Akib Jabed

Abstract Others


2  

Akib Jabed

Abstract Others


প্রতিবাদ

প্রতিবাদ

4 mins 277 4 mins 277


আজ সোহেল , দুপুরে না পড়ে ঘুমিয়ে আছে। না সে ঘুমায়নি তো! সে দুই নয়ন খোলা রেখে কোনো এক অজানা স্বপ্নে পাড়ি দিয়েছে। সকালে ঝগড়া করার পর থেকে সে মনমরা হয়ে আছে। যেন তার মনের স্বপ্নের কোনো এক কোনায় কেউ আঘাত করেছে । আজ সকালে তার বাড়ির সামনে থাকা হিংস্র জন্তুর মতো জীব, তাদের প্রতিবেশী ,তাদের সাথে ঝগড়া করেছে। সেটাতো ঝগড়া নয়, সেটা জবরদখল! সে মনে করেছিল যে সে আজকে ডি .এন.সি কলেজে ইংরেজি অনার্সের প্রথম ক্লাস করবে। কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। সে ,তার সাত বছর বয়স থেকে দেখে আসছে যে তাদের প্রতিবেশীরা, তাদের উপরে অত্যাচার করছে। তারা রাস্তার জন্য জায়গা না ছাড়লেও জায়গা দখল করছে।


“কি হলো রে?, চোখ খুলে যে ঘুমিয়ে আছিস!”, সোহেলের মা তাকে এই অবস্থায় দেখে জিজ্ঞাসা করে।

“না মা, কিছু নয়!”, সে চোখ খোলা রেখেই উত্তর দিলো।সে আর চাইনা , মৃত্যুর আগে , সে তার চোখদুটি বুজে নিক।


“ মা বলছি যে, তাদের কি এখানে জায়গা ছাড়া আছে?”, সে এবার তার মায়ের দিকে ডান দিকে ঘুরে গিয়ে, কোনো এক ভয় – জিজ্ঞাসু-মন ভাঙার মিশ্রনে তৈরী হওয়া প্রশ্নটি তার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো।


“ ওদের এখানে একচুলও জায়গা নেই !, ওরা আরো জবর-দখল করছে!। এই রাস্তাটা তো তোদের বাপ-দাদাদের রাস্তা! তারা সব জানে, তবুও তারা এইদিকে ছোঃ মারতে আসছে!, যখন থেকে আমি এই বাড়িতে এসেছি, তখন থেকেই তারা আর তোদের বংশের লোকেরা অত্যাচার করেই যাচ্ছে!, গোটা গ্রামের লোক জানে যে এই রাস্তাটা তোদের, তাদের জায়গা ছাড়া নেই, তবুও জায়গা দখল করতে আসছে!।“, তার মার মুখ থেকে কথাগুলো, নির্যাতন-অসহ্য-অত্যাচারিত-বিরোক্তির পথের উপর ভর করে যেনো তার কর্ণ গহ্বরে প্রবেশ করলো। সোহেল তার মায়ের চোখদুটি , নির্যাতন-অত্যাচারের আঘাতে, মণি-কোঠারি থেকে বেরিয়ে আসা জলের উপর, ভাঙা-চোরা,-পালছেড়া-নাবিকহীন, নৌকাদুটিকে দিশাহীনভাবে ভাসতে দেখে, সহ্য করতে না পেরে , বাম দিকে কাত ঘুরে সোজা হয়ে যায়। তার মাকে সান্তনার দেয়ার জন্য তার মুখ থেকে শব্দগুলি বেরিয়ে যায়, “ আল্লা ঠিক তাদের মুখ বন্দ করে দিবে গে! চিন্তা করিও না!”।


“হ্যা! কখন যে  সেই শয়তানদের মুখ বন্দ করবে!” তারপরে ভাগ্যকে সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে, তার মা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আর সোহেল, সেই প্রাণহীন কাঠের মতো শুয়ে আছে,। যেন তার মায়ের কথাগুলো হাতুড়ির মতো আঘাত করে, তার আরশি দিয়ে তৈরি বাড়ির কোনায় কোনায় থাকা শান্তি-সুখ-স্বপ্নের স্তম্ভগুলি ভেঙে পড়েছে।

সে শুধু চোখ খোলা রেখেই........................।


………………………


সেই দিনের সাতদিন অতিক্রান্ত হবার পর আবার তারা ঝগড়া শুরু করেছে। এবার তারা জোরজবরদস্তি পাইপ বসাবে। সোহেলের পরিবারের কথা হলো- জায়গা না ছেড়ে তারা কেন পাইপ বসাবে?। জায়গা ছেড়ে বসালে , তারা কোনো বাধা দিবে না। কেন তারা বারবার এইভাবে তাদেরকে জ্বালাচ্ছে?


সোহেলের কাকু চিৎকার করে উঠলো,-“এই শোন, তোরা আমাদের জায়গার উপর দিয়ে ইলেক্ট্রনিক তার নিয়ে এসেছিস, কার্নিশ বাড়িয়েছিস, আর এবার পাইপ বসাবি!।এক রাস্তা ছোটো আর তার উপর আবার পাইপ বসাবি? আজকে বলে রাখলাম আর পাইপ বসাতে দিবনা!”।

আজকে তাকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। আজকে কি, তাকে কখনোই দেখা যায়না। বাড়ির সব লোকেরা জানে যে সে খুব ভীতু। চারিদিকে ছেলেমেয়ে সবাই তাদের ঝগড়া দেখে হাসছে। আর তার সম্পর্কের দাদু, যাদের অবস্থান সমাজের সবচেয়ে নীচে , সে আবার বলে কিনা – “ ছিঃ!, এরা আমাদের কলঙ্ক! এদের কোনো সন্মান নেই!” সে কোনো কিছু শুনলেই , তার বুকটা প্রচণ্ড গতিতে কাঁপতে থাকে। আজও সে লেপ মুড়ি দিয়ে কাঁপন্ত হৃদয় নিয়ে শুয়ে আছে। সে শুধু ঝগড়া শেষ হওয়ার সময়ের অপেক্ষা করছে। 


“এই তুই এভাবে কেন ঘুমিয়ে আছিস রে পাগল?”, সোহেলের মা, তাকে দেখে, মুখে অর্ধেক হাসি- চিন্তা করে তাকে জিজ্ঞাসা করল।


“ ভালো লাগে না গে মা!, কখন যে এগুলো শেষ হবে!, মনে হয় যতদিন আমাদের পরিবার থাকবে, ততদিন তারা আমাদেরকে কষ্ট দিবে!”, কথাগুলো তার মৃত হৃদয় থেকে একইসঙ্গে বেরিয়ে এলো। 


“অত ভাবিস নারে বোকা!”, ছেলেকে চিন্তিত দেখে, শান্ত করার জন্যে তার মা, তাকে কথা গুলো বলে।



      . ........................................................…..……………………




   রাত !। ঘড়ির কাঁটা কোনো দিকে মন না দিয়ে বারোটা পেরিয়ে পঁয়ত্রিশ-এ পৌঁছে গিয়েছে। বিপদ- ঝগড়ার কাছে ধ্বংস হওয়া , সোহেল, অন্ধকার ঘরে , মশারির ভিতরে, তাদের কথা ভাবছে। এক ঝগড়া, আর তার উপর তার দিদিকে কেউ এস.এম. এস. দিয়ে বিরক্ত করছে , শুনে সে যেন ভেঙেগুড়ে শুকনো ধুলো হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। সোহেল তার দিদিদের সাথে ঝগড়া-মারপিট করলেও, যদি সে দেখে যে তার মা বা তার দিদিদের মন খারাপ বা মুখ ভার করে থাকে, তখন তার বুকটা আঁতকে উঠে।সে আর এখানে বাঁচতে চাই না। সে , তার পরিবারকে নিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে চলে যেতে চাই, হতো অন্য পৃথিবী ! তার চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসছে, যেন পাহাড়ের উপর দিয়ে বয়ে আসা নদীর জল, প্রবাহ পথে তৈরি হওয়া দুটো ফাটলের মধ্যে হঠাৎ করে, প্রবেশ করে , নিঃশব্দে- লাভের মতো গলগল করে বেরিয়ে আসছে। সে চিৎকার- আর্তনাদ করে বলতে চাই যে, “মা !ভালো লাগে না গে!, ভালো লাগে না!” কিন্তু পরক্ষণেই সে তার মুখকে সংযত করে নেয়, যাতে পাশের ঘরে ঘুমানো তার ঠাকুমা আর তার দিদি যাতে জেগে না যায়। আবার সে আস্তে আস্তে বলে উঠে, “ কেন তারা , তাদের সাথে এমন করছে!, আমরা দুর্বল বলে! কারণ আমরা ঝগড়া চাইনা বলে? আমরা তো গোলমাল চাইনা! তবুও কেন তারা এইরকম করছে!, জানি যে তাদের পিছনে আমাদের বংশের লোক আছে! তবুও তো তারা আমাদের বংশের লোক, তারা এমন কেন করছে?, এইজন্য যে আমার কাকু সি.পি.আই.এম. পার্টি করছে , আর তারা কংগ্রেস থেকে তৃণমূল পার্টি করছে বলে! না আর অন্য কিছু.....…………”। 

ঘড়ির কাঁটার আওয়াজ এবং অন্ধকারের আওয়াজ , তার চোখের জলের প্রত্যেক বিন্দুর মধ্যে থাকা, তার মনের আর্তনাদের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক নতুন অদ্ভুত শব্দ জেগে উঠেছে।আর সেই শব্দের সঙ্গে সাহস করে, সোহেল হাসতে হাসতে বলতে থাকে , “ সমাজ! …পলিটিক্যাল পাওয়ার!…… প্রতিবাদ……প্রতিবাদ………প্রতিবাদ!”





Rate this content
Log in

More bengali story from Akib Jabed

Similar bengali story from Abstract