Sutanu Sinha

Drama


3  

Sutanu Sinha

Drama


প্রফেসর সাম্য ও সাধুবাবা ৩

প্রফেসর সাম্য ও সাধুবাবা ৩

12 mins 2.4K 12 mins 2.4K

চোখ বুজিয়ে থাকতে পারলাম না বেশিক্ষন । একটা গোঁ গোঁ আওয়াজ এ ঘুম ভেঙে গেলো । জ্ঞান ফিরছে প্রীতম এর । হাত বাঁধা থাকায় বিশেষ কিছু সাহায্য করতে পারলাম না । শুধু প্রীতম প্রীতম বলে ২ -৩ বার ডাকলাম । ভালো করে জ্ঞান ফিরে সব কিছু বোঝার পর প্রীতম যা শোনালো এক জন দেশ প্রেমিক হিসাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না । কিন্ত কি করে মানুষ গুলো কে শাস্তি দেব সেটাও বুঝতে পারছিলাম না । যাই হোক যে গল্পটা প্রীতম বললো তার সারমর্ম হলো , এই বাবাজি কোনোমতেই বাবাজি নয় । গুজরাতে কোনো এক জায়গায় তার জন্ম । সেটা অবশ্য প্রীতম এর সাংবাদিক বুদ্ধি তে ভর করেই বলছে , কারণ যখন এ বাবাজি রেগে যাই বা প্রীতম কে মারতো তখন গালাগাল টা গুজরাতিতেই দিতো । সাংবাদিক হওয়ায় হরেক রকম ভাষা ওর এমনিতেই জানা । এই বাবাজি কোনো এক দাঙ্গা সম্ভবত গুজরাত হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় অভিযুক্ত ছিল , সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে এই বাবাজির রূপ এবং বস্ত্র ধারণ করেছে । নিজের একটা দল বানিয়ে নানারকম বাজে কাজ করে । সব রকম কাজে এই বাবাজির জুড়ি মেলা ভার । তবে ইদানীং বিদেশী কিছু সংস্থার সাথে বাবাজির খুব দহরম মহরম শুরু হয়েছে ।সে রকম এ এক চীন দেশের সংস্থা , যারা পুরাকালের জিনিস নিয়ে সারা পৃথিবীতে কেনা বেচা করে । এই বাবাজি কে তারা দায়িত্ব দিয়েছে ভারতবর্ষ থেকে এরকম জিনিস বার করে দিতে । কোনো ভাবে বাবাজির সন্ধানে এই গ্রাম আর পড়ো বাড়ি চলে আসে । বাবাজির উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের দেশের মূল্যবান এসব পুরাকালের সম্পত্তি কে বিদেশী দের কাছে বেচে দেয়া ।আর বাবাজির সম্মোহন করার কোনো ক্ষমতা ই নেই । পুরোটাই একজন চাইনিজ ম্যাজিসিয়ান এর দান । বাবার হাতে পরে থাকা ছোট একটি ব্রেসলেট , যা থেকে আলো আর গন্ধ বেরোয় ।এই আলো টা চশমা পরে থাকলে কিছুই করতে পারে না । তাই বাবার কাছেই চশমা পরে আসা বারুন থাকে । আর বাবা সাধারণত সবাই কে এটা প্রয়োগ করে না । আর যখন প্রয়োগ করতে চাই হাত টা একটি বিশেষ অবস্থানে ঘোরাতে থাকে । বাবাজি খুব বেশি হলে আজ বা কাল এর মধ্যেই সব জিনিস প্রাচার করতে চলেছে । কারণ প্রীতম বাবাজির বলা চাইনিজ ভাষা বুঝতে পেরেছে । বাবাজি কোনো চাইনিজ কে এখানে আস্তে আহ্বান জানিয়েছে তার ভক্ত হিসাবে । আর সেই ভক্ত কে আশীর্বাদ হিসাবে এসব জিনিস দান করে দেবে । তারপর দেশের বাইরে বার করবে কি করে সেটা এখনো জানতে পারিনি প্রীতম ।

সবটা শোনার পর সত্যি এ শরীর জ্বলতে শুরু করলো । কেমন করে এই লোক টাকে শাস্তি দেয়া যাই শুধু সেটাই ভাবতে লাগলাম । আর তার জন্য প্রথম কাজ ই হলো নিজেদের কে বন্দী দশা থেকে মুক্তি করা । জানিনা এই মুহূর্তে তা কি করে সম্ভব । হঠাৎ এ বাইরে থেকে কিছু শব্দ পেলাম , কেউ যেন এগিয়ে আসছে আমাদের ঘরের দিকে । মনে একটা কি হয় , কি হয় চিন্তা নিয়ে ই অপেক্ষা করতে লাগলাম , আর নিজেকে পুরোপুরি সময়এর হাতে ছেড়ে দিলাম ।

৭ই আগস্ট , ২০১৮

এই সবে প্রাতরাশ সেরে চলে গেলো প্রীতম । হ্যা , আমরা দু জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে আছি । এর অনেক তাই কৃতিত্ব দিতে হবে কমিশনার অরুনাভ চ্যাটার্জী কে , উনি না থাকলে এ যাত্রায় আর বেঁচে ফেরা হতো না । যাই হোক এখন ঘটনাটা গুছিয়ে লিখতে গেলে ও মনে শিহরণ জাগছে ।

সব কিছু গুটিয়ে রাখার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘরে বাবাজির কোনো এক চেলার প্রবেশ ঘটলো । হাতে রুটি আর বেগুন ভাজা ধরা । খিদে বেশ ভালোই পেয়েছিলো ,তাই খেয়ে নেবার হুকুম কে ফেরাতে পারলাম না । হাত খুলে দিলো দু জনের , সামনে রুটি আর বেগুন ভাজা ও অমৃত লাগছিলো । খেয়ে জল চাইতে গিয়েমনে হলো আমার পকেট এটা কি , বুঝতে পারলাম এটা আমার বলয় তৈরি করার ভগ্নাবশেষ , এটা আমার পকেট এ এখনো রয়ে গেছে দেখে সত্যি এ অবাক হলাম । হঠাৎ মনে হলো ওই যন্ত্র টার মধ্যে থাকা কিছু রাসায়ণিক বস্তূ আছে যে গুলো থেকে ছোট খাটো বিস্ফোরণ করা যেতে পারে । লোক টা জল আনার আগে অব্দি মাথা টাকে খাটাতে শুরু করলাম । কি রাসায়ণিক আমার এই মুহূর্তে কাজে আসতে পারে । ভাবনা টাকে আর একটু ছোটো করার জন্য , এটা ভাবতে লাগলাম এমন কোনো রাসায়ণিক কি ওতে ব্যবহার করেছি যা জল এর সাথে কোনো রিঅ্যাকশন করতে পারে । বেশ তখন এ মনে পরে গেলো রাসায়ণিক বস্তূ টিকে । এই রাসায়ণিক বস্তূ টিকে জল এ মেশালে একটা গন্ধ বেরোয় যা যেকোনো লোক কে ঘুম পাড়িয়ে দিতে সক্ষম । জল তা হাতে পেতেই গ্লাস এর জলে এক ফোঁটা রাসায়ণিক ফেলে দিতেই সে তার ক্ষমতা দেখতে শুরু করলো , সামনের লোক টি কিছুক্ষণের মধ্যেই অনাবিল ঘুম এর জগতে বিরাজ করতে শুরু করলো । সুযোগ পেয়ে গেলাম আমরা । প্রীতম কে বললাম প্রথম লক্ষ বাবার ঘর । কারণ বন্দুক টা বাবা ওখানেই রেখেছে । বাবার ঘরের কাছে একটু লুকিয়ে পৌঁছে গেলাম । সেই ঘরে বাবা কে না পেলে ও আমাদের ৩ টি জিনিস একটু খোঁজা খুঁজি করতেই আবিষ্কার করে ফেললাম । ঘড়ি ,হার আর আমার বন্দুক । ২ জন এই বেশ খুশি হলাম ।সবে ঘুরতে যাবো সামনেই বাবা জি । যথারীতি নিজের হাত নাড়াতে শুরু করতে যাবে , প্রীতম বলে উঠলো হাতের দিকে তাকাস নি সাম্য । হাত থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম আমি । আর তৎক্ষণাৎ প্রীতম বাবাজির উপর ঝাঁপিয়ে পরে হাত থেকে ওই বিশেষ বস্তূ টি খুলে নিলো । প্রীতম এর জিম করা বডি , শক্তি এ যথেষ্ট বেশি । খুব সহজেই বাবাজি আত্মসমর্পন করলো । সবে বাবাজি কে জব্দ করতে পেরে একটা সাফ্যলের হাসি হাসতে যাবে প্রীতম , ঘরে প্রবেশ করলো বাবাজির এক ভীষণ বিশ্বস্ত চেলা । একই এই দুটো ছাড়া পেলো কি করে ? বাবাজি ও হঠাৎ বলে উঠলো বাঁচা । লোক টা বন্দুক উঁচিয়ে এগিয়ে আসতে থাকলো । কারণ প্রীতম বাবাজি কে এমন একটা ভাবে সরাচ্ছিল , যে লোক টি বুঝতে পারছিলো না গুলি করলে কার গায়ে লাগবে, প্রীতম এর না বাবাজির । লোক টি যখন কাছাকাছি এসে গেছে , আর যখন দেখলাম সে পুরোপুরি বাবাজি কে ছাড়ানো মানে প্রীতম এর দিকেই চেয়ে রয়েছে ।আমি আর দেরি না করে , পিছন থেকে একটি মোটা কাঠের ডান্ডা দিয়েখুব জোরে লোকটির মাথায় মারলাম । লোকটি খুব ক্রূর দৃষ্টি এনে আমার দিকে তাকালো , কিন্ত নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না , মাটিতে লুটিয়ে গেলো । প্রীতম চিল্লে উঠলো গুড শট সাম্য । এর পর আমরা বাবাজি কে বেঁধে মুখ বন্ধ করে নিচের দিকে যাবার জন্য অগ্রসর হলাম । বাবাজির ঘর থেকে পাওয়া আমার ফোন থেকে ফোন লাগালাম কমিশনার অরুনাভ কে । তিনি সব শুনে বললেন আপনারা বেরোবার চেষ্টা করবেন না পুলিশ এখুনি আসছে । প্রীতম বললো , সাম্য অপেক্ষা করা বোকামি হবে , কারণ জিনিস গুলো বেহাত হতে বেশি সময় লাগবে না ।

সিঁড়ির কাছে এসে নিচের দিকে তাকাতে দেখলাম ভালো ভক্তের সমাগম হয়েছে , বাবাজি তো বন্দি তাহলে কে যাবে সামনে , আমরা অবাক হয়ে গেলাম, এক জন বাবাজি বসে আছে ভক্ত দের সামনে , আর ওই বিপুল ভক্ত একে একে তার সামনে আসছে । এই ভক্ত দের মধ্যে বিদেশী আছে কিনা , সেটা এত দূর থেকে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না । কিন্ত এ কোন বাবা , আমরা তো বাবা জি কে বন্দি করে এলাম । ছুটে গেলাম বন্দী বাবা জির কাছে । মুখ খুলতেই বলতে শুরু করলো , তোমরা যাকে খুঁজছো , সে আমি নয় ,আমি এক জন ম্যাজিসিয়ান , ওই লোকটির যখন দরকার পরে আমাকে কাজে লাগায় ,আমি আর আর লোকটি বা কথিত বাবাজি অনেকটাই এক রকম দেখতে , হঠাৎ করে দেখলে বুঝতে পারবে না , কে আসল বাবাজি । আর দুই বাবাজির একটু ঝামেলা হয়েছে ভাগা ভাগি নিয়ে ,যে চেলা টি কে আমরা অজ্ঞান করে এলাম , সে আসলে তাকে মারতেই এসেছিলো । প্রীতম বললো সাম্য এ খুব কাজে আসবে , একে ও বাঁচিয়ে বের করতে হবে । লোকটি শুধু বললো আজ যা ভক্ত দেখছো এরা প্রায় সবাই ওই চাইনিজ ভদ্রলোকের হাত করা , বাবা এদের কে যা দিচ্ছেন , সব এ গিয়ে ভরা হচ্ছে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক এ । বাবাজি কিন্ত জানতে পেরে গেছেন কিছু একটা ঘটেছে । তাই তোমরা আগে নিজেদের কে বাঁচাও । এই নকল বাবাজি কে হাত মুখ খুলে সাথে নিয়ে নিলাম । সিঁড়ি দিয়ে কিছুটা নামার পর , আমরা দেখতে পেলাম বাবার চেলা দের একটা দল এ দিকে এগিয়ে আসছে । আমরা ৩ জন এ একটা পিলার এর পিছনে লুকিয়ে পড়লাম ।কিন্ত যে ভাবেই হোক দল টি উপরে ওঠার আগে সন্দেহ বশে আমাদের দেখতে পেয়ে গেলো , বন্দুক উঁচিয়েগুলি চালালো এক জন , দেখা মাত্রই বাকিরা ও গুলি চালাতে শুরু করলো , একটা গুলি নকল বাবাজির গায়ে লাগলো , আমি আর প্রীতম ঝাঁপিয়েপরে সম্পূর্ণ আড়ালহবার আগেই প্রীতম এর হাতে একটা গুলি লাগলো , আমি অপেক্ষা না করে পকেট এ থাকা অন্য এক রাসায়ণিক কে কিছুটা জল এর সাথে মিশিয়েসামনে বিস্ফোরণ ঘটালাম , চারদিক ধোঁয়া হয়ে গেলো , সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রীতম কে নিয়ে বেরিয়ে এলাম পড়ো বাড়ি থেকে, একটা ঝোপের ধারে গিয়ে দু জন এ লুকিয়ে পড়লাম,প্রীতম এর একটু যন্ত্রনা হচ্ছিলো , গুলি টা ওর হাত ছুঁয়ে গেছে, কিন্তু কিছু করার নেই প্রীতম , পুলিশ আসা অব্দি আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে । ভাবলাম অরুনাভ দা কে আর এক বার ফোন করি , কিন্ত উনি যখন বলেছেন নিশ্চই কিছু করছেন । নিজের বন্দুক নিয়ে দেখলাম আর মাত্র ২ টো গুলি আছে , তাই গুলি নষ্ট না করে যে পালতে পেরেছি , সেটা কিছুটা মনে বল দিলো । কিন্তু এই জায়গা টা কতটা নিরাপদ সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে । হঠাৎ মনে হলো লোক গুলো এগিয়ে আসছে । প্রীতম বললো চল সাম্য , আমরা ওই ভক্ত দেড়মধ্যে গিয়ে দাঁড়ায়তাহলে কেউ চাইলে ও সবার সামনে কিছু করবে না । বেশ যতটা জোরে হাঁটা যাই হেঁটে আমরা ভক্তদের সাথে মিশে গেলাম । বাবার চেলাদের পোশাক পরে থাকায় ,সবাই আমাদের কে বাবার চেলা ভাবতে শুরু করলো , তাই সে রকম কোনো অসুবিধা হলো না । কিন্ত আসল বাবা আর তার চেলা গন আমাদের অতি সহজেই দেখতে পেয়ে গেলো , কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি এই ভক্তের মধ্যে ও আসল বদমাস গুলো লুকিয়ে আছে, হঠাৎ এক জন বলে উঠলো দু জন এ এক দম নড়বেন না, বুঝতে পারলাম , পিছন এ বন্দুক ঠেকানো আছে , কোনো উপায়না দেখে তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম । আমাদের যে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলো , প্রচুর লোক সেই রাস্তায় লাইন ধরে না রকম জিনিস একটা গাড়িতে তুলছিলো । আমাদের দু জন কে ওই গাড়িটির ঠিক পিছনে নিয়ে গেলো । ২ টো সপাটে থাপ্পড় পড়লো আমাদের গালে , উল্টে পরে যেতে গিয়েযাহোক করে আটকে নিলাম নিজেদের কে । সামনে ২ জন চাইনিজ দের মত দেখতে লোক দাঁড়িয়ে আছে, যাদের কথা বার্তায়কিছু উত্তেজনা অনুভব করছিলাম । যে ষণ্ডা লোকটি আমাদের থাপ্পড় মারলো, বলে উঠলো পুলিশ এ খবর কে দিলো ? তোরা ? চুপ করে রইলাম দু জন এ । মানে লোকাল পুলিশ এর সাথে এদের যোগাযোগ আছে নাকি ? লোক টা বলে উঠলো , তোদের সাহস তো কম নয় ,তোরা কি করে ভাবলি এতো কাঁচা খিলাড়ি আমরা, পুলিশ আগে থেকেই সব জানে , লোকাল পুলিশ কে সব জানিয়েএ আমরা এসব কাজ করছি । ভেবেছিলাম সব গুছিয়ে নেবার পর তোদের কে ছেড়েদেব , ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করবো না , কিন্ত মনে হচ্ছে তোদের কে মারতেই হবে , দেখি বস কি বলে । বলে লোক টি একটা ফোন লাগালো । তারপর আমাদের হাত টা বেঁধে গাড়ির পিছনে ফেলে রাখলো । বস হিসাবে হাজির হলেন বাবাজি , আমাদের কে দেখে বললেন , তোদের আমার সাথে কিসের শত্রূতা । মরতে তোদের হবে , কিন্ত তোদের একটা কথা জানিয়ে রাখি, মরার আগে জেনে যা, এখান থেকে প্রায়কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়েছি ,আর কিছুদিনের মধ্যে রাজস্থান বা উত্তরপ্রদেশ থেকে মন্ত্রী হতে চলেছি আমি । তারপর এই দেশ টাকে বেচে খেতে আমার বেশিক্ষন লাগবে না । কিন্ত দুঃখ একটাই, এসব দেখার জন্য তোরা আর বেঁচে থাকবি না । প্রীতম হঠাৎ বলে উঠলো লজ্জা করে না তোর , এই ভাবে দেখকে লুটতে , তোর সর্বনাশ খুব দ্রুত হতে চলেছে । বস তা ঘুরে গিয়েএকটা বিশাল জোরে লাঠি মারলো প্রীতম কে , মুখ থেকে রক্ত বেরিয়েআমার গায়ে পড়লো,এর পর বাবাজি হালকা হাসি দিয়ে ,পাশের চেলা কে বললো মেরে ফেল এদের কে । হঠাৎ এ আমি অনুভব করলাম হাতের দড়িবেশ অনেকটা আলগা হয়ে গেছে, আস্তে করে একটা হাত বার করতে পারলাম , চেলা টা সবে গুলি চালাতে যাবে , পকেট থেকে আমার বন্দুক বার করে চালিয়ে দিলাম, স্ট্যাচু হয়ে গেলো লোক টা, প্রীতম এর হাত তা খুলে দিয়ে সবে এগোতে যাবো , বাবাজি ঘুরে তাকালো আমাদের দিকে , নিজের বন্দুক বের করে গুলি মারলো , আমার প্রায়কান ছুঁয়ে বেরিয়ে গেলো , আমি ও অপেক্ষা না করে আমার বন্দুক এর শেষ গুলি বাবাজি কে উদ্দেশ্য করে ছুড়লাম । স্ট্যাচু হয়ে গেলো বাবাজি । প্রীতম বললো এই সুযোগ চল সাম্য , বলে আমরা বাবাজি কে নিয়ে জিনিস ভর্তি ট্রাক এ উঠে পড়লাম ,প্রীতম চালাতে শুরু করলো , কিছুটা চালিয়ে জঙ্গল তা ও পেরোনো হয়নি ,অনেক গুলির বর্ষণ শুরু হলো , প্রীতম বাধ্য হলো , গাড়ি থামাতে, প্রায় ৫জন মিলে ঘিরে ধরেছে আমাদের , এবার আর বাঁচার কোনো উপায় নেই, কারণ আমার বন্দুক এর গুলি শেষ , আর ওই রাসায়ণিকএর ও কোনো অবশিষ্ট নেই । যা ছিল সব শেষ । তাই চোখ বুজিয়ে মৃত্যুর সময় গুনতে লাগলাম ২ জন এ । ২ টো কি ৩ টি গুলির শব্দ হলো , আমার হাতে একটা গুলি এসে লাগলো , প্রচুর রক্ত বেরোতে লাগলো , নিজেরা মরেই গেছি ধরে নিলাম , কিন্ত গুলি আমার হাতে কি করে লাগলো , এতো সামনে থেকে ভুল মারবে তো না । জ্ঞান হারানোর আগে এক বার চোখ চেয়ে বাইরে তাকিয়ে কমিশনার অরুনাভ কে দেখতে পেলাম । মনের মধ্যে এক অদ্ভুত শান্তি নিয়েচোখ বন্ধ করলাম । হয়তো মৃত্যু আর বাঁচার আশা ২ টো এক সাথে মিলিয়ে গিয়ে কিরকম যেন অদ্ভুত অনুভূতি হলো যেটা বোধহয় ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না ।

তারপর যখন জ্ঞান ফিরলো আমি আর প্রীতম দু জন এই হাসপাতাল এ , হালকা কিছু শুশ্রূষা করে ছেড়েদিলো আমাদের কে । হাসপাতাল থেকে অরুনাভ স্যার নিজেই আমাদের কে ছাড়তে এলো । আমি কমিশনার কে সবে ধন্যবাদ জানাতে যাবো , উল্টে উনি আমাকে থামিয়ে দিয়েবললেন ধন্যবাদ প্রাপ্য মশাই , যাদের কে ধরিয়ে দিয়েছেনতারা তো সব আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল মশাই । এরা জিনিস গুলো নিয়ে অনেক আগেই পালাতো , শুধু মাত্র আপনাদের দু জন এর জন্য তা পারিনি । আর তা ছাড়া আপনি যদি আমাকে খবর না দিতেন আমি তো জানতেই পারতাম না এরকম ঘটনার কথা । লোকাল পুলিশ কে ফোন করেই বুঝে গেছিলাম ওরা কিছু করবে না , তাই মুখ্যমন্ত্রী পারমিশন নিয়ে আমি নিজে ফোর্স নিয়ে চলে এসেছিলাম । দারুন কাজ করেছেন আপনারা , আমি মুখ্যমন্ত্রী কে অবশ্যই আপনাদের সাহসিকতার কথা জানাবো । আমার বাড়িএসে গেলো , বললাম একটু চা খেয়ে যান স্যার , উনি বললেন , আমার অনেক কাজ আছে প্রফেসর সাম্য তবে এক দিন আসবো , শুধু চা নয় টা ও খেয়ে যাবো । আর প্রীতম বাবু আপনি কোন কাগজ এ আছেন , প্রীতম বললো এই সময় ।বা খুব ভালো , কাগজ এ এই গল্প টা ছাপলে , আমাকে একটু জানাবেন , মুখ্যমন্ত্রী ফলো করতে চান । প্রীতম ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি জানালো । কমিশনার চলে যেতে , প্রীতম নিজের গাড়িতে চলে যেতে চাইছিলো , আমার অনুরোধে প্রাতরাশ টা সেরেই গেলো , আর আমার নতুন গবেষণা সময়এর অঙ্কের হিসাব কিছু বোঝার চেষ্টা করে গেলো । নিজের হাতের জোর আর মনে জোর ২ টি খুব ক্ষীণ হয়ে এসেছে আমার , তাই কার্তিক কে দরজা বন্ধ করে , 'ড নোট ডিসটার্ব ' এর প্রস্তাব দিয়ে ঘুমের অপ্রতুল আরাম এর দিকে প্রস্থান করলাম । যেটা লিখতে ভুলে গেছিলাম , অরুনাভ স্যার এর বদান্যতায় বাবাজি সমেত পুরো টীমটাই ধরা পড়েছে ।সমস্ত জিনিস উদ্ধার হয়েছে ।চাইনিজ গুলো কে আটকে রাখা হয়েছে ।বাবা জির এই কীর্তি কলাপ এর ইতি টানতে পেরে এক সুন্দর অনুভূতি নিয়ে আমার পরের গবেষণায় চিন্তায় মননিবেশ করলাম । ডুবে গেলাম নিজের জগতে , যেখানে শুধু আছেই বাস্তব যুক্তি , আর ভীষণ ভাবে বিজ্ঞান ,আর সঙ্গে ভীষণ কাঙ্খিত ঘুম ।


Rate this content
Log in