STORYMIRROR

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Others

3  

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Others

অবিস্মরণীয় ভালোবাসা❤ পর্ব ৭

অবিস্মরণীয় ভালোবাসা❤ পর্ব ৭

8 mins
191

অহনা আর আদির দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে ইভান আস্তে করে আয়ুশকে কোলে করে নিয়ে বেরিয়ে যায় সেই ঘর থেকে এবং যাওয়ার সময় আদিকে একটু সামান্য ধাক্কা দিয়ে বলে, " এই সুযোগ আদি, ভালো করে কথা বল তোর হবু স্ত্রীর সাথে । "

ইভানের ধাক্কা খেতেই আদি আর অহনার হুঁশ ফেরে তখন দুজনেই লজ্জায় মাথা নীচু করে নেয় । আদি বলে, " অহনা আমি তোমার সব কথা শুনেছি and I'm impressed । বিয়ের পর আমি কখনই আমার সিদ্ধান্ত তোমার উপর চাপিয়ে দেবো না , যে কোনো বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা দুজন মিলে আলোচনা করে ঠিক করে নেবো । জানোতো অহনা আমার বাবা - মা এবং দাদা - বৌদিও কোনোদিন কেউ কারো উপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় নি তাই তাদের মধ্যে আমি কোনোদিন কোনো রকম ঝামেলা হতে দেখি নি, হ্যাঁ তবে ছোটো - খাটো খুনসুটি চলতো । আদির এই সাবলীল কথাগুলো শুনে অহনা বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো আদির দিকে আসলে এখন এই মূহুর্তের আদিত্য মুখার্জীর সাথে আগে চেনা আদিত্য মুখার্জীকে কিছুতেই মেলাতে পারছে না । অহনা তন্ময় হয়ে ভাবে " আচ্ছা আমি কি স্বপ্ন দেখছি ? " এই ভেবেই সে নিজের সাথে নিজেই একটা চিমটি কাটে তারপর নিজেই " উফ্! করে ওঠে । অহনার এই কান্ড দেখে আদি হেসে উঠে বলে, " আরে অহনা তুমি স্বপ্ন দেখছো না, যা সত্যি তাই দেখছো । কি হোলো মিলছে না তাইতো ? " আদির হঠাৎ এই শুনে হকচকিয়ে যায় সে তারপর মনে মনে বলে, " মিঃ মুখার্জী কি মাইন্ড রিড ( Mind Read ) করতে পারেন নাকি ? উনি বুঝলেন কি করে যে আমি ওনাকে কিছুতেই মেলাতে পারছি না । " ঠিক তখনই আবার আদি বলে ওঠে, " কি হোলো অহনা, ভাবছো তো যে আমি কি করে বুঝলাম ? " এই কথা শোনার সাথে সাথেই অহনা তাড়াতাড়ি লজ্জায় মাথা নীচু করে নেয় । আদি বলে, " আমি কোনোদিনই কারো সাথে এতো সাবলীলভাবে কথা বলি নি একমাত্র আয়ুশ, ইভান আর আমার সেক্রেটারী মিঃ ঘোষাল ছাড়া । আর কোনো মেয়ের সাথে আমার কোনোদিনই বনিবনা হয় না , তা সেটা স্কুল জীবন হোক বা কলেজ জীবন হোক অথবা কর্মজীবনেই হোক । তবে কেনো জানি না তোমার মধ্যে এমন কিছু আছে যা তোমার প্রতি আমাকে আকর্ষিত করেছে , যদিও এই আকর্ষণটা আমি আজকে ভীষনরকম ভাবে এই অনুভব করছি । " এই বলে আদি আলতো করে অহনার হাতদুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলে, " Ahna will you marry me ? Will you ever regret this decision in the future ? " অহনা তখন ঠোঁটের কোণে আলতো লজ্জামাখা হাসির রেখা টেনে বলে , " হ্যাঁ আমি রাজি আপনার জীবনসঙ্গিনী হতে আর আজকের এই সিদ্ধান্তের জন্য আমি কোনোদিনও regret করবো না । তবে আপনাকে এই বিয়ের ব্যাপারে আমার মায়ের সাথে কথা বলতে

 হবে । আমার বাবা মৃত আর মা আমার একমাত্র অভিভাবক তাই আপনাকে ওনার সাথে কথা বলতে হবে আর এই কাজটা খুব একটা সহজতর হবে না । " আদি বলে ওঠে, " মানে ? সহজতর হবে না কেনো ? " অহনা একটু হেসে বলে, " না, না ভয় পাওয়ার কিছু নেই , আমার মা ভীষণ ভালো । আসলে আপনার সন্তান আছে তা জেনে হয়তো বিয়েটা মেনে নেবে না সহজে । তবে আপনি আমার মায়ের কাছে সব কিছু খুলে বলবেন তারপর তো আমি আছি । আমি নিজেও মায়ের সাথে কথা বলবো । " অহনার কথায় বেশ দোটানায় পড়ে আদি । 

আদির কপালে একটা চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বুঝতে পেরে অহনা বলে, " আমি আজকে বাড়িতে ফিরে এই ব্যাপারে মায়ের সাথে আলোচনা করবো । তারপর মায়ের কি 

প্রতিক্রিয়া হয় সেই বুঝে আমি আপনাকে জানাবো । আপনি অযথা চিন্তা করবেন না মিঃ মুখার্জী । " অহনার কথার মাঝে হঠাৎ ইভান এসে ফোঁড়ন কেটে বলে, " একি অহনা এটা কি করছো ? " ইভানের আচমকা এই প্রশ্ন শুনে অহনা বিস্মিত হয়ে বলে, " আমি ? আমি আবার কি করলাম ইভান বাবু ? " ইভান বেশ গম্ভীর হয়ে বলে, " আর কয়েকদিনের মধ্যেই তোমার আর আদির বিয়ে হতে চলেছে অথচ এখনো তুমি আদিকে মিঃ মুখার্জী এবং আপনি - আজ্ঞে করছো ? কেনো আমার মিষ্টি sister - in - law , আদিকে নাম ধরে ডাকতে আর তুমি বলে সম্বোধন করতে কি কোনো বিশেষ লগ্নের প্রয়োজন আছে ? " ইভানের কথায় অহনা লজ্জা পেয়ে আমতা আমতা করে বলে , 

" না মানে , নাম ধরে কি করে ডাকবো ? " ইভান অহনার এই কথা শুনে হো - হো করে হেসে উঠে বলে, " সেকি অহনা , তুমি না একজন আধুনিকা তার উপর আবার

 ডাক্তার । আচ্ছা, তুমি আজ এখন থেকে আমাকে ইভান আর আদিকে আদি বলে ডাকবে । Ok my dear sister - in - law . "  

অহনা বলে, " আচ্ছা ঠিক আছে ইভান

 বাবু । ওহ্ ! Sorry ইভান । " ইভান বলে,

" Good , এবার তোমার হবু স্বামীকে সম্বোধন করার পালা । " ইভানের এই মজা করা দেখে আদি বলে, " কি হচ্ছে টা কি ইভান ? এবার চুপ কর দেখি । " আদির ধমক খেয়ে একেবারে চুপ করে যায় ইভান আর মুখটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে পুরো বাংলার পাঁচ করে বসে থাকে । ইভানের রাগ করা দেখে অহনা হেসে বলে, " Little boy r u angry ? এই ইভান তোমাকে না এখন পুরো আয়ুশের মতো ছোটো বাচ্চা মনে হচ্ছে , ছোটো বাচ্চারা যেমন রাগ করে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে । " এই বলে আবারও হেসে উঠলো অহনা আর অহনাকে হাসতে দেখে আদির ঠোঁটের দুকোণে ছড়িয়ে পড়লো সামান্য হাসির ঝলক । আদি বলে, " রাগ করিস না ইভান । " ইভান মুখটা গোমড়া করেই উত্তর দিল, " না রাগ করি নি, আমি রাগ করে কি করবো ? আমার রাগে কার কি যায় আসে ? " অহনা বললো, " ঠিক আছে ইভান এবার রাগ দানবের শরীরে বেশি করে বরফ ঢালো তাতে তার শক্তিটা কমে যাবে তারপর আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে 

যাবে । " ইভান এই কথা শুনে হো - হো করে হেসে উঠলো । এবার অহনা হঠাৎ প্রশ্ন করে,

 " ইভান তুমি তো আমাকে এখন থেকেই sister - in - law বলছো কিন্তু আমার মা এই বিয়েতে মত না দিলে আমার কিছুই করার থাকবে না । এই নিয়ে আমার সত্যিই খুব টেনশন হচ্ছে , আমার মনে হয় মিঃ মুখার্জীর যে খুব টেনশন হচ্ছে সেটা ওনার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি অথচ দেখ তোমার কোনো চিন্তাই হচ্ছে না । তুমি কি করে নিশ্চিন্তে রয়েছো জানি না । " অহনার কথা শুনে ইভান বলে ওঠে, " জুনিয়র মিস সান্যাল কোনো চিন্তা নেই সিনিয়র মিসেস সান্যালকে নিয়ে । ওনার সামনে শুধু একজন খুব সাধারণ ব্যক্তিত্বপূর্ণ আদিত্য মুখার্জীকে দাঁড় করাতে হবে , কোনো গাম্ভীর্য মনোভাবাপন্ন বিজনেস ম্যান গেলে হবে না । " ইভানের কথা শুনে অহনা আর আদি একে অপরের মুখের দিকে একবার তাকিয়েই সটান মুখ ঘুরিয়ে ইভানের মুখের দিকে বিষ্ময়মাখা চোখে তাকিয়ে থাকে । ওদের দুজনের এই অবস্থা দেখে ইভান বলে, " কি হোলো মিস্টার এন্ড মিসেস মুখার্জী ? Is anything wrong on my face ? " অহনা যেন বশীভূতের মতো উপর - নীচে মাথা দুলিয়ে ছোট্ট একটা

 " হুমমম " করে উত্তর দিতেই ইভান বলে,

 " সেকি ! কি হয়েছে আমার মুখে ? " ইভানের কথা শুনে আদি বলে, " এই, তুই এতো নিশ্চিতভাবে কি করে বলছিস যে অহনার মাকে নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না ! " অহনাও আদির কথায় তাল মিলিয়ে বলে,

 " হ্যাঁ, আমারও তো সেটাই ভেবে অবাক লাগছে । " আদি আর অহনার কথা শুনে ইভান বলে, " আরে এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই । আমি আজকেই একবার তোমাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম তোমার মায়ের সাথে আলাপ করতে । আমি গিয়ে তোমার মায়ের সাথে কথায় কথায় বললাম যে একটা খুব ভালো ছেলে আছে, যাকে অহনাও খুব পছন্দ করে । অহনা পছন্দ করে শুনে মাসিমা কৌতুহলবশতঃ জিজ্ঞাসা করলেন সেই ছেলে কে ? আমিও সব বিস্তারিত বলে দিলাম । তাতে মাসিমার কোনো আপত্তি নেই

তবে........ "। অহনা বলে, " তবে ? তবে কি ? এমন কি বলেছে মা যেটা বলতে তোমার কুণ্ঠাবোধ হচ্ছে । শোনো ইভান, আমি যখন ঠিক করেছি আয়ুশের দায়িত্ব নেবো একজন প্রকৃত মা হয়ে তখন সেটা আমি করবোই । এবার মা কি বলেছে সেটা আমার এবং মিঃ মুখার্জী উভয়েরই জানা প্রয়োজন তাই কোনোরকম তবে - কিন্তু এসব না করে বলে ফেলো । " ইভান অবাক হয়ে অহনার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, " সত্যি অহনা, তোমার তুলনা নেই । তুমি খুব দৃঢ়চেতা , তুমি ঠিক পারবে আমার চ্যাম্পকে সুস্থ করতে । " তারপর আদির দিকে তাকিয়ে বলে, " আদি, তুই সত্যিই খুব ভাগ্যবান । এতোদিন বিয়ে করবি না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলি কারণ সে আয়ুশের জন্য ভালো মা হতে পারবে কিনা তাই ভেবে । ভগবানের কৃপায় আজকে তোর আর আয়ুশের জীবন নতুন করে সাজতে চলেছে । " ইভানের কথা শুনে আদি একটু চুপ করে থাকে তারপর বলে, " হ্যাঁ, আমি সত্যিই ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ অহনার সাথে আমাদের পরিচয় ঘটানোর জন্য । এবার তুই বল অহনার মা exactly কি বলেছেন ? অহনাও আদির কথার তালে মাথা নাড়ায় । ইভান টেবিলের উপর রাখা জলের বোতল থেকে কয়েক ঢোঁক জল খেয়ে বলতে শুরু

 করে । ইভান বলে, " আমি যখন মাসিমাকে বললাম গ্যালাক্সি শপিং কমপ্লেক্সের মালিক মিঃ আদিত্য মুখার্জী অহনাকে বিয়ে করতে আগ্রহী , সেই শুনে মাসিমা প্রায় লাফিয়ে উঠে বলেন, " অসম্ভব " । আমি তখন বললাম, কেনো মাসিমা এতে অসম্ভবের কি আছে ? আদিত্য আমার ছেলেবেলার বন্ধু , তাই আমি ওকে আমার হাতের তালুর মতো চিনি । আদির মতো ছেলে পাওয়া খুবই দুস্কর , ওর টাকাপয়সা - সম্পত্তির অভাব নেই , মনটা একেবারে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, কোনোরকম নেশা নেই , আজ পর্যন্ত একটাও প্রেম - ট্রেমও হয়ে ওঠে নি ওর দ্বারা । " এসব শুনে উনি বললেন, " সবই তো বুঝলাম । আচ্ছা ওনার তো একটি ছেলে আছে যার চিকিৎসা করছে আমার মেয়ে তাইনা ? তুমি বলছো কোনোদিন কোনো সম্পর্কে ছিল না তবে এক ছেলের বাবা হোলো কিভাবে ? " " আমি তো একথা শুনে কি বলবো বুঝতে না পেরে যা সত্যি সব বললাম, সব শুনে উনি এই ব্যাপারে আদি এবং তোমার সাথে কথা বলতে চান । এখন সবটাই তোমাদের উপর নির্ভর করবে । " সব কথা শুনে আদি বলে, 

" হুমমম বুঝলাম, ঠিক আছে আমি ওনার সাথে কালকেই দেখা করবো । " অহনা বলে,

 " না না মিঃ মুখার্জী, আমি আজকে বাড়িতে গিয়ে আগে মায়ের সাথে কথা বলি তারপর আপনাকে জানাবো । তাহলে আজকে আমি চললাম । " আদি বলে, " অহনা, এখনও কি আমাকে মিঃ মুখার্জী বলেই সম্বোধন

 করবে ? " আদির মুখে একথা শুনে লজ্জায় অহনার মুখ লাল হয়ে ওঠে, অহনা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায় ঘর থেকে । অহনা বেরিয়ে যেতেই ইভান বলে, " বাহ্ ! তাহলে আদিত্য মুখার্জী খুব শীঘ্রই বিয়ে করে সংসারী হতে চলেছেন । আদি আর দেরী করে লাভ নেই , বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে দেই তাইতো ? " ইভানের ঠাট্টা বুঝতে পেরে আদিও লজ্জা পেয়ে উঠে চলে যায় নিজের স্টাডি রুমে । 


  

  


   ******** To Be Continued


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama