ডিজিটাল ধোঁকা
ডিজিটাল ধোঁকা
রাত তখন সাড়ে এগারোটা।
অর্ক ল্যাপটপ বন্ধ করে বিছানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক তখনই ফোনে একটি মেসেজ এল—
“আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়েছে। KYC আপডেট করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।”
অর্ক প্রথমে পাত্তা দেয়নি। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই আরেকটি মেসেজ এল। এবার তার ব্যাংকের নাম, লোগো—সবকিছু একেবারে আসলের মতো।
সে লিঙ্কে ক্লিক করল।
নাম, জন্মতারিখ, অ্যাকাউন্ট নম্বর—এক এক করে তথ্য চাওয়া হলো। তারপর এল OTP।
অর্ক OTP-টাও দিয়ে দিল।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর ফোনে মেসেজ—
“₹৪৮,০০০ debited from your account.”
অর্কের মাথা ঘুরে গেল।
ব্যাংকে ফোন করল।
অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করল।
সাইবার ক্রাইমে অভিযোগও জানাল।
কিন্তু তদন্তকারী অফিসার একটি অদ্ভুত কথা বললেন—
“আপনি যে লিঙ্কে ঢুকেছিলেন, সেটা আমরা ট্র্যাক করেছি। কিন্তু ওটা এখন আর অস্তিত্বই নেই।”
অর্ক অবাক হয়ে বলল,
“কিন্তু আমি তো সব দেখেছি! ব্যাংকের লোগো, আমার নাম, এমনকি আমার আগের লেনদেনের কয়েকটা তথ্যও ছিল!”
অফিসার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
“সেটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার।”
পরের দিন অর্ক নিজের ই-মেইল খুলতেই আরও একটি মেসেজ পেল।
“আপনার অভিযোগ সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।”
নিচে ছিল তার অভিযোগের সম্পূর্ণ বিবরণ।
অর্কের বুক কেঁপে উঠল।
কারণ—
এই অভিযোগটা সে ব্যাংকে নয়, কারও কাছেই ই-মেইলে পাঠায়নি।
তারপর নিচে আরও একটি লাইন দেখা গেল—
“ধন্যবাদ, আপনার দেওয়া তথ্যের সাহায্যে আমরা আপনার ডিজিটাল পরিচয়টি সম্পূর্ণ করতে পেরেছি।”
অর্ক বুঝল—
সে শুধু টাকা হারায়নি।
তার পরিচয়টাই কেউ চুরি করেছে।
আর ঠিক তখনই তার ফোনে একটি নতুন মেসেজ এল—
“অর্ক, এবার আপনার পালা। আমরা জানি আপনি আগামীকাল কোথায় যাবেন…”
