ও কেমন আছে
ও কেমন আছে
ও কেমন আছে ?
প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য
কলমে - কৃষ্ণ ব্যানার্জী
রাতে ঘুমাতে অনেকটা দেরি হয়ে যাওয়ার ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে ও অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিলো। ঝুমরি সকাল সকাল ওঠে , ওরা গ্রামের মানুষ বর্তমানে জায়গাটা বস্তি হলেও কিছু বছর আগেও এই এলাকাটা গ্রাম বলেই পরিগণিত হতো । রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এই জায়গাটাতে উদ্বাস্তুদের পুনার্বাস স্থান রূপে পরিগণিত হয়ে গেলো , তারপর থেকেই ধীরে ধীরে এটা বস্তিতে রূপান্তড়িৎ হয়। ঝুমরি নিজেও ঐ উদ্বাস্তুদের একজন , কিন্তু ওকে দেখে বোঝার বিন্দু মাত্র উপায় নেই । আমাদের সভ্যতাকে বেশ রপ্ত করে ফেলেছে সে । আমরা ওঠার আগে সে উঠে স্নান সেরে তার পুটলি থেকে জামাকাপড় বদলে একেবারে বাঙালী সেজে চা হাতে উপস্থিত হয় আমাদের তবুতে । শুধু মাত্র বদলাতে পারেনি তার কথা বলবার ধরণ । সে এসে বলে সাহাব চায়ে । মেয়ের কন্ঠে ধরফর করে আমি উঠে বসি আমি , ঘুমের মধ্যে আমি ভুলে গিয়েছিলাম রাতের বিষয়টা , তবে রাতের মেয়েটার সাথে এর কোনো মিল খুঁজে পেলামনা আমি । ওর পুটলির ভিতর এতো সুন্দর একটা শাড়ি থাকতে পারে এটা আমি ভাবতে পারিনি । কয়েক মুহূর্ত কোনো কথা বলতে পারলামনা , এখন এর ওকে দেখে মনে হচ্ছেই না ও একটা বস্তির মেয়ে । পরিষ্কার বাংলা বলতে পারলে হয়তো বোঝাই যেতোনা ও বাঙালী না বিহারী , যাইহোক আবার ঝুমরি বলল কি সাহাব চেয়ে নিবেন না ? আমি সম্বিত ফিরে পেয়ে বললাম কি দরকার ছিলো এসবের । সে বলল না ভাবলাম আপনারা সকালে চা কায়েন তাই বানায়ে দিলা , আপনাদের মধ্যে কাউকেতো বানাতেই হত না । এখানেতো কোনো চায়ের দোকান মিলবেনা সাহেব । চা হাতে নিয়ে বললাম তা বেশ করেছো, এখন কি করবে তুমি ? সে বলল জানিকনে সাহেব তবে এটুক জানি ঐ বস্তিতে হামি যাবে না । আমি বললাম বস্তিতে যাবেনাতো কোথায় যাবে ? সে আবার বলে জানিক নে সাহাব নাসিব যেখানে লিয়ে যাবে সেখানেই চলি যাবো । কিজানি সেই মুহূর্তে আমারজে কি হলো মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেলো আচ্ছা তুমি খাবার বানাতে পারো , মেয়েটি একটু ভেবে বলল কেয়া বলা সাহেব ? আমাদের একজন সহ কর্মী বলে উঠলো খানা পাকানা আসছে ? আবার মেয়েটি বলল , সাহাব আসছেনা ভাত, ডাল , রুটি, সবজি সবকুছ বানানা আতাহে , আবার আমিও বলে ফেললাম মাছলি , মাছলি বানান আসছে ? মেয়েটি বলে আসছেতে , মাছভী বানানা আসছে মুরগি ভি বানানা আসছে । এর একজন বলে ওঠে বা বা এ মেয়ের তো সবকুছ বানানা আসছে তুমিনা এখানেই থেকে যাও আমাদের দুবেলা একটু রান্নাটা করে দিলেই হবে । আমার কেমনজেনো মনে হলো ও আমার মনের কথাটাই বলে দিয়েছে কিন্তু এটা মানুষ আমাদের জন্য আসব করবে কানো ? আমি বললাম না না তা কি করে হবে একটা মানুষ আমাদের জন্য এতকিছু করবে তাকে মাসের শেষে কিছু দিতে হবেনা , আমি একবার মালিকের সাথে কথা বলে দেখি । একজন বলে ওঠে না স্যার ওনাকে না বলাই ভালো, ওনারকাছ থেকে একটা টাকা অতিরিক্ত বারকরাই অসম্ভব সেখানে একটা গোটা মানুষের স্যালারি ? আমি বললাম দেখো জানাতেতো অনেকে হবেই তবে তোমার কথাটাও ঠিক , যদি উনি মেয়েটির স্যালারি না দিতে চান তাহলে বিষয়টা এখানেই শেষ ফেলতে হবে । আর একজন বলে বলছিলাম স্যার আমরা জানি উনি একটাকাও অতিরিক্ত দেবেননা তার চাইতে আমরা কুড়িজন আছি প্রত্যেকে যদি আমাদের স্যালারি থেকে 500 টাকা করে দেই তাহলে ওনার 10,000 টাকা হয়ে যাবে তাতে চলবেনা । আমি হয়তো ওদের মুখথেকে এটাই শুনতে চাইছিলাম , আমি বললাম যদিও এটা একটা ভালো সমাধান, আমি না হয় 1000 টাকা দেবো । আমরা আমাদের মতো সবটাই ঠিক করে নিলাম কিন্তু যে কাজ করবে তাকেই তো জিঙ্গাসা করা হয়নি । আমি ঝুমড়িকে বললাম তোমার কিছু বলবার আছে ? ঝুমড়ি বলে হামি কি বলবে ? হামিতো কিছুই বোজলামনা আপনারা কি বললেন সাহেব ? একজন ঝুমরির কাছে গিয়ে বলে হুমলোগ ঠিক করেছি আপকো এক নকরি দেবো আমাদের কোম্পানিতে 10500 রূপেয়া স্যালারি আপকো দিবে আমরা আপনি নাকরি করতে রাজি আছেন ।ঝুমড়ি হেঁসে বলে আপনারা মজাক করছেন হামার সাথে । আমি বললাম না না মজাক না করছি আমরা তুমি কাজ করবে ? ঝুমড়ি বলে কি কাম করতে হবে ? আমাদের মধ্যে একজন উচ্চষিত হয়ে বলে কিছুনা তোমাকে শুধু আমাদের জন্য রান্না করতে হবে , মানে খানা পাকাতে হবে , পাস থেকে আর একজন বলে ওঠে । একটু থেমে ঝুমড়ি বলে এতে আপনাদের অসুবিধা হতেই পারে ।
আমি কিছু না ভেবেই বলে ফেললাম ও সব নিয়ে তোমাকে কিছু ভাবতে হবেনা আমরা সামলে নেবো । ঝুমড়ি বলে সাহেব আপনারা বুঝতে পারছেননা হামার বাবা ভালোলগ না আছে , পেটি জল পরিগেলি ওটার মাথায় খুন চোরে যায় । আর ঐ বস্তির লগ্গুলাও ভালো নারে সাহেব । সকলে মিলে বলে আপনার সাথে আমরাতো রয়েছি আপনি শুধু একবার বলেন আপনি আমাদের দুবেলা মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেবেন । জুমড়ি বলে ইটা আবার এমন কি বেপাড় আমিতো পচাশ জনের খানা পাকিয়েছি । আমি বললাম তাহলে এটাই ফাইনাল হলো কেমন , আজ থেকে আমাদের প্রজেক্টের 20 নয় 21 জন মেম্বার । ঝুমড়ি বলে আজ কি পাকাতে হবে ? আমি বিনোদকে বললাম বিনোদ ওকে আমাদের রান্নার জিনিস গুলো দেখিয়ে দাও , আর কাউকে পাঠিয়ে বাজারথেকে একটু চিকেন অনবার ব্যবস্থা করো কেমন , 4 দিন ধরে সিদ্ধ খেয়ে পেতে ছড়া পরে যাবার উপক্রম হয়েছে । বিনোদ বলে ঠিক আছে স্যার ।
বিনোদ ঝুমড়িকে কাজের জায়গাতে নিয়ে যায় , আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি , মনে মনে বলি কেনো জানিনা আমিও হয়তো এটাই চাইছিলাম ঝুমড়ি যেনো এখানেই থেকে যায়, ওর চোখে জেন কেমন একটা মায়া রয়েছে , সেই মায়ার টান থেকে মনকে বারকরে আনাটা বেশ কঠিন । এমন সমর পিছন থেকে সুরেশ এসে বলে , আজ কোন সাইট থেকে কাজ শুরু হবে । আমি ওকে বললাম চল দেখছি , এই বলে আমি সুরেশের সাথে প্রজেক্টের সাইড দেখতে বেরিয়ে পড়লাম যাবার সময় টেবিলের উপর রাখা হলুদ হেলমেটটা নিয়ে মাথায় চাপিয়ে নিলাম । যেতে যেতে মাথাটা একবার পিছনে ঘুরিয়ে দেখলাম ঝুমড়িকে দেখা যাচ্ছে কিনা ।
চলবে ……………..

