সত্যের পথে
সত্যের পথে
মোর উদার মনে কঠোর ব্রহ্মান্ডে
সত্যের পথ বেছে নিয়েছি।
বিদ্বেষীর প্রতিহিংসা বৈশ্বানরের পাষাণ আঘাতে
মহাধাতুই পূর্ণ করতে মোর অভিলাষ।
অদ্য তিমির মহীতে
ভানুর অংশু বিস্তার কর।
যেথায় মিথ্যার প্রসার দিবা-রাত্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে,
সেথায় সত্যের নিশান উড়িয়ে
বিষাদ আননে হাসি ফুটুক।
চেতনায় পরিয়া নিঃশ্বপাপ মনে
তমিস্রের চিহ্ন বরণ করে নেয়।
মনের এই কুমন্ত্র দূরীভূত করে
পবিত্র আত্মায় পরিণত কর।
অদ্য মিথ্যুক বিত্তশালীর কাছে নত শির অজ্ঞ জনতা।
তব মোর কামনা, যত অব্ধি রহিব এই আঁধার মহীতে,
সত্যের পথে মোর শির উঁচু থাকিবে।
সত্যের সাধনা মোর পরম ধর্ম,
তাই অসুহৃদ তৈরি করেছে মোর বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম।
মোর সম্মুখপানের শত আশীবিষ, অরির হিংস্র থাবা, অসীম মহাসমুদ্র, বিশাল অট্টালিকা, ঘূর্ণিঝড়ের তেজ সব কিছু উপেক্ষা করে নিজ গতিতে চলমান বহাল রইলো।
মোর সাধনার পথে কাটা হস্তে দাঁড়িয়ে বিভীষণের ন্যায় হীন চরিত্র।
মেঘনাদ হয়ে সত্যের পথে সংবরণ কে নিয়েছি বরণ করিয়া।
তব মোর সত্যের পথে মিথ্যার আঁচ ছুইতে নাহি দেবো।
দৃষ্টি গোচরে সৃষ্টির যাত্রা বন্দি হয়েছে।
বাস্তব বেড়াজাল পাষাণ করেছে মমতাময় স্বজনকে।
মনের অগোচরে বৃদ্ধি পাচ্ছে মিথ্যার ঝঞ্ঝাট।
তব বিনাশের ভয়াবহতা পাষাণ মনে
কোমলতা দেখিতে ব্যর্থ।
তব অদ্য নেই ত চিরাচরিত আদিম যুগ।
আজ কেনো মহাজ্ঞানী বরণ করেছে
মিথ্যাচারে সুখ।
সেকালে তো ছিলো না সভ্যতার বিস্তরণ।
অদ্য সভ্য জাতি, সভ্য মানবকূল তা সত্ত্বেও প্রতিহিংসা, অবিচার, মিথ্যাচার এত বৃদ্ধি কেনো।
এই শোভন ভুবনে অশুভ অপকর্ম বিস্তার লাভ করেছে।
ওই সব চরিত্রের সাদৃশ্য খুঁজিতে মোর সূক্ষ্ম জ্ঞান অরণ্যের হিংস্র পশুদের চিহ্নিত করেছে।
এই ভুবনে কেউ রাজপ্রসাদে কেউ বা রাস্তার পাশে দিবা-রাত্রি যাপন করছে।
অসহায়ের এক পয়সা থাবা মেরে চিনিয়ে নিয়ে কেউ হচ্ছে বিত্তশালী।
আবার, অরণ্যের পশুরাজ দুর্বল পশুদের থাবা মেরে নিজ সাধ মিঠাই।
তাই অদ্য হাজির হয়েছি অশুভ কাজের বিরুদ্ধে সত্যের তরি নিয়ে।
এই তরির মাঝি যেই বা হয়েছে নয় কোনো অশুভ শক্তি তিনিই মহা শক্তিশালী।
জগত জুড়িয়া সত্যের গুণ দেশ-দেশান্তরে প্রসার করেছি,
তব নিন্দা তিরস্কার ছাড়া নাহি পেলাম মান।
মোর পরান বিহগ কান্নার স্বরে গাহিয়াছে সত্যের গান।
অপদস্থ হয়েও মলিন আননে অগোচর হয়ে হাসির রেখা দেখা যাই।
যদিও মিথ্যাচারকে মোর পরিজন বরণ করে নেয়, তব বৈরীর চিহ্ন মনে করবো তাদের।
সত্যকে বরণ করতে পাথর হতেও দ্বিধাবোদ নাহি করবো।
বিশাল প্রাচীরে বসবাসও মোর বিচারে হীন।
আবার, উষা লগনে একবিন্দু শিশির মনে হয় হিরণ।
বিচারক আসনে বসিয়া বাঁ হস্ত ভারী করে সত্যকে মিথ্যায় রূপান্তরিত করে।
এই অবিচারের ফলে সরল মন পড়ে যাই ব্যভিচারে।
অপরাধ নাই বা করি সাজা তো ঠিকই আছে।
ফলে বিনাশ হচ্ছে জনতার বিবেক।
পরজনকে নিচে ফেলে নিজ আসন আকাশ ছুঁই ছুঁই।
জনতার বিবেক অদ্য বিলুপ্ত প্রাপ্তি।
যেথায় মানবতার প্রেম নিশ্বেস সেথায় বিধাতার প্রতি ভীতি নিশ্বেস হয়ে যাচ্ছে।
যেই বা বরণ করেছে মিথ্যাচারকে,
নাহি করে ভয় বিনাশ কিংবা ধ্বংসের।
মম ক্ষুদ্র অন্তিম কালে নাই বা পেলে ভয়,
না ফেরার দেশে তোমা বরণ করিবে শিকার হংকার।
তখন সত্যের নকশা পেশ করা হবে তোমা পানে।
নাহি পারবে অশ্রুধারা বন্ধ করিতে।
তাই সত্যের তরির যাত্রী হতে মিথ্যার কুলশ পাবনের পাষাণতায় নিঃশেষ করে ফেল।
অদ্য সমাজের মাতব্বর
অজ্ঞাত কৃষাণের উপর
নানা চাপে খাজনা আদায়ে
নাহি নিষেদ দেয় অন্তরাত্মা।
কৃষাণের পারিশ্রমিক নাই বা করে শোধ,
সদা জুলুম, বেত্রাঘাত দিতেই ওদের সাধ।
দু' পয়সা জুগাড়ে দু'মুঠো অন্ন পেয়ে
তৃপ্তি মেঠাই অজ্ঞ কৃষাণ।
হে হীন মাতব্বর শুধু কৃষাণ নয়,
সত্যের প্রতিপক্ষ নিজ কর্মের গুণে বরণ করেছো।
এখনি জাগ্রত হও,
বিষাদ মনে সত্যের নিশান নিয়ে
কাঙাল কৃষাণ নেমেছে আহবে।
নাহি পাবে কোনো সখা
নিপাতনে শেষ হবে তোমা হুংকার।
মোর পরম কামনা
সত্যের জয় হবেই কোন অহ।
মোর সাধনার বিনিময়ে নাহি চাই দেবলোক কিংবা নিপাত।
মানবের সম্মুখে সত্যের তরি নিয়ে
চালাই মোর স্পৃহা।
আমি চপলা হয়ে হাজির হই মিথ্যার দুয়ারে।
ওদের বিনাশে হয়ে যাই কেশরী।
বলে দাও স্বামি, মোর সাধনার পথের প্রতিহিংসার কারণ।
হীন বস্তুর নেশা সারি বাধে জনতা,
কে দরবে কে না গড়াগড়ি জনতা।
হাসিতে হাসিতে চলে যাই প্রাণ
তব নাহি ছাড়ি হাল।
সকলেরই ধারণা প্রতিপক্ষ সম্মুখে
ছাড়বো না দ্বার।
তাই ছোট্ট কাব্যে লিখে গেলাম আজ ওদের সিনাই জমেছে মরীচিকার ভীড়।
অজ্ঞাত জনতার আত্মার ঝঞ্ঝাট দূরিকরণে মানবের পানে সত্যের সন্ধান দেখিবারে চাই।
আপামর জনতা বাস্তবতার ভয়ে সত্যকে লুকিয়ে মিথ্যার গুণকীর্তন করে।
জানিনু কিবা পাপাচারের কথা
অন্তরাত্মা নাহি দেয় বাধা।
তব এই সূক্ষ্ম মিথ্যা শত মিথ্যার সৃষ্টির কারণ।
সত্যের বুকে মিথ্যার কালো চাদর পড়িয়া
রঙ মহলে সুখের সন্ধান করে।
পাবে না'ক তুমি সুখের আবাস।
নাহি যদি করো মিথ্যাকে বিসর্জন।
আমি দেখিতে পাই ওদের সাদৃশ্য মীরজাফরের মতো হীন চরিত্রে।
তব অদ্য সমাজ জাগ্রত।
সত্যের খুঁজে আজ তারা বিভোর।
আমি এসেছি ভবে সত্যের তরি নিয়ে।
মিথ্যার খোলস প্লাবনে ডুবে যাক।
কখনো কখনো মোর আঁখি দু'টি পিপীলিকা র মিলন মেলাই দৃষ্টিগোচর হয়।
অতি ক্ষুদ্র অন্ন সকলে মিলে নিয়ে চলে মহলে।
নেই 'ক কোনো তাড়া
নিয়মেই চলে তারা, হোক না তুচ্ছ কিছু।
আমি দেখাতে চাই সেই অজ্ঞ জনতাকে পিপীলিকা র নিয়ম নীতি।
যেথায় নেই কোনো প্রতিহিংসা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা বিরুদ্ধতা র আশ্বাস।
অদ্য সমালোচনার বক্তব্যে মানুষ উল্লাসিত।
লোকের মন্দ বিস্তার করা তাই যেন উপাদেয়।
প্রতিশ্রুতি করিয়াও নাহি পারে গোপন।
তব বিনাশের কালে প্রতিদানে পাবে শিকার আভাস।
সত্যের পথে কদম রাখিয়া নাই বা পেলে মান,
চিরবিদায়ের অনন্ত কালে পাবে এর প্রতিদান।
তাই সত্যের কঠোর পথে রওনা হয়েছি পরম অভিলাষে।
অদ্য পরজনের মুখের মিথ্যে কথাই আঘাত করে নিজ সহোদরকে।
এই হীন চরিত্র ছাই করেছে রমনীয় ভুবনে।
স্ব-চোক্ষে দেখিয়া করিবে প্রতিবাদ তবে নয় কোনো রণ ক্ষেত্র এ হবে ভালোবাসার অস্ত্র।
আমি দেখিতে পাই ওদের সাদৃশ্য মীরজাফরের মতো হীন চরিত্রে।
তব অদ্য সমাজ জাগ্রত।
সত্যের খুঁজে আজ তারা বিভোর।
আমি এসেছি ভবে সত্যের তরি নিয়ে।
মিথ্যার খোলস প্লাবনে ডুবে যাক।
সত্যের পথে কদম রাখিয়া নাই বা পেলে মান, চিরবিদায়ের অনন্ত কালে পাবে এর প্রতিদান।
তাই সত্যের কঠোর পথে রওনা হয়েছি পরম অভিলাষে।
অদ্য পরজনের মুখের মিথ্যে কথাই আঘাত করে নিজ সহোদরকে।
এই হীন চরিত্র ছাই করেছে রমণীয় ভুবনে।
স্ব-চোক্ষে দেখিয়া করিবে প্রতিবাদ তবে নয় কোনো রণ ক্ষেত্র এ হবে ভালোবাসার অস্ত্র।
যা সত্য তাই রটনা করবে মিত্রের সমাগমে।
নিজ সুখ পরজন হিংসার প্রতিবাদে সহোদরের সাথে তর্কের সৃষ্টি করাই।
তাই এই কালো মুখোশদ্বারি হীন চরিত্রের দূরে থাকাই শ্রেয়। অতি ক্ষুদ্র কথায় তর্কে পড়িয়া তোমা মস্তকে আঘাত হানে।
ওদের অন্তরে পুষ্পের কুমলতার নেই কোনো আবাস। অন্তর যেনো হয়ে আছে পাষাণ ক্ষিতিধর।
এই আঁধার জীবনে সুশ্রী হাওয়া বহালের জন্য সত্যের বাণি নিয়ে হাজির হয়েছি।
যা অন্তরের কূলসতা দূরীকরণ উত্তম অস্ত্র।
গগনের কালো মেঘ জমাট বেধে বিন্দু বিন্দু পানি কণা একত্রিত হয়ে বিশালাকার বরফ খণ্ড ধারণ করে।
সহিতে এই ভর নাহি যখন পারে, আকাশকে কাঁদিয়ে ছেড়ে দেয় ভুবনে।
নীলাভ গগনে দিনমণি পুনরায় আনন্দে দীপ্তি র হাসি ছাড়ে।
তব দেখাতে চাই মিথ্যার ধরায়,
এভাবেই কোনো সনে সত্যের কাছে নিঃশেষ হবে মিথ্যার হংকার।
মোর সাধনার পথে পাড়ি দিতে গিয়ে দৃষ্টিগোচর হয় বৃক্ষের সহিত।
আপন রূপ লাবণ্য পরজনকে বিলিয়ে দিতেই এর অহংকার।
ওরা নাহি চাই প্রতিদান, যতই ছিড়োক শাখা ডাল।
বৃক্ষের এই গুণ কোথায় পেলো তিদস,
মোদের হৃদয়ের ঝঞ্ঝাট ভেঙ্গে বৃক্ষের গুণ দাও মোদের।
মোরা জনম জনম ধরে সত্যের বাণি নিয়ে ছুটে চলেছি দুয়ারে দুয়ারে।
নাহি চাই অলৌকিক শক্তি তব দাও মোদের অন্তরে তিরস্কার সহিবার শক্তি।
যত জ্ঞানী গুণি এ ধরায় গেয়ে গেছে গান। তাদের অতীতে রয়েছে সত্যের সান।
ভানুর অংশু যেমন পূর্ব দিগন্তে হলদে রূপ ধারণ করে প্রতি প্রভাতে হাসি ছাড়াই। যত মেঘ ঢাকা থাকোক উকি সে দিবেই। এই অন্ধকার মহীতে দীপ্তির হাসি দিতেই এর অহংকার।
তেমনি মিথ্যার কালো আকাশে সত্যের উজ্জ্বল হাসি ফুটবে কোনো সনে।
আজি সুশ্রী পরিধেয় ঢেকে রাখো বন্ধু। ভিতরের কালো রূপ কে বা দেখিতে পাই।
ডান হস্তে কুসুম বা হস্তে অনল।
কোথায় গিয়ে বাধিবো বাসা বলে দাও স্বামী। দেখিয়ে দাও অমর সত্যের আবাস। যেথায় রহিবে শুধু অভিরাম সুরলোক।
খোদার দৃষ্টিগোচরে বন্দি সৃষ্টিজগৎ।
কিবা করিবে তুমি মিথ্যার গুণাগুণ।
মোরা সব দিকে সজাগ। কিসে পাপ, কিসে পুণ্য বলেছে বিধি। তব জানিয়া ও কেনো অজ্ঞাত মোরা।
অতীতি হয়ে এসেছো ভবে, চলেই তো যাবে খোদারই নিয়মে।
কিসে এত অহংকার এই ক্ষুদ্র সংসারে। পাতকে পূর্ণ তুমি পাবে না'ক দেবলোক।
প্রতি প্রহরেই প্রভাকর শূন্যে রূপ ঢেলে দেই আর তোমা গগন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ক্ষণিকের রাজপ্রসাদের মায়ায় পড়িয়া ভুলে যাও আখিরাতের হিংস্রতার কথা।
মিথ্যার শৈল হিমালয়কে ছুঁইতে যাচ্ছে। এ দেখিয়া তোমা আননে হাসির ঢল নেমেছে। তব এই ক্ষণস্থায়ী আবাস অনন্তকালের কঠিন দহনকেই বেছে নিয়েছে।
ভেবে কি দেখেছো, আখিরাতের সঙ্গি কে হতে পারে? সবাই তো যাবে ফেলে, তখন তোমা সঙ্গি হবে। শুধুই সৎকর্ম।
তাই দুনিয়ার মায়া ছেড়ে জীবনকে এক্ষুনি কঠোরতায় ঠেলে দিয়েছি। সত্যকে বরণ করেছি সুহৃদ হিসেবে।
এক্ষুনি শ্রেষ্ঠ সময় আর কোনো দেরি বা বাহানা নয়। সমস্ত মায়া ত্যাগ করে
চলুন মোরা সত্যের পথে রওনা হয়ে যাই।
যে পথ পরকালে উপহার দিবে অমরাবতীর সুখের আবাস।
#সমাপ্ত
(গ্রাম: রাহেলা, উপজেলা : বাজিতপুর, জেলা: কিশোরগঞ্জ।)
