তিতাস ( পর্ব-৯ )
তিতাস ( পর্ব-৯ )
সকালে ঘুমথেকে উঠে আজ তিতাস স্নান সেরে নিয়েছে। মনের মধ্যে একটা অধির আগ্রহ আজ সারাটা দিন সে তার প্রিয় লেখকের সাথে কাটাবে। তার আগে প্রতিদিনের কিছু নিয়ম তাকে অতিবাহিত করতে হয়। যেখানে সে P.G তে থাকে সেই বাড়ির সামনে একটা সুন্দর বাগান রয়েছে মাসিমার বাতের বেদনা তিনি সঠিকভাবে হাঁটতে পারেন না বলে পুজর ফুল তোলার দ্বায়ীত্বটা তিতাসের। রামুকাকা বাগানের মালি। প্রাণডেলে সাজিয়েছেন বাগানটাকে। বাগানে ঢুকলে মনে হয় যেন একটা স্বপ্নের নগরীতে প্রবেশ করেছি। তিতাসের খুব প্রিয় এই বাগানটি। বাগানের মাঝখানে কিছুটা জায়গা নিয়ে একটা ডাইনিং টেবিলে পাতা আছে। প্রতিদিন বিকালে ঐ ডাইনিং টেবিলে টি পার্টি হয় তাদের। তিতাস, মাসিমা, মেসমষায় আর রামু কাকা। ঠিকঠাক হাটতে না পারলেও চা বানিয়ে নিজেই নিয়ে আসবেন তারপর সকলে মিলে এক সাথে খাওয়া দাওয়া হবে। রান্নাঘর ছাড়ার পাত্রি উনি নন। যাইহোক খুব বৃহত না হলেও বাগানটা তিনটে ভাগে ভাগ করা এক পাশে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল আর এক পাশে বিভিন্ন বাহারি গাছ যেখানে আমরা বসি আর এক পাশে ফুলের বাগান। নানান রকমের জবা টগর তো রয়েছেই পাশাপাশি মরশুমি ফুলের গাছ লাগানো। এখন শিতের প্রায় শেষ পর্ব তথাপি বেশ কিছু শীত কালিন ফুলগাছ ফুলে ভরে রয়েছে। যাইহোক নিয়ম মতো তিতাস পুজার ফুল সংগ্রহ করে নিয়ে ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করে। মাসিমাও যথা রিতি স্নান সেরে সেখানে উপস্থিত হন। ঠাকুর ঘরে তার পাকা এক ঘন্টা সময় লাগে। পা ভাঁজ করে বসতে বারন করায় একটা চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে যেটার উপর বসে তিনি পুজা দেন। মা কালির উপাশক ফলে মায়ে একটা সুন্দর ছবি সিংহাসনে রয়েছে। ছবিটা দেখলে প্রান জুড়িয়ে যায় মনে হয় মা যেন জীবন্ত। তিতাস দেবদেবীতে বিশ্বাস করে বটে তবে এই বয়সের মেয়ের পক্ষে ঐ বুড়ির সাথে বসে এক ঘন্টা যাবত কালি গায়িত্রী জপ করা প্রচন্ড কঠিন বিষয় কিন্তু উপায় কি বাদ্ধতা বসত মাসিমার সাথে সেটা তাকে করতেই হয়। দেব দেবীকে অন্য দান করবার পর প্রথম দশ মিনিট ধ্যান তারপর মন্ত্র যপ যদিও বিষয়টা এখন অভ্যাসে রূপান্তরিত হয়েছে।
পুজা যখন শেষ হলো তখন ঘড়িতে বাজে আট্টা দশ, মাসিমা বললেন পনের মিনিট পর ডাইনিং টেবিলে চলে আসবে আমি টিফিনটা রেডি করে নিয়ে আসছি। মাথা নেরে সন্মতি জানালো তিতাস তারপর নিজের ঘরে চলে গেল। আগের দিন কিছু জামা কাপড় কেচেছিল সে, রাতে গোছানো হয়নি তাই সে গুলোকে ঝটপট গুছিয়ে নিলো সে। অগোছালো কোনকিছুই পছন্দ করেননা মাসিমা সুধুমাত্র পায়ের বেথার জন্য উপরে উঠতে পারেনা বলে তিতাসের রেহাই। যাই হয়ে যাকনা কেন ঘর দুয়ার টিপটপ চাই মাসিমার। যাইহোক জামাকাপড় গোছগাছ সেরে সে একবার ভাবে দীপমাল্যকে কি একবার ফোন করে নেবে? ফোনটা হাতেও নিলো সে তারপর কি একটা মনে হলো সে আর ফোন করলো না। পনেরো মিনিট হয়ে গিয়েছে মর্নিং ওয়াল্ক সেরে একেবারে বাজার করে ফিরেছেন মেসোমষায়, একটু ফ্রেস হয়ে নিয়ে তিনিও উপস্থিত হয়েছেন টেবিলে। মাসিমা লুচি আর কুমরোর ছক্কা নিয়ে হাজির যদিও ডাক্তার মানা করেছেন কুমরো খেতে মাসিমার এটা খুব প্রিয়ো খাবার তাই তিনি ডাক্তারকে বলেই দিয়েছেন কুমরো ত্যাগ করা যাবেনা তবে মাঝে মধ্যে খাবেন। ছোলা দিয়ে কুমরোর ছক্কাটা মাসিমা দারুন বানান। খেতে খেতে মাসিমা তিতাসকে জিঙ্গাসা করে আজ দুপুরে তোমারতো আবার নিমন্ত্রণ রয়েছে তা রাতে এখানে খাবে নাকি……..? তিতাস বলে এখন কি করে বলি বলুনতো আমি বরঞ্চ ওখানে গিয়ে আপনাকে ফোন করে জানাবো কেমন। মাসিমা বলেন ছটার মধ্যে জানিয়ে দিয়ো আর একটা কথা তোমাকে বলে রাখি এখন সময়কাল ভালো নয় তাই যেটাই করবে বুঝেশুনে করবে তুমি আমাদের মেয়ের মতো তাই সাবধান করছি নইলে কিছু বলতাম না। তিতাস বলে উনি ঐধরনের মানুষ নন মাসিমা। মাসিমা বলে হতেপারে ও ভালো মানুষ কিন্তু আমাদের সমাজ ভালো নয় মা তাই একটু বুঝেশুনে পথ চলাই ভালো। তিতাস সন্মতি জানিয়ে প্রসঙ্গটা থেকে সরে যায় বলে বইটা পড়ছেন? মাসিমা বলে পড়ছি মন্দ লেখেনা ছেলেটি নিজেকে ধরে রাখতে পারলে অনেক এগোতে পারবে। এখনো কিছুটা বাঁকি রয়েছে সম্পূর্ণটা শেষ করে তবেই ফাইনাল রিপোর্ট দিতে পারবো। মাসিমার কথায় সকলে হেসে ওঠেন। মেসো বলেন খুব কঠিন পাঠক কিন্তু তিতাস একেবারে চুলচেরা বিচার করবেন। মাসিমা বলেন সে আর করতে পারলাম কোই বলো নানান কারণে পড়াশুনাটাও শেষ করতে পারলাম না M.A তে ভর্তি হলাম বটে এমন সময় বাবা চলে গেলেন মাথার উপর মা এবং দুই ভাই বোনের দ্বায়ীত্ব এসে পড়ল। বছর চারেক এতটাই চাপ নিতে হয়েছিল যে পড়াশুনা লেখালেখি সব ডকে উঠলো। তারপর তোমার বাড়িতে আসা ছয়মাস অন্তর আজ এখানে তো কাল সেখানে বদলি সংসার গোছাতে গোছাতেই সময় কেটে গেল, তবে এটা ঠিক তুমি কষ্ট আমাকে কোনদিন বুঝতে দাওনি যেটুক কষ্ট এসেছিল ঐ বছর চারেক। তিতাস এখনতো সময় আছে মাসিমা আপনিতো লিখতে পারেন। ছোটবার শক্তি নেই মা। তিতাস বলে কোথাও ছুটতে হবেনা তোমার ফোনে আমি একটা অ্যাপ নাবিয়ে দেবো তুমি সেখানেই লিখবে কেমন……….।

