকার--

‘ঋতুর অতীত আমি। কে জিজ্ঞাসে এটা কোন মাস?

বাতাসে গড়িয়ে পড়ে বিদায়ের বিষন্ন নির্যাস।

শ্রবনের ও শক্তি নেই। কিন্তু ভাবি কোলাহল আছে

প্রতিটা বাড়ির রন্ধ্রে, ইটে ইটে আনাচে- কানাচে!

এটা কি শরৎ সন্ধা? বাংলাদেশ?

কাঁশফুল ছেয়ে গেছে চর?"


       শরতের নান্দনিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ সকালের কোমল রোদ, পূর্ণিমা রাতের অসাধারণ সুন্দর জোছনা সবার মন-মন্দিরে এক স্বর্গীয় অনুভূতির দোলা দেয়।নীল আকাশে শুভ্র মেঘের আনাগোনা, নদী তীরের শাদা কাশফুল কাব্যিক এই উপমাই শরতের কবিতার সুর।

          কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশির ভাগ রচনায় রয়েছে প্রকৃতির জয়গান। তিনি পদ্মায় নৌকা ভ্রমণকালে শরতের ময়ূরকণ্ঠী নীল নির্মল আকাশে শিমুল তুলার মতো শুভ্রমেঘেদের দল বেঁধে ছুটে বেড়ানো দেখে লিখেছিলেন—

“অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া/দেখি নাই কভু দেখি নাই এমন তরনী বাওয়া I”


       শরৎ বন্দনায় এগিয়ে রয়েছেন আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি তাঁর অসংখ্য গান ও কবিতায় শরতে বাংলার প্রকৃতির নিখুঁত আল্পনা এঁকেছেন। তাঁর ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ রাতের বুকে ঐ’, ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক ’সহ অনেক গানই শরৎ-প্রকৃতির লাবণ্যময় রূপ নিয়ে হাজির রয়েছে।শরতের অসম্ভব চিত্ররূপময়তা ফুটে উঠেছে এ সব রচনায়:

“এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে

এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ রথে।

দলি শাপলা শালুক শত দল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল

নীল লাল ঝরায়ে ঢলঢল এসো অরণ্য পর্বতেi”

      বাঙলা সাহিত্য জগতে মহাকবি কালিদাস ‘মেঘদূত’ কাব্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। মহাকবি কালিদাস শরৎ বন্দনায় ও ছিলেন অগ্রবর্তী।

         তিনি বলেন-“প্রিয়তম আমার, ঐ চেয়ে দেখ, নব বধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরৎ কাল সমাগত।’ কবি ‘ঋতুসংহার’ কাব্যে শরৎ কাল বিষয়ে লিখেছেন—‘কাশ ফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল্ল পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমণীয় যার নূপুরের শব্দ, পাকা শালি ধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নব বধূর মতো শরৎকাল আসে I” কবি কল্পনায় শরতের সাথে প্রকৃতি ও নারীর এই উপমা দেখে বিস্ময়াভিভূত না হয়ে উপায় নেই।


      শরতের আরেকটি উল্লেখ যোগ্য দিক  হলো—এ সময় মাঠ জুড়ে থাকে সবুজ ধানের সমারোহ। ধানের কচিপাতায় জমা হওয়া শিশিরের ওপর প্রভাতের তরুণ আলো মুক্তার মতো দ্যুতি ছড়ায়। আমাদের দেশের কৃষকরা নবান্নের আশায় দিন গোনে। আর বাঙালির সার্বজনীন প্রাণের উৎসব, হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাউৎসবের কথা বলাই বাহুল্য। শরৎকাল শারদীয় আরাধনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেমন উৎসব মুখর করে, তেমনি বিজয়ার বেদনায়ও করে তোলে ব্যথিত। শরৎ বাঙলার প্রকৃতিতে আসে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে, নানা মাত্রিক আনন্দের বারতা নিয়ে। কবি বিনয় মজুমদার শরতের একটি চিত্র এঁকেছেন—

“শরতের দ্বিপ্রহরে সুধীর সমীর-পরে জল-ঝরা শাদা শাদা মেঘ উড়ে যায় ;

ভাবি,এক দৃষ্টে চেয়ে, যদি ঊর্ধ্ব পথ বেয়ে শুভ্র অনাসক্ত প্রাণ অভ্র ভেদি ধায়!”

তবে শরৎকে কবি গুরু বরাবরই দেখেছেন শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধির ঋতু হিসেবে। তিনি বলেছেন—

‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ শেফালী ফুলের মালা

নবীন ধানের মঞ্জুরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা 

 এসো হে শারদ লক্ষ্মী তোমার শুভ্র মেঘের রথে

 এসো চির নির্মল নীল পথে…’


             কবি জসীমউদদীন শরতকে দেখেছেন ‘বিরহী নারী’ মননে। তিনি লিখেছেন

-‘গণিতে গণিতে শ্রাবণ কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস,/ বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস’।

 সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন:

‘‘সে কী বিস্ময়! কী যে বিস্ময়! কী করে ভুলি!/আকাশের নীল ঘন শাদা মেঘ, কবেকার গ্রামপথে ডুলি!’’

     কবি রফিক আজাদ ‘আমার শরৎ’ কবিতায় বলেন:


-"শরৎ’ শব্দটি উচ্চারণ মাত্র আমার চোখের সামনে/অর্থাৎ দৃষ্টিসীমার মধ্যে শারদ-আকাশ কিংবা/কাশফুল এসে দাঁড়ায় না-/বরং শরৎচন্দ্র মূর্তিমান হন;/না, শরৎচন্দ্র, নীলাকাশে সমুজ্জ্বল কোনো চাঁদ নয়-/মহামতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং’।"


         জ্যোসনা-প্লাবিত রাতে জাগে স্বপ্নের শিহরণ। অনুপম রূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত শরৎ ঋতু শারদ লক্ষী নামেও পরিচিত। শরৎকাল বাংলাদেশের হৃদয়ের স্পর্শ মেলে। শরতের প্রকৃতি দর্শনে অন্তরে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য লাভের বাসনা জাগায়। প্রিয়জনের হাত ধরে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে মন চায়। কবিগুরু তাই যথার্থই লিখেছেন-

 ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়/লুকোচুরির খেলা।/নীল আকাশে কে ভাসালে/সাদা মেঘের ভেলা।’

শরৎ নিয়ে কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ কলম চালিয়েছেন এভাবে :

“কাশফুল নদীজলে মুখ দেখে অভাবের সংসারে একাকী ভাঙ্গা আরশিতে ষোলবতী বয়রেস স্বভাব উজ্জল স্বাধীন ভাবনাগুলো মেলে দেয় শরতের নির্জন মেঘে সেও নদীটির জলে মুখ রাখে পড়ন্ত বিকেলে”।

(শরৎ দুপুরের খন্ডচিত্র/জাহাঙ্গীর ফিরোজ)


    পরিশেষে বলা যায়, শরত প্রকৃতিকে অপরূপ রূপে সাজিয়ে যায় যার আবেশে অতি সাধারন মানুষ ও ভাবাবেগে আপ্লুত হয়।শরত অবসাদগ্রস্ত মনেও নতুন প্রেরণার সঞ্চার করে।তাই তো আমরা প্রকৃতিতে দেখি, এই ঋতুতে কি অপূর্ব রঙের খেলা, কি অপরূপ রঙিন ভুবন সাজায় প্রকৃতি। শরতে প্রাণবন্ত রূপ নিয়ে হেসে ওঠে গ্রাম বাংলার বিস্তৃত দিগন্ত।





Rate this content
Log in

More bengali story from Soumya Ghosh

Similar bengali story from Abstract