কালো মেয়ে!
কালো মেয়ে!
আমি কালো মেয়ে
তাই আমাকে কেউ বলে অমাবস্যা
কেউ করে তোলে সমস্যা
আবার কেউ বা বানায় বেশ্যা।
কবিতায় আমি কৃষ্ণকলি,
গানে আমি মহাকালী;
গদ্যের পাতায় সম্পূর্ণা হলেও
বাস্তবে আসলে গোটা জীবনটাই খালি!
বাসি ভাতের প্রশংসা করে যেমন!
পোলাও খোঁজে লোকে!
আমার গুণগান লিখলে, গাইলেও,
আমায় অপয়া বলেই ডাকে।
ফর্সা মানেই সুন্দরী আর
সুন্দরী মানেই বৌ অথবা মেয়ে।
গহিন অন্ধকারে আমি,
কালো মেয়ে থাকি অসহায় ভাবে চেয়ে।
ডাগর ডাগর চোখে আমার,
লোকে দেখে কালো মণি
ঐ মণির মাঝেই যে ব্যথার দীঘি আছে,
তার কথা শুধুমাত্র আমিই কেবল জানি।
কালো মেয়ে রে চায়না কেউ
তাকায় না ভালো চোখে;
চিরটাকাল দয়ার তাগিদে
আশ্রয় দিয়ে রাখে।
আশ্রয় যদি বাড়িতে হয়
বাড়ি বানায় মোরে বোঝা;
এ মেয়ের বিয়ে দেওয়া যে
নয়কো মোটেও সোজা।
বিয়ে বা যদিও হলো
স্বামীও পেলাম আমি
কিন্তু তার কাছে মোর হৃদয় নয়,
শরীরটাই অনেক দামী।
খুব সহজে ভোগ্যা হলাম
অস্ফুটে করি চিৎকার;
শুনলাম আমি কালো মেয়ে বলেই,
ভালোবাসার নেই অধিকার।
কালো কে যারা ধন্য বলে,
সেও তো সেই লোকদেখানো
আসলে তোমরা অন্ধকারের প্রাণী,
তোমাদের দিকে যায় না তাকানো।
পরিবার বলো, সমাজ বলো এমনকি সংসার;
কেউ তোমাদের চায়নি কখনো, চাইবেও না আর,
দয়া করে যখন দিয়েছি থাকতে, আমারও তো কিছু চাই,
তাইজন্যই এই কালো হিলহিলে তোমার শরীরটাকে ভোগ্য বানাই!
আমি আর পারি না সহ্য করতে, বুক ফেটে যায় ঘৃণায়
কেন তবে দিয়েছে জন্ম মোদের, এই সাদার দুনিয়ায়।
এতোই যখন সবাই সাদা, তখন সবার ঘরে কেন কালো টাকা?
কেন তবে সাদার দুনিয়ায়, নিরপরাধ ধর্ষিতাদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা?
কেন তবে খোঁজ করে সকলে, কালো দীঘির জলের নয়ন?
কেন তবে চায় কালো আঁধারে, করতে নারীকে ধর্ষন?
সাদা রঙের আড়ালে মানুষের মনটাই যেখানে কালো
সেই সমাজই নাকি আমাকে বলে, আমি মেয়ে খুব কালো!
থু থু দিই এই সমাজের মুখে, যার চারিদিক অপরাধে অন্ধকার!
কালো মেয়ের মনেই হোক সাদা সমাজের আধার!
কালো রং আমার সেইদিন ঘুচবে, যেদিন মানুষ শরীরে নয়, মনে সাদা হবে।
কালো মেয়ে আর জন্মাবে না সেদিন, মানুষ যেদিন কালোর অর্থ বুঝবে।
সবার অপরাধ তো আমার বুকে, সবার অন্যায় তো আমার চোখে;
সবার বাসনা আমার মধ্যে রেখেই, সব মানুষ হোক ভালো
তাই তো আমি অপরাধীদের অপরাধের স্পর্শে, আজও কালো,
যদি আমার জন্য সবার হয় ভালো তাহলে আমি থাকবো চিরকাল কালো
আমি আজও কালো,
আমি আজও কালো!
