Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Tragedy


3  

Sharmistha Mukherjee

Drama Romance Tragedy


রাধার মতো কলঙ্ক যে চাই ( ১ )

রাধার মতো কলঙ্ক যে চাই ( ১ )

18 mins 223 18 mins 223


রাধা কৃষ্ণের প্রেম কেউ দেখেছেন কিনা সেটা জানা নেই, কিন্তু তাদের প্রেম আজও এক অবিস্মরণীয় প্রেমকাহিনী । রাধা যদি কলঙ্কিনীই হোতো তবে শ্রীকৃষ্ণের পাশে তার স্ত্রী রুক্মিণীকে দেবদেবী রূপে দেখা যেত । যথারীতি রাধা কৃষ্ণ নামের পরিবর্তে রুক্মিণী কৃষ্ণ নাম সর্বত্র শোনা যেত । সুতরাং রাধাকে অন্তত পক্ষে কলঙ্কিনী বলা চলে

 না । 

আমার এই কাহিনীর নায়িকা ঐশীর কাহিনীতে আছে পরকীয়া কিন্তু তাকে কি আদৌ কলঙ্কিনী বলা যায় ? চলুন ফ্ল্যাশ ব্যাকে গিয়ে দেখে আসা যাক কে এই ঐশী । 

গল্পের প্রধান চরিত্রে দুজন । নায়ক আবীর ও নায়িকা ঐশী । এছাড়াও কাহিনীর প্রয়োজন স্বার্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র । 


ঐশী ছোটোবেলা থেকেই ছিল খুব প্রাণোচ্ছল একটি মেয়ে । বাবা - মায়ের প্রথম সন্তান হিসেবে ছিল যেমনি আদুরে তেমনি সারাদিন বকবক করে সবার মাথা খারাপ করে দিত । সারাদিন এতো কথা বলতো যে এক একসময় বাবা - মা বলতো,

 " তুই থামতে কতো নিবি । এবার চুপ কর । তুই এতো কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে যাস না । " কিন্তু ঐশীর কথা শেষই হোতো না । পাড়ায় কারো সাথে বিশেষ একটা মিশতে পছন্দ করতো না । ওর জগৎ বলতে ছিল গল্পের - কবিতার বই পড়া , টেলিভিশন দেখা আর ফাঁক পেলেই কবিতা লেখা । কবিতা লেখাই ছিল ঐশীর সবচেয়ে পছন্দের । পড়াশোনা করতে হবে তাই কোনোরকমে পড়াশোনা চালিয়ে যায় । যদিও এই পড়াশোনা নিয়ে মায়ের কাছে বকাঝকা এমনকি মাঝেমধ্যে বেদম প্রহারও

জুটতো কপালে । তা বলে পড়াশোনায় খুব খারাপ ছিল না কোনোদিনই । আর এক ছিল ছোটো ভাই যার উপর দিদিগিরি দেখাতো খুব । 


কোনোরকমে মাধ্যমিক - উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে অধ্যয়ন শুরু করে । শুরু হয় জীবনের দ্বিতীয়

 ইনিংস । কলেজে যেতে প্রথম প্রথম অনীহা থাকলেও আস্তে আস্তে কলেজের প্রতি একটা টান জন্মাতে থাকে । যদিও সেই টান অবশ্য ছিল বিশেষ একজনের জন্যই । হ্যাঁ, একজনকে ইতিমধ্যেই মনের দরজা খুলে দেয় ঐশী । ছেলেটিকে আগে থেকে চিনলেও কোনোদিন কথা বলে নি কিন্তু কলেজে অনেক অচেনার ভীড়ে হঠাৎ সেই চেনা মুখ দেখে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় । বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে কবেই যেন ভালোলাগায় পরিণত হয় সেটা ঐশী বুঝতেও পারে নি । যদিও অন্যান্য বন্ধুদের কাছে ছেলেটির সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে । ছেলেটির নাকি বহু সংখ্যক মেয়েদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল তবুও ঐশী তার প্রেমে

 পড়লো । সব বন্ধুদের নিষেধ উপেক্ষা করে ঐশী ভালোবাসলো অগ্নিকে । অগ্নি কেমন করে ঐশীর মনের কথা জানতে পারে জানা নেই তবুও হঠাৎই একদিন ঐশীকে আলাদা করে ডেকে এনে জানায় " ঐশী আমি তোকে ভালোবাসি । আজকের রাতের মধ্যে ভেবে উত্তর দিস । আমি ঠিক সন্ধ্যা সাতটায় ফোন করবো " সব শুনে আনন্দে ঐশীর হৃৎপিন্ড বাইরে বেরিয়ে আসার উপক্রম । তাও নিজেকে সামলে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । 


যেদিন অগ্নি ঐশীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় সেদিন ছিল শনিবার । কাজেই সেদিন কলেজ ছিল অর্ধ দিবস তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যায় ঐশী । শনিবার সন্ধ্যায় ছিল ঐশীর কম্পিউটার ক্লাস তাই ক্লাসে যাওয়ার পথেই অগ্নিকে ঠিক সাতটায় ফোন করে । ঐশীর তখন কোনো মোবাইল ছিল না শুধু বাড়িতে ফোন ছিল । আর বাড়ি থেকে তো এসব কথা বলা যায় না তাই বাধ্য হয়ে টেলিফোন বুথ থেকে ফোন করতেই হয় । অগ্নি ফোনটা তুলেই বলে, " হ্যাঁ বল্ " । ঐশী একটু চুপ করে থাকে তারপর বলে, " তুই কি করে জানলি আমি ফোন করেছি ? " অগ্নি বলে, " আমি জানতাম তুই বাড়ির ফোনে কথা বলতে পারবি না, আর তোর কম্পিউটার ক্লাস আছে । আমি তোর ফোনের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম । তা এবার বল তোর উত্তরটা হ্যাঁ তো ? না করবি না " । ঐশী আবারও খানিকটা চুপ থেকে বলে " তোর কাছে তো সব মেয়েদের জন্য সময় কখনো ছয় মাস অথবা আট মাস । আমার সাথেও কি তাই করবি ? " অগ্নি এবার একটু হকচকিয়ে যায় তারপর বলে, " আমি তোকে কথা দিচ্ছি তোকে পেলে আমি একদম বদলে যাবো । আমি তোকে কোনোদিন ঠকাবো না । It's my promise . তুই please না করিস না । " এসব কথা শুনে আস্বস্ত হয়ে ঐশী প্রত্যুত্তরে সম্মতি জানায় । আগেই বলেছি যেদিন ওদের সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয় সেদিন ছিল শনিবার , পরের দিন রবিবার অর্থাৎ কলেজ ছুটি । এক অদ্ভুত আনন্দ আর লজ্জায় কেমন যেন চরম উত্তেজনার মধ্যে কাটে ছুটির দিনটা । রবিবার রাত ফুরালেই সোমবার , আবার কলেজ , আবার সবার সাথে দেখা , আর শুরু এক নতুন 

সম্পর্কের । সোমবার সকাল থেকেই ঐশী ভীষণ উত্তেজনায় নানা রকম ভুল করতে থাকে । এই যেমন অন্যমনস্ক হয়ে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে জিভ পুড়িয়ে ফেলা , স্নান করার জন্য গামছা বাথরুমে রেখে আসার পরে গামছা খুঁজে না পেয়ে সারা বাড়ি তোলপাড় করা । রোজ একইভাবে চুলটা বাঁধে কিন্তু সেদিন যেন কিছুতেই চুলের বাঁধন ঠিক হচ্ছে না , বার কয়েক বাঁধলো আবার খুলে ফেলল । শেষে বিরক্ত হয়ে কোনোরকমে বেঁধে জুতো পরে বেরিয়ে পড়লো কলেজের উদ্দেশ্যে । কলেজে নিজের কক্ষের সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো । কিছুতেই যেন ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না , ভালো করে চারিদিকে তাকিয়ে অগ্নিকে না দেখতে পেয়ে কক্ষে ঢুকে নিজের জায়গায় বসে পড়লো । সেদিন কেন যেন অগ্নি কলেজ এলো না । 

   

ঐশী নিজের জন্মদিনের দিন কলেজে গিয়ে দ্যাখে অগ্নি কলেজে আসে নি । আগের দিন এলো না, আজকেও আসলো না । কি জানি কি হয়েছে ? এই ভাবতে ভাবতে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়ে । তখন ইতিহাসের লেকচার চলছিল , কাজেই চুপ করে শুনেছিল । হঠাৎ অগ্নি এসে বললো , " May I come in mam " । তখন আইভি ম্যাডাম রীতিমতো রক্তচক্ষু নিয়ে ঘুরে তাকালেন । অগ্নি অনুমতি পেয়ে সোজা এসে বসে পড়লো ঐশীর পাশে । প্রথম দিকের তিনটি বেঞ্চ ছিল ঐশীদের কয়েকটি বন্ধুর দখলে । প্রত্যেকে নিজের নাম খোদাই করে রেখেছিল ঐ তিনটি বেঞ্চে । যেন ঐ তিনটি বেঞ্চ ওদের সবার কেনা । আইভি ম্যাম ক্লাস শেষ করে 

চলে গেলে অগ্নি লাফ দিয়ে উঠে পড়লো । ব্যাগের ভিতর থেকে হাত ঢুকিয়ে বের করলো এক বাক্স চকোলেট ও একটা বার্থডে গ্রিটিংস কার্ড । উপহারগুলো ঐশীকে দিতেই ঐশী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো অগ্নির দিকে । এইসব যেন তার কাছে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা । যাইহোক সেদিনটা বেশ হৈচৈ করে কাটলো ঐশী ও তার বন্ধুদের । পরের দিন ছিল কলেজের নবীনবরণ 

উৎসব । সেদিন অগ্নি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল ঐশীকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবে । নবীনবরণ উৎসব উপলক্ষে ঐশী সেদিন শাড়ি পরেছিল । কোনও কোনও বিশেষ উপলক্ষে শাড়ি পরতে সে খুবই ভালোবাসতো । সকাল এগারোটা নাগাদ কলেজে পৌঁছে দ্যাখে অগ্নি অধীর আগ্রহে ওর জন্য অপেক্ষারত । ঐশীকে দেখেই অগ্নি বলে উঠলো , " চল আজকে তোকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসি । আজকে তোর সাথে আমার প্রথম ঘুরতে যাওয়া । আমি আজ ভীষণ excited . By the way তোকে আজ দারুণ সুন্দর লাগছে । " একথা শুনে লজ্জাবনত মুখে ঐশী দাঁড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষণ , তারপর বললো , " কোথায় যাবি ? আমাকে কিন্তু বিকাল পাঁচটার মধ্যে বাড়িতে ঢুকতেই হবে । নাহলে মা আমাকে আস্ত রাখবে না । " অগ্নি সব শুনে বললো , " তোর ভয় নেই , তোকে সময়ের বাড়িতে পৌঁছে দেব । এবার চল । " এই বলে আমাদের বাকি বন্ধুদের বললো , " আজকে চলি, কাল আবার দেখা হবে । " অগ্নি আর ঐশী রওনা দিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্দেশ্যে । রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ ঐশী খেয়াল করলো কখন যেন ওর অজান্তেই অগ্নির হাত চলে গেছে কোমরে । খুবই সাবধানে কোমর ধরে রাস্তা পার করিয়ে দিল সযত্নে । প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঐশী ও অগ্নি বসেছিল একটি গাছের নিচে । অনেক কথা হোলো একে অপরের সম্পর্কে । ঐশী অনেক কিছু জানতে পারে অগ্নির ব্যাপারে , যা অগ্নি অকপটে স্বীকার করেছে ঐশীর কাছে । সব শুনে ঐশী একটা বিষয়ে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল অগ্নি প্রচুর মেয়ের সাথে প্রেম করলেও শারীরিক কোনোরকম চাহিদা অগ্নির মধ্যে নেই । এর অনেক রকম 

প্রমাণও একে একে বুঝতে পারে ঐশী । দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন কেটে যায় ওদের সম্পর্কের । কখনো তুই, আবার কখনো তুমি সম্বোধনে বড়ো অদ্ভুত ছিল ওদের সম্পর্ক । ওদের সম্পর্কের কয়েক মাসের মধ্যে মোটরবাইক কিনেছিল অগ্নি । ঐশীর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অপেক্ষা করতো ঐশীকে কলেজে নিয়ে যাবার জন্য । শুধু কলেজ নয়, ওদের কোচিং সেন্টারও ছিল একই , কাজেই দিনের মধ্যে বেশির ভাগ সময় ওদের একসাথেই কাটতো । কলেজের প্রথম বর্ষের পর হঠাৎ অগ্নি কলেজ পরিত্যাগ করে অটোমোবাইল নিয়ে পড়ার জন্য অন্যত্র ভর্তি হয়ে যায় । সেখানে ক্লাস শেষ করেই চলে আসতো ঐশীর কলেজে । তারপর কলেজের মাঠে ঐশী ও অন্যান্য বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা দিয়ে ঐশীকে নিয়ে চলে যেত । সময়মতো ঐশীকে পৌঁছে দিত বাড়িতে । দেখতে দেখতে ওদের সম্পর্ক এক বৎসর অতিক্রম করলো । 

  

অগ্নি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিল যেভাবেই হোক সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বছর চারেকের মধ্যে ঐশীকে নিজের জীবনসঙ্গিনী করবে । একপ্রকার বদ্ধ পরিকর ছিল সে । ঐশী জানতো অগ্নি ভীষণ রকম জেদি প্রকৃতির ছেলে, যা বলে তাই করে । অগ্নি এতোটাই জেদি যে যেটা ওর চাই তা পাওয়ার জন্য বাড়িতে জিনিসপত্র ভেঙে, অশান্তি করে তা আদায় করেই ছাড়ে । এই ব্যাপারটা খুব খারাপ লাগতো ঐশীর । অগ্নিকে অনেক বুঝিয়ে কোনো লাভ হয় না দেখেই আর কিছু বলাই ছেড়ে দেয় । আরও একটা কথা ঐশীর খুব খারাপ লাগতো যখন অগ্নি বলতো, " দ্যাখ ঐশী আমার মাথা গরম হয়ে গেলে হিতাহিত জ্ঞান থাকে না , তখন আমি অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলে ফেলি । Please কিছু মনে করিস না । " ঐশী এই ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক কষ্ট পেলেও ভালোবাসার খাতিরে সব মুখ বুজে সহ্য করে যেত । ঐশীকে ওর অনেক বন্ধু অনেক ভাবে বোঝায়, " ঐশী তুই ভুল করছিস , অগ্নি কিন্তু তোকে ঠকাচ্ছে । নিজের ভালো চাস তো এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আয় " । এসব কোনো কথাই ঐশীর কর্ণগোচর হোতো না উল্টে বন্ধুদের ভুল বুঝতো । আসলে ঐশী অগ্নিকে এতোটাই অন্ধের মতো ভালোবাসতো যে ওর খারাপ দিকগুলো চোখেই পড়তো না । অনেক বন্ধু বা বন্ধু স্থানীয় অনেকেই ঐশীকে বলেছিল , " ঐশী তুই জানিস না , তুই ছাড়াও অগ্নির আরও দুজনের সাথে সম্পর্ক আছে । আমরা নিজের চোখে দেখেছি বলেই তোকে সাবধান করছি । " কিন্তু আখেরে কোনো লাভ হয় না দেখে সবাই আস্তে আস্তে ঐশীকে কিছু বলাই ছেড়ে দেয় । নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ওদের সম্পর্ক তিন বছর পার করে । ঐশী ও অগ্নির সম্পর্কের কথা ওদের দুইজনের বাড়িতেই জানতো । কারো কোনো আপত্তি ছিল না ওদের নিয়ে । ঐশীর বাড়িতেও প্রায় রোজই যাতায়াত ছিল অগ্নির । সবাই খুব ভালোও বাসতো অগ্নিকে । কিন্তু একটা ঘটনায় ঐশীর সবকিছু কেমন যেন উলোটপালোট হয়ে 

যায় । একদিন সকাল ছয়টার সময় হঠাৎ করে ঐশীর ছোটো মামীমা প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে ঐশীদের বাড়িতে । তখন ঐশী ঘুমিয়েছিল । মামীকে এভাবে ছুটে আসতে দেখে ঐশীর মা কারণ জানতে চাইলে মামী বলে , " মৌ কোথায় ? " মৌ ছিল ঐশীর ডাকনাম । মা বলে , " ও ঘুমোচ্ছে , কেন কি হয়েছে ? " মামী " কিছু না " এই বলে ঐশীর ঘরে গিয়ে ঐশীকে ঘুম থেকে একপ্রকার টেনে তোলে । অতো সকালে মামীকে দেখে হতভম্ব হয়ে যায় সে । ঐশী বলে , " কি হয়েছে মামী , তুমি এতো সকালে ? " মামী বলে , " অগ্নি ছেলেটা কেমন রে ? " অবাক হয়ে " উফ্ মামী তুমি এতো সকালে এটা জানতে এসেছো ? এই বলে ঐশী কপালে হাত দিয়ে হেসে ওঠে । কিন্তু তার পরক্ষণেই মামীর মুখে যা শুনলো তাতে ঐশীর চারিদিকে যেন অন্ধকার নেমে আসে , মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে । মামী বলেছিল , 

" কালকে তোর ছোটোমামা কাজ থেকে ফেরার পথে রাস্তায় অগ্নিকে দেখেছে । ওর বাইকের পিছনে একটি মেয়ে খুব বিশ্রীভাবে অন্তরঙ্গ হয়ে বসা । প্রথমে তোর মামা ভাবে মেয়েটা তুই । কিন্তু গাড়িটা সিগন্যালে দাঁড়ানোর পর বুঝতে পারে ওটা অন্য একটি মেয়ে । মেয়েটি বাইকের পিছনে অগ্নিকে জাপটে ধরে বসেছিল যা খুবই দৃষ্টিকটু । তোর মামা বাড়িতে এসে আমাকে বলতেই আমি চমকে উঠি । তুই ঠিক করে বলতো ছেলেটা ঠিক কেমন ? " এসব শুনে ঐশীর বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যায় । ওরা বলেছিল , " অগ্নির তুই ছাড়াও অন্য সম্পর্ক আছে , আমরা নিজের চোখে দেখেছি । " একথা মনে পড়তেই প্রচন্ড রাগে - অভিমানে হাউহাউ করে মামীকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলে ঐশী । ঐশীর মা কান্না শুনে ছুটে আসে । ঐশীকে ওর মায়ের হাজারো জেরার মুখে পড়তে হবে ভেবে মামী বলে , " ও কিছু না , আমি মৌ- কে নিয়ে যাচ্ছি । ও দু-তিন দিন আমার কাছে থাকবে । 


ঐশীকে ওর ছোটোমামী নিয়ে চলে যায় মামার বাড়িতে । সারা রাস্তা ঐশী কেঁদে ভাসালো । ঐশীর কান্নায় ওর প্রিয় মামীর বুক ফেটে যাচ্ছিল সেটা বলাই বাহুল্য । মামা বাড়িতে পৌঁছে একই অবস্থা তখনও । ঐশী যেন নিজের কানে শোনা কথাগুলো কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না । অগ্নি তাহলে এই দীর্ঘ তিন বছর ভালোবাসার আড়ালে শুধু ঠকিয়ে গেল সেটা ভেবেই গুমরে গুমরে কেঁদে উঠছে ঐশী । ঐশী বাধ্য হয়ে অগ্নিকে ফোন করে খানিকটা জেরা করার ভঙ্গিমায় জিজ্ঞাসা করে , " অগ্নি কালকে সন্ধ্যায় তুই কোথায় ছিলি ? আর কি রঙের শার্ট পরেছিলি ? " জবাব দিতে গিয়ে কেমন যেন আমতা আমতা করে অগ্নি জানায়, " কেন কালকে সন্ধ্যায় আমি পলাশের বাড়িতে ছিলাম । আর কালো রঙের শার্ট পরে বেরিয়েছিলাম । কেন কি হয়েছে ? " " না কিছু না বলে " ঐশী ফোন কেটে অগ্নির বাবাকে ফোন করে জানতে পারে অগ্নি সত্যিই কালো শার্ট পরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলো । কিন্তু ঐশীর ছোটো মামা অগ্নিকে স্কাই ব্লু শার্ট পরা দেখেছে । তাহলে মামা কি ভুল দেখেছে ? কি করবে ভেবে না পেয়ে ঐশী আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অগ্নিকে ডেকে পাঠায় নিজের মামা

বাড়িতে । আত্মহত্যার কথা শুনে উদ্ভ্রান্তের মতো আধুনিক ঘন্টার মধ্যে অগ্নি হাজির হোলো । মামী ওদের দুজনকে কিছুক্ষণের জন্য একা রেখে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে । একা হতেই অগ্নি প্রায় জরিয়ে ধরলো ঐশীকে । কোনোরকম হাত ঝাপটা মেরে নিজের থেকে অগ্নিকে দূরে ঠেলে দিয়ে প্রশ্ন করলো , " কালকে তোর বাইকের পিছনে তোকে জাপটে ধরে থাকা মেয়েটা কে ছিল ? দ্যাখ আমাকে মিথ্যে কথা বলে কোনো লাভ হবে না । কারণ তুই ভালো করে বুঝতে পারছিস " । সব শুনে নিমেষের মধ্যে অগ্নির মুখটা শুকিয়ে পাংশুটে বর্নের হয়ে গেল । অস্থির হয়ে ক্রমাগত ঘন ঘন ঢোক গিলতে লাগলো । অগ্নির মুখটা দেখে ঐশী সমস্ত ঘটনার সত্যতা বুঝতে পারে । ঐশী আবার বলে , " কিরে বল ? চুপ থেকে কোনো লাভ নেই । " অগ্নি তখন অপরাধীর মতো উত্তর দিল, " আমাকে ক্ষমা করে দে ঐশী, আমার ভুল হয়ে গেছে । আর কোনোদিন এই ভুল করবো না । আমি বাড়ি থেকে কালো শার্ট পরে বেরিয়ে পলাশের বাড়িতে গিয়ে স্কাই ব্লু শার্ট পরে বেরিয়েছিলাম । মেয়েটার নাম শতাব্দী । এগারো ক্লাসে পড়ে । আজ প্রায় ছয় মাস হোলো ওর সাথে আমার সম্পর্ক । " এই সব শুনে ঐশী রীতিমতো চীৎকার করে উঠে ওর সামনে থেকে অগ্নিকে চলে যেতে বলে । অগ্নিও আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে যায় । তারপর থেকে প্রায় সপ্তাহ খানেক অগ্নির সাথে কোনো কথা বলে নি ঐশী । অগ্নি কিন্তু দিনে বহুবার ফোন করে ক্ষমা চাইতো । প্রায় সপ্তাহ খানেক পর ঐশী আবার অগ্নিকে মাফ করে দেয় । হয়তো অন্ধ ভালোবাসার হাতে পর্যবসিত হয়েই ঐশী আবার অগ্নিকে মেনে নেয় । ওদের সম্পর্কের চার বছরের মাথায় শ্রাবণ মাসে অগ্নি ও ঐশীর বাবা - মা মিলে ওদের আইনত রেজিস্ট্রি বিবাহ করিয়ে রাখেন । আইনত বিবাহের পর থেকে সামাজিক না হলেও ঐশী ও অগ্নি আইনত স্বামী- স্ত্রী । অবশ্য এর আরেকটি কারণ ছিল অগ্নির মতো বাউন্ডুলে ছেলের জন্য ঐশীর মতো শান্ত প্রকৃতির মেয়ে হয়তো লাখে একটা মেলে । তাই আইনত বিবাহ দেওয়ার তাড়া ছিল অগ্নির বাবার বুদ্ধি । পরের বছর বৈশাখ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ দেওয়া হবে বলে ঠিক হোলো । মানে নববধূ রূপে অগ্নির বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করতে আর মাত্র মাস আটেক । 


অগ্নিকে সম্পূর্ণ নিজের করে পেতে আর মাত্র আট মাস বাকী ভেবেই যেন ঐশীর মন পুলকিত হয়ে উঠলো । দেখতে দেখতে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার জন্য ঐশী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় । পড়াশোনা আর প্রেম দুয়ের চাপে ঐশীর প্রায় স্যান্ডউইচ হবার জোগাড় । তবে ঐশীর মন থেকে অগ্নিকে নিয়ে সন্দেহ কিছুতেই আর মুছলো না । সন্দেহ করা একটা মানসিক রোগ ঐশী জানে তবুও অগ্নিকে বিশ্বাস করে এতো বার সে ঠকেছে যে না চাইলেও সন্দেহ ওর মনে সয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে চলে । কিন্তু তা কোনোদিনই বুঝতে দেয় না অগ্নিকে । মাঝেমধ্যে অগ্নির মোবাইল ঘাটাঘাটি করতে ভুল তো না ঐশী । কারণ আগে অনেকবার অগ্নির মোবাইলে অনেক মেয়েদের ম্যাসেজ দেখেছে । কেউ লিখেছিল " You r so handsome. You are only mine. " তো আবার কেউ লিখেছিল " You are too hot and sexy. I want you in my dream. " ইত্যাদি আরও অনেক কিছু । কয়েকবার তো নিজেই জবাব দিয়ে অগ্নির ঘাড় থেকে পেত্নী বিতাড়িত করেছে ঐশী । 

সব মানসিক চাপ সামলে নিয়ে সফলভাবে মাস্টার্স -এর প্রথম বর্ষে ঐশী উত্তীর্ণ হয়ে যায় । ঐশী ধীরে ধীরে লক্ষ্য করে অগ্নি অনেক বদলে গেছে , ইদানীং ঐশীর প্রতি প্রচন্ড রকম যত্নশীল এবং অধিকারবোধ দেখাতে শুরু করেছে । এটা অগ্নির এক বিশাল পরিবর্তন । ঐশী কখন কি করছে , ঠিক করে খেয়েছে কিনা , শরীর ঠিক আছে কিনা , বেশি মানসিক চাপ না নিতে বলা , ভালো করে ঘুমের দরকার ইত্যাদি নানা কৌতুহলী প্রশ্ন সারাদিন চলতো । এছাড়াও ঘন্টার পর ঘণ্টা ফোনে আলোচনা চলতো বিয়ের পর জীবনটা কেমন হবে , কি কি করবে বিয়ের পর , কিভাবে আদর করবে ইত্যাদি । বাস্তব আর কল্পনা মিলে ওদের আলোচনা যেন ডানায় ভর করে ভেসে বেড়াতো । আবার ওদের খুনসুটি ছিল অবাক করার মতো । অগ্নি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন মেয়েদের নাম করে ঐশীকে রাগিয়ে দিয়ে চুপ করে ফোন কেটে দিতো । প্রচন্ড রেগে গিয়ে বারবার অগ্নিকে ফোন করলেও দুষ্টুমি করে ফোন ধরতো না । অগ্নি জানতো রাগ করে কান্নাকাটি করতে শুরু করবে 

ঐশী । তখন ঐশীর সামনে বসে মানভঞ্জন করতে বেশ ভালো লাগে অগ্নির । তারপর অবশ্য হাউহাউ করে এক প্রস্থ কান্না আর কিছু কিল - ঘুষি খেতেও হয় অগ্নিকে । সেসময় আদর করে শান্ত করতে হয় তার প্রেয়সীকে । শান্ত করার জন্য অতি সন্তর্পনে চোখে - মুখে - ঠোঁটে - গালে - চিবুকে এঁকে দিতে হয় ঠোঁটের আদুরে ছোঁয়া । তারপর এক রাশি মুক্তো ঝরানো খিলখিল করা হাসিতে ভরে ওঠে ঐশীর মুখ । ঐশী যেমন অগ্নিকে অন্ধের মতো ভালোবাসতো তেমনি ভয়ও পেতো । ভয় পেতো অগ্নিকে নয়, অগ্নির বাজে রকমের জেদকে । 


একে একে কেটে গেল আরও মাস

 আটেক । ঐশীর বাড়িতে আজ তার আইবুড়োভাতের অনুষ্ঠান । চর্ব্য - চোষ্য - লেহ্য - পেয় মানে ষোড়শপাচারে ভূড়িভোজের মনলোভা আয়োজন । সুন্দর একটি লাল পাড়ের কাঁচা হলদে রঙের শাড়িতে দারুণ সুন্দর লাগছিল ঐশীকে । বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের ভীড় , নানারকম কথাবার্তার, হাসিঠাট্টার মজলিস বেশ জমে উঠেছিল । সন্ধ্যার সময় সকলে মিলে গঙ্গা নিমন্ত্রণ করতে গেলে ঐশী তাড়াতাড়ি করে ফোন করে অগ্নিকে । তার বাড়িতেও তখন সম্পূর্ণ একই দৃশ্য । সারারাত ভাই-বোনেরা মিলে বেশ হৈচৈ করছিল এমন সময় ঐশীকে রীতিমতো ধমকে ঘুম পাড়ায় ঐশীর মা মীরা দেবী । সবাই বলে " মৌ ঘুমিয়ে পড় সোনা , কালকে ভোর সাড়ে তিনটায় উঠতে হবে অধিবাসের জন্য । " কাজেই ঘুম না আসলেও ঘুমের ভান করে পড়ে থাকতে হোলো তাকে । ভোরে সবার আগে উঠে চোখ-মুখ ধুয়ে সবাইকে ডেকে তুললো ঐশী নিজেই । সবাই ঐশীর এই কীর্তি দেখে বেশ হাসি - তামাশাও করলো । শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি সহযোগে শুরু হোলো অধিবাস ও দধিমঙল । " সবশেষ করে উঠতে হবে " এই বলে সবাই মিলে চলে গেল জল সইতে । ততোক্ষণে বাড়ি একটু ফাঁকা পেয়েই ঐশী অগ্নিকে ফোন করে । অগ্নির তখনো অধিবাস হয়নি । কারণ শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো ঐশী । কারণটা ছিল অগ্নির মা দোতলায় তালা মেরে রেখেছিলেন রাতে কিন্তু সকালে কিছুতেই চাবি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অথচ সেই চাবি ওর মায়ের আঁচলে বাঁধা তা কেউই খেয়াল করে নি । প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে আঁচল থেকে উদ্ধার করে অগ্নি নিজেই । অগ্নির মায়ের ভীষণরকম ভুলো মন সেটা ঐশী জানতো । সবাই জল সয়ে এসে পড়ায় ঐশী তাড়াতাড়ি ফোন রেখে দেয় । আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে ঐশীর বিয়ের দিন সকালে । ঐশীর বাবা হন্যে হয়ে সানাইয়ের সিডি খুঁজে চলেছে, প্রায় আধঘণ্টা পর ঐশীর মা জানায় , " ঐ সিডিটা আমি গতকাল রাতেই লুকিয়ে রেখেছি । " সানাইয়ের সুরে নাকি ঐশীর মায়ের খুব কান্না পায় , বোঝো 

কান্ড । যাইহোক ঐশীর বাবা ঠিক কোথা থেকে সানাইয়ের সিডি জোগাড় চালানোয় সে মীরা দেবী খুব রেগেও গিয়েছিলেন । উফ্! সে এক মজার ব্যাপার । সকাল আটটা নাগাদ শুরু হয় বৃদ্ধি ও শঙ্খ কঙ্কনের অনুষ্ঠান । বাবার পাশে বসে বৃদ্ধির নিয়মাচার করার সময় ঐশী বাবার চোখে জল দেখে খুব মনমরা হয়ে যায় । সকাল দশটা নাগাদ ঐশীর বাড়ির কিছুজন রওনা দেয় অগ্নির বাড়িতে গাত্রহরিদ্রার তত্ত্ব নিয়ে । প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ অগ্নির বাড়ি থেকে ঐশীর বাড়িতে গাত্রহরিদ্রার তত্ত্ব 

আসে । মহাধুমধামের সাথে খুব হৈ - হুল্লোড় করে ঐশীর গায়ে হলুদ হয় । তারপর সন্ধ্যায় নববধূর সাজে সজ্জিত হয়ে ঐশীর আত্মপ্রকাশ ঘটে । লাল টুকটুকে বেনারসি , চন্দনচর্চিত কপাল , গা ভর্তি গয়নায় ঐশীকে অপরূপ সুন্দর দেখাচ্ছিল । বিয়েটা ছিল বৈশাখ মাসে তাই গরম পড়েছিল খুব । একতো গরম, তার উপর বিয়ের একটা চাপা উত্তেজনা , পাশাপাশি বাবা-মা-ভাইকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ছাপ পড়েছিল ঐশীর চোখে- মুখে । হঠাৎ করেই বাইরে শোরগোল শোনা গেল , " বর এসে গেছে, বর এসে গেছে " । 


বর এসে শুনে সবাই ছুটে গেল । ঐশীর মা, দুই মামী, আরও অন্যান্য সবাই চলে গেল বরকে বরণ করতে । ঐশীর পাশে তখন ঐশীর মামাতো দিদি ও বন্ধুরা বসে হাসি - তামাশায় ব্যস্ত । অন্যদিকে বিয়ের এক অদ্ভুত উত্তেজনার ঝড় উঠেছে ঐশীর মনে । অগ্নির বন্ধুরা আগে থেকেই এসে ঐশীর কিছু ছবি তুলে নিয়ে চলে গেল অগ্নির

 কাছে । শুরু হোলো আশীর্বাদের পর্ব । তারপর একে একে শুভ দৃষ্টি , মালা বদল , সম্প্রদান , হোমাঞ্জলি , সিঁদুর দান পর্ব শেষ করে সম্পন্ন হোলো ঐশী ও অগ্নির বিবাহ পর্ব । পরের দিন ঐশীর মাকে খুব একটা ঐশীর সামনে আসতে দেখা গেল না । সন্ধ্যার সময় ঐশীর বিদায়ের পূর্বে নব দম্পতিকে আশীর্বাদ করার সময় দেখা যায় ঐশীর মাকে । চোখ - মুখ কাঁদতে কাঁদতে ফুলে উঠেছে । বাড়িতে তখন রীতিমতো বিদায়ী কান্নার এক করুণ দৃশ্য ।

 কনকাঞ্জলির সময় ঐশী পিছন দিকে তিন মুঠো চাল মায়ের আঁচলে ছুড়ে দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সবার শত প্রচেষ্টাতেও "মায়ের ঋণ শোধ করলাম " কথাটি কিছুতেই উচ্চারণ করলো না । গাড়িতে ওঠার আগে ঐশী বলেছিল , " মায়ের ঋণ কোনোদিন শোধ করা যায় না তাই ইচ্ছাকৃত সেকথা বলি নি । " বিদায় নিল নব দম্পতি । 


বিশাল আলোর রোশনাই ও আসতবাজির সাথে শ্বশুর বাড়িতে নববধূ বরণের পর্ব সমাপন হোলো । আরও অনেক রীতিনীতি মেনে পরের দিন বৌভাতের অনুষ্ঠান পালিত হোলো । শুরু হোলো ঐশী ও অগ্নির বৈবাহিক জীবন । 


আনন্দ - হাসি - খুশিতে ভরে ওঠে ঐশীর সংসার । কোনোকিছুর কোনো অভাব ছিল না । দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল একটি বছর । বৈবাহিক জীবনের দ্বিতীয় বছরের শেষার্ধে ঐশী হোলো অন্তস্বত্তা । বাড়িতে সে এক বিশাল আনন্দের ঝড় উঠলো । ঐশী যখন আড়াই মাসের গর্ভবতী তখন অগ্নি চাকরি সূত্রে কলকাতার বাইরে বদলি হয়ে যায় , কাজেই ঐশীকে প্রসবকালীন সময় পর্যন্ত ঐশীর বাবা - মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়াই শ্রেয় বলে অগ্নির বাবা ঠিককরেন । সেই কথামতো ঐশীকে পাঠানো হয় বাপের বাড়িতে । অগ্নিকে ছাড়া খুব একা লাগতো ঐশীর কিন্তু কিছু করার নেই , সে আর একা নয় । তার গর্ভে আস্তে আস্তে প্রতিপালিত হচ্ছে তাদের ভালোবাসার চিহ্ন । যতোই দিন কাটতে থাকে ঐশী ও অগ্নির উত্তেজনা চরমে ওঠে জুনিয়র ঐশী অথবা জুনিয়র অগ্নির মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা । অবশেষে সেই শুভক্ষণ উপনীত । ঐশী জন্ম দিলো এক ফুটফুটে জুনিয়র অগ্নি । ছোট্ট পুত্র সন্তান কোলে পেয়ে যারপরনাই ঐশী ও অগ্নির আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো । সেদিন থেকে তাদের নতুন পরিচয় তারা বাবা - মা । 


ঐশীর এক সুন্দর সাজানো সংসার । শ্বশুর - শ্বাশুড়ী - অগ্নি ও ছেলে সূর্যকে নিয়েই ওর সম্পূর্ণ জগত । বিয়ের পর থেকেই ঐশী অনেক বার শ্বশুর মশাইকে বলেছিল , " বাবা আমি চাকরি করতে চাই " আর প্রত্যেক বার " না তোকে চাকরি করতে হবে না । তুই শুধু আমার সংসার সামলা তাহলেই হবে " এই বলে নাকচ করে দিতেন । 


চলবে


Rate this content
Log in

More bengali story from Sharmistha Mukherjee

Similar bengali story from Drama