STORYMIRROR

Partha Pratim Guha Neogy

Fantasy

4  

Partha Pratim Guha Neogy

Fantasy

স্মৃতির মাইক্রোচিপ

স্মৃতির মাইক্রোচিপ

2 mins
6

বিজ্ঞানীরা অবশেষে এমন একটি মাইক্রোচিপ তৈরি করেছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারে।
নাম দেওয়া হয়েছিল—M-7।
ড. ঋদ্ধি প্রথম পরীক্ষার জন্য নিজের দাদুর স্মৃতি চিপে সংরক্ষণ করলেন। দাদু মারা যাওয়ার আগে শুধু বলেছিলেন—
— “আমাকে ভুলে যাস না।”
অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর কম্পিউটারে দাদুর স্মৃতির প্রথম ফাইলটি খুললেন ঋদ্ধি।
শৈশবের বাড়ি।
পুরনো উঠোন।
দাদুর হাত ধরে হাঁটা।
সবকিছু এতটাই নিখুঁত যে ঋদ্ধির চোখে জল এসে গেল।
তারপর হঠাৎ একটি অচেনা স্মৃতি।
একটি অন্ধকার ঘর।
দাদু কারও সঙ্গে ফিসফিস করে কথা বলছেন।
ঋদ্ধি অবাক হয়ে শব্দ বাড়ালেন।
দাদু বলছেন—
“ওকে এখনও বলা যাবে না।”
আরেকটি কণ্ঠ উত্তর দিল—
“কিন্তু মেয়েটা সব মনে করতে শুরু করেছে।”
ঋদ্ধি চমকে উঠলেন।
মেয়েটা?
তিনি তো সেই স্মৃতির অংশ নন!
তখনই স্ক্রিনে একটি সতর্কবার্তা ভেসে উঠল—
MEMORY NOT BELONGING TO SUBJECT.
ঋদ্ধির হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
তিনি সিস্টেম বন্ধ করতে গেলেন।
কিন্তু M-7 নিজে থেকেই আরও একটি স্মৃতি খুলে দিল।
এবার তিনি দেখলেন—
একটি হাসপাতাল।
একটি ছোট মেয়ে।
মেয়েটির মুখ দেখা যাচ্ছে না।
দাদু তার মাথায় হাত রেখে বলছেন—
“একদিন যখন সব মনে পড়বে, তখন এই চিপটা খুলে ফেলিস।”
হঠাৎ ভিডিও থেমে গেল।
স্ক্রিন কালো।
তারপর একটি নতুন লাইন ফুটে উঠল—
MEMORY TRANSFER COMPLETE.
ঋদ্ধি ফিসফিস করে বললেন—
— “কার স্মৃতি?”
কম্পিউটার কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর উত্তর দিল—
“আপনার।”
ঋদ্ধি স্তব্ধ।
— “কিন্তু আমি তো এই স্মৃতিগুলো কখনও দেখিনি!”
স্ক্রিনে এবার আরও একটি বার্তা—
“দেখেননি… কারণ আপনাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
ঠিক তখনই তাঁর মাথার ভিতর প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হল।
একটার পর একটা ছবি ভেসে উঠতে লাগল।
হাসপাতাল।
একটি অপারেশন থিয়েটার।
দাদু।
আর সেই ছোট মেয়েটি—
নিজেই ঋদ্ধি।
শেষ ছবিটিতে দেখা গেল, দাদু মাইক্রোচিপটি তাঁর মস্তিষ্কে বসানোর আগে একজন বিজ্ঞানীকে বলছেন—
“ওর স্মৃতি মুছে দিন। ও যেন কখনও জানতে না পারে, ও আসলে কে।”
ঋদ্ধি কাঁপতে কাঁপতে কম্পিউটারের দিকে তাকালেন।
হঠাৎ M-7-এর স্ক্রিনে শেষ একটি বার্তা ভেসে উঠল—
“আপনার দাদু মারা যাননি।”
ঋদ্ধির বুক ধক করে উঠল।
তার নিচে আরও একটি লাইন—
“তিনি এই মুহূর্তে আপনার স্মৃতির ভিতরেই আছেন।”
ঘরের আলো নিভে গেল।
অন্ধকারে ঋদ্ধির নিজের কণ্ঠে কেউ ফিসফিস করে বলল—
“অবশেষে তুই আমাকে মনে করতে পেরেছিস…”
ঋদ্ধি ধীরে ধীরে পিছনে ফিরলেন।
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখ দেখা যাচ্ছে না।
শুধু তার হাতে জ্বলছে একটি ছোট মাইক্রোচিপ।
আর চিপটির গায়ে লেখা—
M-8
“তোর দাদুর স্মৃতি ছিল M-7… এবার তোর স্মৃতিটাই আমার দরকার।”



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Fantasy