STORYMIRROR

Krishna Banerjee

Romance Classics

3  

Krishna Banerjee

Romance Classics

ও কেমন আছে ?

ও কেমন আছে ?

4 mins
8

                         ও কেমন আছে ?

                       প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য

                      কলমে - কৃষ্ণ ব্যানার্জী

                                  ( 5 )

                 ভালোবাসার কোন জাত বা ধর্ম হয় না , এই কথাটার সত্যতা অনেকটা দেড়ি করে হলেও বুঝতে পেরেছিলাম । একটা সময় ছিলো কাজ আর টাকা এর অধিক প্রাধান্য আমি কিছুকেই দেয়নি । ঝুমড়ির সাথে আমাদের আলাপ প্রাই একমাস , আজ সে প্রথম কাজের টাকা হাতে পেলো । টাকাটা পেয়ে ঝুমড়ি সোজা আমার কাছে আসে আমার পায়ে একটা প্রণাম ঠুকে বলল, বাবু তুর জন্য আজ আমি এটগুল টাকা উপার্জন করেছি , এগুলো এখন আমি কি করবো ? তুই বাড়াঞ্চ তুর কাছি রাখি দে । আমি ওকে বললাম এটা তোমার উপার্জনের টাকা , তুমি এটা তোমার ইচ্ছে মত খরচ করবে আমাকে দেবে কেনো ? সে বলল তুই আমার টাকা মারি দিবি নাকি । আমাকে দুটো পোশাক অনিদিয়ে বাকি টাকাটা তুর কাছে রাখি দিস , এখানে আমার কি খরচ আছে বল । দু বেলা খাবার মিলছে রাতে মাথাগোঁজার জায়গা , তুরা নিজেরা তবুতে থাকছিস আর আমার জন্য টিনির ঘর বানায়ে দিয়েছিস , তুরা ভালোমানুষ সাহেব । আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম দেখ ঝুমড়ি টাকা পয়সার বিষয়ে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই । তোর কাছে তোর কাগজ পত্র রয়েছেনা ? সেতো আছেক সাহেব । আমি বললাম ঠিক আছে কাল আমার সাথে যাবি কাপড় কিনবি আর বাকি টাকা দিয়ে তোর নামে ব্যাংকে একটা খাতা খুলে দেব । ঝুপড়ি বলে ব্যাংক একটা আমাদের বস্তির ওখানে আছে বটে তবে আমিতো ওদিকি যাবোনা সাহেব আমার বেওড়া বাপটা দেখতি পেলেই আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেচি দিবে । আমি আশ্বাস দিলাম তোর সাথে আমি আছিতো তোর কিসের এত ভয় ? যত ভয় পাবি এই সমাজ তোকে তত ভয় দেখাবে । অবশেষে ঝুমড়ি রাজি হলো।

                       পরেরদিন সকলকে কাজে লাগিয়ে ঝুমড়িকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । সারাটা রাস্তা একটা ছেলেমানুষি করতে করতে চলল সে । এগুলো আমার ঠিক ভালো লাগেনা কিন্তু আজতো খারাপ লাগলোনা, কিন্তু কানো লাগলোনা তা আমি বলতে পারবোনা । যাইহো ওর আবদারি ব্যবহার আমার বেশ ভালোই লাগছিলো । দোকানে গিয়ে আমার পছন্দের দুটো জামা কিনলো সে । ওর তাকাথেকে না দিয়ে কেনো জানিনা আমার টাকা দিয়েই প্রেমেন্ট করে দিলাম , তারপর ব্যাংকে খাতা করে স্পটে ফিরতে প্রাই পৌনে দুটো বেজে গেলো । ঝুমড়ি ফিরে রান্নার জন্য তারা হুরো করছে আমি মানা করলাম , বললাম আজ আমরা বাইরের খাবার খাবো । অনলাইনে প্রায় তিন হাজার টাকার বিল হলো । এগুলো কানো করছি আমি নিজেও জানিনা , ঝুমড়ি আমাকে বলল সাহেব এটা ঠিক করলেননা এতগুলা টাকা কেউ এভাবে নষ্ট করে । আমি বললাম নস্ট বলছো কেন, তুমিতো প্রতিদিন আমাদের সকলের জন্য রান্না করে দাও । আমাদের রবিবার ছুটি থাকে কিন্তু তোমার তাই তোমাকে একবেলা ছুটি দিলাম । ঝুমড়ি বলল তবুও আপনার অনেকটা টাকা চলে গেলো , ওখানে আমার জামার টাকাটাও আপনি দিতে দিলেন না । আমি বললাম জা হবার তাতো হয়েই গিয়েছে এখন ভেবে লাভনেই তারচাইতে বাড়াঞ্চ খাবারগুলো সকলকে দেওয়ার ব্যবস্থা করে ফলো । ঝুমড়ি হয়তো মজা করেই বলল এইযে আপনি বললেন আজ আমার ছুটি । কিন্তু আমি কথাটা ইয়ার্কি ভেবে নিতে পারলামনা , কেমন জানো মনে হলো ও ঠিক বলেছে । আমি বললাম তাইতো তোমরা সকলে বোসে পরো আমি আজ নিজের হাতে তোমাদের খাবার দেবো। ঝুমড়ি যে মজা করে কথাটা বলেছে সেটা সে আমাকে বোঝাতে চাইলেও আমি বুঝতে চাইলাম না, অবশেষে আমি আর ঝুমড়ি মিলে ওদের খাবার বেড়ে দিয়ে তারপড় নিজেরা খেলাম ।

                          রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার তবুতে চলে গেলো , রাতের খাবারটা যদিও ঝুমড়ি নিজের হাতেই বানিয়েছে । আমি যৎক্ষণ না আমার তবুতে ঢুকি ঝুমড়ি তাৎক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে তারপড় আমি তবুতে ঢুকে গেলে ও ওর টিনের ঘরটাতে চলে জয় । আজ রাতে আমার কেমন জানো ঘুম আসতে চাইছেনা , মাথার মধ্যে নানান রকমের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে , আমিকি তাহলে ঝুমড়ির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি ? সঠিক কোন উত্তর মেলেনা । এই ধরনের নানান কথা ভাবতে ভাবতে ঠিক কটার সময় যে আমার চোখের পাতা বুজে এসেছিলো তা আমি নিজেও জানিনা । সকালে যখন নুতন জামাটা পড়ে ঝুমড়ি চা হাতে আমাকে ডাক দিলো সাহেব আপনার চা , তখন চোখ খুলে বুঝতে পারলাম সকাল হয়ে গিয়েছে । চোখ খুলে ঝুমড়ির দিকে তাকাতে একটু অবাক হলাম , নতুন পোশাকে ঝুমড়িকে একেবারে অন্যরকম দেখছিলো ……….।

                                       চলবে………………


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance