Kausik Chakraborty

Classics


2  

Kausik Chakraborty

Classics


অমর উনিশে - বাংলা ভাষা ও বরাক

অমর উনিশে - বাংলা ভাষা ও বরাক

4 mins 747 4 mins 747

অমর উনিশে। উনিশে মে। ভাষার উল্লাসে রাষ্ট্রগঠনের দিন, বাংলার আত্মমর্যাদার দিন। মর্যাদালাভ একটি আত্মউপলব্ধি। যে উপলব্ধির কখনো জন্ম হয় প্রদীপের আত্মমগ্ন শিখায়, আবার কখনো শিখার গভীরে লুকিয়ে থাকা নেশাতুর অন্ধকারে। আজ যে গল্প বলবো তার মর্যাদা বাঙালি জাতির আঙ্গিকে পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষা ও মাতৃ-অহংকারের অনুভবে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীন ভারতের উত্তর পূর্বে একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য অসম। শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি নিয়ে বিস্তৃত আসামের বরাক উপত্যকা- ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বাংলা গর্বে গর্বিত এক ছান্দসিক উপনগর। সেইদিনও ঠিক এমনই ছিল। ১৯শে মে, ১৯৬১ - ভাষার প্রবাহে হেঁটেছিল কিছু প্রতিবাদী বাঙালির ঢল। নির্মম গুলির শব্দ ভেসে এসেছিলো ব্রহ্মপুত্রের গা বেয়ে, বাংলা ভাষা ও বাঙালির মননকে বয়ে নিয়ে। দাবি শুধু একটাই - মাতৃভাষার কণ্ঠ প্রতিষ্ঠা। প্রাপ্তিও সেই এক, ১৯৫২র ঢাকা, ১৯৬১র শিলচর - ৩৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব আজও খুব সহজে রক্তের আর্তিতে মাপা যায়।

এপ্রিল, ১৯৬০, অসম প্রদেশ কংগ্রেস অসম রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে অহমীয়া ভাষাকে মান্যতা দিতে চাইলো এবং পূর্ব নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী ২৪সে অক্টোবর, ১৯৬০, মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রাসাদ চালিহার নেতৃত্বে অসম বিধানসভায় পাস্ হলো সরকারি ভাষা বিল। করিমগঞ্জ(উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রণেন্দ্র মোহন দাসের তীব্র বিরোধিতা ধোপে টিকলো না বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে। শুরু হলো আসামে বসবাসকারী প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাঙালির ভাষা ও সতন্ত্রতার সঙ্গে বঞ্চনা এবং এক গৌরবান্বিত সংগ্রামের ইতিহাস। বরাক সম্পূর্ণ বাঙালি অধ্যুষিত। ৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৬০, বরাকের বাংলা ভাষাভাষীদের আনুকূল্যে গঠিত হয় 'কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ' এবং ২৪সে এপ্রিল বরাকের বুকে বাংলা ভাষার দাবিতে পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠিত হয় প্রথম পদযাত্রা। আসামের বুক চিরে প্রায় দুশো মাইল পদযাত্রার পর এটি শেষ হয় ২রা মে। বাংলার বাইরে বাংলা ভাষার জন্য এ এক অনন্য গৌরব, বিরল সম্মান। পরবর্তী সময়ে এমন অসংখ্য পদযাত্রা, আন্দোলন ও দাবির কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রের শহর। গণপরিষদ প্রধান রথীন্দ্রনাথ সেনের নেতৃত্বে রোপিত হয় বরাক উপত্যকায় ভাষা আন্দোলনের অঙ্কুর।

১২ই মে, ১৯৬০, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ একযোগে ফ্ল্যাগমার্চ করে হাইলাকান্দি, শিলচরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং অসম পুলিশ রথীন্দ্রনাথ সেনকে গ্রেপ্তার করে। শুরু হয় বাংলা ভাষার গৌরবের যাত্রা, নৈতিক জয়লাভ। ১৯সে মে শুরু হয় হরতালআজ অমর উনিশে। ভাষার উল্লাসে রাষ্ট্রগঠনের দিন, বাংলার আত্মমর্যাদার দিন। মর্যাদালাভ একটি আত্মউপলব্ধি। যে উপলব্ধির কখনো জন্ম হয় প্রদীপের আত্মমগ্ন শিখায়, আবার কখনো শিখার গভীরে লুকিয়ে থাকা নেশাতুর অন্ধকারে। আজ যে গল্প বলবো তার মর্যাদা বাঙালি জাতির আঙ্গিকে পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষা ও মাতৃ-অহংকারের অনুভবে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীন ভারতের উত্তর পূর্বে একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য অসম। শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি নিয়ে বিস্তৃত আসামের বরাক উপত্যকা- ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বাংলা গর্বে গর্বিত এক ছান্দসিক উপনগর। সেইদিনও ঠিক এমনই ছিল। ১৯সে মে, ১৯৬১ - ভাষার প্রবাহে হাঁটতে থাকা কিছু প্রতিবাদী বাঙালির ঢল। নির্মম গুলির শব্দ ভেসে এসেছিলো ব্রহ্মপুত্রের গা বেয়ে, বাংলা ভাষা ও বাঙালির মননকে বয়ে নিয়ে। দাবি শুধু একটাই - মাতৃভাষার কণ্ঠ প্রতিষ্ঠা। প্রাপ্তিও সেই এক, ১৯৫২র ঢাকা, ১৯৬১র শিলচর - ৩৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব আজও খুব সহজে রক্তের আর্তিতে মাপা যায়।

এপ্রিল, ১৯৬০, অসম প্রদেশ কংগ্রেস অসম রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে অসমীয়া ভাষাকে মান্যতা দিতে চাইলো এবং পূর্ব নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী ২৪সে অক্টোবর, ১৯৬০, মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রাসাদ চালিহার নেতৃত্বে অসম বিধানসভায় পাস্ হলো সরকারি ভাষা বিল।করিমগঞ্জ(উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রণেন্দ্র মোহন দাসের তীব্র বিরোধিতা ধোপে টিকলো না বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে। শুরু হলো আসামে বসবাসকারী প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাঙালির ভাষা ও সতন্ত্রতার সঙ্গে বঞ্চনা এবং এক গৌরবান্বিত সংগ্রামের ইতিহাস। বরাক সম্পূর্ণ বাঙালি অধ্যুষিত। ৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৬০, বরাকের বাংলা ভাষাভাষীদের আনুকূল্যে গঠিত হয় 'কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ' এবং ২৪সে এপ্রিল বরাকের বুকে বাংলা ভাষার দাবিতে পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠিত হয় প্রথম পদযাত্রা। আসামের বুক চিরে প্রায় দুশো মাইল পদযাত্রার পর এটি শেষ হয় ২রা মে। বাংলার বাইরে বাংলা ভাষার জন্য এ এক অনন্য গৌরব, বিরল সম্মান। পরবর্তী সময়ে এমন অসংখ্য পদযাত্রা, আন্দোলন ও দাবির কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্রের শহর। গণপরিষদ প্রধান রথীন্দ্রনাথ সেনের নেতৃত্বে রোপিত হয় বরাক উপত্যকায় ভাষা আন্দোলনের অঙ্কুর।

১২ই মে, ১৯৬০, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ একযোগে ফ্ল্যাগমার্চ করে হাইলাকান্দি, শিলচরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং অসম পুলিশ রথীন্দ্রনাথ সেনকে গ্রেপ্তার করে। শুরু হয় বাংলা ভাষার গৌরবের যাত্রা, নৈতিক জয়লাভ। ১৯সে মে শুরু হয় হরতাল। বরাকের প্রতিটি সাব ডিভিশনে শুরু হয় অন্তিম লড়াই - শুধুমাত্র ভাষার গৌরবে। করিমগঞ্জ, শিলচরের প্রতিটি আদালত চত্বর, স্টেশন এবং সরকারি অফিসগুলিতে শুরু হয় পিকেটিং। ২০ই মে দুপুরে অসম সরকারের তরফে তারাপুর রেল স্টেশনে নামে 'অসম রাইফেলস' এর বিশাল বাহিনী। শুরু হয় স্বাধীনতার লড়াই। তবে এ স্বাধীনতা বোধহয় ব্যাতিক্রমী অস্তিত্বের জন্য, মাতৃভাষার অধিকারের জন্য। মুহুর্মুহু খণ্ডযুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বরাক। বাংলা স্লোগানের মাধুর্যে আর পূর্ণমাত্রা আন্দোলনের সাথে যেন একাত্ম হয়ে ওঠে সুদূর ব্রহ্মপুত্রের পাড়। তারপরের ঘটনাপ্রবাহের বাধ্যবাধকতায় যেন মুহূর্তে রক্তাক্ত হলো ব্রহ্মপুত্রের জল, আঁচড় লাগলো বাংলা ভাষায় উচ্চারিত মন্ত্রে। আধাসামরিক বাহিনীর ১৭ রাউন্ড বেপরোয়া বুলেট বৃষ্টিতে লুটিয়ে পড়লেন ১২ জন এবং বাংলা ভাষার দাবীতে প্রাণ দিলেন ১১ জন নির্ভিক বাঙালি সৈনিক - কানাইলাল নিয়োগী, চন্ডীচরণ সূত্রধর, হিতেশ বিশ্বাস, সত্যেন্দ্র দেব, কুমুদ রঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণি দেবনাথ, সচীন্দ্রা চান্দ্রা পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সুকমল পুরকায়স্থ, কমলা ভট্টাচার্য। এই ১১ জনের রক্তে নতুন করে লেখা হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। এই ঘটনার পর অসম সরকার বরাকের সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এ যেন এক গৌরবান্বিত অধ্যায়। ১১ জন ভাষা শহীদকে বরাক ভোলে নি। 


Rate this content
Log in