"মিত্যুর বার্তা" আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। পড়াশুনায় অনেকটাই মেধাবী হওয়ায় মা
"মিত্যুর বার্তা" আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। পড়াশুনায় অনেকটাই মেধাবী হওয়ায় মা
"মিত্যুর বার্তা"
আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। পড়াশুনায় অনেকটাই মেধাবী হওয়ায় মা-বাবার একটু কড়া শাষনই ছিল আমার উপর সর্বদা। বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডাটা বলতে গেলে দেয়াই হতো না। সকালে নাস্তাটা সেরে স্কুল যেতাম,সেখান থেকে আবার বাড়ি ফিরে গোছল সেরে খাওয়া দাওয়া কমপ্লিট করে ঘুমিয়ে যেতাম।বিকালে খেলাধুলা ঘুরাঘুরি বলতে বাড়ির টম বিড়ালটার সাথে ছাদে গিয়ে কিছুখন সময় কাটাতে পারতাম। এটাই বুধয় অনেক বেশি ছিল।
- একদিন বাবা কোথা থেকে বাড়িতে একটা পুরোনো সাদা কালো টিভি নিয়ে আসলো। অনেকটা আনন্দিত হয়ে টিভিটা আমার ঘরেই বসানোর আবদার করে বসলাম। বুঝিনি বাবা ওভাবে রাজি হয়ে যাবে। কয়েকটা দিন টিভি দেখেই বিকালের সময়টা কাটাতাম।কেননা বিকাল ছাড়া তেমন একটা ফুরসতই পেতাম না। সারা দিন শুধু পড়া আর পড়া। আনন্দের এক মাত্র মাধ্যম বলতে গেলে ঐ আদী কালের টিভি টাই ছিল। তাও বেশিদিন টিকলো না। নস্ট হয়ে পড়ে রইলো। নস্ট কেননই বা হবে না। এমনিতেও পুরোনো তাও আবার সেই আদি যুগের মডেল।
- সেইদিন টা আমার খুব মন খারাপ ছিল। এক্সামে একটা সাব্জেক্টে ক্লাসের সেকেন্ড বয়ের চেয়ে ২মার্ক কম মার্ক পেয়েছিলাম বলে বাবা ভিষন বকা বকে ছিল। একাকী মন মরা হয়ে টম বিড়ালটার সাথে বন্ধ টিভিটার পাশে জানালা দিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বলা দরকার, আমাদের বাড়ির পিছনে একটা বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছিল। সেখানে প্রায়ই খেলা হত। আগামীকালও একটা বড় ম্যাচ আছে এখানে। আমার ঘরের দক্ষিন দিকের জানালাটা দিয়ে সম্পন্ন গ্যালারিটা দেখাতো। আমি প্রায়ই আমার আধার ঘরের ভিতর থেকে আলোকৃৃত স্টেডিয়ামের জনাকীর্ন খেলা উপভোগ করতাম।
- কান্না করতে করতে চেয়ারে বসেই আদো ঘুমে চলে গেছিলাম। রাত ও বেশ গভীর হয়েছিল। হটাৎ ঝিক করে একটা শব্দে আমার ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘুমে আপসা আপসা চোখে এ কি দেখলাম আমি! হটাৎ করে লাফ দিয়ে উঠে নিজের চোখ দুটোকে দুই হাত দিয়ে ঘষতে থাকলাম। না আমিতো ভুল দেখছি না। সত্যিই তো। কিন্তু একটা বন্ধ নস্ট হওয়া পুরোনো টিভিটা অন হয়ে যাবে? ভাবতে ভাবতে এগিয়ে গেলাম টিভিটার দিকে। লাইন বোর্ডটা চেক করলাম। টিভির লাইনটাও তো খুলা! তাহলে কিভাবে বিনা ইলেক্ট্রিসিটিতে টিভিটা খুলে গেল। ভয়ে একটা দৌড় দিয়ে মা-বাবার রুমের সামনে চলে গেলাম। রুমে নক করবো ঠিক তখনই ভাবলাম এত রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে যদি এ কথা বলি,তাহলে তারা কখনো তা বিশ্বাস করবে না। হতাশ হয়ে,মনে একটু সাহস জুগিয়ে নিজের রুমে ফিরে আসলাম। দেখলাম টিভিটা এখনো আর চলছে না। বড় একটা নিশ্বাস ছেড়ে,নিজের ভুল ভেবে বেডে গিয়ে শুয়ে পরলাম। এমনটাই ভাবতে ছিলাম কি করে আমি এত ভুল দেখতে পারি।এমন সময় আবারও ঝিক করে টিভিটা অন হয়ে গেল। লাফ দিয়ে উঠে গেলাম বিছানা থেকে। সোজা চলে গেলাম টিভিটার সামনে। হটাৎ করে একটা অচেনা ছীন্ন বিচ্ছিন মাথাটা ঘাড় থেকে কাটা একটা লোক লাইভে আসলো সেই পুরোনো মডলের সাদা কালো টিভিতে। আমাকে দিকেই বলে উঠলো স্বাগতম সম্রাট।
আমি ভীত কন্ঠে বলে উঠলাম কে তুমি? আমার নাম কিভাবে জানলে? উত্তরে লোকটা শুধুই হাসলো! কিছুক্ষন গগনবিদারী হাসি হেঁসে বলে উঠলো কেমন আছো সম্রাট?যাক বাদ দেও বলতে হবে না ( বলেই আবারও সেই গগনবিদারী হাসি)। ভয় পেয়ো না বালক। আমার যে তোমার সাহায্য খুবই প্রয়োজন। নিজেকে একটু সাহস জুগিয়ে বল্লাম সাহায্য?কি সাহায্য করবো আমি তোমার? লোক বল্ল ঐযে তোমার বাড়ির দক্ষিন দিকটার স্টেডিয়াম।কাল ওখানে একটা লোক মারা যাবে,পারলে ঠেকাও(বলেই আবারও গগনবিদারী হাসি)। হাসিটা থামিয়েই বল্ল বাই সম্রাট বলে টিভিটা বন্ধ হয়ে গেল। আমি ভয়ে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইলাম।
- সকালের সূর্যের আলো জানালা দিয়ে চোখে পড়তেই আমার জ্ঞান ফিরে আসলো। রাতে যা হয়েছে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লাম। মা-বাবাকে কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করলাম না। উঠেই টিভিটাকে ভালো করে দেখলাম। দেখে খুবই বিস্মিত হলাম। এ টিভিতে কিভাবে একটা লোক লাইভে আসলো। সেদিন আর স্কুল গেলাম না। সারাটা দিন জানালা দিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে রইলাম। বিকাল বেলা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হলো। মাঠটা লোকেদের চিল্লাচিল্লিতে ভরে গেল। কই কোথাও তো কোনো লোক মারা গেল না। ভাবলাম হয়তো কাল রাতে আমি কোনো স্বপ্ন দেখেছিলাম। আস্তে আস্তে খেলা শেষ হলো রাত ১০ টার দিকে। মাঠ থেকে খেলোয়ারসহ সব লোক চলে গেল। আমি একটা শান্তির নিশ্বাস ফেলে বিছানায় শুতেই যাচ্ছিলাম তখন হটাৎ দেখলাম স্টেডিয়ামের এক কোনে একটা লোক এখনো বসে আছে।
_ লোকটাকে বসে থাকতে দেখে, এক মুহুর্তের জন্য চমকে উঠলাম। জানালার কাছে গিয়ে তাকিয়ে দেখলাম পুরো স্টেডিয়ামটা এক ভয়ংকর নিস্তবতায় ঢুবে গিয়েছে। আসে পাশে একটা লোকও নেই। কোথা থেকে যেন এক গগন বিদারী হাহাকার ভেসে আসছে। এক করুন সুর আমাকে যেন তার দিকেই টানছে! হটাৎ বাতাসটা যেন শীতল হয়ে আসলো! মনে পড়লো কালকে রাতের সেই লোকটার কথা।
দৌড়ে ছুটে গেলাম স্টেডিয়ামের সেই মানুষ টার কাছে। মানুষটা কে দূর থেকে ডাকতে লাগলাম।কিন্তু সে উত্তর দিল না। ভয়ে ভয়ে, এক অজানা আতংকে এগিয়ে গেলাম। তার ঘারে হাত দিতেই এক শীতল বাতাস আমার কানের কাছে অনুভব করলাম। যেন পুরো শরীরকে গরম করে দিয়ে চলে গেল। লোকটার ঘারটা একটু ঢাক্কা দিতেই তা দেহ থেকে মাটিতে ছিটকে পড়লো!!!
-কি এক বিভৎশো চাহুনী ওই কাটা মাথাটার!!!সেদিন যাকে লাইভে দেখেছিলাম এটাতো সেই লোকটাই! আগে পিছে না তাকিয়ে সোজা বাসার দিকে দৌড়ে চলে গেলাম। জানি না সেদিন আমি কতখন দৌড়ে ছিলাম,জানি না আমার বাসায় আসতে কত সময় লেগেছিল। তবে এতটুকু জানি আমি শত চেস্টা করে যেন পা দুটোকে আগে বাড়াতে পারছিলাম না। জীবনপণ চেস্টা করে রুমে গিয়ে ঠাস করে মেঝেতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
সকালে চোখ খুলতেই দেখি আমি এখনো সেই যায়গায়ই পড়ে রয়েছি। আস্তে আস্তে সেখান থেকে একটু উঠে টিভিটার কাছে গেলাম। আমি যেন কিছু বুঝতেই পারছিলাম না এগুলো কি করে হলো? দৌড়ে চলে গেলাম মায়ের কাছে। সব বলতে যাবো তখনই মা বলে ফেলল,"তোর বাবা বলছে তুই নাকি সারা রাত জেগে টিভি দেখিস,এমনটা হলে তো তুই পাগল হয়ে যাবি। এখনো সময় আছে, যদি বাচতে চাস টিভি দেখা বন্ধ করে পড়াশুনায় মন দে"।
তারপর আমার আর কিছু বলার সাহস হলো না। কারন এখন যদি আমি সব বলি তাহলে বিশ্বাসতো আর করবেই না বরং আমাকে পাগল বলবে। মা ব্যাগটা গুছিয়ে দিতেই মনে পড়লো আমি তো স্কুলে গিয়ে আমার বন্ধুদের সাথে ঘটনাটা শেয়ার করতে পারি। তাড়াতাড়ি মায়ের সাথে রেডি হয়ে স্কুলে চলে গেলাম। বন্ধুদের কথাটা বলতেই, সবাই আমাকে ভ্যাঙ্গো করতে লাগলো। আমি নাকি অতিরিক্ত পড়শুনা করতে করতে পাগল হয়ে যাচ্ছি। কোনো উপায় না দেখে আমি টিচারকে সব বললাম। তিনিও আমাকে জ্ঞানসুচক বললেন, পড়াশুনার টাইম টাকে সীমিত করে নিতে। প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল তখন এই মানুষ গুলোর উপর। মানুষদের প্রতি একটা হিংসা তৈরি হতে লাগলো আমার মনে। আমি বাড়ি ফিরে আর মা'র সাথে কথা বললাম না। সোজা নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্তিতে কখন যে চোখটা লেগে গেছে তা আর আন্দাজ করতে পারলাম না। হটাৎ আগের রাতের মত ঝিকঝিক শব্দে আমার ঘুমটা ভেঙে গেল। ভয়ে আমি বালিশ দিয়ে নিজের মাথা চেপে শুয়ে রইলাম। হটাৎ সম্রাট বলে আমার এক অতিপরিচিত কন্ঠ ভেসে আসলো। হ্যা এতো আমার বাবার কন্ঠ! বাবার কন্ঠ শুনেই বুকের ভিতর একটা আশার আলো সঞ্চালিত হলো। মাথাটা জাগিয়ে দেখলাম কই না তো বাবা তো ঘরে আসেনি!টিভিটার দিকে চোখ পড়তেই আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আজ যিনি লাইভে তিনি আর কেউ নন আমার নিজেরই বাবা! দৌড়ে ছুটে গেলাম টিভির কাছে। আগের দিনের লোকটার মত আমার বাবা আমাকে বলল কেমন আছো সম্রাট।আচ্ছা যাও বলতে হবে কালকে একটা এক্সিডেন্ট হবে, আর সেখানে একজন লোক মারা যাবে পারলে ঠেকাও।" সেই বলে আবারও সেই গগণ বিদারী হাসি। " গুড বাই সম্রাট" বলে লাইভ অফ হয়ে গেল।
আমি ভয়ে কাতর হয়ে পড়লাম। টিভিটাকে একটা লাথি মেরে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।পরদিন মা'র ডাকে যখন ঘুম ভাঙলো তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে! আমি অভাক হয়ে ভাবলাম আমি কিভাবে এতখন ঘুমিয়ে ছিলাম। মা আমাকে ঘুম থেকে উঠতে দেখে খুশি হয়ে বল্ল" বাবা তুই ঠিক আছিস,তোর আজ এমন হলো কেন"? আমি মায়ের কথার উত্তর না দিয়ে বললাম বাবা কোথায়? মা বলল তিনিতো তোর জন্য ডাক্তার আনতে গিয়েছে। আমি বললাম বাবা কি গাড়িতে করে গিয়েছে? মা বলল অত দূর যাবে যেহেতু গাড়ি নিয়েই গেছে! আমি লাফ দিয়ে উঠেই বাইরে চলে যাবো ঠিক তখনই একটা ফোন এলো মায়ের কাছে। আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। দেখলাম মা ফোনটা কানে দিতেই তার হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না কি হয়েছে!
মা ঠাস করে মেঝেতে পড়ে গেলো। আমি দৌড়ে মাকে নিয়ে হাসপাতে চলে গেলাম। মা ব্রেনস্টোর্ক করেছে! মা সেদিনের পর থেকে পেরালাইস্ট হয়ে গেলেন। আর আমি হয়ে গেলাম একদম একা। মা প্রতিদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদতেন আর তা দেখে আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতাম। সেদিন থেকে আমি প্রতিদিনই টিভিটার সামনে বসে থাকতাম আবার একটা লাইভ কখন আসবে? লাইভ আসলেই আমি তাকে খুজে ধরে ফেলবো। আমার মনে হয়েছিল সেই আমার বাবার খুনি। আমি তাকে শাস্তি দিবই। তারপর নিত্যদিনের মত আজকেও টিভিটার সামনে বসে ছিলাম। ঝিক ঝিক করে টিভিটা অন হয়ে গেল। আজ আর ভয় পেলাম না। লুকালামও না। দেখতে পেলাম আজকে টিভিতে একজন নয় বরং ৩ জন, এক জন বাবা-মা আর মেয়ে! তারা সবাই আমাকে রোজকার মত হাই সম্রাট কেমন আছো থাক বলতে হবে না বলে গগন বিদারী হাসলো। তারপর বলল কাল একটা দুর্ঘটনায় একটা বাড়িতে ৩ জন মানুষ মারা যাবে। পারলে ঠেকাও বলে সেই গগন বিদারী হাসি।
আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম নিশ্চয় এরা তিন জনই মারা যেতে চলেছে। কিন্তু এদের বাড়ি কোথায় আর এরা থাকে কোথায়। হটাৎ খেয়াল আসলো ওই ছোট মেয়েটা তো আমার সামনের বাড়িটাতেই থাকে। মাঝে মাঝে বেলকনিতে বিড়ালের সাথে খেলে, আমার জানালা থেকে স্পষ্টই দেখা যায়। সকাল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। রাতে আর ঘুম হলো না.
সকালে উঠেই সেই বাড়িটার দিকে ক্রমাগত নজর রাখতে রইলাম। বেলা পেরিয়ে প্রায় দুপুর! মাথায় একটা কথা আসলো, লাইভে বলেছিল যে বাড়িতে একটা দুর্ঘটনা ঘটবে আর তাতে ৩ জন মানে ঐ দুর্ঘটনায় ৩ জনই মারা যাবে। তাহলে তো একটা কাজ করাই যায়! আমি যদি এই দুর্ঘটনা ঘটার সুযোগটাই না দেই?যেমন ভাবা তেমন কাজ। চলে গেলাম ঐ বাড়িতে। দুপুর হয়ে আসছে,একটু পরে নিচ্ছই রাতের জন্য রান্না করতে আসবে। তাই আমি রান্না ঘরে গিয়ে গ্যাসের পাইপ লাইনটা কেটে দিয়ে চলে এলাম। আমার প্লানটা ছিল এরকম,দুপুরে নিচ্ছই কিছু রান্না করতে ঘরের মহিলাটি রান্না ঘরে যাবে,আর স্বাভাবিক ভাবে রোজকার মত তার স্বামী তখন অফিসে এবং মেয়েটি স্কুলে থাকবে। তাই যদি তখন গ্যাস বিস্ফরনে মহিলাটি একা মারা যায় তাহলে লাইভ টা ভুল হয়ে যাবে!!
_ হাতে এক কাপ কপি নিয়ে জানালার পাশে বসে বিস্ফরনের অপেক্ষা করতে থাকলাম। কিছুক্ষন পর..."বুম"..!!
উরে গেল দুইতালা বাড়িটির ছাদ! মনে মনে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বললাম আই এম সাক্সেসফুল! এলাকার লোকজনদের সাথে আগুন নিভিয়ে দেখলাম, লাস ১ টা নয় বরং ৩ টা! মানে বিস্ফরনের আগে কোনোভাবে হয়তো তারা দুজন এসে গিয়েছিল!
সব কিছু আবার শুরু থেকে ভাবা শুরু করলাম। একটা জিনিস লক্ষ করলাম যে কয়টা মাডার হইছে সব কয়টাতে কোনো না কোনো ভাবে আমিই ইনভলব! আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না এসব মা*র্ডার গুলো আসলে আমিই করছি!😈
"হা হা হা হা"
এরপর থেকে ১৯৯ টা মা*র্ডার ডান। আমি প্রতিদিন টিভিতে লাইভ দেখি আর রাতের টার্গেট ঠিক করি। যে একবার লাইভে আসবে তার আর কোনো নিস্তার নেই। আজ আমি ওয়ার্ল্ড উয়াইড মোস্ট ওয়ান্টেড সাইকো সিরিয়াল কিলার। টাইটেল গুলো আসলে আমার ভালোই লাগে। আমি আর আগের সেই বাড়িতে নেই। মাকে নিয়ে আমি আমার নতুন আন্ডার ওয়ার্ল্ড এ বিলং করি। প্রতিটা খু*নের পর একবার করে মায়ের পায়ে মাথা ঠুকে আসি। মা যদিও এখন আর আমার দিকে ভুল করেও কখনো তাকান না। তাতে আমার কোনো আপসোস ও নেই। কেনই বা আপসোস থাকবে..?
(ট্যুয়িস্ট আনলক)..
.. সেদিন স্টেডিয়ামের সেই লোকটার মিত্যুর কথা যদি কেউ বিশ্বাস করতো তাহলে আজ আমি আর পাচটা মানুষের মত একজন সুস্থ মানুষ থাকতাম। কিন্তু তারা তা করেনি। আমাকে ধিক্কার করেছে,পাগল বলেছে। একটা ১১ বছরের ছেলে মমুস্য একটা লাশ দেখে পাগলের মত জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল। অথচ বাবা মামা বন্ধু বান্ধব কেউ তার কথা তো বিশ্বাস করলই না বরং উপহাস করতে থাকলো। মানুষিক ভাবে বেকারগ্রস্থ হয়ে পড়লো ছেলেটি। নিজের কল্পনার জগত কে জাগিয়ে তুললো। তারপর রোজ রাতে নিজের কল্পনার জগতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা মত মানুষকে লাইভে এনে একের পর এক হত্যা করতে করতে এক সময় সে রক্ত পিপাসু হয়ে গেল। আজ তার রক্ত না দেখলে ঘুম আসে না। যদি সেদিন সবাই তাকে বিশ্বাস করতো তাহলে হয়তো আজ আর তাকে এভাবে মানুষিক রোগী হয়ে থাকতে হত না। নিজের হাতে গাড়ির ব্রেক ফেল করিয়ে নিজের বাবাকেই হয়তো মে*রে ফেলতো না। নিজের প্রিয়ো বন্ধু ক্লাস মেট মেয়েটাকে তার পুরো পরিবার সহ হয়তো আগুনে পুরিয়ে মারতে হত না।
এই দোষ কার? শুধুই কি আমার। নাকি মানবসভ্যতার আড়ালে লুকুয়ে থাকা সেই সমস্ত প্রানীদের যাদের কাছে নিজের লাইফ, হাই স্টেন্ডার্ড,ক্লাসে টপ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর সব জায়গায় নিজের ক্ষমতা শ্রেষ্ঠ করার পিছনে ছুটে চলা একদল হিংসাত্রক জানো*রদের?? আজ যদি এই সমাজ সবার প্রতি সদয় থাকতো,সব কিছু নিজের অবস্থান থেকে না দেখে অপরের অবস্থান বুঝার চেস্টা করতো। নিজের চাহিদার থেকে সমাজের চাহিদার মুল্যায়ন করতো তাহলে হত আজ সমাজে অপরাধ বলতে কিছুই থাকতো না। এই সমাজে অপরাধ সৃষ্টিই করেছে মানুষ। তাই তাদের তো তাদের নিজের সৃষ্টির ফল ভোগ করতেই হবে।
..সাবধানে থাকবেন!কেননা কতিথ এই মানুষ সভ্য টার প্রানী কিন্তু আপনিও। আমার কল্পানার লাইভে কবে আপনার নাম চলে আসে বলা তো যায় না..হি হি হা হা হা হা,,হি হি হাহা হাহ হাহ।।
গুড বাই, মিত্যুর সম্রাট কিন্তু আপনার প্রতিক্ষায় হি হি হা হা হা হা, হিহি হাহা হা হাহ হা...!!
সমাপ্ত..!!
🖋️লেখনিতে: জিহাদ আহমেদ জয়
গল্পটা কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।
গল্পটি সম্পুন্য কাল্পনিক ও আমার স্বরোচিত। গল্পের কোনো অংশে যদি কাউকে হার্ট করে কোনো লাইন লিখে থাকি তার জন্য আন্তরিক ভাবে দঃক্ষিত। গল্পের ক্লিম্যাক্সের ক্ষাতিরে কিছু যায়গায় রুড শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। দয়াকরে তা ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
Note: গল্পটাতে কিছু বানান গত ভুল হতে পারে, যেহেতু মোবাইল কি-বোর্ডে টাইপ করা তার জন্য। দয়া করে মানিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ🥰

