আবাদী বানো বেগম
আবাদী বানো বেগম
আবাদি বানো বেগম ১৮৫০ সালে ব্রিটিশ তথা পরাধীন ভারতের উত্তরপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বি.আম্মা নামেও পরিচিত ছিলেন। তার স্বামী আব্দুল আলী খান রামপুর রাজ্যের এক উচ্চপদস্থ কর্তা ছিলেন। খুব কম বয়সে আব্দুল আলী খান মারা যান।
বি. আম্মা খুব কষ্ট করে এক কন্যা ও পাঁচ পুত্রকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করিয়ে সুশিক্ষিত করে তোলেন। তার দুই ছেলে মহম্মদ আলী জোহর ও শওকত আলী খিলাফত আন্দোলনে যোগদান করেন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯১৭ সালে অন্যতম একজন মুসলিম নারী হিসাবে বি. আম্মা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রানীত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। এই সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম নারীর পক্ষে স্বাধীনতা যোগ দেওয়া মোটেই সহজ ব্যাপার ছিল না। তিনি অ্যানি বেসান্ট ও তার দুই ছেলে কে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে যোগদান করেন। স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী তাকে এই কাজে উৎসাহিত করেছিলেন।
১৯১৭ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশন চলাকালীন তিনি বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। এই সভায় তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ মর্মস্পর্শী বক্তৃতা রাখেন। তৎকালীন ভারতের মুসলিম সমাজের উপর তার বক্তৃতার স্থায়ী প্রভাব পড়ে।বহু মুসলিম নারী স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে এগিয়ে আসে।
আবাদি বানো বেগম খিলাফত কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি খিলাফত আন্দোলনের তহবিল জোগাড়ের উদ্দেশ্যে সারা ভারত জুড়ে ভ্রমণ করে বেড়িয়েছিলেন। এইসময় তিনি বিভিন্ন সভা সমিতিতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এই সমস্ত সভায় তিনি হিন্দু মুসলমানকে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলতেন। তাঁর আকর্ষনীয় ভাষণে আকৃ্ষ্ট হয়ে অভিজাত হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের মেয়েরাও আন্দোলনে যোগ দিতে এগিয়ে আসেন। সভায় সকলকে নিজের সন্তান বলে ঘোষণা করে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সকলের ‘আম্মা’। তিনি সারা ভারতে বি.আম্মা নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রতিষ্ঠিত তিলক স্বরাজ তহবিলে মুক্ত হস্তে সকলকে অনুদান দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। বি. আম্মা আমৃত্যু স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
১৯২৪ সালের ১৩ই নভেম্বর আবাদী বানো বেগম ৭৩ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন।
