নবাবের গুপ্তধন
নবাবের গুপ্তধন
পুরনো জমিদারবাড়িটা শহর থেকে অনেক দূরে।
বহু বছর ধরে সেখানে কেউ থাকে না।
লোকমুখে শোনা যায়, একসময় সেই বাড়িতে থাকতেন এক নবাব। দেশ ছাড়ার আগে তিনি নাকি তাঁর বিপুল সম্পদের একটি অংশ কোথাও লুকিয়ে রেখে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কোথায়?
কেউ জানে না।
বছরের পর বছর অনেকেই গুপ্তধনের সন্ধানে বাড়িটিতে ঢুকেছে।
কেউ খালি হাতে ফিরেছে, কেউ আর ফেরেনি।
অবশেষে একদিন কলকাতা থেকে সেখানে পৌঁছল ইতিহাসের গবেষক অদিত্য।
পুরনো দলিল ঘাঁটতে ঘাঁটতে সে একটি অদ্ভুত বাক্য খুঁজে পেল—
“যেখানে সময় থেমে আছে, সেখানেই ধন ঘুমিয়ে আছে।”
বাক্যটির নিচে আঁকা ছিল একটি ঘড়ির ছবি।
অদিত্য বাড়ির প্রতিটি ঘর খুঁজেও কিছু পেল না।
শেষ পর্যন্ত সে পৌঁছল নবাবের পুরনো শোবার ঘরে।
দেয়ালে ঝোলানো বিশাল ঘড়িটি বন্ধ হয়ে আছে—
সময় দেখাচ্ছে রাত ১২টা ১৭ মিনিট।
অদিত্য ঘড়িটা পরীক্ষা করতেই পেছনে একটি গোপন দরজা খুলে গেল।
ভেতরে অন্ধকার সিঁড়ি।
নিচে নামতেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল।
সোনা, রুপো, মণিমুক্তো, পুরনো মুদ্রা—
নবাবের গুপ্তধন সত্যিই সেখানে ছিল!
কিন্তু ধনের পাশে রাখা একটি ছোট কাঠের বাক্স তার নজর কাড়ল।
বাক্স খুলতেই পাওয়া গেল একটি পুরনো চিঠি।
চিঠিতে লেখা—
“যে এই ধন খুঁজে পাবে, সে জানবে—এটি তার জন্য নয়।”
অদিত্য অবাক হয়ে চিঠির শেষ লাইনটি পড়ল।
তারপরই তার মুখের রং বদলে গেল।
কারণ সেখানে লেখা ছিল—
“এই গুপ্তধনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী এখনও জীবিত।”
আর সেই উত্তরাধিকারীর নামের জায়গায় লেখা ছিল—
অদিত্যের নিজের নাম।
ঠিক তখনই তার পিছনের দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
আর অন্ধকার ঘরের ভিতর থেকে ভেসে এল একটি কণ্ঠ—
“এতদিন পরে তুমি অবশেষে ফিরে এলে…”
