Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Piyali Chatterjee

Romance Classics


4.5  

Piyali Chatterjee

Romance Classics


যাবজ্জীবন প্রেমদন্ড

যাবজ্জীবন প্রেমদন্ড

9 mins 207 9 mins 207

(১)


সমুদ্র কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঊর্মি বারান্দায় গিয়ে বসলো। সারাদিন এই টু বি.এইচ.কে ফ্ল্যাটে তার একা একা ভালো লাগে না। চার বছর আগে ঊর্মি আর সমুদ্রের প্রেম করে বিয়ে হয়। ফ্ল্যাটে তারা কেবল দুইজনই থাকে। সমুদ্রের বাবা, মা তার বড় দাদা অর্ণবের সাথে তার বাড়িতে থাকে। বিয়ের পর এক বছর তো অনেক আত্মীয় স্বজনের আসা যাওয়া ছিল তবে গত তিন বছরে সেলসম্যান ছাড়া কারুর টিকিটি ও দেখা যায়নি। সমুদ্র সকাল সাতটায় বেড়ায় এবং রাত নয়টায় বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে দুজনে। কখনো কখনো অফিসের কাজ থাকলে রাতে কিছুক্ষন সমুদ্র জেগে থাকে বটে তাও শুধুমাত্র কাজের সৌজন্য। তাই এই পুরো সময়টা ঊর্মি কে একাই কাটাতে হয়। কখনো বারান্দায় বসে আবার কখনো গান শুনে কাটায় ঊর্মি কিন্তু তাও বা কতক্ষন। তাই ইদানিং তার আর এই জীবন ভালো লাগছে না। বিয়ের আগের জীবন তাকে আবার খুব টানছে। বিয়ের আগে ঊর্মি তার বন্ধুদের সাথে কত মজা করতো কত জায়গায় ঘুরতে যেত। এখন বন্ধুদের সাথে সেভাবে দেখা করতে পারেনা বলে কেউ আর তেমন কথাও বলে না।


বারান্দায় বসে ঊর্মি কত লোকজন কে দেখতে পায়। অন্তত তাদের দেখে তার একা লাগে না কিছুক্ষন। আজ ঊর্মি বারান্দায় বসে আছে ঠিকই তবে তার মন খুব খারাপ। আজ ঊর্মি আর সমুদ্রের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী তবে সমুদ্র কে দেখে যা মনে হলো তার বোধহয় কিছুই মনে নেই। সারাদিন ছুটি নাই বা নিলো অন্তত একটা উইশ তো করতেই পারতো। অনেকক্ষন গালে হাত দিয়ে ভাবার পর ঊর্মি সিদ্ধান্ত নিলো যে সে তার বাপের বাড়ি গিয়ে কিছুদিন থেকে আসবে। ঊর্মির বাপের বাড়ি জলপাইগুড়ি তে। কলকাতায় মাসীর বাড়ি থেকে কলেজে পড়তো সেইখানেই আলাপ হয় সমুদ্রের সাথে। বিয়ের পর তেমন ভাবে বাপেরবাড়ি গিয়ে থাকা হয়নি তার।


যেমন ভাবনা তেমন কাজ ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। সমুদ্রের কাছে বাড়ির এক্সট্রা একটা চাবি সবসময় থাকে তাই ওকে আর ফোন করলো না শুধু একটা মেসেজ করে দিলো।

"আমি কিছুদিনের জন্য মায়ের কাছে যাচ্ছি। এমনিতেও তোমার একা থাকার অভ্যেস আছে তাই খুব একটা অসুবিধা হবে না জানি। এই কয়েকদিন অফিসের ক্যান্টিনে বা ফ্ল্যাটের নিচে পিন্টু দার হোটেলে খেয়ে নিও।"


(২)

গত তিন বছরে সমুদ্রের কাজে অনেক পদোন্নতি হয়েছে। বলতে গেলে অফিসের সমস্ত দায়িত্বই তার উপর থাকে। সময় মত ফাইল রেডি করা থেকে অফিস মিটিং সবটাই সামাল দিতে প্রায় হিমশিম খেয়ে যায় সে। কাল অফিস থেকে ফেরার পথে একটা গোলাপ আর একটা আংটি কিনে নিয়ে গিয়েছিল তবে আজকের মিটিং এর চিন্তায় একেবারে ভুলে গেছে। মিটিং রুমে ঢুকে তারিখের কথা উঠতেই মনে পড়লো তার যে কত বড় একটা ভুল করে ফেলেছে সে। ঊর্মি যে এটা তে কতটা কষ্ট পাবে সেটাও তার জানা তবে মিটিং চলাকালীন ফোন বন্ধ রাখার যে নিয়মটা সে নিজেই বানিয়েছে তা সে কি ভাবে ভাঙে! অগত্যা অপেক্ষা করতে লাগলো মিটিং শেষ হওয়ার.....


এক ঘন্টা, দু ঘন্টা.... মিটিং চলতে থাকলো। কখনো তারা একটা প্রস্তাব রাখছে আবার কখনো সমুদ্রের অফিসের দিক থেকে একটা প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। অবশেষে মিটিং শেষ হতে ফোনটা খুলতেই ঊর্মির পাঠানো মেসেজ ঢুকলো। মেসেজটা দেখেই সমুদ্রের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

'আজকের দিনে ঊর্মি আমাকে ছেড়ে চলে গেল এভাবে আমায় একা রেখে। ঊর্মি তো জানে যে ওকে ছাড়া আমার এক মুহূর্ত ভালো লাগেনা। শুধুমাত্র ওর জন্যে আজ অফিসে হাফ ডে ছুটি নিয়েছিলাম। মিটিং টা না থাকলে হয়তো পুরো দিনটাই ছুটি নিতাম। ঊর্মি কে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলাম যে এই মিটিং টা আমাদের অফিসের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও ও এরকম করলো। আজ বিকেলে ঊর্মি কে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করবো বলে কাল থেকে আগাম টেবিল বুক করে রেখেছিলাম। একটা বার আমার সাথে কথাও বললো না যাওয়ার আগে।' এসব ভাবতে ভাবতে সমুদ্র ফোন হাতে নিয়ে ঊর্মি কে ফোন করলো,

ঊর্মি :- "হ্যালো।।"

সমুদ্র :- "ঊর্মি তুমি কোথায়?"

ঊর্মি :- "আমি তো বলেই দিয়েছি মায়ের কাছে কয়েকদিন থাকতে যাচ্ছি। তুমি তোমার অফিস সামলাও।"

সমুদ্র কে কিছু বলার সুযোগ টুকু না দিয়েই ফোন কেটে দিলো ঊর্মি।

সেদিন বাকি দিনটা অফিসেই কাটালো সমুদ্র বাড়ি গিয়েই বা কি করবে সে যে কারণে ছুটি নেওয়া সে কারণটাই তো নেই। রাত্রে বাড়ি ফিরে স্নান সেরে খাবার কিনতে ফ্ল্যাটের নিচে নামতেই দেখলো পিন্টুর হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে ফ্রিজে রাখা জ্যাম আর পাউরুটি খেয়েই পেট ভরালো সে। খাওয়া হলে বারান্দায় গিয়ে বসলো। বারান্দায় রাখা ফুলের গাছ গুলো ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। বিয়ের পর থেকে কখনো একা থাকেনি সে ঊর্মি কে সে নিজেই তার বাপের বাড়ি নিয়ে গেছে গাড়িতে আবার একসাথেই ফিরে এসেছে তারা দুজনে। ঊর্মির রাগ টাও স্বাভাবিক যদিও এই কয়েকদিন বেশি ব্যস্ত ছিল সে কাজ নিয়ে। মোবাইল হাতে নিয়ে একটা মেসেজ টাইপ করে পাঠালো ঊর্মি কে,

মেসেজ- 'ঘুমিয়ে পড়েছো?'

উত্তর আসলো প্রায় অনেকক্ষণ পর। ঊর্মি ইচ্ছে করেই দেরি করে উত্তর দিলো। আজ সে ভীষণ আঘাত পেয়েছে। সারাদিনে একটা মেসেজ করেও তো সমুদ্র তাকে তাদের বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা পাঠালো না। এই চার বছরে কি তার দাম এতটাই কমে গেল সমুদ্রের কাছে? সমুদ্রের মেসেজ আসতে দেখে ভেবেছিল হয়তো সমুদ্র তাকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানানোর জন্যে মেসেজ করেছে তাই তাড়াতাড়ি মেসেজটা খুলে দেখলো তবে তার সমস্ত আশা নিরাশায় বদলে যায় এক মুহূর্তে। উত্তর দেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই তার এখন তবুও সমুদ্রের প্রতি ভালোবাসা তার রাগের চেয়ে মাত্রায় একটু হলেও বেশি তাই উত্তর দিল,

উত্তর- হ্যাঁ ঘুমাচ্ছিলাম কেন? কিছু বলবে?

ঊর্মির মেসেজটা পরে সমুদ্রের খুব খারাপ লাগলো, ভাবলো 'এত রাগ ওর আমার উপরে। থাক আর তাহলে ওকে বিরক্ত করবো না।'

মেসেজ:- না কিছু না। ঘুমাও তাহলে। টাটা।

ঊর্মি মেসেজটা পরে চোখের জল ধরে রাখতে পারলো না। ঘুম তার পেয়েছিল ঠিকই এতটা পথ এসে সে সত্যিই ক্লান্ত ছিল তবে সমুদ্রের এই মেসেজ পাওয়ার পর আর তার ঘুম আসবে না বোধহয়। সে নিজের বেডরুমের সাথে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। দেখতে দেখতে রাত বারোটা বেজে গেল এবং তাদের বিবাহবার্ষিকী এভাবেই অভিমান নিয়ে কেটে গেল।

দুই প্রান্তে দুই মন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে চেয়ে কতই না অভিযোগ জানিয়ে গেল সারারাত ধরে।


(৩)

পরেরদিন সকালে সমুদ্র অফিস চলে গেল। ঊর্মি ঠিক করলো সে তার ছোটবেলার বন্ধুর সাথে দেখা করবে। বাড়ির সামনেই একটা জায়গায় দেখা করলো ঊর্মি তার বন্ধু প্রীতির সঙ্গে।

প্রীতি- "কিরে ঊর্মি এবারে একা আসলি যে? প্রতিবার তো সমুদ্র র সাথেই আসিস।"

ঊর্মি- "জানিস আমার মনে হয় আমি খুব বড় ভুল করে ফেলেছি ওকে বিয়ে করে। ও আমাকে আর ভালোবাসে না।"

প্রীতি- "কি ভুলভাল বলছিস! তোরা দুজন পারফেক্ট দম্পতি। দেখ ঝগড়া প্রত্যেকটি সম্পর্কেই হয় চেষ্টা কর ঝগড়া গুলো দিয়ে নিজেদের মজবুত করতে নিজেদের দুর্বল করতে দিস না এভাবে।"

ঊর্মি- "এগুলো বলা সহজ রে। কি বা চাই আমি ওর থেকে? শুধু একটু সময়। সেই সময় টুকুও ওর কাছে নেই আমাকে দেওয়ার মত।"

প্রীতি- "তোর বাবা মা জানে যে তুই রাগ করে চলে এসেছিস?"

ঊর্মি- "না।"

প্রীতি- "আমি বলি কি তুই বাড়ি ফিরে যা। এভাবে ভুল বোঝাবুঝি আরো বাড়বে বই কমবে না।"

ঊর্মি- "আমি ঐ বাড়িতে সেদিনই ফিরে যাবো যেদিন আমি আমার পুরোনো সমুদ্র কে ফিরে পাবো তার আগে না।"

সমুদ্র সারাদিন কাজে মন লাগাতে পারছে না। খালি ফোনের দিকে নজর এই বুঝি ফোন করলো ঊর্মি। আগে যখন সমুদ্রের রাগ হতো তখন কতবার ফোন করে করে তার রাগ ভাঙাতো তবে আজ তো সেও রেগে আছে তাই মনে হয়না তার দিকে থেকে কোনো ফোন বা মেসেজ আসবে। সমুদ্র ফোন হাতে নিয়ে ফোন করলো ঊর্মি কে দু একবার রিং বাজতেই ফোন ধরলো ঊর্মি

ঊর্মি- "বলো.."

সমুদ্র- "ফিরে এসো ঊর্মি তোমাকে ছাড়া ভালো লাগছে না।"

ঊর্মি- "সে কি! আমি ভাবলাম আমি থাকলে তোমার ভালো লাগে না। সারাটা দিন তুমি ব্যস্ত থাকো তাতে আমার কোনো অসুবিধা ছিল না তবে কালকের দিনে তুমি আমাকে একটা উইশ পর্যন্ত করলে না। আমি এটা কোনোদিন ভুলতে পারবো না সমুদ্র। কথা টা দামী গিফটের নয় শুধু মাত্র অনুভূতির।"

সমুদ্র- "আমার খুব ভুল হয়ে গেছে ঊর্মি। আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না?"

ঊর্মি- "যেদিন মনে হবে তুমি ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য সেদিনই ক্ষমা করবো তার আগে নয়। কারণ এইবারে আমি অনেক বেশি আঘাত পেয়েছি তোমার কাছ থেকে।"

ফোন রেখে দেওয়ার পর দুজনেই মন খারাপ করে কিছুক্ষন বসে থাকলো। ঊর্মি রাগ দেখালো ঠিকই তবে মনে মনে সেও ফিরে যেতে চায় সমুদ্রের কাছে তবে এভাবে নিজে থেকে ফিরে গেলে সমুদ্র আরোই তার দাম দেবে না এই ভেবে সে ও এগোলো না।

সমুদ্র ঠিক করলো যে ভুল টা সে করেছে সেটা নিজেই শুধরাবে। কালকে শুক্রবার অফিস থেকে আর বাড়ি ফিরবে না ঊর্মির বাড়ি গিয়ে ওর রাগ ভাঙাবে।


(৪)

শুক্রবার এসে উপস্থিত। সমুদ্র কাজ শেষে ঊর্মির বাড়ির পথে গাড়ী চালিয়ে নিয়ে যায়। রাতের রাস্তা একেবারে ফাঁকা না হলেও খুব বেশি গাড়ী নেই রাস্তায়। যখন গাড়ী ঊর্মির বাড়ির সামনে পৌঁছায় তখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে ঊর্মির বাড়িতে শুধু রাস্তার আলোয় ঊর্মির ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় ঊর্মি কে দেখা যাচ্ছে। সমুদ্র ঊর্মি কে ফোন করলো-

ঊর্মি- "কি হয়েছে?"

সমুদ্র- "এত রাতে বারান্দায় কি করছো? ভূত ধরবে যে।"

ঊর্মি- "তোমার কি তাতে? এই এক মিনিট তুমি কি করে জানলে?"

সমুদ্র- "নিচে দেখো..."

ঊর্মি নীচে তাকিয়ে দেখলো রাস্তার ওপাশে দাঁড় করানো সমুদ্রের গাড়ী।

ঊর্মি- "আমাকে বলোনি কেনো আসবে যে?"

সমুদ্র- "উফফ এত প্রশ্ন করো কেন স্কুলের টিচারদের মতো আমি কি তোমার ছাত্র নাকি? তাড়াতাড়ি আসো ঘুরতে যাবো।"

ঊর্মি- "কোথায় ঘুরতে যাবো? আর এত রাতে বাবা মা কে কি বলবো?"

সমুদ্র- "আবার সেই প্রশ্ন তোমার বাবার সাথে আমার কথা হয়ে গেছে। তুমি জিনিসপত্র নিয়ে ওদের বলে আসো।"

ঊর্মি তাড়াতাড়ি একটা সুন্দর সালোয়ার পরে মা বাবা কে জানিয়ে নেমে এলো। গাড়িতে এসে বসতেই সমুদ্র সামনের দরজাটা খুলে দিলো ঊর্মি ভিতরে ঢুকে বসলো।

সমুদ্র- "শোনো এই যে গাড়িতে বসলে এবার আর একটাও প্রশ্ন করবে না। কোথায় যাবো কেন যাবো সব গেলেই দেখতে পাবে। এখন লক্ষী মেয়ের মতো কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নাও।"

ঊর্মি- "বলো না গো কোথায় যাবো।"

সমুদ্র কোনো কথার উত্তর না দিয়ে গাড়ী চালাতে শুরু করলো। ঊর্মি গান চালালো গাড়ির সাউন্ড সিস্টেম এ। গাড়ী চলতে লাগলো দ্রুতগতি তে। কুড়ি মিনিটের মাথায় গাড়ী থামলো। সমুদ্র ঊর্মির চোখে রুমাল বেঁধে দিয়ে নামালো গাড়ী থেকে।

ঊর্মি- "কি করছো টা কি সমুদ্র? কোথায় নিয়ে এলে আমাকে?"

সমুদ্র- "চুপ করে এসো আমার হাত ধরে। একটু পর দেখতে পাবে নিজেই।"

কিছুদূর যাওয়ার পর সমুদ্র ঊর্মির চোখ খুলে দিল। ঊর্মি অবাক হয়ে চেয়ে রইলো সুন্দর্যের দিকে। এই মুহূর্তে তার আর কোনো রাগ নেই সমুদ্রের উপর।


(৫)

তিস্তা নদীর উপর পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ভরা। সে সুন্দর্য বলে বর্ণনা করার মতো নয় ঠিক যেন চাঁদের জ্যোৎস্না নীচে নেমে এসে তিস্তা নদীর জলে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্র আর ঊর্মি নদীর পাড়ে দুটো খবরের কাগজ পেতে বসলো। ঊর্মি এতক্ষন এত প্রশ্ন করে চলছিল অথচ এখন সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে সেই দিকে।

সমুদ্র - "কি ম্যাডাম? এবার কেক কাটা যাক?"

ঊর্মি এতক্ষন খেয়ালই করেনি যে সমুদ্র তার সামনে একটি কেক রেখেছে। কেক এর মধ্যে তার আর সমুদ্রের বিয়ের ফটো।

ঊর্মি - "কখন করলে এইসব?"

সমুদ্র - "কোন সব?"

ঊর্মি - "এখানে আসার প্ল্যান কখন বানালে? আর এই কেক টা?"

সমুদ্র ঊর্মির হাতটা ধরে নিজের বুকের কাছে ধরলো।

সমুদ্র - "ঊর্মি যে দিনটা গেছে সেটা হয়তো ফেরাতে পারবো না। তবে আজকের এই সুন্দর রাতে আমরা অনেক নতুন সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারবো। আজ এই রাতে চাঁদ আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী থাক না হয়।"

ঊর্মি সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইলো। এই সমুদ্রকেই তো সে ভালোবেসে ছিল একদিন। বুঝতে পারলো তার সমুদ্র কোথাও হারিয়ে যায়নি শুধু কাজের হাজার চিন্তার মাঝে আর আগের মতো সময় দিতে পারে না তাকে। সমুদ্র কেক এর বাক্স থেকে বের করে মোমবাতি টা জ্বালালো।

সমুদ্র - "নাও এবার নেভাও এটা...."

ঊর্মি ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে কেক এর কয়েকটা ছবি তুলে ফু দিয়ে মোমবাতির আলো নিভিয়ে দিলো। দুজনে মিলে কেক কাটলো এবং একে ওপর কে খাওয়ালো। কেক খাওয়া হলে তারা নদীর জলে হাত ধুয়ে আবার এসে বসলো। ঊর্মি সমুদ্রের কাঁধে মাথা রাখলো।

সমুদ্র - "তোমার জন্যে আর একটা জিনিষ আছে। আমাদের বিবাহবার্ষিকী তে তোমাকে দেবো বলে ভেবেছিলাম তবে মিটিং এর চিন্তায় তোমাকে দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। হাত টা দাও দেখি..."

ঊর্মি হাত টা এগিয়ে দিতেই ঊর্মির জন্যে কেনা হীরের আংটি টা ঊর্মির আঙুলে পরিয়ে দিলো সমুদ্র। সেই মুহূর্তে যেন চাঁদের আলো কেও হার মানাচ্ছিলো ঊর্মির সৌন্দর্য। সমুদ্র যেন চোখ ফেরাতে পারছিলো না ঊর্মির দিক থেকে।

ঊর্মি - "আমার ভুল হয়ে গেছে। সেদিন ওভাবে একা একা চলে আসা উচিত হয়নি তোমাকে ফোন করে অন্তত জানানো উচিত ছিল। এই কয়েকদিনে তোমাকে অনেক মিস করেছি। তুমি আমাকে না নিতে এলে আমি বোধহয় রেগেই থাকতাম আর ফিরতাম ও না তোমার কাছে।"

সমুদ্র - "হাহাহা পাগলী আমার। তুমি জানো তোমার নামের মানে কি?"

ঊর্মি - "কি?"

সমুদ্র - "তোমার নামের মানে ঢেউ আমার মিষ্টি পাগলী। ঢেউ এর স্থান চিরকাল সমুদ্রের বুকে ঠিক যেমন তোমার স্থান আমার বুকে। তাই ঢেউ ম্যাডাম আপনি যতই দূরে যান এই সমুদ্রের থেকে ফিরে কিন্তু আমার কাছেই আসতে হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম বুঝলেন?"

দুজনেই হেসে উঠলো। ঊর্মি আর সমুদ্র দুজনে দুজনের চোখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে একে অপরের মধ্যে মিলে গেল। শুধু চাঁদ আর তিস্তা নদী রইলো তাদের ভালোবাসার সাক্ষী।

   


Rate this content
Log in

More bengali story from Piyali Chatterjee

Similar bengali story from Romance