Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Akib Jabed

Abstract Inspirational


3.7  

Akib Jabed

Abstract Inspirational


ফেরিঘাট

ফেরিঘাট

9 mins 305 9 mins 305

কাকু রঞ্জন ভট্টাচার্য, বলে গিয়েছেন যে তাকে পোলিও -র কাজ করতে হবে। মানে তাকে ছোট বাচ্চাদেরকে পোলিও খাওয়াতে হবে। কিন্তু অরূপের এইসব কাজের  প্রতি কোন ইচ্ছা নেই। সে এখন ডি.এন.সি কলেজে ইতিহাস অনার্স নিয়ে প্রথম বর্ষে পড়ছে। তার ইচ্ছা যে সে একটা বড় কিছু করবে। এইসব ছোটো -মোটো কাজে তার ইচ্ছে নেই। কিন্ত তার মা ,তাকে বোঝাতে থাকে যে সে যদি এইসব না কাজ করে তাহলে কিভাবে তাদের সংসার চলবে। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা। তবুও তার মা তাকে বোঝাতে থাকে যে তার বাবার আয় কম আবার তার উপর তার শরীর খারাপ হচ্ছে, তাই তার উচিত কাজটা করা। আর এটা করলে তার পকেট খরচও হয়ে যাবে। মায়ের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয়ে , সে বলে,-  

 “ ঠিক আছে! এর পরে কিন্তু আমি আর কোন কিছু কাজ করবোনা , বলে দিচ্চি কিন্তু!” এই বলে সে আবার বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে। তার মা তাকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে বলে। তারপরেই তার কাকাতো ভাই রোহিত বাড়ি এসেই বলল যে তাকে আধ ঘন্টার মধ্যে রেডি হতে হবে। আসলে কাজ শুরু নটা থেকে কিন্তু আজকাল আর কে সরকারি নিয়ম মানে !। এক তো অরূপ সকাল সকাল মার সাথে ঝগড়া করার তার মেজাজটা বেজায় চোটে আছে তার উপর আবার তার চাচাতো ভাইয়ের ফরমায়েশ। তার মনটা যেন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তারপর গরম ভাত না হওয়ায়, তার মা তাকে আগের রাতের দুটো রুটি ভেজে দেয়। অগত্যা অরূপ রুটি দুটি খেয়ে নিয়ে , রেডি হয়ে তার ভাইয়ের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। সে বলল যে আধ ঘন্টা কিন্তু, একঘন্টা পেরিয়ে দশটা বেজে গেলেও তার কোনো সাক্ষাত নেই। তার পরেই সে আসে এবং অরূপ তার গম্ভীর- ধ্বংসাবশেষ মুখ নিয়ে তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রোহিত শুধু কথা বলেই যায়। কিন্তু অরূপ চাই না তার কথায় কান দিতে। সে শুধু একবার উপরে আর একবার নীচে তাকাচ্ছে । সে যখন উপরে তাকাই ,তখন তার মনে হয় যে উপরে বাধাহীন ভাবে উড়ে যাওয়া চাতক পাখিগুলো সত্যিই খুব সুখী। না তাদের সংসার চালানোর জন্য কোনো কাজ করতে হয়। শুধু তারা মনের সুখে কোনো এক অজানা খাবারের উৎসের দিকে বেরিয়ে পড়ে। সেও চাই তাদের মতো হতে কিন্তু বিধাতা তাকে মানুষ রুপে সৃষ্টি করেছে, এটাই সত্যি। সে মনে মনে ভাবে যে পুরো ভুবনটাই তার মতো গম্ভীর হয়ে আছে। ঠিক এই মুহুর্তে, পাশের দোকানে বসা , দোকানদার বলে উঠে যে “কিরে ? উপরে তোর কাউকে দেখতে পাচ্ছিস নাকি?”।আর এই বলেই সে বন্য জন্তুর মতো হাসিতে লুটিয়ে পড়ে। আর তার আশে-পাশে থাকা অন্য লোকজনও হাসতে থাকে।এমনকি অরূপের পাশে থাকা রোহিতও মুচকি মুচকি হাসতে থাকে। নিজেকে অপমান করছে দেখেও , সে চুপ করে থাকে, কোনো কথা বলে না। কিন্তু মনে মনে সে তাদেরকে তীব্র ধিক্কার জানাই।সে মনে মনে বলে,  “তারাতো মূর্খ! তারা কি বুঝবে তার মনের যন্ত্রণার কথা!। একমাত্র এই ভুবনই জানে সেকথা “। হঠাৎ করে তার ঘাড়ে অন্য কাউরির হাতের চাপাতে , তার চমক ভেঙে যায়। সে দেখে যে হাতটা আর কাউরির নয়, বরং তা রোহিতের। তারপরেই রোহিত তাকে জিজ্ঞাসা করে ,” কী রে কোথায় হারিয়ে গেলি?”।

অরূপ আর কোনো কিছু না ভেবেই বলে,” না তেমন কিছু না! “ সে রাগে তাকে ধমক দেবে ভাবলো কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, “ আমার পড়ার কথা ভাবছিলাম “। তার অবস্থা দেখে, রোহিত চালাকির সহিত বলে ,” আরে !, ওদের কথা মনে নিসনা। ওরা তো ওইরকমই!”

অরূপ মনে মনে বলে ,  “ কুমিরের মুখে আবার মিষ্টি কথা!, সেওতো ওদের দলের অন্তর্ভুক্ত!।“. তবুও তার এইসব মিষ্টি কথাতে অরূপের রাগ যেন দমে আসে। 

কিন্তু পরক্ষনেই সে আবার বলে উঠে, “ আচ্ছা ভাই, সত্যি করে বলতো তুই ওপরে কি দেখছিলি?”। তার এই জিজ্ঞাসতে অরূপের যে রাগ দমে এসেছিল, তা এতক্ষণ পর্যন্ত শুধু তার অন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা নতুন করে অক্সিজেন পেয়ে , দপ করে জ্বলে উঠে তার সারা দেহাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। সে ভাবে যে সে তাকে কসে এক থাপ্পড় মারবে। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের সন্মান, আত্মসম্মান -এর কথা ভেবে , অতিকষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, 

“ আমার বউকে দেখছিলাম! তো কী হলো?”। 

“সত্যি রে ! কেমন দেখতে রে? তোর সাথে কথা বলেছে নাকি ……!”, কথা বলার সুযোগ পেয়ে রোহিত তাকে ঠেস মেরে কথাগুলো বলে ফেলে। অরূপ ভাবতে থাকে যে সে আবার এক মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছে। তার উচিত হয়নি রোহিতকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া। সে তাকে অপমান করার সুযোগ ছাড়বেনা। সে ভাবলো যে আর কথা বলা ঠিক হবে না। তারপর থেকে সে আর তার কথায় কান দেয় না। তবুও রোহিত কথা বলে যায়। একসময় সেও বুঝতে পেরে থেমে যায়।…………………………………………………

  তারা ডানদিকে ঘুরতেই , অরূপ দেখে যে একটা লম্বা অজগর সাপের মত একটা রাস্তা সোজা ছুটে গিয়ে হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। তারপর তারা রাস্তাটির শেষ প্রান্তে এলো কারণ এখানেই তাদের কাজ করতে হবে। রোহিত, রাস্তার ধারে একটা দোকানের ভিতর থেকে পোলিওর ক্যারিয়ার ( পোলিও ঔষুধ রাখার বক্স ) নিয়ে আসে। আর অরূপ সে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখে যে রাস্তাটি উধাও হয়নি, সেটা গিয়ে একবারে নদীতে পড়েছে। সে নদীর দিকে চাহিতেই দেখলো যে , একটা নৌকা যাত্রী বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে আর একটি আসছে। নৌকা দুটি যেন নদীর বুকের উপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে আসছে। সে ভাবলো যে যদি কোনো এক প্রাকৃতিক শক্তি নদীকে তার চিরঘুম থেকে জাগিয়ে দেয় আর যদি সে হঠাৎ করে উঠে বসে যায় , তাহলে নদীর বুকের উপর ভাসমান নৌকা দুটির কি হবে? । তার পরেই সে বাদিকে ঘুরে দেখলো যে যাত্রীরা নৌকাতে উঠার আগে তার সামনে রাস্তার ধারে দোকানের মতোকরে করে বসে থাকে জনা তিনজনকে পয়সা দিয়ে যাচ্ছে। এইসব দেখে সে বুঝতে পারলো যে তারা কোনো এক ঘাটে এসেছে। কারণ এর আগে সে জঙ্গিপুর কলেজ যাওয়ার সময় এইরকম ঘাট হয়ে  গিয়েছিল। পাশ থেকে নদীর বাতাসের সঙ্গে ছুটে আসা এক অচেনা আওয়াজে তার চমক ভাঙে। সে নিজেকে সামলে নিয়ে দেখলো যে পাশের এক দোকানদার তাকে লক্ষ্য করে বলছে ,” আজ থেকেই কী পোলিও খাওয়ানো শুরু? “। তার কিছু বলার আগেই রোহিত উত্তর দেয় যে ,” হ্যাঁ ! আজ থেকেই শুরু “। সে যে কখন অরূপের পাশে এসে দাঁড়য়েছে , অরূপ কোনো টেরই পাইনি। 

“দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস এখানে? চল ওখানে গিয়ে কাজ শুরু করি। না হলে আবার অফিসার চলে এলে ব্যাপার খারাপ হয়ে যাবে!।“ রোহিত তাকে অত্যন্ত অপমান করে কথাগুলো বলে। কিন্তু অরূপ কথাগুলো সহ্য করে নিয়ে তার সঙ্গে সেই জায়গায় চলে যায়।  


“দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস?” ভ্যাকসিনটা বের কর!” আদেশ দেওয়ার মতো করে রোহিত , অরূপকে কথাগুলো বলে। অরূপ ক্যারিয়ার-এর ঢিপিটা খুলে সে ভ্যাকসিনটা বের করে। তারপর সে ভ্যাকসিনটার সিল কাটতে শুরু করে। কিন্তু ভ্যাকসিনটার সিল খুবই শক্ত হওয়ার, সে সোয়েটারের পকেট থেকে একটা পাঁচ টাকার কয়েন বের করে সিল কাটতে শুরু করে। তার সামনের আর আশেপাশের দোকানদাররা শুধু তার দিকেই তাকিয়ে আছে।, অরূপ ইতস্তত বোধ করে আর সে মনে মনে বলে , “প‍্যাচটাও তাড়াতাড়ি কাটছেনা!। মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এতেই আছে!“ । আর এরই মধ্যে সে দেখল যে তার পাশে রোহিত নেই ।সে পিছনে ফিরে দেখলো যে সেখানেও নেই। সে ভয় পেয়ে গেল যে সে কিভাবে একই কাজ করবে। তাই সে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল যে রোহিত ঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রোদ পোহাচ্ছে।

 তাকে দেখে সে ভাবলো যে একটা আস্ত কুমির শীতের সকালে রোদ পোহাচ্ছে। সে দেখল যে সে যদি দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে দোষ তারই হবে। “হতচ্ছাড়া” এই বলে সে নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে , সে ট‍্যালি‌ সীটটা ক্যারিয়ারের উপরে রেখে, ডানহাতে ভ্যাকসিনটা নিয়ে আর মার্কার সে তার ডান পকেটে রেখে রেডি হয়ে যায়। সে মনে মনে ভাবতে থাকে ,” তাকে কাজ করতে হবে আর ওই হতচ্ছাড়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিবে !”। এরই মধ্যে এক ভদ্র মহিলা , তার এক বছর চারেকের মেয়েকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই এক পাশের দোকানদার বলে উঠে, “খাওয়া,! বাচ্চাটাকে পোলিও খাওয়া!”। অরূপও তখন নিজেকে সামলে নিয়ে সেই ভদ্র মহিলার সামনে যমদূতের ন্যায় দাড়িয়ে যায়। তার পরেই সে জিজ্ঞাসা করে, “ বলছিলাম যে মেয়েটাকে কী পোলিও খাইয়েছেন?” 

 একবার সামনের দেয়ালে টাঙানো পোলিওর পোস্টার দেখে ভদ্র মহিলাটি বলে,, “ না! পোলিও খাওয়াচ্ছে নাকী?”।

 একটা ছোটো হাসি মুখে নিয়ে অরূপ বলে ,,” হা! আজথেকেই শুরু।“।

“ঠিক আছে, ভ্যাকসিনটা আমাকে দাও আমিই খাইয়েদিচ্ছি “ , বলে সে অরূপের কাছ থেকে ভ্যাকসিনটা নিয়ে সে তার মেয়েকে খাওয়াতে থাকে। আর অরূপ মনে মনে ভাবে ,” আচ্ছা কী দুনিয়া রে বাবা! কত ভদ্র যে সে নিজে হাতেই খাওয়াচ্ছে! যে খাওয়াই তাকে না দিয়ে নিজেই খাওয়াচ্ছে? । কিছুক্ষণ সে চুপ করে থাকার পর আবার ভাবতে শুরু করে , “ অবশ্য আজকাল যা ঘটেছে, তাতে এইরকম সতর্কতা থাকা জরুরী । কিন্তু আমাকে কি দেখে ওইরকম মনে হয়? আর …………….” আর অন্যকিছু ভাবার আগেই , ভদ্রমহিলাটি তাকে ভ্যাকসিনতা দিয়ে বলে ,” ঠিক আছে!”

তারপরে সে নিজের জায়গায় গিয়ে ,  একটা গভীর দীর্ঘ নিঃশাস বুক থেকে মুক্ত করে, আবার ভাবতে শুরু করে ,  “ ঠিকই আছে! এখনকার যুগে কোনো মানুষকে বিশ্বাস করা উচিত নয়, পরিবার ছাড়া ! “ সে আর কিছু ভাবতে যাবে , আর সেই সময় তার সামনে দিয়ে একটা মেয়ে , তার ছোট ছোট তিনটে বাচ্চাকে নিয়ে চলে যায় । তা দেখে সে তাদের পিছনে ছুটো যায়। কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। সে নিজের জায়গায় ফিরে এসে দেখে যে রোহিত তার সেই সীটটা দেখছে। তারপরেই রোহিত , অরূপের কাছ থেকে ভ্যাকসিনটা নিয়ে সে ক্যারিয়ারের পিছনে চালাকির সহিত সে দশ- বারো ফোটা পোলিও ভ্যাকসিন ফেলতে ফেলতে বলে , “এইভাবে না ফেললে , কেউ দেখে ফেলবে!” তার এই অসাধু কর্মকান্ড দেখে অরূপ তাকে জিজ্ঞেস করে যে সে কেন এইরকম ভাবে ফেলছে। কিন্তু রোহিত মুচকি হেসে তার কানে কানে বলে,  “ যদি কাগজে নম্বর বেশী না হয় তাহলে , অফিসার ভাববেন যে আমরা কাজ করিনা , ফাঁকি দিচ্ছি! চিন্তা করিসনা আমি আগেও এই কাজটা করেছি! 

 কিন্তু অরুপ দমে না গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে ,  “কিন্তু এটাতো অনিয়ম!” 

“অত বেশি ঈমানদার হোসনা, বুঝলি? এই দুনিয়াটা শুধু চালাকির দুনিয়ায়! বুঝলি?” এই বলে রোহিত, অরূপকে চুপ করিয়া দেয়। অরূপ শুধু মনে ভাবে “ কিন্তু……….” সে আর কোনো কিছু মনে করতে পারলো না। সে শুধু এই বলে নিজেকে সান্তনা দিলো যে,  “এই দুনিয়াতেই কেইবা ঈমানদার আছে!”

অরূপ আবার রোহিতকে জিজ্ঞেস করে ,  “ যদি কেউ না খাওয়াই?”

“তবুও দশ-বারো ফোঁটা ভ্যাকসিন ফেলে দিবি। কারণ ওরা শুধু সংখ্যা দেখবে।না দিলে বলবে কাজ করিসনা।“

“ঠিক আছে!” বলে অরূপ , তার পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়।


এইভাবে পোলিও খাওয়াতে খাওয়াতে , অরূপ সামনের দোকানের ঘড়িতে দেখে যে সাড়ে এগারোটা বাজছে। সে ঘড়ির কাঁটার দিক থেকে ডান দিকে চোখ ঘোরাতেই দেখে যে তারই এক সমবয়স্ক যুবতী , কোলে  বছর ছয়ের এক বাচ্চাকে আর তার ঠাকুমাকে সঙ্গে করে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে , তা দেখেই সে তাদের দিকে চলে যায়। তার দেহ বিরক্ত বোধ করলেও , তার মন যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে তাদের সামনে নিয়ে চলে যায়। সে দেখল যে মেয়েটি ফর্সা  না হলেও , সে সুন্দরী। তার গায়ের রং শ্যাম বর্ন, কিন্তু দেখতে মিষ্টি। তারপর সে তার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে দিয়ে , তার কোলে থাকা বাচ্চাটির দিকে ইশারা করে জিজ্ঞেস করে যে সে পোলিও খেয়েছে কিনা। তখন মেয়েটি বলে,  “হ্যাঁ! আমাদের গ্রামে খাইয়ে দিয়েছি।“। অরুপ মেয়েটির মধুর স্বরের স্রোতে ভেসে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, “ ওহ!, ঠিক আছে “। মেয়েটি তার ঠাকুমাকে সঙ্গে করে , অরুপকে পিছনে রেখে সামনে এগিয়ে যায়। কিন্তু অরূপ মেয়েটির মধুর স্বরের স্রোতে এবার নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে অন্য জগতে চলে যায়, যেখানে শুধু সে আর মেয়েটা , আর দ্বিতীয় কেউ নয়। হঠাৎ করে তার পিঠে কোনো এক ধাক্কায় তার তৈরি করা জগৎটা যেন কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে চুরে নদীর অতলে হারিয়ে যায়। সে নিজের বিবেক ফিরে পেতেই দেখে যে তার পাশে রোহিত দাঁড়িয়ে। 

“ কিরে আবার কোথায় হারিয়ে গেলি?”, রোহিত তাকে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে। সে কোনো কিছু না বলে হঠাৎ করে সে সামনে ছুটে গিয়ে সিঁড়িতে নামতেই দেখে যে মেয়েটিকে নিয়ে নৌকাটি ওপারে চলে যাচ্ছে। তার মনে হলো যেন নৌকাটি তার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে নদীকে পাহারাদার করে চলে যাচ্ছে। তারপরেও সে নিজেকে নৌকার কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটিকে এখন ছোট কাগজের তৈরি নৌকার উপরে বসা এক তিলের মতো লাগছে। নৌকাটি নির্ভীক ভাবে, সাহসের সঙ্গে তাকে নিয়ে চলে যেতে থাকে……………………………………..।


..………………


হঠাৎ করে তার মায়ের আওয়াজে তার ঘুম ভাঙে। শীতের সকালে, লেপের ভিতর থেকে তার বেরোতে ইচ্ছে করছেনা। তার মা তাকে বলে, “কিরে ওঠ! তাড়াতাড়ি ওঠ! “ । তারপরে অরূপ তার ঘুম ভেঙে যাওয়াই , বিরক্ত হয়ে বলে ,” উঠছি! থামো একটু!” 

একটু রেগে গিয়ে, তার মা তাকে বলে, “ আর কত ঘুমাবি? তোকে তো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে পোলিও খাওয়াতে ফেরিঘাট যেতে হবে। তোর কাকু বলে গিয়েছে যে তোকে আর রোহিতকে পোলিও খাওয়াতে ফেরিঘাট যেতে হবে।..তাড়াতাড়ি ……………….”। আর কথা না বলে তার মা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

তার মায়ের মুখে কথাগুলো শুনে আশ্চর্য হয়ে , সে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে, বিড়বিড় করে বলে “ ফেরিঘাট!......ফেরিঘাট…!”।


 



Rate this content
Log in

More bengali story from Akib Jabed

Similar bengali story from Abstract