STORYMIRROR

aparna sadhukhan

Abstract Romance Others

3  

aparna sadhukhan

Abstract Romance Others

নীরবে ভালোবাসি

নীরবে ভালোবাসি

7 mins
16

মামমাম দাঁড়া,পরে যাবি।গাড়ি আসছে সোনা দাঁড়া”। 


কথাটা বলতে বলতে এক বাচ্ছা মেয়ের পিছনে ছুটে যাচ্ছে অনিকেত। অনিকেত সেনগুপ্ত, SNG ইনড্রাসট্রির বর্তমান কর্ণধার। টাকা পয়সার অভাব নেই,গাড়ি,বাড়ি,কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি সবই আছে তার। এই ৩০ বছরের জীবনে ওর একমাত্র বেচেঁ থাকার রসদ ওর ছোট্ট পরী ঋষিতা। 


বছর চারেকের ছোট্টো মেয়ে ঋষিতা,বাবার সাথে বাড়ি ফিরছিল ,রাস্তায় এক বেলুন ওয়ালাকে দেখতে পেয়ে বাবাকে গাড়ি থামাতে বলে,বাবার কথা না শুনেই গাড়ি থেকে নেমে সেই দিকেই ছুটে গেছে ঋষিতা। আর ঠিক তখনই তার দিকেই তীব্র গতিতে এগিয়ে আসছিল একটা নীল মারতি। 

অনিকেত দুর থেকেই দেখতে পেয়েছে গাড়িটাকে। অনিকেত চিৎকার করে ওঠে।

 

“মামমাম”। 


বাচ্ছা মেয়েটিও হয়তো ওর বাবার আর্তনাদ বুঝতে পেরেছিল,তাই তো রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে পরেছিল। 


গাড়ির ড্রাইভার কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছোট্টো বাচ্ছা মেয়েটি গাড়ির সামনে এসে পরে। ঠিক তখনই বাচ্ছা মেয়েটিকে ছোঁ মেরে সামনে থেকে সরিয়ে নেয় একজন।গাড়িটা সঙ্গে সঙ্গে পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অনিকেত দুর থেকে দেখে একজন মেয়ে ঋষিতাকে গাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নিল। 


দেবদত্তার পাশ দিয়ে ছোট্ট ঋষিতা ছুটে গেছিল,দেবদত্তা মুচকি হেসে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা গাড়ি ঋষিতার দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে আসছে আর পিছন দিয়ে একটা আর্তনাদ ভেসে এলো। হাতে ধরে থাকা ট্রলিটা ফেলে দিয়ে ছুটে গেছিলো সেইদিকে, এক টানে টেনে নিয়েছিল ঋষিতাকে নিজের বুকের কাছে। 


অনিকেত এই ঘটনাটা চোখের সামনে দেখার পর স্তব্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য ওর পায়ের তলার মাটি সরে গেছিল। এই ছোট্ট মেয়েটার কিছু হলে ওও আর বাঁচবে না। মোহনা ওকে ছেড়ে চলে যাবার পরে তো ওই পরীটাকেই তো আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে। প্রতিটা মুহুর্ত ওও জীবনের সাথে লড়াই করছে ওর মেয়ের জন্য। ওর দিকে গাড়িটা ছুটে আসছিল দেখে অনিকেতের বুকের বাঁদিকটা ঠান্ডা হয়ে গেছিল।


সব কিছু প্রোসেস করার পর সে ছুটে যায় তার মেয়ের দিকে। 



****************


“তুমি কিন্তু খুব দুষ্টু এই ভাবে কেউ দৌড়ায়। পরে গেলে কি হতো। 

“আমি তো স্ট্রঙ্গ ,পাপা বলে আমি খুব স্ট্রঙ্গ।”


“এইভাবে দৌড়াচ্ছো কেন”। 


“ওই বেলুন নেবো।”

“ঠিক আছে আমি তোমাকে বেলুন কিনে দেব,তার আগে বলো তোমার নাম কি,আর তোমার মা,বাবা কোথায়”। 


আমার নাম ঋষিতা সেনগুপ্ত।আমার তো মা নেই,পাপা বলে আমার মা ওই আকাশে থাকে তারাদের সঙ্গে। 


বাচ্ছা মেয়েটি আকাশের দিকে আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে। 

দেবদত্তা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আর কিছু বলে না। 


“হুম তোমার পাপা কোথায়”। 


পাপা তো ওইতো। 


এতক্ষনে অনিকেত ও এগিয়ে এসেছে ঋষিতার কাছে। 


ঋষিতার দিকে মুখ করে বসে ছিল দেবদত্তা। একটা উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে উঠে দাড়ালো,কন্ঠস্বর লক্ষ্য করে পিছন ফিরে তাকাতেই দেবদত্তার পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেল। 



অনিকেত দা এখানে,তারপর হঠাৎ করেই কিছু একটা মনে পরতে দেবদত্তা ঋষিতার দিকে তাকালো। 

“ঋষিতার পাপা মানে ঋষিতা অনিকেত দার মেয়ে”।


অনিকেত ছুটে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে,তারপর ওর সারা গায়ে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলে  

“সোনা মা তোর কিছু হয়নি তো তুই ঠিক আছিস তো।”


“না পাপা আমার কিচ্ছু হয়নি,ওই আন্টিটা খুব ভালো। 

আমাকে বলছে বেলুন কিনে দেবে”। 


অনিকেতের মাথার ঠিক নেই সে এবার অধৈর্য হয়ে মেয়েকে ধমকালো। 


,সবসময় তোর খালি এটা চাই ওটা চাই। সবসময় বায়না তোর”। 


বাবার বকুনি শুনে ছোট্ট ঋষিতা ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো। 


দেবদত্তা এতক্ষণ পুরো ঘটনাটাই পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল। ঋষিতাকে কাঁদতে দেখে ও এগিয়ে গিয়ে ঋষিতাকে কোলে তুলে নিয়ে ভোলাতে লাগলো। 


ঋষিতা দেবদত্তার কোলে উঠে গলা জড়িয়ে কাঁধে মাথা দিয়ে কেঁদে চলেছে। 


অনিকেত এবার উঠে দাঁড়ালো এই সবের মধ্যে অনিকেত ভুলেই গেছিল দেবদত্তার কথা। সে সামনে তাকাতেই অবাক হয়। অস্পুটে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে “দেবদত্তা”। 


“কেমন আছো অনিকেত দা”ঋষিতাকে কোলে নিয়েই দেবদত্তা এগিয়ে এলো অনিকেতের দিকে। 


“আমি ভালো আছি তুই কেমন আছিস, কতদিন পর দেখা হল”। 


আমি ভালো আছি, আসলে অনেক বছর কলকাতায় ছিলাম না তো তাই দেখা হয়নি। 

“হুম শুনে ছিলাম একবার তোদের পুরো ফ্যামিলি ব্যাঙ্গালোরে সিফ্ট করেছে।”


ঋষিতা এতক্ষণে কান্না থামিয়ে ওদের কথাবার্তা মন দিয়ে শুনছে। ওও বুঝতে পেরেছে ওর পাপা এই আন্টিকে চেনে। 


“তো বাড়ির সবাই কেমন আছে অনিকেত দা। আঙ্কেল,আন্টি ভালো আছে তো”। 


“হুম ভালো আছে রে।” 


“বাহ্ তাহলে ভালো”। 


“মামমাম চলো বাড়ি যেতে হবে তো। অনেক দেরি হয়ে গেছে সোনা”। অনিকেত হাত বাড়িয়ে দেবদত্তার কোল থেকে ঋষিতাকে নিতে যায়। ঋষিতা দেবদত্তার গলা জড়িয়ে বলে “না তুমি বকবে আমাকে আমি যাব না”। 


দেবদত্তা বুঝতে পারলো ঋষিতা রাগ করেছে ওর বাবার উপর “ঋষিতা এমন বলতে নেই সোনা যাও বাবার কাছে যাও”। 


“না পাপা আমাকে বকবে আমি যাবনা”। 


“আচ্ছা পাপা যদি তোমাকে বকে তাহলে আমি পাপাকে বকে দেব ঠিক আছে।”


সত্যি পাপা আমাকে বকলে তুমি পাপা কে বকে দেবে।”


“হ্যা বকে দেব তো খুব বকে দেব”। ঋষিতা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। 


অনিকেত হাত বাড়াতেই ঋষিতা অনিকেতের কোলে চলে যায়।

“ওও আন্টি আমাকে বেলুন কিনে দেবে না?” 

কথাটা বলেই ঋষিতা মুখে হাত চাপা দেয়। এটা দেখে অনিকেত আর দেবদত্তা দুজনেই হেসে ওঠে। 


“আচ্ছা তুমি এখানে দাড়াও আমি বেলুন নিয়ে আসছি”। 


ঋষিতাও আনন্দে বলে ওঠে

 “ইয়ে কি মজা”। 

 

দেবদত্তা এগিয়ে গেল ওই বেলুন ওয়ালার কাছে হাতে দুটো বেলুন নিয়ে ফিরে এলো।

“এই নাও তোমার বেলুন”।ঋষিতা বেলুন পেয়ে বেজায় খুশি। 

“অনিকেত দা আজ তাহলে আসি অন্যদিন আবার কথা হবে”। 

“মামমাম আন্টিকে Thank you বলে দাও”। 


thank you আন্টি। 

দেবদত্তা ঋষিতার গাল টিপে দেয়। 

“পাকা বুড়ি একটা”


দেবদত্তা চলে যাচ্ছিল অনিকেতের ডাক শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পরে। 


“দেবদত্তা”। 


“বলো অনিকেত দা,কিছু বলবে”। 


“একদিন বাড়িতে আসিস মাও খুব খুশি হবে তুই বাড়িতে এলে,আর কাকু কাকিমাকে নিয়ে আসিস”। 


দেবদত্তা মলিন হেসে অনিকেতের কথায় সম্মতি জানিয়ে ওখান থেকে চলে গেল। 


অনিকেত ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ,তারপর বাড়ির দিকে রওনা দিল। 


মামমাম দাঁড়া,পরে যাবি।গাড়ি আসছে সোনা দাঁড়া”। 


কথাটা বলতে বলতে এক বাচ্ছা মেয়ের পিছনে ছুটে যাচ্ছে অনিকেত। অনিকেত সেনগুপ্ত, SNG ইনড্রাসট্রির বর্তমান কর্ণধার। টাকা পয়সার অভাব নেই,গাড়ি,বাড়ি,কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি সবই আছে তার। এই ৩০ বছরের জীবনে ওর একমাত্র বেচেঁ থাকার রসদ ওর ছোট্ট পরী ঋষিতা। 


বছর চারেকের ছোট্টো মেয়ে ঋষিতা,বাবার সাথে বাড়ি ফিরছিল ,রাস্তায় এক বেলুন ওয়ালাকে দেখতে পেয়ে বাবাকে গাড়ি থামাতে বলে,বাবার কথা না শুনেই গাড়ি থেকে নেমে সেই দিকেই ছুটে গেছে ঋষিতা। আর ঠিক তখনই তার দিকেই তীব্র গতিতে এগিয়ে আসছিল একটা নীল মারতি। 

অনিকেত দুর থেকেই দেখতে পেয়েছে গাড়িটাকে। অনিকেত চিৎকার করে ওঠে।

 

“মামমাম”। 


বাচ্ছা মেয়েটিও হয়তো ওর বাবার আর্তনাদ বুঝতে পেরেছিল,তাই তো রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে পরেছিল। 


গাড়ির ড্রাইভার কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছোট্টো বাচ্ছা মেয়েটি গাড়ির সামনে এসে পরে। ঠিক তখনই বাচ্ছা মেয়েটিকে ছোঁ মেরে সামনে থেকে সরিয়ে নেয় একজন।গাড়িটা সঙ্গে সঙ্গে পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অনিকেত দুর থেকে দেখে একজন মেয়ে ঋষিতাকে গাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নিল। 


দেবদত্তার পাশ দিয়ে ছোট্ট ঋষিতা ছুটে গেছিল,দেবদত্তা মুচকি হেসে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা গাড়ি ঋষিতার দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে আসছে আর পিছন দিয়ে একটা আর্তনাদ ভেসে এলো। হাতে ধরে থাকা ট্রলিটা ফেলে দিয়ে ছুটে গেছিলো সেইদিকে, এক টানে টেনে নিয়েছিল ঋষিতাকে নিজের বুকের কাছে। 



অনিকেত এই ঘটনাটা চোখের সামনে দেখার পর স্তব্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য ওর পায়ের তলার মাটি সরে গেছিল। এই ছোট্ট মেয়েটার কিছু হলে ওও আর বাঁচবে না। মোহনা ওকে ছেড়ে চলে যাবার পরে তো ওই পরীটাকেই তো আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে। প্রতিটা মুহুর্ত ওও জীবনের সাথে লড়াই করছে ওর মেয়ের জন্য। ওর দিকে গাড়িটা ছুটে আসছিল দেখে অনিকেতের বুকের বাঁদিকটা ঠান্ডা হয়ে গেছিল।


সব কিছু প্রোসেস করার পর সে ছুটে যায় তার মেয়ের দিকে। 



****************


“তুমি কিন্তু খুব দুষ্টু এই ভাবে কেউ দৌড়ায়। পরে গেলে কি হতো। 

“আমি তো স্ট্রঙ্গ ,পাপা বলে আমি খুব স্ট্রঙ্গ।”


“এইভাবে দৌড়াচ্ছো কেন”। 


“ওই বেলুন নেবো।”

“ঠিক আছে আমি তোমাকে বেলুন কিনে দেব,তার আগে বলো তোমার নাম কি,আর তোমার মা,বাবা কোথায়”। 


আমার নাম ঋষিতা সেনগুপ্ত।আমার তো মা নেই,পাপা বলে আমার মা ওই আকাশে থাকে তারাদের সঙ্গে। 


বাচ্ছা মেয়েটি আকাশের দিকে আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে। 

দেবদত্তা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আর কিছু বলে না। 


“হুম তোমার পাপা কোথায়”। 


পাপা তো ওইতো। 


এতক্ষনে অনিকেত ও এগিয়ে এসেছে ঋষিতার কাছে। 


ঋষিতার দিকে মুখ করে বসে ছিল দেবদত্তা। একটা উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে উঠে দাড়ালো,কন্ঠস্বর লক্ষ্য করে পিছন ফিরে তাকাতেই দেবদত্তার পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেল। 



অনিকেত দা এখানে,তারপর হঠাৎ করেই কিছু একটা মনে পরতে দেবদত্তা ঋষিতার দিকে তাকালো। 

“ঋষিতার পাপা মানে ঋষিতা অনিকেত দার মেয়ে”।


অনিকেত ছুটে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে,তারপর ওর সারা গায়ে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলে  

“সোনা মা তোর কিছু হয়নি তো তুই ঠিক আছিস তো।”


“না পাপা আমার কিচ্ছু হয়নি,ওই আন্টিটা খুব ভালো। 

আমাকে বলছে বেলুন কিনে দেবে”। 


অনিকেতের মাথার ঠিক নেই সে এবার অধৈর্য হয়ে মেয়েকে ধমকালো। 


,সবসময় তোর খালি এটা চাই ওটা চাই। সবসময় বায়না তোর”। 


বাবার বকুনি শুনে ছোট্ট ঋষিতা ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো। 


দেবদত্তা এতক্ষণ পুরো ঘটনাটাই পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল। ঋষিতাকে কাঁদতে দেখে ও এগিয়ে গিয়ে ঋষিতাকে কোলে তুলে নিয়ে ভোলাতে লাগলো। 


ঋষিতা দেবদত্তার কোলে উঠে গলা জড়িয়ে কাঁধে মাথা দিয়ে কেঁদে চলেছে। 


অনিকেত এবার উঠে দাঁড়ালো এই সবের মধ্যে অনিকেত ভুলেই গেছিল দেবদত্তার কথা। সে সামনে তাকাতেই অবাক হয়। অস্পুটে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে “দেবদত্তা”। 


“কেমন আছো অনিকেত দা”ঋষিতাকে কোলে নিয়েই দেবদত্তা এগিয়ে এলো অনিকেতের দিকে। 


“আমি ভালো আছি তুই কেমন আছিস, কতদিন পর দেখা হল”। 


আমি ভালো আছি, আসলে অনেক বছর কলকাতায় ছিলাম না তো তাই দেখা হয়নি। 

“হুম শুনে ছিলাম একবার তোদের পুরো ফ্যামিলি ব্যাঙ্গালোরে সিফ্ট করেছে।”


ঋষিতা এতক্ষণে কান্না থামিয়ে ওদের কথাবার্তা মন দিয়ে শুনছে। ওও বুঝতে পেরেছে ওর পাপা এই আন্টিকে চেনে। 


“তো বাড়ির সবাই কেমন আছে অনিকেত দা। আঙ্কেল,আন্টি ভালো আছে তো”। 


“হুম ভালো আছে রে।” 


“বাহ্ তাহলে ভালো”। 


“মামমাম চলো বাড়ি যেতে হবে তো। অনেক দেরি হয়ে গেছে সোনা”। অনিকেত হাত বাড়িয়ে দেবদত্তার কোল থেকে ঋষিতাকে নিতে যায়। ঋষিতা দেবদত্তার গলা জড়িয়ে বলে “না তুমি বকবে আমাকে আমি যাব না”। 


দেবদত্তা বুঝতে পারলো ঋষিতা রাগ করেছে ওর বাবার উপর “ঋষিতা এমন বলতে নেই সোনা যাও বাবার কাছে যাও”। 


“না পাপা আমাকে বকবে আমি যাবনা”। 


“আচ্ছা পাপা যদি তোমাকে বকে তাহলে আমি পাপাকে বকে দেব ঠিক আছে।”


সত্যি পাপা আমাকে বকলে তুমি পাপা কে বকে দেবে।”


“হ্যা বকে দেব তো খুব বকে দেব”। ঋষিতা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। 


অনিকেত হাত বাড়াতেই ঋষিতা অনিকেতের কোলে চলে যায়।

“ওও আন্টি আমাকে বেলুন কিনে দেবে না?” 

কথাটা বলেই ঋষিতা মুখে হাত চাপা দেয়। এটা দেখে অনিকেত আর দেবদত্তা দুজনেই হেসে ওঠে। 


“আচ্ছা তুমি এখানে দাড়াও আমি বেলুন নিয়ে আসছি”। 


ঋষিতাও আনন্দে বলে ওঠে

 “ইয়ে কি মজা”। 

 

দেবদত্তা এগিয়ে গেল ওই বেলুন ওয়ালার কাছে হাতে দুটো বেলুন নিয়ে ফিরে এলো।

“এই নাও তোমার বেলুন”।ঋষিতা বেলুন পেয়ে বেজায় খুশি। 

“অনিকেত দা আজ তাহলে আসি অন্যদিন আবার কথা হবে”। 

“মামমাম আন্টিকে Thank you বলে দাও”। 


thank you আন্টি। 

দেবদত্তা ঋষিতার গাল টিপে দেয়। 

“পাকা বুড়ি একটা”


দেবদত্তা চলে যাচ্ছিল অনিকেতের ডাক শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পরে। 


“দেবদত্তা”। 


“বলো অনিকেত দা,কিছু বলবে”। 


“একদিন বাড়িতে আসিস মাও খুব খুশি হবে তুই বাড়িতে এলে,আর কাকু কাকিমাকে নিয়ে আসিস”। 


দেবদত্তা মলিন হেসে অনিকেতের কথায় সম্মতি জানিয়ে ওখান থেকে চলে গেল। 


অনিকেত ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ,তারপর বাড়ির দিকে রওনা দিল। 


 চলবে...,


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract