STORYMIRROR প্রোফাইল বাড়ি সিরিজ গল্প কবিতা কোট্স অডিও কেনা প্রত
STORYMIRROR প্রোফাইল বাড়ি সিরিজ গল্প কবিতা কোট্স অডিও কেনা প্রত
STORYMIRRORপ্রোফাইলবাড়িসিরিজগল্পকবিতাকোট্সঅডিওকেনাপ্রতিযোগিতাপুরস্কারশিক্ষায়তনআমাদের সম্পর্কেআমাদের অংশীদারযোগাযোগ করুনTerms & Conditionগোপনীয়তা নীকিছু গল্প কবি হয়তো চায়নি, কিন্তু প্রকৃতি তা নিজে লিখে দিয়ে যায়।
কিছু গল্প কবি হয়তো চায়নি, কিন্তু প্রকৃতি তা নিজে লিখে দিয়ে যায়। কিছু গল্পের ব্যাক্ষা হয় না,নিজের মধ্যে আগলে নিতে হয়। কিছু শব্দের অর্থ হয় না,মনের মাঝে গেঁথে রাখতে হয়। কিছু সম্পর্কের নাম হয় না,হৃদয়ের কোণে ছেপে রাখতে হয়!
নিরঞ্জন আজ একটু বেশিই কবি কবি হয়ে উঠেছে। জানালার ধারে হাল্কা কফি নিয়ে বসে সে মেতেছে মহাকাব্যিক কোনো গল্প রচনায়। নিরঞ্জন সে তো সাদাসিধা এক ছেলে। আজ কেন তবে মনে এতো আবেগ কবির সুরে সুরে ভেসে আসছে তাহার বুকে?
প্রতিদিনের মত আজও লেট! নিরঞ্জন এর মা ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত।ছেলের সে বিষয়ে কোনো ধ্যান-ই নেই।
_"কি রে নবাব পুত্রুর ঘুম থেকে আজ উঠা হবে? নাকি সব রেখে ঘুমিয়ে পড়ে থাকলেই চলবে?"
_"উফ মা, এত জ্বালাইও না তো! একটু ঘুমোতে দেও,যাও তো!"
_" তোর কি কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই, আজ বছরের প্রথম দিন,আজও পড়ে পড়ে ঘুমোবি তুই?"
_" কি বলো আজ পহেলা বৈশাখ?"(বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে)
_"না আজ পহেল বৈশাখ নয়,আজ পহেলা চৈত্রির!" (রাগী ভাষায়)
_"তাড়াতাড়ি খাবার রেডি করো, কলেজ যেতে হবে যে আমার,তুমিও না মা খুব অলস।এখনো খাবারটা রেডি করতে পারলে না!"( বলতে বলতে ব্রাশ নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেল)
নিরঞ্জনের মা বকতে বকতে চলে গেলেন ছেলের জন্য খাবার রেডি করতে। ওদিকে নিরঞ্জন দ্রুত ফ্রেশ হয়ে, কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। আজ তাদের কলেজে বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। মিস হয়ে গেলে তো চলবে না। তাই নিরঞ্জন লেট হয়ে যাবে ভেবে না খেয়েই বের হয়ে যাচ্ছে কলেজের পথে।
_" কিরে যাচ্ছিস কই তুই এভাবে ছুটে?"
_" কলেজ যাচ্ছি, "।
_" কি বলিস! ক'টা খেয়ে যা বাপ,না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হতে নেই!"
_"সময় নেই মা, অলরেডি লেট, তাড়াতাড়ি যেতে হবে!"
_"তাই বলে না খেয়ে যাবি? ছেলেটাকে নিয়ে আর পারি না বাপু! মেলা থেকে একটা ধরে নিয়ে আসিস তোর জন্ত্রনা আর আমি নিতে পারব না এই বলে দিলাম"!(কিঞ্চিত জোরে)
_"হ্যা হ্যা আনবো আনবো,তখন তো আবার মেনে নিবে নানে"!
~ আজকের সকালটা অন্যান্য সকালের মত না! কিছুটা যেন আলাদা! আজ বাতাসে চাপা বেলির সুগন্ধ যেন একটু বেশিই ছড়াচ্ছে,গাধা ফুল গুলো যেন আজ একটু বেশিই দুলছে! পাখি গুলো আজ খুবই মিস্টি সুরে কিচিরমিচির করছে! সে যেন এক মনোরম পরিবেশ!
তবে মনোরম পরিবেশ আর মনোরম থাকতে দিল কই। (ফোনটা বেজে উঠলো,উপাশ থেকে নিরঞ্জনের বন্ধু তাকে লেট হয়ে যাচ্ছে দেখে কল দিয়েছে)
_" কিরে নিরঞ্জন তুই কি মানুষ হবি না! কটা বাজে খেয়াল আছে?"
_"এই সাত সকালে তোরে আবার কে দুচলো নিখিল? এত চিল্লাচ্ছিস যে!"
_"জনাব সকাল আর নেই,সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চলল, আপনি কতদুর!"
_" এইতো কলেজ গেটে,আসছি দাড়া"
কলেজে গিয়েই নিরঞ্জন চলে গেল সাজতে! আজকের র্যালিতে তাকে হুজুর সাজতে হবে। এমনিতেই লেট করে এসেছে,এই অল্প সময়ের ভিতর কোনো রকম জুব্বা আর রুমাল টা পড়েই বেড়িয়ে এল!
নিখিল: এই শ্লা! তুই হুজুর সেজেছিস তোর টুপি কই?
নিরঞ্জন : ওহ সেট! খেয়াল ছিল না রে।
আফিম ভাই: বাদ দে রুমাল তো আছে,কাজ চলে যাবে নে!
নাইম ভাই আফিম ভাইকে ডেকে বলল, ``ওদের সবাইকে নিয়ে বের হ,স্যার দেখবেন!"
সবাই সুন্দর করে সেযে মাঠে গিয়ে দাড়ালো। স্যার আসবেন সবাইকে দেখতে। আজ আরও অনেকেই সুন্দর করে সেজে এসেছে, কত পরীরা আজ শাড়ি পড়ে এসেছে! সবাই তাদের কে দেখছে,নিরঞ্জনের অবশ্য এতে কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা কোনোটিই নেই। সে চিন্তা করছে আজ এত বড় র্যালিতে সারা রাস্তা কি কতে হেটে বেড়োবে।
হটাৎ এক অপরিচিতার দিকে নিরঞ্জনের চোখ আটকে গেল!!!
~লালটুকটুকে মেয়েটির গায়ে গাড় লালশাড়ি,হরিণী চোখে তার গাড় কালো কাজল,যেন আশে পাশের সব আলো সে নিজের ভিতর কেড়ে নিচ্ছে! খোপায় গাঁথা চাপা ফুল,আবার গলায় পড়েছে গাঁধা ফুলের মালা! যে কোনো কবি,যেকোনো সাহিত্যিক তার রুপের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিচ্ছই একটা গোটা উপন্যাস লিখে ফেলতো!
সেই উপন্যাসের পাতায় পাতায় লেখা থাকতো, এক পলক চাহনিতে যেন কেটে গেল আস্ত একটা যুগ! কি ছিল সেই রুপের মায়া,সময় পর্যন্ত যার কাছে এসে থেমে গিয়েছিল!
লালটুক --টুক সেই শাড়ির উপর সাদা চাঁদর মুরিয়ে ছিল তাহার বাম কাঁধে! এ যেন প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ কোনো সৃষ্টি! যার কাছে সময় এসে থমকে দাঁড়ায়! রঙ এসে যার পায়ে রাঙিয়ে দেয়,বাতাস এসে যার খোপায় গাথা ফুল দুলিয়ে দেয়! আহা কি তাহার রুপ,কি তাহার সৌন্দর্য!
তাহার হাতের কাঁচের চুরির ঝুম ঝুম শব্দে মাতাল করে তুলেছে পরিবেশ! হাতে মোড়ানো ফুলের মালার খসে যাওয়া পাপড়ি উড়ে এসে মনের গভীরে যেন ফুটিয়ে দিয়ে যাচ্ছে নতুন কোনো এক ফুল! প্রেমের ফুল!
তাহার ডান হাত ব্যস্ত ছিল ফুলের জুড়িটাকে আগলে ধরে রাখতে! অথচ দেখো, হয়তো কোনো এক ছেলে তার রুপে মগ্ন হয়ে ভাবছিল, সেই হাত তাহার মুখে স্পর্শ করে দিয়ে যাচ্ছে! ’’
নাইম ভাই এর ডাকে, নিরঞ্জন ভাবনা থেকে ফিরে আসলো।
নাইম ভাই: কিরে হেংলার মত দাঁড়িয়ে কি ভাবছিস,ইজ্জত যা খাওয়ার অলরেডি টুপি ছাড়া এসে খেয়েছিস,এবার একটু কর্মঠ হ,কাজ-টাজ ও তো কিছু করতে হবে নাকি?"
নিরঞ্জন : হুমমম... ভাইয়া কত মায়াবী তাহার চাহনী,তাই না?
নাইম ভাই: এই কি বলছিস তুই,তোর মাথা ঠিক আছে?
নিরঞ্জন : কি মধুর তাহার হাসি,🌸
রোমান ভাই: কি ভাই, শুকনো পাতা সেবন করিয়াছো নাকি হুম!
নিরঞ্জন : শুকনো,হ্যা শুকনো,আমার হৃদয়টা যেন শুকিয়ে গিয়েছে তাহাকে কাছে পাওয়ার তৃষ্ণায়!....................(🌸)
......চলবে!
✒️#মো:জিহাদ_আহমেদ_জয়
#বৈশাখী_নিলাঞ্জনা
#পার্ট_১

