STORYMIRROR

Partha Pratim Guha Neogy

Thriller

5  

Partha Pratim Guha Neogy

Thriller

নব্বই দশকের মুম্বাই

নব্বই দশকের মুম্বাই

3 mins
3

১৯৯৪।

মুম্বাই তখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি।

লোকাল ট্রেনের দরজায় ঝুলে থাকা মানুষ, রাস্তার মোড়ে ইরানি চায়ের দোকান, ফুটপাথে ক্যাসেটের স্তূপ, সিনেমা হলের সামনে হাতে আঁকা বিশাল পোস্টার—শহরটা তখনও নিজের পুরোনো গন্ধটা ধরে রেখেছে।

রাত নামলে মেরিন ড্রাইভের আলো জ্বলে উঠত।

আর সেই আলোর বাইরে—

মুম্বাইয়ের আরেকটা শহর জেগে উঠত।

সেই শহরেরই এক কোণে থাকত সাতাশ বছরের অমিত।

পেশায় ট্যাক্সিচালক।

প্রতিদিন রাতে সে যাত্রী নিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াত।

এক রাতে, প্রায় সাড়ে এগারোটার সময়, মেরিন ড্রাইভের কাছে এক যুবক তার ট্যাক্সিতে উঠল।

সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট।

হাতে একটা পুরোনো কালো ব্রিফকেস।

যুবক বলল,

“দাদার স্টেশনে যাবেন?”

অমিত গাড়ি চালু করল।

কিছুক্ষণ পর পিছন থেকে প্রশ্ন এল,

“আপনি কি অমিত?”

অমিত রিয়ার-ভিউ মিররে তাকাল।

“হ্যাঁ। কিন্তু আপনি আমার নাম জানলেন কী করে?”

যুবক হেসে বলল,

“জানি।”

“কীভাবে?”

“আজ থেকে তিরিশ বছর আগে আপনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন।”

অমিত হেসে ফেলল।

“আমি তো আপনাকে প্রথম দেখলাম!”

যুবক জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

“আপনি মনে রাখেননি।”

তারপর সে ব্রিফকেসটা অমিতের পাশে রেখে বলল,

“এটা দাদার স্টেশনে পৌঁছে দেবেন।”

“আপনি যাবেন না?”

“না।”

অমিত অবাক।

“কিন্তু ভাড়া?”

যুবক পকেট থেকে একটি দশ টাকার নোট বের করে দিল।

অমিত নোটটা হাতে নিয়ে থমকে গেল।

নোটের সাল—

১৯৯৪।

সে তো ১৯৯৪ সালেই আছে!

তবু নোটটা অস্বাভাবিক পুরোনো।

অমিত কিছু বলার আগেই যুবক দরজা খুলে নেমে গেল।

“এই! আপনার ব্রিফকেস!”

কোনো উত্তর নেই।

অমিত গাড়ি থেকে নেমে চারদিকে তাকাল।

লোকটা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে ব্রিফকেসটা নিয়ে সে দাদার স্টেশনের দিকে রওনা দিল।

স্টেশনের বাইরে পৌঁছে ব্রিফকেস খুলতেই অমিতের হাত কেঁপে উঠল।

ভেতরে টাকা বা অস্ত্র কিছুই নেই।

আছে একটি পুরোনো ক্যাসেট।

ক্যাসেটের গায়ে লেখা—

“অমিতের জন্য।”

সঙ্গে একটি ছবি।

ছবিটা দেখে অমিতের বুক ধক করে উঠল।

ছবিতে সে নিজেই দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু পাশে সেই যুবক।

অমিতের মনে পড়ল—

এই ছবিটা তো সে কখনও তোলেনি!

ছবির পিছনে লেখা—

“আজ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে, অমিত এই ক্যাসেটটি শুনবে। তারপর সে সিদ্ধান্ত নেবে—কাকে বাঁচাবে।”

ঘড়িতে তখন ১১টা ৪৪।

অমিতের হাত কাঁপতে লাগল।

সে ক্যাসেটটা কাছের একটি দোকানের টেপরেকর্ডারে চালাল।

কিছুক্ষণ শুধু শোঁ শোঁ শব্দ।

তারপর একটি কণ্ঠ—

“অমিত, আমি জানি তুই আমাকে চিনতে পারছিস না।”

অমিতের চোখ বড় হয়ে গেল।

কণ্ঠটা তার নিজের!

“আগামীকাল ভোরে একটা লোকাল ট্রেনে দুর্ঘটনা হবে। তুই যদি সেটা আটকাতে যাস, একজন মানুষ বাঁচবে।”

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর—

“কিন্তু সেই মানুষটা বাঁচলে… তোর নিজের জীবন বদলে যাবে।”

ক্যাসেট থেমে গেল।

অমিত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

ঠিক তখন বাইরে ট্রেনের হুইসেল।

সে দৌড়ে স্টেশনের দিকে গেল।

প্ল্যাটফর্মে ভিড়।

দূরে লোকাল ট্রেন ঢুকছে।

অমিত হঠাৎ দেখতে পেল—

সেই যুবকটি প্ল্যাটফর্মের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে।

সে হাত তুলে ইশারা করল।

অমিত ছুটে গেল।

“আপনি কে?”

যুবকটি মৃদু হেসে বলল,

“যে মানুষটাকে আপনি আজ বাঁচাতে যাচ্ছেন।”

“আপনি?”

“না।”

যুবকটি এবার অমিতের হাতে একটি পুরোনো ছবি তুলে দিল।

ছবিতে দেখা গেল—

অমিত, সেই যুবক এবং আরও একজন।

একটি ছোট মেয়ে।

ছবির পিছনে লেখা—

“বাবা, তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?”

অমিতের চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেল।

ট্রেনের শব্দ আরও কাছে আসছে।

আর সেই যুবকটি ধীরে ধীরে বলল—

“অমিত, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়ে গেছে। আমাকে বাঁচালে মেয়েটা বাঁচবে… আর মেয়েটাকে বাঁচালে, তুই আর কখনও ট্যাক্সি চালাতে পারবি না।”

অমিত ট্রেনের দিকে তাকাল।

তারপর ছবির দিকে।

ঘড়িতে ঠিক—

১১টা ৪৫ মিনিট।

আর সেই মুহূর্তে তার মনে পড়ল—

মেয়েটি তার মেয়ে নয়।

সে ছিল—

তার ভবিষ্যৎ।

সমাপ্ত… নাকি নব্বই দশকের মুম্বাই থেকে শুরু হল আরেকটি সময়ের গল্প?



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Thriller