ডিজিটাল ভূত
ডিজিটাল ভূত
রাত ২টা ১৭ মিনিট।
অর্ণবের ফোনটা হঠাৎ নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
স্ক্রিনে কোনো নোটিফিকেশন নেই।
শুধু একটি শব্দ—
“অনলাইন।”
অর্ণব ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
সে তো কোনো অ্যাপ খুলে রাখেনি।
ঠিক তখনই ফোনে একটি মেসেজ এল।
“আমাকে ভুলে গেলে?”
প্রেরকের নাম দেখে অর্ণবের বুকটা ধক করে উঠল।
অর্ণব।
অর্থাৎ—
মেসেজটা এসেছে তার নিজের নম্বর থেকে।
সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের নম্বরে কল করল।
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর ভেসে এল একটি ফিসফিসে কণ্ঠ—
“ফোনটা বন্ধ করিস না।”
অর্ণবের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
“কে?”
কণ্ঠটা এবার স্পষ্ট।
“আমি।”
“তুমি কে?”
“তুই।”
কল কেটে গেল।
অর্ণব ভেবেছিল কোনো হ্যাকারের কাজ।
কিন্তু পরের ঘটনাটা তাকে আর যুক্তি খুঁজতে দিল না।
তার ল্যাপটপ নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।
স্ক্রিনে একটি পুরোনো ফোল্ডার খুলল।
নাম—
MEMORY_2016
অর্ণব ফোল্ডারটি দেখে থমকে গেল।
২০১৬ সালের এই ফোল্ডারটির কথা তার মনে নেই।
ভিতরে ছিল একটি মাত্র ভিডিও।
সে ভিডিও চালু করল।
ভিডিওতে দেখা গেল দশ বছর আগের অর্ণবকে।
একটি গবেষণাগারে বসে সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে—
“যদি এই ভিডিওটা কেউ দেখতে পায়, তাহলে বুঝবে আমার পরীক্ষা সফল হয়েছে।”
অর্ণব অবাক।
“কোন পরীক্ষা?”
ভিডিওর অর্ণব বলল—
“মানুষের চেতনা যদি ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা যায়…”
হঠাৎ ভিডিও থেমে গেল।
স্ক্রিনে লেখা উঠল—
UPLOAD COMPLETE.
অর্ণবের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
ঠিক তখনই ফোনে আবার মেসেজ এল।
“এবার আমাকে মনে পড়ছে?”
অর্ণব লিখল—
“তুমি কে?”
উত্তর এল মাত্র তিন সেকেন্ডে।
“যে অর্ণবকে তুই দশ বছর আগে মেরে ফেলেছিলি।”
অর্ণব চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
“অসম্ভব!”
তার মনে পড়তে শুরু করল কিছু অস্পষ্ট দৃশ্য।
একটি ল্যাব।
একটি বিস্ফোরণ।
আগুনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ।
আর সে নিজে বাইরে দাঁড়িয়ে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
তারপর—
অন্ধকার।
অর্ণব মাথা চেপে ধরল।
“না… না… এটা সত্যি নয়।”
ল্যাপটপে নতুন একটি ভিডিও চালু হলো।
এবার ভিডিওতে দেখা গেল—
অর্ণবই দাঁড়িয়ে আছে সেই ল্যাবে।
কিন্তু তার পাশে আরেকজন।
একই মুখ।
একই কণ্ঠ।
একই পোশাক।
দুজন অর্ণব।
ভিডিওর শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় অর্ণব ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল—
“আমাকে মুছে ফেলতে পারিসনি।”
স্ক্রিন কালো হয়ে গেল।
তারপর একটি নতুন বার্তা—
DIGITAL CONSCIOUSNESS ACTIVE.
অর্ণব আতঙ্কিত হয়ে ল্যাপটপ বন্ধ করে দিল।
ঘর নিস্তব্ধ।
ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ বলল—
“ভয় পাচ্ছিস?”
অর্ণব ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
ঘরে কেউ নেই।
শুধু টেবিলের ওপর রাখা ফোনটির স্ক্রিন জ্বলছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে—
FRONT CAMERA: ON
অর্ণব স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
ক্যামেরায় তার নিজের মুখ দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন।
অর্ণব ঘুরে তাকাল।
কেউ নেই।
আবার ফোনের দিকে তাকাল।
ছবিতে সেই মানুষটি এখনও দাঁড়িয়ে।
এবার সে হাসছে।
অর্ণব ফোনটা ছুড়ে ফেলল।
ফোনের স্ক্রিনে শেষবারের মতো একটি মেসেজ ভেসে উঠল—
“তুই এতদিন ভাবছিলি আমি তোর ফোনে থাকি?”
এক সেকেন্ড পর আরেকটি মেসেজ—
“আমি তোকে দেখছি তোর চোখ দিয়ে।”
অর্ণব স্থির হয়ে গেল।
তারপর আয়নার দিকে তাকাল।
আয়নায় তার প্রতিবিম্ব নেই।
শুধু অন্ধকার।
আর সেই অন্ধকারের ভিতর থেকে ভেসে এল একটি কণ্ঠ—
“ডিজিটাল ভূত বলে কিছু হয় না, অর্ণব…
ভূতটা তো তুই নিজেই।”
ঘড়িতে তখনও—
২টা ১৭ মিনিট।
আর অর্ণবের ফোনে নতুন একটি নোটিফিকেশন এল—
“NEW DEVICE CONNECTED: ARNAB.”
সমাপ্ত… নাকি সংযোগ মাত্র শুরু?

