অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১৫
অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১৫
ইভান মজার ছলে ছড়া কাটায় আদি হো - হো করে হেসে উঠে " Thank you bro .Ok bye " বলে ফোনটা রেখে দেয় ।
রোজকার মতো আয়ুশকে নিয়ে আদির বাড়িতে বিকেল চারটা নাগাদ ফিরে আসে অহনা , ঘরে ঢুকে দ্যাখে আদি সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে । বাবাকে দেখে আয়ুশ ছুটে গিয়ে আদিকে জড়িয়ে দু - গালে চুমু দিয়ে চলে যায় নিজের ঘরে । আয়ুশ চলে যেতেই আদি অহনাকে বলে , " অহনা তোমার সাথে কিছু কথা ছিল , তুমি একটা কাজ করো আয়ুশকে খাইয়ে তারপর এসো । আমি ততোক্ষণ আমার কাজ শেষ করি । "
অহনা মুচকি হেসে " Ok " বলে চলে গেল আয়ুশের ঘরে ।
আয়ুশকে ঘুম পাড়িয়ে প্রায় ঘন্টা খানেক পর অহনা বসার ঘরে এসে দাঁড়ায় আদির পাশে । অহনা আদির পাশে এসে দাঁড়াতেই আদি মুচকি হেসে হাত দিয়ে নিজের পাশে বসার জায়গার উপর চাপড় মেরে বসতে ইঙ্গিত করে বলে, " কি হোলো মিসেস মুখার্জী দাঁড়িয়ে কেন ? আমার পাশে বসতে কি কোনো অসুবিধা আছে ম্যাডাম ? "
অহনা লজ্জাবনত হয়ে বললো, " আমি কিন্তু এখনো মিস সান্যালই আছি , মিসেস মুখার্জী হতে কিছুদিন দেরী আছে । তবে তোমার পাশে বসতে............ না পাশে বসতে কোনো অসুবিধা নেই । "
আদি আবারও হেসে বললো, " ওহ্ ! তাই
বুঝি । তাহলে আর দাঁড়িয়ে কেনো ম্যাডাম , আমার পাশ্ববর্তী আসন গ্রহণ করুন । "
অহনা এবার খিলখিল করে হেসে উঠে আদির পাশে বসতে বসতে বলে, " বাব্বা ! আমার তো জানাই ছিল না যে গুরুগম্ভীর রামগড়ুরের ছানা রসিকতাও করতে পারে । আমি এতোদিন জানতাম মিস্টার আদিত্য মুখার্জী একজন আত্মকেন্দ্রিক গুরুগম্ভীর প্রভাবশালী ব্যক্তি কিন্তু এখনতো......... । " এই বলেই অহনা চুপ করে হাসতে শুরু করে ।
আদি : ( হাসতে হাসতে ভালোবাসা জড়ানো কন্ঠে ) " এখনতো কি ? দুটো আলাদা মানুষ মনে হচ্ছে তাই না ? আসলে আমি কোনোদিনই গুরুগম্ভীর ছিলাম না , বাবা - মা - দাদা - বৌদি চারজনেই একই সাথে চিরজীবনের মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ছোট্ট আয়ুশের দায়িত্ব, ব্যাবসার দায়িত্ব সব কিছু এসে পড়লো আমার কাঁধে । একমনে সেসব সামলাতে সামলাতেই কবে যে আমি একজন কঠিন - গুরুগম্ভীর ব্যাক্তি হয়ে উঠেছি তা নিজেরই মনে নেই । আমিও ভীষণভাবে চাই আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো হেসে - খেলে জীবন কাটাতে কিন্তু তার জন্য যে উপযুক্ত মানুষটির প্রয়োজন ছিল তা এতোদিনে পেয়েছি , তাই আমার বাকী জীবন তোমাকে আর আদিকে নিয়ে সচ্ছন্দে হেসে - খেলে কাটাতে চাই । অহনা তুমি আমার পাশে থাকবেতো সারাজীবন ? "
অহনা আলতো করে হেসে আদির একটি হাতে নিজের দুহাতের মধ্যে নিয়ে আদর মাখানো স্বরে বলে , " নিশ্চয়ই থাকবো , যতোদিন ভগবান আমার আয়ু নির্ধারণ করে রেখেছেন ততোদিন পর্যন্ত প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্ত আমি তোমার এবং আয়ুশের পাশে থাকবো ছায়াসঙ্গী হয়ে । আজ এখন থেকে তোমার সমস্ত চিন্তা - ভাবনা, সমস্ত দুঃখ - কষ্ট আমার সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারো । আমি তোমার সব কথা শুনবো এবং প্রয়োজন মতো সবরকম ভাবে সাহায্য করবো তোমায় । "
অহনার মুখে এই কথাগুলো শুনে আদি জড়িয়ে ধরে অহনাকে, তার দুই চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে বুকের জমাট বাঁধা কষ্ট ।
আদি অহনাকে জড়িয়ে ধরতেই যখন আদির বুকের জমাট মেঘের ভার চোখের থেকে বৃষ্টিধারা হয়ে নেমে আসে তখন সম্পূর্ণ একদম অন্যরকম মানুষকে আবিষ্কার করে অহনা । ধীরে ধীরে আদির পিঠ চাপড়ে বলে , " আদি আজকে যতোটা সম্ভব চোখের জল ঝরিয়ে বুকটা হালকা করে নাও কিন্তু আজকের পর থেকে আর কোনোদিন তোমাকে আমি কষ্ট পেতে দেব না । " আদি অহনার কাঁধ থেকে মাথা তুলে চোখের জল মুছে বলে, " আজকে সত্যিই বহু বছর পর বুকটা খুব হালকা লাগছে , ভেবেছিলাম হয়তো এভাবেই নিরুপায় ভাবে কেটে যাবে আমার বাকী জীবনটা কিন্তু এখন তুমি আসাতে সব বদলে গেছে । আমার জীবনে আসার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ অহনা । "
অনেকটা সময় নিজেদের মনের নানা কথার আদানপ্রদানের পর অহনা বাড়ি ফিরে যায় । পরদিন সকালে কথামতো অহনা চলে আসে আদির বাড়িতে । সেদিন আদি, অহনা এবং ইভান মিলে ওয়েডিং প্ল্যানারদের সাথে কথা বলে বিয়ের সমস্ত আয়োজনের সূচী তৈরী করে ।
দেখতে দেখতে কেটে যায় আরও কয়েকটি দিন , বিয়ের আর মাত্র দিন দুয়েক বাকী । পাত্র - পাত্রীর বিয়ের সবরকম আয়োজন, কেনাকাটা, নিমন্ত্রণ সব কিছুই শেষ এখন শুধু বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষা । ওদিকে বিয়ের টেনশনে শুধুমাত্র দুজনের অবস্থা একেবারে শোচনীয় , কি হবে - কি হবে করেই অস্থির দুজনেই । অন্যদিকে একমাত্র মেয়ের বিয়ে নিয়ে যেমন উত্তেজিত অহনার মা তেমনই আয়ুশের বাঁধভাঙা আনন্দ অহনা মাকে কাছে পেয়ে যাবে আর ইভান তার ছোটোবেলার একমাত্র বন্ধু এবং ভাইয়ের গাঁটছড়া বাঁধতে চলার আনন্দে উল্লসিত ।
দেখতে দেখতে কেটে গেল আরো দুটি দিন , আজ আদিত্য মুখার্জী এবং অহনা সান্যালের শুভ বিবাহ । বিয়ের জন্য ভাড়া নেওয়া বিশাল বাড়িটির সামনে রাখা হোর্ডিং,তাতে আদি ও অহনার প্রকান্ড ছবি দিয়ে লেখা -
" AHANA WEEDS ADITYA "
নিয়মমতো একে একে উভয় পক্ষেরই সমস্ত রীতিনীতি - আচার অনুষ্ঠান মেনে সুসম্পন্ন হয় বিয়ে , ললাট থেকে সিঁথি পর্যন্ত রাঙানো সিঁদুরের ছোঁয়ায় পীতাম্বরী লজ্জাবস্ত্রে অবগুন্ঠিত নববধূর রূপের জৌলুস বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায় । বিয়ে সম্পন্ন হলে নবদম্পতি সকল বয়োঃজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নেওয়ার সময় দেখা দেয় কিছু গোলোযোগ । আসলে যখন নবদম্পতি একে একে সকলের আশীর্বাদ নিচ্ছিল তখন অহনার হাত ধরে ছিল ছোট্ট আয়ুশ । অহনা এবং আদি যখন অহনার বড়ো পিসিমাকে প্রনাম করতে যাবে তখনই হঠাৎ করেই তিনি বলে ওঠেন, " আমার এই একমাত্র আদরের ভাইঝিটাকে এক সন্তানের বাবার হাতে তুলে দিলে বৌদি ? সারা বিশ্বে কি পাত্রের এতোই আকাল পড়েছিল ? " সেই সময় প্রায় সাথে সাথেই অহনার অন্যান্য কিছু আত্মীয় তালে তাল মিলিয়ে নানা কথা বলতে শুরু করে , চারদিকে শুরু হয় গুঞ্জন ।
এই অবস্থার ফলে অহনা এবং অহনার মা উভয়েই খুব রেগে যায় আর আদি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে তারপর অহনা ও শ্বাশুড়ী মাকে উদ্দেশ্য করে বলে, " আমি ঠিক এই পরিস্থিতির কথা ভেবেই শুধুমাত্র রেজিস্ট্র ম্যারেজ করতে চেয়েছিলাম । আজকে আমার জন্য আপনাদের দুজনকেই কটুক্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে । "
******** To Be Continued

