Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sulata Das

Crime Thriller


4.0  

Sulata Das

Crime Thriller


রোমহর্ষক

রোমহর্ষক

5 mins 221 5 mins 221


দিনটা ছিলো ২০০৬ এর ২৬ শে জানুয়ারি। স্বামীর চাকরিসূত্রে অনেক বছর মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত জায়গায় কাটিয়েছি। অপরূপ মনোরম পরিবেশ- চারিদিকে ছোট ছোট টিলা। -পাহাড় ,সবুজ গাছে ভরা বনানী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সাজানো সুন্দর এক টাউনশিপ- বিন্ধ্যনগরে থাকতাম আমরা। আশেপাশে শহরের চাকচিক্য না থাকলেও মন ভালো করা সুন্দর পরিবেশ ছিলো। 

         শীতের সকাল গুলি বন্ধুরা সবাই মিলে খাবার বানিয়ে এক একদিন এক এক দিকে বেরিয়ে পরতাম। যেখানেই যাও পিকনিকের জন্য একদম উপযুক্ত পরিবেশ। পাহাড়ী ঝরনায় পা ডুবিয়ে বসে থাকা,অগভীর নদীতে নেমে জলের সাথে খেলা, গান, গল্প, আড্ডা- গেম খেলা - সব মিলিয়ে সুন্দর সময় কাটাতাম।এত সুন্দর ছিলো সেসব দিন, যে শহরের মেয়ে হলেও শহরের অভাব অনুভব করতাম না।

     অনেক ভালো বন্ধুর মধ্যে আমাদের এক অতি প্রিয় বন্ধু- বর্ষা’র স্বামীর অন্য জায়গায় বদলি হয়ে গেল। আমাদের সবার খুব মন খারাপ। কিন্তু বদলির চাকরি, তাই কিছু করার নেই। যেতেই হবে। এপ্রিলে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর ওরা চলে যাবে। তাই একদিন আমি, বর্ষা ও নিবেদিতা , আমাদের তিন বন্ধুর পরিবার ঠিক। করলাম 

আমাদের টাউনশিপ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে- রক্সগোন্ডা ফলস্ এ পিকনিক করতে যাব। এতো বছর ধরে এখানে আছি, সব জায়গায় কয়েকবার করে গেলেও, ঘটনাচক্রে এই জায়গাটায় যাওয়া হয়নি।সবার মুখে শুনতাম, খুব সুন্দর জায়গা, শুধু রাস্তা খুব খারাপ।তাও সবাই যেত, শুধু আমাদেরই যাওয়া হয়ে ওঠেনি। আমরা যখন যাওয়া মনস্থির করলাম, তখন জানা গেলো ঐ অঞ্চলটা নকশালদের কবলে। কিন্তু বর্ষা’র চলে যাবার ছিলো, তাই আমাদের যেতেই হবে। সবাই বারণ করলো। কিন্তু কি জোশ চাপলো কে জানে! আমরা যাওয়াই মনস্থির করলাম। এই ফলস্ টা ছত্রিশগড় এর সরগুজা জেলায় অবস্থিত। 

একজন সেখান থেকে আমাদের টাউনশিপে চাকরি করতে আসতেন।আগের দিন তাঁকে বলে 

দেওয়া হলো- তিনি যেন ওখানকার 

লোকাল থানায় জানিয়ে দেন যে “আমরা তিনটি পরিবার ২৬ তারিখ ওখানে আসছি পিকনিক করতে। সাথে ভদ্রলোককে আমাদের 

পিকনিকের সব দায়িত্ব- বাজার, কুক সব বন্দোবস্ত করতে বলা হলো। 

      টানটান উত্তেজনা নিয়ে ২৬ তারিখ সকালবেলা আমরা তিনটি পরিবার হৈ হৈ করে রক্সগোন্ডা রওনা দিলাম।সেখানে পৌঁছে প্রথমে আমরা অফিসের সেই লোকাল ভদ্রলোকের বাড়ি গেলাম। আমরা যেতেই ভদ্রলোক বললেন-“আমরা খুব ভুল দিনে এসেছি। ভদ্রলোক যখন থানায় জানাতে গিয়েছিলেন তখন পুলিশ জানিয়েছে যে ঐ দিন নকশালরা কালাদিবস এর ডাক দিয়েছে- কারো বাইরে বের হওয়া বা রাস্তায় গাড়ী চলা নিষিদ্ধ। কিন্তু ভদ্রলোক ফোনে আমাদের কনট্যাক্ট করতে পারেননি বলে জানাতে পারেন নি।” বেশ ভয় হলো। কিন্তু এসে পরেছি। পুলিশ অফিসার ফোনে আমাদের অভয় দিলেন - “তাঁদের নজর থাকবে আমাদের ওপর- যাতে কোন অঘটন না ঘটে।” পুলিশ অফিসারের কথায় কিছুটা নিশ্চিন্ত হলাম। হাল্কা চা-জলখাবার খেয়ে আমরা ফলসে্র দিকে রওনা দিলাম।সাথে একটা গাড়ীতে কুক, হেল্পার ও খাবার সামগ্রী চললো। স্পটে পৌঁছে তো আমরা খুবই উত্তেজিত! পাহাড়ী নদী বয়ে চলেছে সামনে দিয়ে, চারিদিকে গাছপালা- স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ। নদীর পাড়েই রান্নার আয়োজন শুরু হলো।

      ছেলেরা গল্প করতে বসলো।

আমরা কিন বন্ধু আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরছি, কখনো জলে নামছি - খেলছি। মাঝে মাঝেই চলছে চা আর বিভিন্ন রকমের পকোড়া। মাঝে-মধ্যে আশেপাশে কেউ কেউ আসছিলো। কারো কারো কাছে তীর-ধনুকও ছিলো। আমরা একটু ভয়ও পাচ্ছিলাম। আমাদের কুক ও হেল্পাররা লোকাল লোক ছিল- যখনই এ ধরনের লোক দেখছিলাম- কুক দের জিজ্ঞেস করছিলাম ঐ লোকগুলো নকশাল কিনা! তাদের কথায় আশ্বস্থ হয়ে আবার আমাদের হুটোপুটি শুরু। দুপুর দুটো নাগাদ রান্না প্রায় তৈরী- আমরা ফলস্ দেখতে চললাম। ঠি ক হলো ফিরে এসে লাঞ্চ করবো। খুব সরু আর দুর্গম রাস্তা- এবড়ো খেবড়ো-একটু পা হড়কে গেলেই সোজা নীচে গভীর খাদে পড়বো।বেশ কিছুটা যাবার পর ফলস্ দেখতে পেলাম- আওয়াজ তো দূর থেকেই শুনতে পাচ্ছিলাম। উঁচু থেকে প্রচণ্ড গতিতে জলের ধারা গভীরে নীচে পড়ছে। কোন কিছু তাতে পড়লে-তা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে-কোন খোঁজ পাওয়া যাবে না। দেখলাম তার রুদ্ররূপ। একেই বোধহয় বলে ভয়ঙ্কর সুন্দর!! এবার আমাদের ফেরার পালা। খুব সন্তর্পণে নামছি।

      সব থেকে সামনে ছিলো আমার বন্ধু বর্ষা। ও চিৎকার করে কিছু বলছিলো। ওর পেছনেই আমি ছিলাম।একটু কাছে আসতেই শুনলাম-ও চিৎকার করে বলছে নকশাল পুরো জায়গা ঘিরে ফেলেছে- আমরা যেন তাড়াতাড়ি নামি। আমিও চিৎকার করে পেছনের সবাইকে তা বললাম। এতক্ষণ সবাই খুব সাবধানে এক পা এক পা করে নামছিল। আমার চিৎকারে সবাই হুড়মুড়িয়ে নামলো। বর্ষার ছেলে মন্যুর পা কেটে দরদর করে রক্ত বের হচ্ছে- কোন খেয়াল নেই। প্রাণের ভয়ে সবাই দৌড়াচ্ছে। আমি কিছুটা অগ্রসর হতেই দেখলাম রাইফেল ও পিস্তল হাতে সাদা পোষাকের কয়েকজন লোক। আমি তো প্রথমে ভেবে বসলাম এরাই নকশাল। কাছে আসতে বুঝলাম তাঁরা পুলিশ-আমাদের বাঁচাতে এসেছেন। আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাড়ীতে উঠতে বললেন। প্রাণপণ দৌড়চ্ছি, বর্ষা বলে উঠলো ‘নকশাল কোথায় তা তো দেখতে পাচ্ছিনা!’

       পুলিশ দেখালো যে নদীতে আমরা সকাল থেকে হুটোপুটি করছিলাম- তার অপর পাড়ে মারুতি ভ্যান নিয়ে পাঁচ-ছয় জন দাঁড়িয়ে আছে।ভয়ে দৌড়ে গাড়ীতে উঠলাম। সাথে সাথে আমাদের কুক ও অন্য সবাই খাবার নিয়ে গাড়ীতে উঠলো। পুলিশের জিপ আমাদের গার্ড দিয়ে নিয়ে চললো। ওখানকার সেই পরিচিত লোকাল ভদ্রলোক- আমাদের সবাইকে ওনার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। পুলিশরাও আমাদের সাথেই লাঞ্চ করলেন।বললেন -“নকশালরা ওখানে রাস্তার দুদিক আটকে মাঝখানের তেরোটি গাড়ী থেকে যাত্রীদের নামিয়ে, গাড়ীগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সেখানের পুলিশ তাড়া করায় ওরা এদিকে পালিয়ে এসেছে।ওয়্যারলেসে ওখানকার পুলিশ এই থানায় জানিয়ে দিয়েছিলো। পুলিশ জানতো- নকশালরা তাড়া খেয়ে নদীর দিকেই আসছে। সেখানে আমরা ছিলাম।বললেন ওরা যদি আমাদের মধ্যে কাউকে তুলে নিতো, তাহলেই ওদের মিশন সাকসেসফুল হয়ে যেতো-কারণ এন টি পি সি র কোন অফিসার বা তার পরিবারের কাউকে যদি ওরা কিডন্যাপ করতো, ওরা সরকারের কাছ থেকে যে কোন শর্ত মানিয়ে নিত- সরকারকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করতো এবং ওখানকার থানার পুলিশ অফিসার-যিনি আমাদের সাথে লাঞ্চ করছিলেন -তাঁকে সাসপেন্ড করা হতো বা তাঁর চাকরি চলে যেত।” এখন এ ঘটনা লিখছি- কিন্তু সেই সময় আমাদের মনের অবস্থা কি ছিলো তা আমরাই জানি। আজও তা ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। মনে হয় সেদিন যা খুশি হতে পারতো। লাঞ্চ শেষ হলে একটু রেস্ট নিয়ে , যে পর্যন্ত নকশালের ভয় - সে পর্যন্ত পুলিশ ফোর্স আমাদের পৌঁছে দিয়ে গেলো।আমাদের রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার শেষ হলো।

     পরদিন স্কুল থেকে এসে আমার ছেলে বললো- ডি পি এস মর্নিং এ্যাসেম্বলিতে মর্নিং নিউজে কোন ছাত্র আগের দিনের নকশালদের বর্বরোচিত গাড়ী জ্বালানোর খবর বলেছে। আমাদের বাচ্চারা তখন হিরোর মতো বলেছে সেই নকশাল গুলোকে তারা দেখেছে।নিজস্ব অভজ্ঞতা- দারুণ উত্তেজিত। 

         অফিসে অবশ্য মর্নিং মিটিং এ জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আমাদের বর দের একটু বকা খেতে হয়েছিলো এই দুঃসাহসিক অ্যাডভেঞ্চারের জন্য। নিজেদের ও এন টি পি সি র অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো!

          আজ যে ঘটনা মনে করে রোমাঞ্চ অনুভব করছি, সেদিন তা ছিলো রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা।


Rate this content
Log in

More bengali story from Sulata Das

Similar bengali story from Crime