Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sutanu Sinha

Drama


3  

Sutanu Sinha

Drama


রাজনীতি ও প্রেম দ্বিতীয় কিস্তি

রাজনীতি ও প্রেম দ্বিতীয় কিস্তি

12 mins 2.6K 12 mins 2.6K

রাতুল

সুজয়দার সাথে কথা বলে নিলো রাতুল । যা ই হোক সবকিছুর পুরো বিবরণ সুজয়দা কে বলার নির্দেশ ছিল রাতুল এর উপর । কারখানার সমস্যা টা মোটেই সহজ মনে হচ্ছে না রাতুল এর । শুধু কিছু গুন্ডা নয় অনেক রাজনৈতিক পার্টি ও এতে জড়িত । সবার সাথে কথা বলে , রাতুল যা উপলব্ধি করেছে সেটা হলো , কারখানার মালিক খুব একটা সুবিধার নয় ,আসল উদেশ্য শ্রমিক দের ভালো করার থেকে ও নিজেদের আখের গুছোনো । অনেক টাকা ঢেলে নতুন একজন মালিক কারখানাটিকে কিনে নিয়েছে । তার উদেশ্য গাড়ির যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা করা । এতদিন এটা একটা চটকল ছিল । তাই সেই সব শ্রমিক দের তার বিশেষ দরকার নেই । তাই সব শ্রমিক দের বিদায় করানো ই তার আসল উদ্দেশ্য । কিন্ত কারখানার এতো বছর এর পুরোনো শ্রমিক রা সে কথা শুনবে কেন ? তাদের এককালীন টাকা নয় ,চাকরিতে বহাল রাখতে হবে এটাই দাবি । ইউনিয়ন লিডার তনয়কে ও বোঝা বড় মুশকিল । শ্রমিক না মালিক পক্ষ কার দিক সে নিচ্ছে , সেটা এখুনি বলা যাচ্ছে না । তবে সুজয়দার কাছের লোক বলে এখুনি আমার উপর বিশেষ কিছু বলছে না । একটু বুঝে চলছে । লোকাল কিছু গুন্ডা যুক্ত আছে ঠিক কথা , কিন্ত এরা সবাই টাকার গোলাম । এদের লিডার বান্টি বলে একটি ছেলে । ছেলেটি খুব একটা ভালো নয় ,তবে সে রকম কোনো বড় লেভেল এর কেউ যে ওর মাথার উপর আছে মনে হলো না । তবে এরকম ছেলেরা কারোর সমর্থন পেলে খুন পর্যন্ত করে দিতে পিছুপা হয়না । তবে এখন চিন্তা বান্টি নয় ,শ্রমিক দের শান্ত করা । যা খুব একটা সোজা কাজ বলে মনে হচ্ছে না । সুজয়দা থাকলে খুব সুবিধা হতো । সব কিছু সুজয়দা কে জানানোর পর , একটাই পরামর্শ দিলো , ইউনিয়ন লিডার এর পরামর্শ মেনে চলতে । বাড়িতে এসে কিছু খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় হালকা করে শুলো রাতুল । মনের মধ্যে প্রচুর প্রশ্ন চলছিল , রাজনীতির বেড়াজাল এখনো খুব ভালো না বুঝলে ও , বেশ বুঝতে পারছিলো ব্যাপার টা যতটা না ভয়ানক তার থেকে বেশি করে দেখানো হচ্ছে । হঠাৎ ফোনে বেজে উঠলো রাতুল এর , নম্বর টা দেখলো ইউনিয়ন লিডার তনয় এর । ফোন টা রিসিভ করে হ্যালো বলতেই , ওদিক থেকে তনয় বলে উঠলো দাদা কিছু বলবে বলছিলে , ফোন করলে না তো ? ভুলে গেছিলো রাতুল , তনয়কে ফোন করতে বলেছিলো । বলে উঠলো , তনয়দা কাল একবার মালিক পক্ষের কারোর সাথে কথা বলা যাবে ? ওদের ভার্সন টা ও জানা ভীষণ দরকার । তনয়দা বললো ,আরে ওই ভোম্বল টা মালিক পক্ষের চেলা , ওকে ধরলেই হবে । বড় কোনো আন্দোলন না হলে মালিক পক্ষ কথা বলবে না গো দাদা , ওই সালা ভোম্বল টা কথা বলতে দেবে না । ঠিক হয়েছে মার খেয়েছে । রাতুল খুব আসতে করেই বললো , শান্ত হও তনয়দা । এই ভোম্বল টা কে ? আর মার বা খেলো কখন ? তনয় বলে উঠলো , অরে রাতুল দা , আজ কের ম্যানেজমেন্ট এর কিছু লোক নেমে এলো না নিচে , ওদের ঘর ভাংচুর হয়েছে বলে । ওই দল তার সামনে যে ছিল । যাকে পেটানোর জন্য তুমি ওই বান্টি কে বকলে । এবার মনে পরে গেলো রাতুল এর । বললো একটা কাজ করো , তুমি মালিক পক্ষ আর ভোম্বল ওই দুটো দলের সাথে আমার একটা সাক্ষাৎকার এর ব্যবস্থা করে দাউ দেকি । আমি ওদের সাথে কথা বলতে চাই , কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেবার আগে । তনয়দা ঠিক আছে দেখছি বলে ফোন টা রেখে দিলো ।

তনয়দার ফোন টা রাখার পর ওই ঘটনার তার কথা মনে পরে গেলো রাতুল এর । ঘটনাটা ভুলেই গেছিলো সে । হঠাৎ করে তনয়দা মনে করে দেয়াতে বেশ ভালো লাগছে । ভালো লাগার কারণ টা অবশ্যই ওই বিশেষ ঘটনা টা নয় ,সাহস করে এগিয়ে আসা ওই মিষ্টি দেখতে মেয়ে টার জন্য । লোকাল গুন্ডা র বিরুদ্ধে বলা মোটেই সোজা কাজ নয় ।মেয়েটিকে দেখে কেন জানিনা একটু অদ্ভুত ভালো লাগছিলো রাতুল এর । যদি রাতুল খুব ভালো করে জানে এটা ভীষণ ক্ষনস্থায়ী ।রাতুল আর যাই হোক তার অন্যান্য বন্ধু গুলোর মতো কোনো ইমোশনাল ব্যাপার এ বেশি প্রবেশ করে না । ছোট বেলায় একটা ঘটনার কথা মনে পড়তে খুব হাসি পেয়ে গেলো তার , স্কুল পালিয়ে এক বার মেয়েদের স্কুল এ গেছিলো রাতুল , একটি বিশেষ মেয়েকে দেখতে । মেয়েটিকে অনেক সাহিত্য ঘেঁটে একটা চিঠি ও দিয়েছিলো সে । কিন্ত মেয়েটি ভয় পেয়ে হোক বা ভুল করে সেটা তার ক্লাস টিচার এর হাতে তুলে দেয় । বেশ বাবা কে ডেকে সবার সামনে অপমানিত হতে হয়েছিল রাতুল কে । সেই থেকে প্রতীজ্ঞা করে ছিল মেয়ে জিনিস টাকে তার জীবন এ বেশি প্রাধান্য কখনোই দেবে না সে ।

আবার ফোন বেজে উঠলো রাতুল এর , সুবীর এর ফোন । বেটার কিছু একটা হয়েছে ,মাঝ রাস্তায় নেমে গেলো বললো কাজ আছে । বললাম বল সুবীর । কাল কখন যাবি ? রাতুল বললো , খুব সকাল এ যাবার দরকার নেই । ওই ধরে নে ১১ টা নাগাদ বেরোবো । ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলো সুবীর । এই ছেলে টা বড়ো অদ্ভুত । কখনো মুখ ফুটে বলে না , ওর কি চাই , তবে আমার সাথে থাকতে ও খুব পছন্দ করে , তাই আমি যেখানেই যাই কোথা থেকে যেন ও চলে আসে ।

খাবার জন্য আবার ডাক এলো মা এর । ২ বার ডাকা হয়ে গেছে এবার না গেলে বকুনি খাবে সে । সবে বিছানা থেকে উইঠতে যাবে , আবার সুজয়দার ফোন । রিসিভ করে রাতুল কিছু বলার আগেই , সুজয়দা বলে উঠলো তুই মালিক পক্ষের আর ম্যানেজমেন্ট এর লোকের সাথে কথা বলতে চাইছিস কেন ? রাতুল বেশ অবাক হলো , কিন্ত মুখে বুঝতে দিলো না , বললো বা রে তুমি ই তো বললে যাতে আন্দোলন না হয় সে দিক টা দেখতে । সুজয়দা বললো হুম সেটা ঠিক , তবে তুই তনয় যা বলছে সে ভাবে করার চেষ্টা করিস , ও অনেক দিন কারখানাতে আছে তো সব কিছুই জানে । রাতুল বলে উঠলো , কিন্ত সুজয়দা তোমার তনয়এ তো বার বার বলছে আন্দোলন করতে । হুম যদি দরকার পরে তবে আন্দোলন করতে হবে রাতুল । কিন্ত একটা জিনিস নিশ্চিত করিস , আন্দোলন এ কোনো ভাবেই শ্রমিক আর মালিক পক্ষ কারোর যেন কোনো ক্ষতি না হয় । এসব ভোট ব্যাংক এর খেলা বুঝতে পারছিস তো । ব্যাপার টা ভোট এর আগে অব্দি আটকে রাখতে পারলেই প্রচুর লাভ । বুঝলি কি ? রাতুল বুঝেছি বলে ফোন টা রেখে দিলো । মনে অনেক ঘটনা কে সাজাতে সাজাতে খাবার জায়গায় এলো সে । ভাবতে লাগলো সুজয়দা এতো কথা জানলো কি করে , খুব সোজা ভাবে তনয় ই ওকে সব কিছু বলেছে । তনয়কে একটু বুঝে খেলতে হবে কাল থেকে । আর একটা জিনিস ভেবে নিলো রাতুল , ম্যানেজমেন্ট এর লোক আর মালিক পক্ষের সাথে কথা বলার সময় তনয়কে সাথে রাখা যাবে না । হঠাৎ মা এর গলার আওয়াজএ সম্বিৎ ফিরলো , কি রে খা । মন দিয়ে খেতে শুরু করে দিলো রাতুল , মনের মধ্যে চলতে লাগলো অজশ্র পরিকল্পনা , রাজনীতিতে হয়তো এরকম ই হয় ।

সুনেত্রা

সকাল উঠেই মুখ টা কেমন তেতো হয়ে গেছিলো সুনেত্রা র । কদিন ধরে এরকম হচ্ছে। হয়তো প্রায় রাতে বাইরে খাবার ফল এটা । মা সবসময় বলে গরিব এর পেটে সব খাবার ই সহ্য করতে হয় ।খাবার এ কখনো বাদবিচার করতে নেই । সুনেত্রা ও মেনে চলে এটা । যা পাই , সেটা খেয়ে ই পেট ভরানোর চেষ্টা করে । সবে মুখ টা ধুতে যাবে , ভোম্বল দার ফোন । বললো তুমি ঠিক আছো সুনেত্রা ? একটু অবাক হয়ে বললো, কেন আমার কি হবে ? ভোম্বল দা একটু ভয় জড়ানো গলায় বললো, আজ তোমাকে ডিউটি আসতে হবে না, আমি না বললে তোমার আসার দরকার নেই । লড়াই করে উঠে আসা মেয়ে সুনেত্রা, এরকম বারুন সে একেবারেই মানতে চাই না । বললো কেন ভোম্বল দা , কি হয়েছে ? ভোম্বলদা জানালো , আজ ওই পার্টির ছেলেটা আমাদের সাথে দেখা করতে চেয়েছে ,শুধু তাই নয় মালিক আজ নিজে আসবে ওই ছেলেটির সাথে কথা বলতে । যে কোনো রকম ঝামেলা হতে পারে । তাই তুমি এস না । ঠিক আছে দেখছি কি করা যাই , আমি রাখলাম এখন ভোম্বল দা । বলে ফোন টা রেখে দিলো সুনেত্রা । ভারী মুশকিল এ পড়েছে সুনেত্রা, অফিস এর সবাই যেন তাকে আড়াল করতে ব্যস্ত । এরকম ব্যবহার আগে কখনোই কোথাও থেকে পাইনি বলে হয়তো এতটা অবাক লাগছে সুনেত্রা । আগের যে ব্যাগ কোম্পানি তে কাজ করতো সে , সেখানে এক দিন অফ দিলে মাহিনা এ দিতো না । আর এখানে ম্যানেজার নিজেই বলছে ছুটি নাও । ঘরে বসে থাকতে একটু ও ভালো লাগে না সুনেত্রার । মনের মধ্যে একবার ঝিলিক দিলো বটে ভোম্বল দার কথা না শুনে অফিস যাই । আর কিছু না হোক ওই রাতুল বলে ছেলে টিকে আর এক বার দেখা তো যাবে । কিন্ত সাথে সাথে সেই ভাবনা কে মেরে দেয় সুনেত্রা । মা বার বার ফোন এ বাড়ুন করে দিয়েছে ঘর থেকে দূরে থেকে শুধু শুধু যেন কোনো ঝামেলায় জড়িয়েনা পড়ি । কিন্ত এভাবে ঘরেতে বা কতক্ষণ বসে থাকা যাই , তাই জামা কাপড় পড়ে নিলো সে , অফিস না গিয়ে চারপাশটা টা একটু ঘুরে দেখবে সে এটাই ঠিক করলো । বাইরে বেরিয়ে একটা কোল্ডড্রিঙ্কস আর চিপস কিনে খেতে খেতে হাঁটতে লাগলো সুনেত্রা । মাঝে মাঝে এরকম গন্তব্যহীন হাঁটতে বেশ ভালো লাগে । একটা গলি ক্রস করে আর একটাই ঢুকতে যাবে , হঠাৎ সামনে বান্টি র দল টাকে দেখতে পেলো । মুখ টা ঘুরিয়ে নিয়ে দ্রুত বেরোতে গিয়েও দেখতে পেয়ে গেলো বান্টি । কি ম্যাডাম পালাচ্ছেন যে বড়ো ?পালাতে যাবো কেন রিক্সা ধরতে যাচ্ছি অফিস যাবো । বান্টি বলে উঠলো , তাই নাকি ? তা এতদিন তো জানতাম আপনি আমাদের পাত্তা দেন না , আমার দলের ছেলেদের তো ভালোই চেনেন দেখছি । আমাদের বিরুদ্ধে বলে আপনার কোনো লাভ নেই , একটু সাবধানে থাকবেন ম্যাডাম দিনকাল এক দম ভালো নয় ।

সুনেত্রা উত্তর না করে দৌড়ে গিয়ে একটা রিক্সায় উঠে পড়লো ।বললো কারখানায় যাবো চলুন । পিছন থেকে বান্টি র একটা বিশ্রী হাসির আওয়াজ আসতে লাগলো । ঠিক যেন টিভি তে মহালয়ার অসুর এর মতো । কারখানা অব্দি যেতে সময় লাগাবে এই রিস্কার দাদু । এই দাদু টাকে চেনে সুনেত্রা , খুব আসতে রিক্সা চালায় সে । হঠাৎ দাদু বলে উঠলো , মা তোমাকে একটা কথা বলছি , এই সব বান্টি দের দলের পিছনে লাগতে যেয়োনা , এরা একদম ভালো লোক নয় ।যেকোনো রকম ক্ষতি এরা করে দিতে পারে । খুব সাবধানে থেকো মা । দাদুর কথা শুনে বেশ ভালো লাগলো সুনেত্রা র । বললো দাদু তুমি সকাল থেকে কি খেয়েছো ?বললো এখনো কিছু খাওয়া হয়নি মা , এই তোমাকে নামানোর পর জলখাবার খাবো । শুনে খুব কষ্ট লাগলো সুনেত্রার । ঠিক করলো চিপস এর প্যাকেট টা দাদুর হাতে ধরিয়ে দেবে । কারখানার সামনে এসে দেখলো ভালোই ভিড় হয়েছে শ্রমিক দের । রিক্সা থেকে নেমে দাদুর হাতে চিপস এর প্যাকেট টা ধরিয়ে দিয়ে ভিতরে ঢুকতে যাবে , গেট রক্ষক বললো ম্যাডাম আপনি এসেছেন আজ , যান ওপরে চলে যান , কিছু অসুবিধা হলে আমাদের ফোন করবেন । কিছু না ভেবে ওপরে উঠে গেলো সুনেত্রা । নিজের রুম টাতে ঢুকতে গিয়ে থমকে গেলো সে । পুরো ঘরের মধ্যে কেউ কোথাও নেই । শুধু ভোম্বল দা , একটা খুব হম্বা ধরণের লোক , মনে হলো এ কোম্পানির মালিক , আর ইউনিয়ন লিডার তনয় এক সাথে বসে আছে । সামনে একটা বিশাল বড়ো সুটকেস থেকে গোছা গোছা টাকা দিচ্ছে ওই মালিক গোছের লোক টা । ভোম্বল দা আর তনয় বিশাল খুশি হচ্ছে পুরো ব্যাপার টাই । কি করবে বুঝতে পারছিলো না সুনেত্রা , ঘরে ঢুকবে না বাইরে দাঁড়াবে ।সবে ফিরে যেতে যাবে , হঠাৎ পাশে রাখা একটা ফুলদানি তে হাত লেগে গেলো সুনেত্রার । ফলে যা হবার সেটাই হলো , ফুলদানি বেশ জোরে শব্দ করে পরে গেলো । আর শব্দের জোরে ভোম্বল দা আর তনয় দুজনেই বাইরে বেরিয়ে এলো । ভোম্বল দা বলে উঠলো কিরে সুনেত্রা তোকে আসতে বারুন করেছিলাম না আজ । একটু যেন রেগে বললো কথা গুলো । সুনেত্রা কি বলবে বুঝতে পারছিলো না , এমন সময় ভিতর থেকে আওয়াজ এলো হিন্দি তে , ভিতরে নিয়ে এস ওকে । ভিতরে যাবার পর নাকে একটা বাজে গন্ধ এলো । বুঝতে বাকি রইলো না , সবাই মিলে নেশা করছিলো । লোকটি বলতে শুরু করলো তুমি কি কিছু দেখেছো বেটিযা ? সুনেত্রা একটু ঘাবড়ে গেছে এই অদ্ভুত পরিস্তিটিতে , সে ঘাড় নাড়িয়ে জানালো কিছু দেখেনি সে । এই মালিক লোকটির লোলুপ দৃষ্টি চোখ এড়ালোনা সুনেত্রা র । অস্বস্তি কাটানোর জন্য সুনেত্রা বলে উঠলো আপনি কি এখন কারখানার মালিক? উত্তর এলো তোমার ও মালিক । কথাটার মধ্যে একটু বাজে ইঙ্গিত করছে কি ? একটু ভয় পেলে ও বুঝতে দিলো না সুনেত্রা । একটু হেঁসে বললো আমার নাম সুনেত্রা , এখানকার কর্মচারী । ভোম্বল এই মেয়েটিকে আবার বার করে দিসনি তো ? ভোম্বল দা জানালো না স্যার , এ তো ম্যানেজমেন্ট এ কাজ করে , আমাদের একাউন্ট সামলাই । ও বেরোবে না । সুনেত্রা খুব ভালো চা করে স্যার । সুনেত্রা যা তো একটু চা করে আন । মালিক হিন্দি তে বলে উঠলো এসব এর পরে কি চা চলে নাকি ভোম্বল । ভোম্বল দা বললো আরে খেয়ে দেখুন না, বলে চোখ টিপে ইশারায় সুনেত্রা কে রান্না ঘরের দিকে যেতে বললো সে । সুনেত্রা চুপ চাপ চলে গেলো । অনেকক্ষন রান্না ঘরে অপেক্ষা করার পর , হঠাৎ ভোম্বল দা হাজির হলো , তোকে আমি অনেকবার আসতে বারুন করেছিলাম আজ কেন এলি ? কেন এসেছে সেটা আর ভোম্বল দা কে কি বলবে চুপ করে থাকলো সে । যাই হোক এই নতুন মালিক মেয়েদের ব্যাপারে একটু দুর্বল আছে । তোর সাথে কথা বলতে চাইছে । দেখ মালিক কে চটানো তো যাবে না , একটু বুদ্ধি করে খেলিস । অবশ্যই নিজেকে বাঁচিয়ে । তবে আজ কের তুই না এলেই ভালো করতিস । খুব রেগে গেলো সুনেত্রা এসব একেবারেই সম্ভব নয় ভোম্বল দা, ছি , বলে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলো সুনেত্রা , ছুট দিয়ে বেরিয়ে যেতে যাবে ঘর থেকে সামনের দরজা আটকে দাঁড়ালো ইউনিয়ন লিডার তনয় ।বড় বেশি চেল্লায় তো মেয়েটা । হঠাৎ পিছন থেকে এসে হাত ধরলো ভোম্বল দা , চিন্তা করিস না আই । বলে মালিক এর ঘরে নিয়ে গেলো তাকে । মালিক এর পাশের সোফায় বসিয়ে দিলো সুনেত্রা কে । কান্না আর রাগ ২ তো মিলিয়ে কি করা উচিত মাথায় আসছিলো না সুনেত্রার । মালিকটা ধীরে ধীরে তার অনেক কাছেই চলে এসেছে , একটা উগ্র গন্ধে গা গলাতে শুরু করলো সুনেত্রার , এমন সময় তনয়এর প্রবেশ, বললো স্যার ওই রাতুল ছেলে টা এসেছে, এখুনি দেখা করতে চাইছে আপনার সাথে । উত্তর গেলো এখন হবে না বলে দে । স্যার পার্টি গত ব্যপার , এই ভাবে না বললে চাপ হয়ে যাবে । লোক টার একটু অন্য মনস্কতার সুযোগ নিয়ে ,হাতের মধ্যে একটা বেশ শক্ত পেপার চাপা দেবার পাথর তুলে নিলো সুনেত্রা । সেটা ব্যবহার করার আগেই ভোম্বল দা ডাকলো তাকে , বেরিয়ে আই সুনেত্রা , তুই তোর্ সিট এ গিয়ে কাজ কর । মালিক এর ঘর থেকে দ্রুত বেরিয়ে এলো সে ।

এর পর ঘরে প্রবেশ ঘটলো রাতুল বলে ছেলেটির । সত্যি কথা বলতে সরাসরি না হলে ও , রাতুল বলে ছেলেটি ই আজ তাকে রক্ষা করলো । ভোম্বল দা আজ আর কাজ করতে ইচ্ছা করছে না , আমি চলে গেলাম । রাতুল এর সামনে ভোম্বল দা ও কিছু বলতে পারলো না । বেরিয়ে এলো সে ঘর থেকে । দৌড়ে চলে এলো কারখানার বাইরে । এরকম মানুষিকতার মানুষের সাথে সে কি ভাবে কাজ করবে সত্যি ই বুঝতে পারছিলো না । কি করা উচিত তার , চাকরি টা ছেড়ে দেবে ? আর বাবা মা কে কি জবাব দেবে ? এতো গুলো টাকা , গিয়ে আগের চাকরি টা আর তো এখুনি পাবে না । ভীষণ অসহায় লাগছিলো নিজেকে । যেন মনে হচ্ছিলো এই কঠিন বাস্তব কে বার বার সামনাসামনি করার থেকে কোথাও দূরে পালিয়ে যাই সে । হয়তো এরকম কারণ এই অনেক এ সুইসাইড এর কথা ভাবে । অনেক আশা নিয়েএখানে এসেছিলো সুনেত্রা , সব যেন কেমন শেষ হয়ে গেলো । খুব কষ্ট লাগছিলো সুনেত্রার , খুব জোরে জোরে কাঁদতে ইচ্ছা করছে । তাড়াতাড়ি হেঁটে ঘরের দিকে যেতে থাকলো সে । যেমন করে হোক পালতে হবে এখন থেকে । সম্মান আগে, পরে পয়সা ।


Rate this content
Log in

More bengali story from Sutanu Sinha

Similar bengali story from Drama