অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১২
অবিস্মরণীয় ভালোবাসা ❤ পর্ব ১২
অহনার ফোন পরপর দুবার বেজে বেজে বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু অহনা ফোন রিসিভ না করায় আদি একটু চিন্তায় পড়ে যায় । আদিকে চিন্তা করতে দেখে ইভান বলে, " উফ্ ! এতো চিন্তা করার কি আছে শুনি, আরে হবু মিসেস মুখার্জী একজন ডাক্তার সেটা কি ভুলে গেলি ভাই ? কোনো রোগী নিয়ে হয়তো ব্যস্ত আছে তাই ফোন ধরতে পারে নি । " ইভানের কথা শেষ না হতেই আদির ফোন বেজে ওঠে , আদি ফোনটা ইভানের সামনে ধরে দেখায় অহনার ফোন এসেছে ।
আদি ফোন রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত থেকে অহনা ঝড়ের বেগে বলে যায়, " Sorry Sorry আদিত্য, আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম তাই ফোন ধরতে পারিনি, এখন একটু ফ্রি হতেই দেখলাম তোমার ফোন এসেছে তাই ফোন করলাম । কিছু বলবে ? "
আদি একটু হেসে নম্রভাবে বলে, " তোমার এতো বিব্রত হওয়ার কিছু নেই অহনা, আমি জানি তুমি ব্যস্ত ছিলে তাই ফোন রিসিভ করতে পারো নি । এতে sorry বলার কোনো দরকার নেই । আসলে একটা বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্য আমি ফোন করেছিলাম । "
অহনা : " হ্যাঁ, বলো কি বিষয় ? "
আদি : " বলছিলাম , তোমার মা আমাদের বিয়ের দিন ঠিক করে ফেলেছেন । আজ থেকে আর মাত্র একমাস পাঁচদিন বাকী । তাই আমি কালকেই কিছু নামজাদা ওয়েডিং প্ল্যানারদের সাথে কথা বলে বিয়ের সব আয়োজন সেরে ফেলতে চাইছি । বিয়ে আর রিসেপশন কি একই দিনে হবে কিনা সেটা জানার জন্যই তোমাকে ফোন করছিলাম , তাহলে সেই অনুযায়ী বিয়েবাড়ি ভাড়া নিতে হবে । "
অহনা : ( একটু চিন্তান্বিত হয়ে ) " হুমমমমম ! সেটাতো আমি ঠিক জানি না । তুমি বরং একটা কাজ করো , মায়ের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলো । মা যা বলবে তাই করাই ভালো তাতে মায়েরও ভালো লাগবে । "
আদি আমতা আমতা করে বলে, " ওরে বাবা, আমি এই ব্যাপারে তোমার মায়ের সাথে কথা বলতে পারবো না তার চেয়ে বরং ইভান কথা বলুক । ইভান চটপটে আছে, ও ঠিক সব কথা আদায় করে নেবে মায়ের কাছ থেকে । "
অহনা হেসে বলে, " আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি ইভানকেই বলো মায়ের সাথে বিয়ের সবকিছু নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে নিতে । এই আদি, শোনো আমি একটু ব্যস্ত আছি এখন ফোন রাখলাম । "
অহনা ফোন রাখতেই ইভান অহনার বাড়িতে ফোন করেই রওনা দেয় অহনার বাড়ির উদ্দেশ্যে ।
ইভান চলে যাবার মিনিট কুড়ি পরে সেক্রেটারি মিঃ ঘোষাল আদিত্যর কেবিনে এসে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে টেবিলের উপর জোরে শব্দ করায় সম্বিৎ ফেরে আদির । আদির এইরকম অন্যমনস্ক ভাবের সাথে একেবারেই পরিচিত নয় মিঃ ঘোষাল তাই আড় চোখে আদির মোবাইলে নজর দিতেই বুঝতে পারে অন্যমনস্ক হওয়ার কারণ স্ক্রিনে থাকা অহনার খুব মিষ্টি একটা ছবি । মিঃ ঘোষালের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে গম্ভীর ব্যক্তিত্বপূর্ণ আদিত্য মুখার্জীর হৃদয়ে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া ।
ঘড়ির কাঁটা ধরে একদম মিনিট কুড়ির মধ্যেই ইভান পৌঁছে যায় অহনার বাড়িতে । ইভান স্বভাবতই খুব মিশুকে তাই অহনার মায়ের সাথে খুব তাড়াতাড়ি ভাব জমিয়ে ফেলতে কোনো অসুবিধাই হয় না । অহনার মা বলে, " ইভান তুমি ফোনে বললে খুব দরকারী কথা আছে অহনার বিয়ের ব্যাপারে , কি কথা ? কোনো সমস্যা নেই তো ? "
ইভান : ( না করে দুপাশে মাথা নাড়িয়ে ) " আরে না না মাসিমা , কোনো সমস্যা নেই । আসলে বিয়ের তো মাত্র একমাস বাকী তাই যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সবকিছুর আয়োজন করে ফেলতে হবে । আদি অহনাকে জিজ্ঞাসা করেছিল বিয়ে আর রিসেপশন কি একদিনেই হবে না, বিধিমতো যেরকম হয় সেরকমই হবে ? উত্তরে অহনা বলেছিল সেই ব্যাপারে আপনার সাথেই কথা বলতে তাই আমিই এলাম বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য । "
অহনার মা : ( একগাল হেসে ) " তাই বলো বাবা, আমি তো রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম । দ্যাখো অহনা আমার একমাত্র সন্তান তাই ওর বিয়েটা আমি সকল নিয়মরীতি মেনেই দিতে চাই । অহনার বিয়ের জন্য ওর বাবা আগে থেকেই বেশকিছু টাকা - গয়না গুছিয়ে রেখে গেছেন তাই আমার বিশেষ একটা অসুবিধা হবে না । "
ইভান : " আসলে মাসিমা, আদির একটা অনুরোধ ছিল আপনার কাছে । সেই জন্যই আমার তড়িঘড়ি ছুটে আসা । "
অহনার মা : ( ভ্রু কুঞ্চিত করে ) " অনুরোধ ? কি অনুরোধ ? "
ইভান : " আদি বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব ও নিজেই নিতে চায় । মানে ওর ইচ্ছে বিয়ের সকল প্রয়োজনীয় খরচ সবটাই ও করবে, আপনি শুধু আপনার মনের মতো করে আপনার মেয়েকে সাজিয়ে দেবেন তাহলেই হবে । আমরা কালকেই কিছু নামকরা ওয়েডিং প্ল্যানারদের সাথে আলোচনা করে সব ঠিকঠাক করে ফেলতে চাই । আর বিয়ের সকল কেনাকাটা আদির শপিং কমপ্লেক্স থেকেই করে ফেলতে পারবেন । ইতিমধ্যে শপিং কমপ্লেক্সের সকল দোকান ও কর্মচারীরা আদিত্য মুখার্জীর বিয়ের খবর পেয়ে গেছে তাই আপনি আর অহনা নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারবেন । আপনাদের সাথে আমিও থাকবো সবসময় কারণ বিয়ের কয়দিন আদি খুবই ব্যস্ত থাকবে তাই সব প্রয়োজনীয় কাজ ও আগে থেকেই সেরে রাখতে চায় । "
অহনার মা : ( আবারও ভ্র কুঞ্চিত করে )
" কিন্তু ...... "
অহনার মাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই ইভান বলে ওঠে, " আর কোনো কিন্তু নয় মাসিমা, কাল থেকেই বিয়ের কেনাকাটার তোড়জোড় শুরু করে দিন । বাকী সবকিছুর দায়িত্ব আমার আর আদির উপর ছেড়ে দিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন , শুধু দেখতে থাকুন আমি বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিরকম তাক লাগিয়ে দেই সকলকে । " এই বলেই হা - হা করে হেসে উঠতেই অহনার মাও হেসে বলেন, " আচ্ছা, তবে তাই হোক । "
********* To Be Continued

