Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Tragedy


3  

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Tragedy


রাধার মতো কলঙ্ক যে চাই (২)💘

রাধার মতো কলঙ্ক যে চাই (২)💘

4 mins 238 4 mins 238


ছেলের যখন প্রায় বছর দুয়েক তখন ঐশী ধীরে ধীরে খেয়াল করতে থাকে অগ্নি কেমন যেন বদলে যাচ্ছে । বাড়িতে তো থাকেই না বেশিক্ষণ তার উপর শারীরিক চাহিদাও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে । ঐশী আদর করে কাছে টানলেও কেমন যেন উদাসীন ভাব । মাঝে মাঝে ঐশীর মনে হতে থাকে যেন সে কিছুটা জোর করেই কাছে টানছে অগ্নিকে । এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন । মাঝে মধ্যে মারধোর করে, অকথ্য গালিগালাজ করে । অগ্নিকে কেমন যেন অচেনা লাগতে থাকে ঐশীর । ঐশীর বিবাহিত জীবনের তখন প্রায় চার বছর হয়ে গেছে । ঐশী সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে থাকে । মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করতে গেলেই শ্বাশুড়ী মুখঝামটা দিয়ে চুপ করিয়ে

 দিতেন । এভাবে চলতে থাকে বছরের পর বছর । অত্যধিক মদ্যপান শুরু করে অগ্নি । মদের নেশায় চুর হয়ে যতো বার ঐশীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে ততোবার নেশার ঘোরে অগ্নির মুখ থেকে ঐশীর বদলে শোনা গেছে অন্যান্য মেয়েদের নাম । এই বিষয়ে ঐশী তার শ্বশুর - শ্বাশুড়ীকে জানালে তারা বলতেন , " ছেলে মানুষদের ঐসব একটু থাকেই , সোনার আংটি আবার ব্যাকা । তোকে এই নিয়ে ভাবতে হবে না । " এই কথা শুনতে শুনতে শ্বশুর- শ্বাশুড়ীর উপর কেমন একটা ঘৃণা ধরে গিয়েছিল ঐশীর । রোজকার মারধোর, গালিগালাজ চলতেই থাকে , শুধু বন্ধ হয়ে যায় শারীরিক মেলামেশা । কোনোও দিন ও আর ঐশীর শরীরটা ছুঁয়েও দেখতো না অগ্নি । হয়তো সেই ইচ্ছে অগ্নি বাইরেই মিটিয়ে নিতো । কিন্তু ঐশী ? সেতো মাত্র বছর সাতাশ - আঠাশের এক নারী । তার শারীরিক চাহিদা থাকা খুবই স্বাভাবিক । কিন্তু কোনোদিনও সে আর তার কোনো ইচ্ছাই প্রকাশ করতো না অগ্নির কাছে । শুধু মাত্র সন্তানের মুখ চেয়ে সব বিষ একাই চুপচাপ গলাধঃকরণ করে গেছে । ঐশী নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখতো ঘরের কাজে , ছেলের স্কুল , ছেলের পড়াশোনা ইত্যাদির মাধ্যমে । সারাদিন নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও রাতের বেলা নিঃসাড়ে অশ্রুপাত করাই ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা । নিজের জীবনের এই চরম ভুলের জন্য যেন সে নিজেই খানিকটা দায়ী । দায়ী ঐশীর অন্ধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা । 


ঐশী ইতিমধ্যে অনেক বার বিবাহ বিচ্ছেদ করার কথা ভেবেছে কিন্তু যতো বার সে মুখ খুলেছে ততোবার তাকে শুনতে হয়েছে " ডিভোর্স নেবে নাও কিন্তু ছেলে পাবে না " । একথা শুনে ছেলের জন্য চুপ করে থাকতো ঐশী । দিন দিন অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে । থানায় অথবা পাড়ায় শ্বশুরের যথেষ্ট নামডাক থাকায় কাউকে কিছু জানাতে পারতো না । ছেলের যখন সাত বছর বয়স তখন একবার এতো অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করে ঐশী । বেগতিক দেখে নিজের একমাত্র মদ্যপ ছেলে অগ্নিকে নেশা মুক্তি সংস্থায় দেওয়া স্থির করেন ঐশীর শ্বশুরমশাই । ঐশীকে অবশ্যই তার জন্য দায়ী করা হয় । তখন ঐশীর বলা হয় চাকরি করে নিজের খরচ চালাতে হবে । চাকরি করতে রাজি হয়ে যায় ঐশী । সে যেন একটু মুক্তির একমুঠো আকাশ খুঁজে পেলো । অনেক খোঁজাখুঁজি করে ইন্টারভিউ দিতে দিতে অবশেষে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেয়ে গেল । যদিও সেই চাকরির কথা প্রথম প্রথম অগ্নিকে জানতে দেয় নি ঐশীর শ্বশুর - শ্বাশুড়ী । চাকরিটা পেয়ে যেন একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঐশী । কিন্তু দুঃখ যেন পিছুই ছাড়ে না তার । যখনই ফোনে অগ্নির সাথে কথা হোতো তখনই অগ্নি ওকে ভয় দেখাতো বাড়িতে ফিরে সে ঐশীকে দেখে নেবে , তখন ওর হাত থেকে ঐশীর নিস্তার নেই ইত্যাদি অনেক কিছু । 


অফিসে গিয়ে সবার সাথে কথা বললেও কেমন একটা মনমরা হয়ে থাকতো সে । সবাই এই বিষয়টা খেয়াল না করলেও এটা চোখে পড়ে অফিসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার । তিনি ছিলেন ঐশীর উর্ধ্বতন স্যার আবীর চ্যাটার্জী । তিনি বেশ কিছুদিন খেয়াল করে একদিন ঐশীর কাছে জানতে চাইলেন, " কি ব্যাপার ঐশী, তোমার কি কিছু হয়েছে ? " অনেক দিন এই প্রশ্ন নানা কথায় এড়িয়ে যেত ঐশী । ঐশী চাইতো নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে । 


স্যার আবীর প্রায় রোজ খেয়াল করতেন তাকে । একদিন ঐশী সব ঘটনা বিস্তারিত জানায় সেই স্যারকে । এভাবে প্রায় রোজ নিজের কথা বলে মনটা যেন অনেক হালকা লাগতো তার । ধীরে ধীরে স্যারের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে । হয়তো ঐশী নিজের কথা কাউকে বলতে না পেরে আরও বেশি মনমরা হয়ে থাকতো কিন্তু এখন সে নিজেকে অনেকটাই সামলে নিয়েছে । স্যার নানারকম ভাবে ঐশীর মনের কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করতেন । মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঐশী ধীরে ধীরে স্যারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । একটা দারুণ মানসিক শক্তি গড়ে ওঠে ঐশীর 

মনে । হয়তো স্যারের সাথে এই মানসিক বন্ধন আস্তে আস্তে এই দুই পূর্ণবয়স্ক নারী - পুরুষকে অনেকটাই কাছে এনে দেয় । 



  


Rate this content
Log in

More bengali story from Sharmistha Mukherjee

Similar bengali story from Drama