বুদ্ধিমান খরগোশ
বুদ্ধিমান খরগোশ
রাজা হয়েই সিংহ মশাই আদেশ করেন জারি,
এখন থেকে পশুর রাজা রবে না অনাহারী।
নিয়ম করে প্রতিদিনই প্রজা এক একজনে,
নিজের থেকে রাজদুয়ারে আসবে রাজার সনে।
রাজা তাকে শিকার করে মেটাবে পেটের জ্বালা,
সশরীরে স্বর্গে যাবার রাস্তা পাবে খোলা।
প্রতিদিনই এক এক ঘরে কান্নার রোল ওঠে,
এমনতরো বিধান পেয়ে প্রাণীকূল সংকটে।
রাজামশাই ঘরে বসেই আয়েশে সারেন ভোজন,
ছুটে গিয়ে শিকার করতে চায় না যে তার মন।
এমন নীতির প্রয়োগ ছিল বেশ কিছুদিন ধরে,
মৃত্যু ভয়ের শঙ্কা জাগে জীবের অন্তরে।
সেদিন ছিল আকাশ জুড়ে রুপোলী আলোর খেলা,
শিকার হবার জন্য সেদিন খরগোশেরই পালা।
খুশি মনে ঘুরতে ঘুরতে অনেক বেলা করে,
অবশেষে ছোট্ট প্রাণী ঢুকলো রাজার ঘরে।
বেজায় ক্ষিদে পেয়ে গেছে, দেরি হয়েছে বেশ,
তার ওপরে এই প্রাণী তো এক থাবাতেই শেষ।
ভীষণ রেগে সিংহ মশাই হুংকার দেন জোরে,
দেরি হবার কারণ জানাক রাজার পায়ে ধরে।
খরগোশ বলে, 'পথের ধারে আর এক সিংহ মামা,
আমায় বলেন রাজা তিনিই, আজ নেইকো ক্ষমা।
অনেক বলে বুঝিয়ে তারে এই তো ছাড়া পেয়ে,
এক দৌড়ে এসেই পড়েছি আসল রাজার পায়ে'।
'আমার রাজত্বে অন্যজনে রাজার দাবি করে,
চলতো দেখি কত বড়ো বীর আমায় অমান্য করে'।
সিংহ সাথে খরগোশেতে আসলো কুয়োর পাড়ে,
বলে, 'ওই যে মামা লুকিয়েছে গর্তের ভেতরে'।
কুয়োর জলে নিজের ছবি দেখতে পেয়ে রাজা,
ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরবে তাকে, দেবেই চরম সাজা।
জলে ডুবে সিংহমশাই প্রাণটি দিলো শেষে,
প্রাণীকূলে জয়ের মুকুট পড়ালো খরগোশে।
