STORYMIRROR

Partha Pratim Guha Neogy

Fantasy

5  

Partha Pratim Guha Neogy

Fantasy

টাইম ট্রাভেলার

টাইম ট্রাভেলার

3 mins
6

যে ভবিষ্যৎ নিজের অতীতকে মুছে ফেলতে এসেছিল

রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট।

শহর ঘুমিয়ে পড়েছে। অথচ গবেষণাগারের তৃতীয় তলায় জ্বলছিল একটি অস্বাভাবিক নীল আলো।

ড. অর্ণব সেন কম্পিউটারের সামনে বসে শেষবারের মতো হিসাব মিলিয়ে নিচ্ছিলেন।

গত দশ বছর ধরে তাঁর একটাই স্বপ্ন—

সময়ের সীমানা পেরিয়ে যাওয়া।

আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার কথা।

হঠাৎ যন্ত্রটি কেঁপে উঠল।

কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠল—

TIME DESTINATION: 26 OCTOBER 2036

অর্ণব চমকে উঠলেন।

তিনি তো ভবিষ্যতের এই তারিখ সেট করেননি!

তারপর স্ক্রিনে আরও একটি বার্তা ফুটে উঠল—

TRAVELER ALREADY EXISTS.

অর্ণবের বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেল।

“কীভাবে সম্ভব?”

তিনি সিস্টেম বন্ধ করতে এগিয়ে গেলেন।

ঠিক তখনই ঘরের মাঝখানে সাদা আলো জমাট বাঁধতে শুরু করল।

আলো ধীরে ধীরে মানুষের আকৃতি নিল।

একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে।

সাদা চুল। ক্লান্ত মুখ। চোখের নিচে গভীর কালি।

কিন্তু চোখ দুটো—

অর্ণবের নিজের চোখের মতো।

বৃদ্ধটি বললেন,

“সময় নেই, অর্ণব।”

অর্ণব কয়েক পা পিছিয়ে গেলেন।

“আপনি কে?”

বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।

“তুই আমাকে চিনতে পারছিস না?”

“না।”

“চিনবি। দশ বছর পর।”

অর্ণবের গলা শুকিয়ে গেল।

“আপনি… আমি?”

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন,

“হ্যাঁ। আমি তোর ভবিষ্যৎ।”

কিছুক্ষণ ঘরে শুধু যন্ত্রের মৃদু শব্দ শোনা গেল।

তারপর অর্ণব প্রশ্ন করলেন,

“আপনি ভবিষ্যৎ থেকে এখানে কেন এসেছেন?”

বৃদ্ধের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।

“একটা ভুল ঠিক করতে।”

“কী ভুল?”

“তুই আজ যে যন্ত্রটা চালু করতে যাচ্ছিস, সেটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের শুরু।”

অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

“তাহলে যন্ত্রটা ধ্বংস করে দেব?”

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন,

“না।”

“তাহলে?”

“যাত্রাটা থামিয়ে দে।”

“কিন্তু কেন?”

বৃদ্ধ এবার অর্ণবের একেবারে কাছে এসে ফিসফিস করে বললেন—

“কারণ তুই যখন প্রথমবার সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করেছিলি… তখন তুই একা ছিলি না।”

অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল।

“কে ছিল?”

বৃদ্ধ কোনো উত্তর দিলেন না।

শুধু পকেট থেকে একটি ছোট কালো মাইক্রোচিপ বের করে অর্ণবের হাতে দিলেন।

চিপটি হাতে নিতেই কম্পিউটার নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।

স্ক্রিনে লেখা উঠল—

MEMORY FILE FOUND

তার নিচে—

SUBJECT: ARNAB SEN
MEMORY DATE: 26 OCTOBER 2036

অর্ণব অবাক হয়ে বললেন,

“এটা তো ভবিষ্যতের স্মৃতি!”

বৃদ্ধ ধীরে মাথা নেড়ে বললেন,

“না।”

“তাহলে?”

বৃদ্ধের চোখে অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা।

“এটা তোর ভবিষ্যতের স্মৃতি নয়, অর্ণব…”

একটু থেমে তিনি বললেন—

“এটা তোর অতীতের স্মৃতি, যেটা তুই এখনও ভুলে আছিস।”

হঠাৎ গবেষণাগারের সব আলো নিভে গেল।

কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটি ভিডিও নিজে থেকেই চালু হলো।

ভিডিওতে অর্ণব দাঁড়িয়ে আছেন এই একই গবেষণাগারে।

কিন্তু তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট ছেলে।

ছেলেটি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসল।

তারপর বলল—

“বাবা, তুমি আবার সময়ের মধ্যে যাচ্ছ?”

অর্ণবের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

“বাবা?”

সে তো কোনোদিন বাবা হয়নি!

অর্ণব ধীরে ধীরে বৃদ্ধটির দিকে তাকালেন।

“ও কে?”

ভবিষ্যৎ অর্ণব কিছু বলতে যাচ্ছিলেন।

ঠিক তখনই স্ক্রিনে আরেকটি বার্তা ভেসে উঠল—

TIME LOOP ACTIVATED.

বৃদ্ধ অর্ণব চিৎকার করে উঠলেন,

“ভিডিওটা বন্ধ কর!”

কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে।

ভিডিওতে এবার ছোট ছেলেটি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল—

“বাবা, তুমি কি এবারও আমাকে ভুলে যাবে?”

অর্ণবের মাথার ভিতর যেন প্রচণ্ড শব্দ হলো।

এক মুহূর্তের জন্য তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল—

একটি হাসপাতাল।

একটি শিশুর কান্না।

একটি সময়-যন্ত্র।

আর তাঁর নিজের কণ্ঠ—

“ওকে বাঁচাতে হলে এই সময়টাকে মুছে ফেলতে হবে।”

অর্ণব হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন।

“আমি… আমি এটা করেছি?”

ভবিষ্যৎ অর্ণবের চোখে জল।

“হ্যাঁ।”

“কেন?”

“কারণ তুই ভেবেছিলি, অতীত বদলালে ভবিষ্যৎটা বাঁচবে।”

“তারপর?”

“তারপর বুঝেছিলাম…”

বৃদ্ধ অর্ণব জানালার বাইরে তাকালেন।

“সময়কে বদলানো যায় না। শুধু তার মধ্যে নতুন একটা ফাঁদ তৈরি করা যায়।”

হঠাৎ গবেষণাগারের দরজা খুলে গেল।

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সেই ছোট ছেলেটি।

অর্ণব তাকিয়ে রইলেন।

ছেলেটি ধীরে ধীরে ঘরের ভিতরে ঢুকল।

তারপর মৃদু হেসে বলল—

“বাবা, এবার তুমি আমাকে অতীত থেকে মুছে ফেলবে… নাকি এইবার আমিই তোমাকে ভবিষ্যৎ থেকে মুছে দেব?”

অর্ণবের হাত থেকে মাইক্রোচিপটি মেঝেতে পড়ে গেল।

ঘড়ির কাঁটা তখনও—

২টা ১৭ মিনিট।

কিন্তু সময় আর এগোল না।

আর কম্পিউটার স্ক্রিনে শেষবারের মতো একটি বাক্য ভেসে উঠল—

“TIME TRAVEL COMPLETE.”

তার নিচে আরও একটি লাইন—

“TRAVELER: UNKNOWN.”

সমাপ্ত… নাকি সময়ের শুরু?



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Fantasy