STORYMIRROR

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Others

3  

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Others

অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১৭

অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১৭

6 mins
129


কয়েকদিন পর একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অহনা অবাক হয়ে দ্যাখে আয়ুশ স্কুল ড্রেস পড়ে পাশেই বসে আছে , অহনা জিজ্ঞাসা করে, " Little boy , তোমাকে কে স্কুল ড্রেস পড়িয়ে দিয়েছে ? " আয়ুশ ইশারা করে আদির দিকে দেখিয়ে বলে, " পাপা পড়িয়ে দিয়েছে । পাপা বললো তুমি ঘুমাচ্ছো তাই ডাকার দরকার নেই । " অহনা আদিকে ডেকে মিথ্যে রাগ দেখিয়ে বলে, " এই তুমি আমাকে ডাকতে পারলে না, little boy কে আমি তৈরী করে দিতাম । তোমরা ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসো, আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসছি । " 


 আদি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে,

 " তোমার কিছু করতে হবে না ম্যাডাম, একটু আগে মারিয়া ব্রেকফাস্ট তৈরী করে টেবিলে সাজিয়ে দিয়েছে, এখন তুমি চলো সকলে একসাথে ব্রেকফাস্ট করি । " 


অহনা একটু অবাক হয়ে যায়, " সেকি ! মারিয়া কখন ফিরলো ? আমি তো জানি

 না । "


আদি : " এই তো সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ফিরেই ব্রেকফাস্ট তৈরী করতে চলে গেল । মারিয়া কিন্তু খুব ভালো রান্না করে তাই না ? মারিয়ার বাবা আমাদের বাড়িতে মালি ছিল , মানুষ হিসেবে খুবই ভালো ছিল সে । আমি কলকাতায় আসার সময় ফিলিপ কাকা জোর করে তার মেয়ে মারিয়াকে আমার সাথে পাঠিয়ে দেয় আমার দেখাশোনা করার জন্য , তখন মারিয়ার বয়স মাত্র তেরো

 বছর । আচ্ছা অহনা,তোমার কেমন লাগে মারিয়াকে ? "


অহনা : " আমার খুব ভালো লাগে মারিয়াকে । মারিয়া সত্যিই ভীষণ ভালো মেয়ে তার উপর শান্ত, ভদ্র - নম্র । কিন্তু কেনো বলতো ? "


আদি : ( আস্তে করে অহনার পাশে বসে ) 

" আমি ভাবছি একটা ভালো ছেলে দেখে মারিয়ার বিয়ে দেবো । মারিয়ার এখন প্রায় বাইশ বছর বয়স তাই ভাবছিলাম .......... "। 


আদির কথা শেষ না হতেই অহনা বললো, " এতো খুব ভালো কথা কিন্তু ওতো খ্রীষ্টান , তোমার জানা কোনো ভালো খ্রীষ্টান ছেলে আছে নাকি ? "


আদি : " হুমমম আছে, খুব ভালো একটা ছেলে আছে । আমার অফিসের কেরানি ড্যানিয়েলের একমাত্র ছেলে স্যামুয়েল । আমি অনেক বছর ধরে ওদের চিনি , ড্যানিয়েল আগে আমার বাবা আর দাদার কাছে কাজ করতো শিলিগুড়িতে । আমি কলকাতায় এসে ব্যাবসা শুরু করার সময় একদম প্রথম দিন থেকেই ড্যানিয়েল আমার অফিসে কাজ করছে । স্যামুয়েলকে আমি বহুবার দেখেছি , ওর পড়াশোনার দায়িত্ব প্রথমে বাবা নিয়েছিল তারপর বাবার অবর্তমানে আমি । স্যামুয়েলের বয়স এখন সাতাশ , সল্টলেক সেক্টর ফাইভে একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছে বছর তিনেক ধরে । আচারে - ব্যবহারে - বিদ্যা - বুদ্ধিতে খুবই ভালো । তাই ভাবছি একবার ড্যানিয়েলের সাথে মারিয়ার ব্যাপারে একবার কথা বলবো , তুমি কি বলো ? "


অহনা : ( মিষ্টি করে হেসে ) " তাহলে আর দেরী কেনো ? আজকেই তুমি কথা বলো ড্যানিয়েলের সাথে তারপর একদিন ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে আসতে বোলো । মারিয়ার মা নেই তাই আমি ওর সব প্রয়োজন দেখে নেব । "


আদি : ( একটু চিন্তিত হয়ে ) " আমি ভাবছি তোমার এই অবস্থায় এখনই মারিয়ার বিয়ের কথা বলা ঠিক হবে না । সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে তারপর দেখা যাবে । "


অহনা : ( আবারও একটু হেসে ) " ঠিক আছে তুমি ড্যানিয়েলের সাথে কথাতো বলো আগে তারপর পরের কথা পরে ভাবা যাবে । এবার চলো ব্রেকফাস্ট করতে নাহলে আয়ুশের স্কুলে যেতে দেরী হয়ে যাবে । তুমি একটু অপেক্ষা কোরো, আমিও তোমার সাথে একেবারে বেরিয়ে যাবো । তুমি বরং আমানকে বলো আয়ুশকে স্কুলে ছেড়ে আসতে । "


এই বলে দুজনেই চলে গেল ব্রেকফাস্ট করতে ।মারিয়া খাবার পরিবেশন করার সময় অহনা বললো, " মারিয়া, তোর বাবা কেমন আছে এখন ? সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিয়ে এসেছিস তো ? "


মারিয়া : ( মাথা নীচু করে শান্ত কন্ঠে ) 

 " বৌদিমনি বাবা আগের থেকে অনেক ভালো আছে , তবে একেবারে একাতো তাই আমার খুব চিন্তা হয় বাবাকে নিয়ে । "


অহনা : " মারিয়া তুইও খেয়ে নে আয়ুশের পাশেই বসে পড় । সারা রাত জার্নি করে এসেছিস, আগে ব্রেকফাস্ট করে একটু বিশ্রাম কর তারপর রান্না করিস । আজকে বেশি কিছু করার দরকার নেই । এখন আগে ব্রেকফাস্ট করে নে । "


মারিয়া : " বৌদিমনি তোমরা আগে খেয়ে নাও তারপর আমি খাবো । "


অহনা : ( ধমকের সুরে ) " এই চুপ করে বসে আগে খেয়ে নে বলছি, বস তাড়াতাড়ি আয়ুশের পাশে । "


মারিয়া চুপ করে আয়ুশের পাশে বসে পড়ে । অহনা নিজের হাতে প্লেটে ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে দিয়ে ইশারা করে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিতে বলে । 


আয়ুশ আমানের সাথে গাড়িতে করে বেরিয়ে যায় স্কুলের দিকে তার একটু পড়েই আদি আর অহনাও বেরিয়ে পড়ে । আদি অফিস যাবার আগে অহনাকে নার্সিংহোমে নামিয়ে দেবে । 


আদি : ( ড্রাইভ করতে করতে ) " অহনা আমি কাল রাতে শুয়ে শুয়ে একটা ব্যাপারে প্ল্যান করছিলাম । কিন্তু ....... "


অহনা : ( অবাক হয়ে ভ্রু কুঞ্চিত করে ) 

" প্ল্যান করেছো ? কি বিষয়ে প্ল্যান করেছো শুনি । "


আদি : " বলছি বলছি, তবে জানি না সেটা ঠিক হবে কিনা । তুমি ভালো করে শুনে, ভেবে দেখো একটু তারপর আমি শেষ সিদ্ধান্ত নেব । "


অহনা : " ঠিক আছে, এখন তো আগে প্ল্যানটা বলো । "


আদি : " হুমমম , প্ল্যানটা স্যামুয়েলকে

 নিয়ে । স্যামুয়েল এখন যেখানে চাকরি করছে সেখানে মাসিক দশহাজার টাকা স্যালারি পাচ্ছে তাতে এখনকার বাজারে বিয়ে করে সংসার চালিয়ে অন্যান্য শখ পূরণ করা অসম্ভব । তাই আমি প্ল্যানটা করলাম । আমি ভাবছি স্যামুয়েলের সাথে কথা বলে ওকে তোমার সেক্রেটারী হিসেবে নিযুক্ত করবো । তবে তার আগে তোমার জন্য একটা গাড়ি কিনবো । আচ্ছা Tata Tiago কিনলে কেমন হয় ? তোমার নিজের জন্য যথেষ্ট তাইনা ? "


অহনা : ( বিরক্ত হয়ে ) " উফ্ ! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা, বলছিলে স্যামুয়েলকে নিয়ে কথা সেখান থেকে এক লাফে চলে গেলে গাড়ি কেনার বিষয়ে । গাড়ি পরে হবে আগে তোমার প্ল্যানটা বলো ঠিক করে । "


আদি : " ধূর ! আগে পুরো কথাটা তো শুনবে তা না আগেই এক প্রস্থ বকাঝকা করে নিলে , আগে শোনো পুরোটা তারপর যা ইচ্ছে বোলো । "


অহনা : ( মিষ্টি করে হেসে ) " এই দ্যাখো, আমি আবার বকাঝকা করলাম কখন । বলো বলো , আমি শুনছি । "


আদি : ( আদুরে দৃষ্টিতে অহনার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে ) " আমি ভাবছি স্যামুয়েলকে তোমার সাথে সবসময়ের জন্য নিযুক্ত করবো মানে ও তোমার সেক্রেটারী হওয়ার সাথে সাথে তোমার গাড়িও চালাবে । তোমার যে কোন কাজ , যে কোনো সময় কোথাও যাওয়া - আসা সবকিছুতেই তোমার সাথে ছায়ার মতো থাকবে স্যামুয়েল । তাতে অবশ্য আমাদের আরও একটা সুবিধা আছে, 

সকালে স্যামুয়েলের সাথে মারিয়াও আসতে পারবে তারপর সারাদিন কাজকর্ম সেরে রাতে আবার স্যামুয়েলের সাথেই বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে । এইভাবে দুজনের মিলিত আয়ের অর্থে খুব সচ্ছন্দে কাটবে ওদের জীবনটা । আমি ঠিক করেছি স্যামুয়েলকে মাসে পঁচিশ হাজার টাকা স্যালারি দেবো আর মারিয়াকে দেবো পনেরো হাজার টাকা । তবে মারিয়ার উপর রান্নার সাথে সাথে বাড়ির বাকী কাজ ও কাজের লোকেদের তদারকি করার দায়িত্ব দেবো এবং বাড়ির মেইনটেন্যান্সের যাবতীয় দেখাশোনাও ওকেই করতে হবে । এবার বলো কেমন লাগলো আমার প্ল্যানটা ? ওহ্ ! আরেকটা কথা, আজকে সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসেই অন্য আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমার অনুমতি ছাড়া । তবে আমার মনে হয় তোমার এতে কোনো আপত্তি হবে না । "


অহনা : ( অবাক হয়ে আদির দিকে তাকিয়ে ) " আমাকে না জানিয়ে তুমি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেবে না সে ব্যাপারে আমি একেবারে নিশ্চিত । এবার বলো কি সিদ্ধান্ত নিয়েছো, তবে আমার মনে হয় আমি জানি তুমি কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছো । Let me guess , ফিলিপ কাকা মানে মারিয়ার বাবাকে এখানে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছো তাইতো ? "


আদি : ( অবাক হয়ে ভ্রু কুঞ্চিত করে )

 " হ্যাঁ হ্যাঁ একদম ঠিক কিন্তু তুমি বুঝলে কি করে ? "


অহনা : ( আবারও হেসে আদুরে কন্ঠে ) 

" মিস্টার মুখার্জী আপনি বোধহয় ভুলে গেছেন যে আমি আপনার সহধর্মিণী তাই আপনার সব বিষয়ে আমার নজর রাখতে হয় । আজকে ব্রেকফাস্ট টেবিলে যখন আমি মারিয়ার বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলাম তারপর মারিয়াকে ধমক দিয়ে আমাদের সাথে ব্রেকফাস্ট করাচ্ছিলাম তখন তুমি অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে সেটা আমার চোখ এড়ায় নি মশাই । তখনই তুমি ফিলিপ কাকাকে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছো তাইতো ? "

 



    


   

   ******** To Be Continued


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama