Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Maheshwar Maji

Romance


3  

Maheshwar Maji

Romance


তুমি আসবে বলেই

তুমি আসবে বলেই

8 mins 1.0K 8 mins 1.0K

বৃন্দাদেবী এক দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে বলে উঠলেন, তুমি সেই রণ!

রণ হাল্কাভাবে পা দুটো ছুঁয়ে বলে উঠল,ভাল আছেন?

---ইস!...সেই কতদিন আগে বার দুয়েক এসেছিলে।তাই কী চিনতে পারি বাবা?.. কত্ত বড় হয়ে গেছ?...একদম হিরোদের মত চেহারা করে ফেলেছ!..চেনা সহজ নাকি?বসো বাবা বসো।...বুম্বা একটু পরেই এসে পড়বে।

রণ সোফায় বসে বলে উঠল,বুম্বাকে ফোনে অনেকবার ট্রাই করলাম।বন্ধ বলছিল।তাই দৌঁড়ে আসতে হল।আপনি একদম ব্যস্ত হবেন না মাসিমা।আমি কিচ্ছু খাব না। একটা বিশেষ দরকারে এসেছি।

বৃন্দাদেবী দ্বিগুন ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলেন,সে হয় না বাবা!তুমি আমার ছেলের মতই।কিছু না খেয়ে যেতে দেব না। তুমি একটু বসো আমি এই এলাম।


এক জায়গায় গ্যাট মেরে বসে থাকার ছেলে রণ নয়।ছোট থেকেই একটু চঞ্চল গোছের।তাবলে যে পড়াশুনোতে মন্দ ছিল, তা কিন্তু একদম না। পায়চারি করতে,করতে পাঁচ মিনিটে দুপাতা মুখস্ত করার মত একটা অদ্ভুত ক্ষমতা তার মধ্যে ছিল।

আর টুথপেষ্ট ঘষতে,ঘষতে ম্যাথের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করে ফেলত।

তার মা,বাবা প্রতিবার ভয়ে,ভয়ে থাকতেন।এইবার ছেলে ডুম মারবে।আর ততবার তারা

 চমকেই গেছেন।মাঝে,মাঝে বলে উঠতেন,রণ সত্যি করে বলো তো বাবা।...টুকলি,ফুকলি করো না তো?...দেখো বাবা ।বরং তুমি ফেল করো।আমাদের তাতে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই।তবু আমাদের মুখে কালি দাগো না যেন।

রণ তখন পায়ের পাতায় ফুটবলটা দুবার নাচিয়ে চুম্বকের মত বুড়ো আঙুলের ডগায় দাঁড় করিয়ে বলে উঠত,আমাকে দেখে কী তোমার সেরকম মনে হয় মা?

ওর মা বলে উঠতেন,মনে না হলেও ভাবতে বাধ্য হই।...কোন সময়ও তো দেখলাম না দুদন্ড বসে পড়তে।এতসব প্রিপারেশন করো কী করে?

রণ এবার বলটাতে একটা হাল্কা কিক দেয়।জানলার আধ খোলা পাল্লা গলে সেটা সোজা অপেক্ষায়মান বন্ধুদের মাঝে গিয়ে ধপ করে পড়ে।

রণ যেতে, যেতে বলে উঠত,ছেলের সাকসেস সেলিব্রেট করো মা।টেনশন না। বন্ধুরা সবাই বিরিয়ানি খাবে জিদ ধরেছে।তুমি বরং ম্যাচটা শেষ হওয়ার আগে তৈরি করে ফেলো।...বাই।


রণের বন্ধু তালিকা একটু দীর্ঘই বলা চলে।তাদের মধ্যেও দু,একজন একটু ভিন্ন হয়।সে সম্পর্কটা বোধহয় বন্ধুত্বের আরো গভীরে প্রবেশ করে যায়।সেটাই হয়ে উঠেছে রণ আর বুম্বার মধ্যে।যদিও প্রফেশনাল দুজনের ভিন্ন।দেখাও খুব কম হয়।তবে ফোনের যোগাযোগটা নিয়মিত আছে।

সারাদিনে একবার খোঁজ নিতেই হবে।


বুম্বা কমার্সে ভর্তি হয়েছিল।তবে সে রকম রেজাল্ট না করাতে পারাই সিম্পিলভাবে গ্র্যাজুয়েশনটা কমপ্লিট করেছিল।

তারপর আর চাকরী,বাকরীর আশাই

বসে থাকেনি। বরং তার বাবার মার্চেন্ট বিজনেশটা নতুন করে সাজাতে শুরু করে।

আর রণের স্বপ্ন ছিল সি.এ।সেইমত নিজেকে তৈরি করেছিল।

ওর জিদটা একটু অন্য ধরণের। সহজে প্রকাশ পায় না। নিজের ভেতরেই আগুনটা জ্বালিয়ে রাখতে ভালোবাসে। সেইজন্য আঁচটা সবাই টের পায় না।এ। এমন কি সারাক্ষণ পাসে বসে থাকা মানুষটিও না।


এখন ওর পোষ্টিং আমদাবাদে।

এই কয়েক বছরে নিজের ব্যাঙ্ক ব্যালান্সটা এত বাডিয়ে ফেলেছে যে কাউকে বললে বিশ্বাস করতে চাইবে না।শুধুমাত্র তার মা,বাবা অনেকটা আন্দাজ করতে পারেন।

এই বার রণ এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি ঢোকার আগে সোজা নিউটাউনে ঢুকেছিল।ফোর্ট শোরুম থেকে নিজের কেনা গাড়িতে চেপে বাড়ি ফিরেছে।

ছেলের এরকম অদ্ভুত কান্ডর সঙ্গে এখন তার মা,বাবা অনেকটা মানিয়ে নিয়েছেন।

তাই তার বাবা শুধু ঠোঁট চওড়া করে বলে উঠেছিলেন, ইস!...কী আফসোস...একবার বুক ফুলিয়ে ঠান্ডা ঘরের কার্পেটে কেমন হাঁটতাম বলো দেখি!সে সুযোগটুকুও দিলে না।তারপরেই সরু চোখ করে ছেলের উদ্দেশ্যে আবার বলে উঠেছিলেন,

..হ্যাঁ রে রণ পুজোর ফুল পড়েছে তো?না এমনই চেপে গেছো?

রণ চাবিটা তার বাবার দিকে ছুঁড়ে বলে উঠেছিল, ইচ্ছে থাকলে মাকে নিয়ে কালীঘাট থেকে ঘুরে এসো।

আমি একটু বেরুচ্ছি।কাজ আছে।

ওর মা ধমক দিয়ে বলে উঠেছিলেন,বিকেল চারটের মধ্যে বেরুতে হবে।মনে আছে তো?ভদ্রলোককে কথা দিয়েছি।ভুলে যেও না কিন্তু।

- ইয়েস মা

তারপর রণ সোজা বুম্বাদের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিল।


রণ এই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো ড্রয়িং রুমটা তার আতশ চোখ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিল।দু,একবার লেন্স পয়েন্টটা কোমাল,অল্প বাড়ালো।আর তত অবাক হলো।যদিও সেসকল অভিব্যাক্তি তার চেহারায় ফুটে উঠল না।

ওদিকে বৃন্দাদেবী প্লেট সাজিয়ে সন্মুখে হাজির হয়ে গেছেন।

---নাও বাবা... এবার একটু জল,টল খাও দেখি।

রণ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে উঠল,পেন্টিং,ক্রাফ্টগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন মাসিমা?

বৃন্দাদেবি অল্প হেসে বলে উঠলেন

---ওগুলো সব বিভার হাতে গড়া।সারাদিন বসে,বসে ওইসব আজেবাজে কাজ করে বেড়ায়।মেয়েটাকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখে ছিলাম বাবা।কিছুতেই আর সায়েন্স নিয়ে পড়ল না। মাধ্যমিকে নাইন্টি ফাইভ পার্সেন্ট রেজাল্ট করেছিল।শেষে আর্টস থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পেন্টিং নিয়ে ডিপ্লোমা করে বসলো। এখন একটা ছোটোখাটো স্কুলে, ড্রয়িং শেখাচ্ছে বাচ্চা ছেলেমে়েদেরকে।

নিজের হাতেই ফিউচারটাকে মার্ডার করে বসলো।কিছু বলি না বাবা।আজকাল চারিদিকে যা শুনছি, তাই ভয় করে।ওর আনন্দটাকেই আমরা নিজেদের সুখ মেনে নিয়েছি।

রণ জুসের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলে উঠল,ইন্টারেস্টিং।পেন্টিংগুলো তবে সত্যিই ভাল।

ততক্ষণে কলিং বেল বেজে উঠল।

বুম্বা চোখের সামনে রণকে দেখতে পেয়ে, চোখদুটোকে রসগোল্লার মতো করে বলে উঠল,আরে রণ!..তুই...এই সময়. হটাৎ !একেবারে সোজা বাড়িতে হানা দিয়ে বসে আছিস?...একটা ফোন করতে পারিস্নি?

----তোর ফোনের পাত্তা ছিল?

---ও...সিট!...নতুন সিমটা আজকেই লাগিয়েছি।তুই বোস আমি চট করে স্নানটা সেরে নিই । তারপর একসাথে খেতে বসে কথা হবে।

---আরো খাবার?...তো এগুলো কী ছিল?

---তা হয় না রণ!...এতদিন পর ভুল মেরে বাড়িতে পা রেখেছিস।না খেয়ে একদম যাবি না। মা তুমি ওর কোনো চালাকি শোনো না।

উত্তরে বৃন্দা দেবী কাচুমাচু মুখ করে বলে উঠলেন, আজ আবার ফ্রিজও খালি।মাছ,মাংস.... কিছুই আনা নেই।

রণ তৎক্ষণাৎ বাধা দিয়ে বলে উঠল,একদম ব্যস্ত হবেন না,মাসিমা।আমি আপনার ছেলের মতই। বুম্বার কথা রাখতে যা আছে তাই অল্প খেয়ে ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়বো।

বুম্বা হাসতে,হাসতে বলে উঠল,...ও বুঝেছি!...আজকেই তাহলে তিরিশ তারিখ না?......তাই সোজা বাড়িতে উঠেছিস !.আচ্ছা বুঝলাম ।


খাওয়া শেষে রণ বলে উঠল,এমন অদ্ভূত মেনু আমি জীবনে প্রথম দেখলাম।খেলামও প্রথমবার ।এক কথায় অপূর্ব!

বুম্বা টি শার্টের ম্যাচিং খুঁজতে,খুঁজতে বলে উঠল,আমরা এসব খাওয়াই অভ্যস্ত, তাই স্বাদের কিছু বুঝি না।

পাগলীটার ভেতরে গুণের খনি আছে জানিস তো।শুধু,শুধু জীবনটাকে হেলায় কাটিয়ে দিচ্ছে।

রণ উৎফুল্লভাবে বলে উঠল,সব কটা মেনু তাহলে বিভা বানিয়েছে?

...লাস্টের ওই পাঁচমেশালী কী যেন...

বৃন্দাদেবী বলে উঠলেন,নগর কেত্তন।ওই রাধে আর ওই নাম রাখে।ওর রেসিপি...পৃথিবীর কোন বই খুঁজলেও পাবে না।

রণ বলে উঠল,বিভা কতক্ষণে ফিরবে?...একবার আলাপ করার খুব ইচ্ছে ছিল।

----রান্নাবান্না সেরে বান্ধবীর সাথে দেখা করতে গেছে। এতক্ষণ এসে যাওয়ার কথা।ফোনটাও নিয়ে যায় নি।হেঁটে মিনিট দশেকের রাস্তা।আমি বরং...

রণ থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল,থাক।এমন কোন জরুরী না।পরে কোন সময় দেখা করে নেব।চল এবার বুম্বা ।তোর আবার শার্ট চয়েস করতে এক ঘন্টা লাগে।আরে মেয়ে দেখতে আমি যাচ্ছি।তুই শুধু চয়েস করবি।তারজন্য এত সাজগোজ?

বুম্বা চোখ টিপে বলে উঠল,কী জানি যদি আমারো একটা হিল্লে হয়ে যায়!


মেয়েটির নাম শর্মিলী।পার্ক স্ট্রিটে একটা নিজস্ব বুটিক চালায়।দেখতে অপূর্ব সুন্দরী।নিখূঁত রূপচর্চা।পায়ের নখ থেকে শুরু করে চুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত কোথাও কোন খূঁত নেয়।

রণের মা,বাবা বেজায় খুশি।ওদিকে শর্মিলীর মা,বাবারো একি অবস্থা ।

বুম্বা তো যথারীতি অবাক হয়ে পড়েছে।মেয়ের এমন রূপ দেখে।স্বর্গের অপ্সরা আর শর্মিলীর মধ্যে সে কোন পার্থক্যই খুঁজে পেল না।

রণ সে কথা শুনে একবার কানে,কানে বলে উঠল,কেন রে...কী করে বুঝলি?...তুই কী স্বর্গ থেকে ঘুরে, টুরে এসেছিস নাকি?

বুম্বা রাগ করে বলল,সব সময় ইয়ার্কি করিস কেন বল তো?...আমি সত্যি বলছি।আর পছন্দ না হলে বল আমি চান্স লাগাব।


একসময় ওরা দুজনেই ওঠে গেল।পাশে একটা গ্লাস দিয়ে সুন্দর গ্যালারি বানানো আছে।

পুরো বাড়িটার ডিজাইন নাকি শর্মিলী নিজে তৈরি করেছে।

আধুনিক ফ্যাসন আর হোম ডিজাইন নিয়ে অনেকগুলো বিদেশ থেকে কোর্স করেছে।

তার ছাপ প্রতিটা কাজেই স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।

রণই প্রথম বলে উঠল, আপনি তাহলে পেন্টিংও বানাতে পারেন?

শর্মিলী প্লাক করা নিখুঁত ভ্রুযুগল নাচিয়ে বলে উঠল,অফকোর্স।

আচ্ছা ওই ডাস্টবিনে যে সকল জিনিস পড়ে রয়েছে।যদি বলি তা দিয়ে একটা মনের মত জিনিস বানাতে। সংগ্রহে রাখার মতো অদ্ভুত কিছু একটা তৈরি করতে, পারবেন?

শর্মিলী নাক কুঁচকে বলে উঠল,ওতে ড্যামেজ গাম,ভাঙা কাচ,পেন্সিল,সূতো,আর না জানি কত রকমের ফল আর শব্জির টুকরো পড়ে আছে। ওতে হাত লাগালে স্কীনে ইলার্জি বেরোবে।তাছাড়া ওসব দিয়ে কোন আর্ট বা ক্রাফ্ট মোটেও হয় না।

এসব বিষয়ে আপনার ধারণা অনেক কম।

রণ মনে,মনে একটু হেসে বলে উঠল,আপনার মা বলছিলেন আপনি খাবার তৈরি করতে জানেন।সত্যি নাকি?

শর্মিলী হাসি মুখে বলে উঠল,আসলে শখ তো।তাই শিখে ফেলেছি।তা প্রায় সাউথ,নর্থ,বাঙালি ফুড ছাড়া কয়েকটা ইটালিয়ন আর চাইনিজও পারি আর কী?

রণ বলে উঠল, ইমাজিন!..আপনি তো এক কথায় দশভূজা!!

শর্মিলী শুনে বার কয়েক মাথার খোলা চুলগুলো কানের পাশে গুছিয়ে রাখল।

রণ বলে উঠল,আপনি কুমড়ো,শশা আর লাউ,টাও-এর ফেলে দেওয়া খোসা দিয়ে কোন একটা বেস্ট মেনু বানাতে পারবেন?আসলে খাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল।

কথাটা শুনে শর্মিলীর মুখে একটা অদ্ভুত রকমের আওয়াজ বেরিয়ে এল।

যতদূর সম্ভব বমি আসছে এরকম একটা কিছু বোঝাতে চাইল।

শর্মিলী এবার সত্যি সত্যিই রেগে গেল।চোখ,মুখ লাল করে বলে উঠল,আপনি কি সত্যি সত্যিই একজন সি.এ?...না ঢং মারছেন বলুন তো?আপনার প্রফেশনালের সাথে আপনার রুচির কোনরকম মিল খুঁজে পাচ্ছি না। তাই প্রশ্নটা না করে থাকতে পারলাম না।

রণ স্বাভাবিক ভাবেই বলে উঠল,সরি ম্যাডাম ।আয়্যাম ভেরি সরি।আর আপনাকে কোন প্রশ্নই আমি করবো না। বরং আপনি আমার প্রফেশনাল বা ব্যক্তিগত ব্যাপারে যদি কিছু জানতে চান।অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে পারেন।


পরের দিন রণ একেবারে সপরিবারে বুম্বাদের ফ্ল্যাটে হানা দিল।

বৃন্দাদেবী সকাল থেকে শশব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।অথচ তিনি শুধু অস্থিরভাবে এ কামরা আর ও কামরা ঘুরেই বেড়াচ্ছেন।রান্না,বান্না রোজকার মত সেই যত্ন সহকারে বিভাই করছে।

একদম সাধারণ সাজগোজ।কসমেটিক সে পছন্দ করে না।

শাড়ি আর সালওয়ার।এই তার পছন্দের পোশাক ।জিন্স,টপ কখনো হাতেও তোলেনি।

ফুলের মধ্যে বেলি ওর সবথেকে বেশি পছন্দ।

শুধু চোখে কাজলটুকু টানে।

হাতে,পায়ে কোন অলংকার সে পরে না।

গায়ের রংটা ঈশ্বরের দান।।অবশ্য তা নিয়ে কোন অহংকার তার নেয়।

সেইটুকুই সাজগোজ নিয়ে ঘরভর্তি লোকজনের মাঝে একগাল হেসে একটার পর একটা জিনিস সাজিয়ে সকলের হাতে দিতে লাগল।

রণের বাবার তো মাথায় হাত!

কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে করছে।

এই সাদামাটা মেয়েকে তার এমন সুন্দর সোনার ছেলে পছন্দ করলো কেমন করে ?

গতকালের দেখা ওই সুন্দরী মেয়ের সামনে,এ মেয়েতো ডাহা ফেল।

তবু তাদের একমাত্র ছেলে নিজের উদ্যোগে জোর করে টেনে এনেছে এখানে।বিয়ের জন্য মেয়ে দেখাবে বলে।এ আবার মেয়ে নাকি! মাটির একটা পুতুল তো!


তবু কাচুমাচু মুখে রণের বাবা বলে উঠলেন,আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কী জানেন....মানে আমাদের না।আমাদের ছেলে পছন্দ ।ওর নাম রণ।একজন মস্তবড় সি.এ।

এই তো পরশু একখানা মার্সিডিজ কিনল।

এতদূর শুনে রণ গলা খাকারি দিয়ে উঠলো।

তার বাবা বুঝতে পেরে, কথার গাড়িটা ঠিক পথে ঘুরিয়ে বলে উঠলেন,সোজা কথা হল আপনাদের মেয়ে বিভাবতীকে রণ বিয়ে করতে চায়।

তারপর তিনি ছেলের দিকে নকল হেসে বলে উঠলেন,খুশি?...ঠিক বলেছি তো?

রণ আর একবার কাসলো।তার মা এবার স্বামীকে ধমক দিয়ে বলে উঠলেন,জীবনে আজ পর্যন্ত কোনো কাজটাই তো মন দিয়ে করতে পারলে না দেখছি।বলি কথাটা একটু ভাল করে বলতে পারো না?একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা!

তারপর তিনি বৃন্দাদেবির দিকে তাকিয়ে নরম সুরে জানতে চাইলেন,

...হ্যাঁ যা বলছিলাম।আপনাদের কী এই বিয়েতে কোন আপত্তি আছে?...আমরা কিন্তু বড় আশা নিয়ে আপনাদের বাড়িতে পা রেখেছি।

ওদিকে সকলেই হতবাক!...এ,ওর মুখের দিকে চেয়ে আছে!বিভা তো লজ্জায় মাথাটা নিচু করে ফেলল।

শুধুমাত্র বুম্বা জোর গলায় বলে উঠল,এটা কী রকম হল শুনি?

...এই রণ ।শেষে বন্ধুত্বের এই সাজা দিলি হ্যাঁ?... ওঠে আয় বলছি।

রণ অপরাধীর মত উঠে দাঁড়াল।

বুম্বা ওকে বুকের মধ্যে জাপটে ধরে কেঁদে উঠল।তোর এই ঋণ শোধ করব কী করে রে .....হ্যাঁ?

বৃন্দাদেবী আর থাকতে পারলেন না। বলেই ফেললেন,আচ্ছা বাবা,বলি আমাদের এই সাদামাটা মেয়েটাকে তুমি হঠাৎ করে পছন্দ কেন করলে?..সেটাই তো মাথায় ঢুকছে না!

ওর বাবা যোগ দিয়ে বলে উঠলেন,একই প্রশ্ন আমারো।

রণ স্বাভাবিক গলায় বলে উঠল,যেমন সব চকচকে জিনিস হিরে হয় না। তেমনি অনেক হিরের উজ্বলতা কয়লার গর্ভে লুকিয়ে থাকে।এটা আমার সৌভাগ্য।আমি ঠিক সময়ে সেই হিরের খোঁজ পেয়েছি।আসলে বিদেশ ভুঁই-এ একা পড়ে থাকি ।তাই জীবনটা সাজাতে শিখিনি।শুধু টাকাই রোজগার করতে শিখেছি। 

বিভা আমার জীবনে এলে সেই অভাবটুকু দূর হয়ে যাবে।

যে মেয়ে, বাড়ির আবর্জনা দিয়ে এত সুন্দর ঘর সাজাতে পারে!!ফেলে দেওয়া শব্জি টুকরো দিয়ে এমন সুস্বাদু পদ রান্না করতে পারে।তার থেকে ভালো জীবনটাকে আর কেও সাজাতে পারবে না।

আই লাভ ইউ বিভা।তুমি কি মেনে নেবে আমাকে?

উত্তরে বিভা দুহাতে নিজের রাঙা মুখখানা ঢেকে ফেললো। 


Rate this content
Log in

More bengali story from Maheshwar Maji

Similar bengali story from Romance