ত্রিভুজ ( পর্ব - ৫ )
ত্রিভুজ ( পর্ব - ৫ )
রাতে ডিনারে সকলে একিত্রিত হলো। আজ আবার নতুন সদস্য সেই টেবিলে উপস্থিত। সেই মুহুর্তে নুপুর কিছু বলেনা প্রদ্যুতকে, সারাদিনের সকলের অভিঞ্জতা আর নুপুরের হাতের রান্নার প্রশংসা এর মধ্যদিয়েই ডিনার সম্পূর্ণ হয়। প্রদ্যুত বাড়ির সকলের সাথে আলাপ করিয়ে দেয় তাদের নতুন সদস্যের সাথে। নুপুর বিশালের বিষয়টি বার বার এরিয়ে যেতে চাইছিল পদ্যুত হয়তো সেটা লক্ষ্য করছিল কিন্তু কোন প্রত্যুত্তর সেও বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সামনে করলোনা। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ হতে প্রদ্যুত বিশালকে জিঙ্গাসা করে সে তার রুমে যেতে পারবেকিনা? বিশাল জানায় তার কোন সমস্যা হবেনা। ডিনার শেষ করে সকলে আপন আপন রূমে চলে যায়।
বিছানায় শুয়ে প্রদ্যুত নুপুরকে জিঙ্গাসা করে ওকে নিয়ে তোমার কোন প্রবলেম হচ্ছে।
নুপুর বলে না প্রবলেম আবার কিসের তবে একটা অচেনা মানুষকে খাবার টেবিলে টেনে আনাটাকি ঠিক। প্রদ্যুত বলে নুপুর তুমি ওকে ভুল ভাবছো ও ঐধরনের ছেলে নয় ওর সাথে আমাদের হসপিটালের দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক খুব ভালো মনের মানুষ ছেলেটি তুমি হয়তো খামাখা ওকে নিয়ে চিন্তা করছো। নুপুর বলে আমি ওকেনিয়ে নয় আমার চিন্তা বনুকে নিয়ে, দেখ ইয়ং ছেলে বাড়িতে একটি উপযুক্ত মেয়ে আছে যার বিয়ের দেখাশোনা চলছে যদি কিছু একটা ঘটে যায়, সব চাইতে বড় কথা ওর অতীত ওর মনে নেই যদি ওর আগের কোন সম্পর্ক থেকে থাকে তখন বনুর কি হবে? প্রদ্যুত বলে তুমি খামাখা এতদুর পর্যন্ত ভাবছে আমার বোনকে কি তোমার এতটা বোকা মনে হয়? দেখ ও আমার রোগী আর একজন ডাক্তার হিসাবে তাকে সুস্থ করে তোলা আমার কাজ আর নুপুর এটাই আমাদের শেষ অস্ত্র ওকে একটা পরিবার দিয়ে তাদের মাঝখানে রেখে ওর অতীতটা ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করা। তোমার যদি কোন আপত্তি থেকে থাকে তাহলে আমায় অন্যভাবে ভাবতে হবে।
নুপুরের মনে হলো বিষয়টা এবার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, এবার নুপুর প্রদ্যুতের আরো কাছে এসে বলে কি হিরো রেগেগেলেতো আমার উপর। আরে বাবা আমি জানি এটা আমার Husband. আর আমার হাসবেন্টকি কখনো কোন ভূল করতে পারে। আমি একটু দেখলাম আপনার মনের জোর কতটা আছে? প্রদ্যুত বলে তা আমার বেগম কি বুঝলেন? নুপুর প্রদ্যুতের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে এগিয়ে যাও আমি তোমাকে সম্পূর্ণ সহায়তা করবো যতদিন না উনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। আজথেকে তোমার অবর্তমানে ওনার দেখাশোনার দ্বায়ীত্ব আমার, তোমাকে কথা দিলাম উনি এক মুহুর্তের জন্য উপলব্ধি করবেন না এটা ওনার পরিবার নয়। প্রদ্যুত নুপুরকে বুকে টেনে নিয়ে বলে এই কথাটা আমি তোমাকে বলতাম। তুমি জানোনা তুমি নিজে দ্বায়ীত্বটা নেওয়াই আমি কতটা হালকা বোধ করছি। দুজনায় একে অপরকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ে খাটের সাথেই লাইটের বেড সুইচ প্রদ্যুত আলো নিভিয়ে দেয়।

