Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Indrani Bhattacharyya

Drama Fantasy Thriller


4.6  

Indrani Bhattacharyya

Drama Fantasy Thriller


মহাজনে যেন গতঃ স পন্থাঃ

মহাজনে যেন গতঃ স পন্থাঃ

15 mins 180 15 mins 180


-"দিদু তুমি পারো বটে। রোজ রোজ এসব পুরাণ মহাভারতের গল্পগুলো চোখে চশমা ঠুসে পড়তে বসো না তো! এই সব আজগুবি গল্প এখনকার দিনে কেউ বিশ্বাস করে না।"

- "সে তোরা করিস না। কিন্তু আমি যে জন্মেছি এই গল্পেরই দেশে। এগুলো আমি ছাড়ি কি করে, মনি?"

-"গল্পের দেশ মানে? আবার বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছো দিদু।"

-"না রে মা। এখন যেগুলো তোদের গল্প মনে হয় আমাদের ছোটবেলায় সেগুলোই ছিল সত্যি। ওই গল্পের চরিত্ররা আমাদের সাথেই ঘুমত, পূণ্যিপুকুর ব্রত করত, বিয়ের গান গাইত, জল সইতে যেত,চাল কুটতো..."

-"উফফ, হয়েছে, হয়েছে। সারাদিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করে মাথা হ্যাং হয়ে আছে এমনি। তুমি আর তাতে চাপ দিও না। বরং মাথায় একটু বিলি কেটে দাও দেখি ।"

-"এখানে আয়, দিচ্ছি।"

-"আর ইয়ে। বলছিলাম যে সান ডে সাসপেন্সটা চালাতে পারছি না। ফোনে সিস্টেম আপডেট হচ্ছে। আর মাথা ধরেছে বলে বইও পড়তে ইচ্ছে করছে না। তুমি একটা গল্প বলো না দিদু।"

-"আমার গল্প কি তোর ভালো লাগবে শুনতে না তুই সেগুলো বিশ্বাস করবি?"

-" শুরু তো করো আগে। তারপর ভেবে দেখছি।"

-"আচ্ছা। শোন তবে।"

বাংলার বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহরের ছোয়াঁচ বাঁচিয়ে চলা, আর পাঁচটা পল্লী গাঁয়ের মতই খুব সাধারণ এই গ্রাম। এখানে সন্ধ্যে নামে ধীর পায়ে । সময় বুঝে আকাশখানাও কখন যেন কনে বউয়ের মত সিঁথিতে এক থান সিঁদুর মেখে ঝুপ করে একগলা ঘোমটা টেনে দেয় । ওমনি হৈহৈ করে দিন শুরু করে মাছ, ব্যাঙ, কাঁচ পোকা আর রাত পাখিদের দল।

চোখ বুজে শোন মনি। দেখবি মনে মনে পৌঁছে গেছিস ওই গাঁয়ে।"

-" ঠিক বলেছ দিদু। নাম কি সেই গ্রামের "

-"ভেবে নে একটা যা খুশি। "

-"হমম"

-" মনে মনে দেখ মনি, কেমন ঘুটঘুট্টি সন্ধ্যে নেমেছে গাঁয়ে। তারই মধ্যে মধ্যে কেমন জোনাকির মত টিমটিম করে জ্বলে উঠছে একটা দুটো করে গেরস্থের ঘরের সেজ, প্রদীপ। দূরে কোথাও কোনো মন্দিরে চলছে সন্ধ্যারতি । হাল্কা কিন্তু স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে শাঁখ, কাসর ঘণ্টার শব্দ। পাঁজি বলছে আজ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথি। পদ্মবিলে কালকের মতোই ভেসে উঠেছে একটা ভাঙাচোরা এবড়োখেবড়ো পানায় মজা চাঁদ। সেই পানসে আলোতেই জোনাকি আর গুবরেপোকাদের সাথে গুঁতোগুঁতি করে জলে মুখ দেখতে ব্যস্ত নিভুনিভু তারারা।

রাত গভীর হলে দূরে অস্পষ্ট ভাবে শোনা যায় ছপছপ শব্দ। সময় যত যায়, আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে শব্দটা। কুয়াশার সর কেটে কেটে একসময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরশুরামের ছই খোলা পানসি। লগির আঘাতে ভেঙে ভেঙে যায় বিলের ছোট ছোট ঢেউ। দুর্বল চাঁদখানা ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি লুকিয়ে পড়ে শাপলার জঙ্গলে। সময় মত ঘাটে গোত্তা খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পানসিটা। নিপুন এক লাফে পাড়ে ওঠে পরশু। পিঠে বাঁধা মস্ত এক গাঁটরী। হিলহিলে চোখে জরিপ করে নেয় চারপাশ। তারপর ঝপাঝপ খুঁড়তে থাকে বুড়ো অশ্বত্থের থান। রাতের জমাট বাঁধা নিস্তব্ধতা ভেঙে কথা বলে ওঠে পরশুরামের হাতের শাবল। উন্মাদ শোনিতের ধারা ছোটাছুটি শুরু করে দেয় হাতের শিরা উপশিরায়। ফুলে ফুলে ওঠে কপালের রগ।মাসের এই একটা দিন আর মানুষ থাকে না সে।"

-"কেনো দিদু।"

- " সে ধরে নে বছর দশ কি বারো আগের কথা।

সেদিনও ছিল মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথি । ঠিক এমনই একটা মিশমিশে রাত নেমেছিল এই গাঁয়ে। সারা দিনের কাজকর্মের পাট চুকিয়ে গাঁয়ের লোকজন সাঁঝবেলাতেই দোর দিয়েছিল দেউড়িতে। ইতিউতি মাঠে ঘাটে জ্বলে ওঠা আগুন ফুলের আশে পাশে গুটিসুটি মেরে বসে ছিল শুধু কিছু ভবঘুরে আর না মানুষের দল। সেদিনের সেই ঝিম ধরা রাতে পদ্মবিলের কাজলা জলে ভেসে উঠেছিল পুতুলটা। পরশুর একমাত্র মা মরা মেয়ে চাঁপার হারিয়ে যাবার ঠিক দিন তিনেক পর।

পরশুর তখন পাগল পাগল দশা। মেয়ের খোঁজে দিন রাত্রি এক করে চষে ফেলছে এপাড়া বেপাড়া, শ্মশান-গোরস্থান, পথ-ঘাট, খাল-বিল , নদী-নালা। হঠাৎই সেই রাতে মরা আলোতে চোখে পরে মানুষপানা পুতুলটা। পরশু তো প্রথমে ভেবেছিল চাঁপাই বুঝি। লগি দিয়ে পানা সরিয়ে কাছে গিয়ে দেখতেই ভুল ভাঙ্গে তার। মানুষ নয়, সেটা পুতুলই বটে। কিন্তু মুখখানা যে একেবারে চাঁপা মায়ের মত। গতরখানাও ঠিক তেমনি ডাগর। গায়ে কোনরকমে জড়িয়ে থাকা শাড়িটা দেখতে অবিকল সেই গত পুজোতে কিনে দেওয়া ফুলকারি করা ফিরোজা রঙের শাড়িটার মত যেটা পরে শেষ বারের মত বাপের সাথে ভাত খেয়ে ঘর থেকে বেড়িয়েছিল সে। দেখে ছ্যাঁৎ করে উঠেছিল পরশুর বুক। কলজেতে কেউ যেনো জোরে জোরে হাঁপর পিটছিল। সেই পুতুলের বাপ সোহাগী মুখে থম মেরেছিল এক আকাশ অভিমানী মেঘ। মনে হচ্ছিল যেন এই বুঝি ঘুম ভেঙে কথা বলে উঠবে মেয়ে। ভিজে চোখের পাতায় চিকচিক করছিল লেগে থাকা ভাঙ্গা স্বপ্নের গুড়ো । জামায় লেপ্টে ছিল ছিট ছিট ছোপ-ছোপ রক্তের দাগ। চারপাশে উড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল কিছু ভিনভিনে রক্তখেকো মাছি। মধু পুতুলটা হাতে তুলে ধরতেই একটা হাত আর একটা পা শরীর থেকে আলগা হয়ে খসে পড়েছিল । মাথাটা কোনরকমে ঝুলছিল ঘাড় থেকে। আর চাঁপার মতই পিঠ ছাপানো চুল থেকে টুপটাপ করে ঝরে পড়ছিল টাটকা রক্তের ফোঁটা। আর মানুষ চাঁপা? না সে আর তার মায়ের মত কোনোদিন ফিরে আসে নি এই গাঁয়ে , তার দুখী বাপের কোলে। সেই রাক্ষুসে রাতটার কথা মনে পড়লেই রাগে দুঃখে পরশুরামের গায়ের রক্ত আজ এই এতো শীতেও টগবগিয়ে ফুটতে থাকে।"

-" ইশ। চাঁপার আসলে কি হয়েছিল দিদু?"

- " সেটাই বলবো এবার। তার আগে চাঁপার কথা বলে নেই আরেকটু।

চাঁপা জন্মের সময় আতুরেই তার মাকে হারায়। মায়ের মুখ চোখ একেবারে বসানো ছিল তার মুখে। সেই সঙ্গে স্বভাবখানাও ছিল মায়ের মতই চাপা। একে তো মেয়ে তায় জন্ম থেকেই মা হারা। তাই তাকে নিয়ে কথা বলতে ছাড়েনি গাঁয়ের পাঁচজন। কিন্তু মধুসূদন প্রাণ দিয়ে আগলে আগলে রাখত এই জনমদুখিনিকে। অমানুষিক পরিশ্রম করতে পারত সে। বছরভর মুনিশ খেটে, খেয়া পারাপার করে সুখে দুঃখে বাপ বেটিতে মিলে কাটিয়ে নিত দিন। আধপেটা ,ভরপেটা জীবনে অভাব থাকলেও, শান্তি ছিল ঢের। তবে দিন তো থেমে থাকেনি। থেমে থাকেনি বয়সও।

মেয়ে সোমত্ত হতেই শরীর জুড়ে উছলে উঠেছিল বাঁধ ভাঙা জ্যোৎস্না। আকাশ চুঁইয়ে আসা কুঁড়েঘরেই আসতে শুরু করেছিল বেপারির দল সেই রূপের সওদা করতে। পরশু কড়া হাতে আগলে রেখেছিল দোর।কিন্তু একলা বাপ আর পারবে কত!

একদিন সেই গাঁয়ে এলো শহর থেকে বাবু বিবিদের দল। অতিথির বেশে জমিদার বাড়িতে উঠলো তারা। নানান মনোহারী বাহারি জিনিস, চমক ঠমকে, পয়সার গমকে দুদিনের মধ্যেই জাদু করে ফেলল গাঁয়ের সরলমতি মানুষগুলোকে। আগে পিছে ভিড় জমালো উমেদারদের দল। বুড়ো জমিদারকত্তাও শেষ বয়সে সব ভুলে দিনরাত মজে রইলেন মোহর মদিনায় মোড়া মেহফিলে।"

-" দিদু এক মিনিট। জমিদার আর এখন কোথায়? জমিদারি প্রথাই তো উঠে গেছে অনেক কাল আগে।"

-" সে তো আইনের চোখে মণি। গাঁয়ে গিয়ে দেখ। জমিদারের বংশধরদের আজও লোকে জমিদার বলেই মান্যি করে। না থাকুক তার অর্থ, না থাকুক সম্মান তবু এঁদের জন্য আজও প্রয়োজনে গাঁয়ের লোক জান লড়িয়ে দিতে পারে। "

-" বুঝেছি, বল এবার গল্পটা।"

- " হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম। অতিথির বেশে হাজির হওয়া শয়তানের দল জমিদারের বিশ্বাস ভাঙিয়ে ধীরে ধীরে শুরু করলো আঁখের গোছাতে। প্রথমে তাদের হাত পড়লো গাঁয়ের শেষ সীমায় শাড়ির আঁচলের মত ছড়িয়ে থাকা গুলমোহরের জঙ্গলে। দুদিনেই সাফ হল সব। তারপর লাল নীল বেলোয়ারী স্বপ্নে বিভোর জমিদার কত্তা পেয়ালায় তুফান আর কলমে ঝড় তুলে পরণের পিরান আর ইজেরটুকু ছাড়া একে একে বিকিয়ে দিলেন তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সর্বস্ব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি। ভিটে মাটি ছেড়ে দিলেও শোধ হলো না গাঁয়ের খেটে খাওয়া মানুষের দিনের পর দিন বাড়তে থাকা শহুরে বাবুদের কাছে অদৃশ্য ঋণ। যাঁরা এতদিন শুধু শ্রম দিয়ে বাঁধা ছিল জমিদারের কাছে, তারা এখন জন্ম জন্মান্তরের জন্য বাঁধা পড়ল সেই বেপারিদের কাছে। গাঁয়ের অবুঝ বেবুঝ কিছু মাতব্বর লোক চোখে ঠুলি পরে আর গলায় ঝুটা তোফার ঝুলি ঝুলিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখলো সেসব অনাসৃষ্টি কান্ড। কিন্তু প্রতিনিয়ত এতো অনাচার সহ্যি হল না ভগবানের গায়ে। চঞ্চলা হলেন গাঁয়ের লক্ষ্মী। বিপদ আঁচ করে দূরে সরে গেলো পশু-পাখি যত ছিল। আকাশ থেকে খসে পড়ল তারাদের চোখের জল। আর এমনি করেই কখন যেনো হুড়মুড়িয়ে শীত নামল চির বসন্তের দেশে।

গাঁয়ের অন্য সীমায় থাকা পরশুর বাড়িতেও পৌঁছল এই বাবুবিলাসের খবরাখবর। আর তারও আগে পৌঁছল সেই শহুরে বাবুদের ফেউয়ের দল। জমিদারের সাধের বাগিচায় যত্নে ফোঁটা ফুল ছেড়ে বাবুরা তখন হাত বাড়িয়েছে অন্য ফুলের বাগান তছনছ করবে বলে। গাঁয়ের মানুষের মুখে শুনে শুনে তাদের নজর পড়েছে তেমনই এক অনাঘ্রাতা কুঁড়ির দিকে। নাম তার চাঁপা।"

-"কি সাংঘাতিক।"

-" হ্যাঁ রে মা। এরা তো আসলে সব মানুষের ভেকধারী একেকটি পশু। তাদের সেই লোভেরই বলি হতে হল এক নিষ্পাপ হতভাগিনীকে।

বাবুদের সাধ পূরণ করতে জমিদার কত্তা গিন্নিকে দিয়ে একদিন সুযোগ বুঝে ডাক করালেন চাঁপাকে। ছোট থেকেই চাঁপার আলপনা দেবার হাত ছিল ভারি চমৎকার। সে খবর গাঁয়ের পাঁচ জনেই জানত। তাই কারুর বাড়িতে পুজো পার্বণে বা উৎসব অনুষ্ঠানে চাঁপার ডাক পড়ত প্রায়ই। সেবারে মাঘীপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে গোবিন্দ জীউর মন্দির প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলার ভার পড়ল চাঁপার ওপর। চাঁপার এসব কাজে পরশুর বরাবরই নীরব প্রশ্রয় ছিল। যদিও এবারে বাবুদের কীর্তিকলাপের কথা অল্পসল্প কানে আসায় মনে চাঁপাকে পাঠানো নিয়ে খানিক দ্বিধা থাকলেও শেষমেশ ভগবানের কথা স্মরণ করে পুজোর হপ্তাখানেক আগে চাঁপাকে নিজের হাতে ধরে পৌঁছে দিয়েছিলেন জমিদার বাড়ি লাগোয়া সেই গোবিন্দ জীউর মন্দিরে।

গোবিন্দ জীউর এই নবরত্ন মন্দিরখানি বহু পুরোনো। মন্দিরের শীর্ষে লাগানো লোহিত ধ্বজা শুধু সেই গাঁ নয় , দেখা যেত পাশাপাশি আরো দশ বারোটি গাঁয়ের সীমানা থেকেও। বিগত বছরগুলোতে মূলত ফুল আর আবীর দিয়েই সাজানো হয়েছিল মন্দির এবং রাসমঞ্চ। সেবারই প্রথম মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে আল্পনা দেওয়া হবে বলে স্থির হয় । তেমনটাই নাকি আবদার করেছেন শহুরে বাবুরা।

মাঘী পূর্ণিমার হপ্তাখানেক আগে থেকেই চাঁপার যাতায়াত শুরু হয় জমিদার বাড়িতে। অত বড় মন্দির চত্বর অন্তত হপ্তাখানেক সময় না পেলে একা হাতে রাঙিয়ে তোলা সত্যিই সম্ভব ছিল না। এদিকে চাঁপার আলপনা আঁকার কাজ যত এগোতে লাগলো, ততই জাল গোটাতে শুরু করল শিকারির দল।

পরশুরাম তারপর থেকে রোজ দিনের শেষে খেতে বসে লক্ষ্য করত আস্তে আস্তে চাঁপার বদলে যাওয়া, সাজগোজ পোশাক আশাকে হঠাৎ ঝুপ করে বড়ো হয়ে ওঠা মেয়েকে। সে সব দেখে মনের ঈশান কোণে চিন্তার কালো মেঘ জমলেও সারা দিনের ক্লান্তি আর চাঁপার নিষ্পাপ হাসি খড় - কুটোর মত উড়িয়ে নিয়ে যেত সেসব।

দেখতে দেখতে এগিয়ে আসে পুজোর দিন। সেদিন খুব ধুমধামের সাথে পুজো হয় মন্দিরে। আলোর রোশনাই, আতশবাজির ফোয়ারা, কাসর ঘণ্টার আওয়াজ শুনে সেখানে জড়ো হয়েছিল রাজ্যির মানুষ। মন্দিরের মাঠে বসেছিল বিশাল মেলা। তিল ধারণের জায়গা ছিল না সেখানে। হরির লুঠের প্রসাদ পেতে হুড়োহুড়ি থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত বেঁধে গিয়েছিল। সেদিন সারারাত ধরে চলে উৎসব, আবীর খেলা। পরদিন ভোরে যেনো আকাশের গায়েও লেগেছিল সেই ফাগের পরশ, আশাবরী রাগে মিশেছিল কীর্তনের সুর। পুজোর লগ্ন ততক্ষনে গত হলেও উৎসবের রেশ কাটেনি তখনও। রাতভর আমোদ করে রং মেখে সং সেজে একে একে ঘরে ফিরে এসেছিল সকলে। শুধু সে রাতের পর আর সে গাঁয়ে দেখা যায়নি সেই শহুরে বাবুদের। সেই সঙ্গে রাত কেটে গেলেও ঘরে ফেরেনি পরশুরামের আদরের দুলালী চাঁপা। সেইদিন না, পরদিন না, আর কোনোদিন না।

-" মনটা খারাপ হয়ে গেলো শুনে, দিদু।"

-" তাহলেই ভাব মা মরা মেয়েকে হারিয়ে বাপের কি দশা হয়েছিল! পাগলের মত হন্যে হয়ে খুঁজেছিল মেয়েকে। গাঁয়ের লোককে হাজার শুধিয়েও লাভ হয় নি কিছু। কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারে নি। শুধু তিন দিন পর ভেসে উঠেছিল সেই পুতুলটা বা বলা ভালো ক্ষত বিক্ষত পুতুলের দেহটা। "

পুতুলটা পাবার পর থেকেই পরশু বদলে যায় সম্পূর্ণ । গাঁয়ে কারুর সাথেই কোনো কথা বলে না। এড়িয়ে চলে সাধারণ মানুষের ছায়া। মাঝে মধ্যে দিন কয়েকের জন্য উধাও হয়ে যায় কোথাও। কখনো আবার ডেরা বাঁধে শ্মশানে ঘুরে বেড়ানো গুনীনদের আখড়ায় । যখন ফেরে তখন যেনো আরোই চেনা যায় না ছাই- ভস্ম মাখা পরশুকে। পরনে সামান্য কৌপিন, গলায় ছেঁড়া জবার মালা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। উদ্ভ্রান্তের মত কি যেন খুঁজে মরে সব সময়। দু চোখে সর্বদা জ্বলজ্বল করে ভাটার আগুন। বাকি সময় সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করে ইটভাটায়। যেনো সর্ব শক্তি দিয়ে ভুলে থাকতে চায় জগৎ সংসার এমনকি নিজের অস্তিত্বটুকুও। শুধু প্রতি মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্থী তিথিতে আর মানুষ থাকে না সে। সেই দিনগুলো সারাক্ষণ খিল এঁটে নাওয়া খাওয়া ভুলে থম মেরে বসে থাকে ঘরে। নিজের মনেই সারাক্ষণ বিড়বিড় করে জপে কিসব। তারপর সন্ধ্যে নামার সাথে সাথেই বেরিয়ে পরে ভাঙ্গা পানসিখানা নিয়ে। পদ্মবিলের জল বেয়ে সরস্বতীর মরা সোঁতা ধরে রাতের অন্ধকারে হানা দেয় দূরের শহরে। ঐ শহর থেকেই তো তাদের গাঁয়ে একসময় সওদা করতে এসেছিল শহুরে বাবুদের দল।

যত দিন গেছে, ততই আস্তে আস্তে গাঁয়ের পথের মতই চেনা হয়ে গেছে এই শহরের অলিগলি। একসময় শহরের পথে পথে ঠোক্কর খেয়ে কম খোঁজেনি চাঁপাকে। কিন্তু কোথাও মেলেনি তাঁর সন্ধান। তবু খোঁজা থামায় নি পরশু। আজও সে খ্যাপার মত খুঁজে খুঁজে দেখে এই পাষাণপুরীর অলিগলি, আস্তাকুঁড়, সরাইখানা, বাজার, দেবদেউল সবকিছু। কান পাতে গনিকার দোরে, ভাটিখানায় আবার কখনো দারোগার দপ্তরে । ঘরে ঘরে চোরের মত চুপিসারে হানা দেয়। থমকে দাঁড়ায় যখন কানে আসে কোনো মেয়ের বুক ফেটে গুমরে মরা কান্না। ছুটে যায় সেখানে। যদি চোখে পড়ে কোনো ঘরে কিংবা গোপন কুঠুরিতে বন্দী হয়ে আছে কিংবা অত্যাচারিত হচ্ছে চাঁপার মত বাপ সোহাগী আদরের কোনো দুলালী, তখনই প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে পরশুর দু'চোখের তারায়। রক্তের স্বাদ পেতে যেনো অস্থির হয়ে ওঠে দুহাতের মুঠোয় ধরা শাবলখানাও। পরশু রাতের আঁধারে গা ঢাকা দিয়ে কখনো অতর্কিতে কখনো চুপিসারে কখনো গায়ের জোরে ভেঙেচুরে দিয়ে আসে সেই সব অত্যাচারী দুর্বিনীত অচেনা দৈত্যের সাজানো বাগান। মুক্ত করে সেইসব পথ ভুলে বন্দী হওয়া ফুল আর পাখিদের আর তারপর সেই শহুরে বাবুর বেশে সমাজে ঘুরে বেড়ানো পিশাচগুলোকে গুনীনের শেখানো গুপ্ত মন্ত্রবলে পুতুল বানিয়ে বস্তায় বেঁধে নিয়ে আসে সেই বুড়ো অশ্বত্থের থানে। ফিকে চাঁদের আলোয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভালো করে পরখ করে দেখে নেয় বাবুদের রক্তশূন্য মুখগুলো। মিল খুঁজে পায় না এ গাঁয়ে অতিথির বেশে আসা সেই নরকের কীটগুলোর সাথে। খানিক হতাশ হয়েই আবার তাদের বস্তায় ভরে সুয্যি ওঠার আগেই পুঁতে দেয় মাটিতে ।"

আজও সেই এক ভাবে একটানা কাজ করে জোরে শ্বাস নেয় মধু । তারপর ঝাঁপিয়ে পরে বিলের জলে। জলের নিচে চুপচাপ ভাসিয়ে রাখে নিজেকে। সময় নিয়ে জুড়িয়ে নিতে থাকে শরীর মন। জল থেকে উঠে আদুর গায়ে শুয়ে পরে হিম জড়ানো ঘাসের ওপর। রাত জাগার ক্লান্তিতে ভারী হয়ে আসে দু চোখের পাতা। হালকা হয়ে আসে মনের ভার। অবচেতনে মনে হয় যেনো তার চাঁপা মা আগের মতোই আদর করে বিলি কেটে দিচ্ছে তার মাথায়। আস্তে আস্তে স্বপ্নের অতলে তলিয়ে যায় পরশু। হারিয়ে যায় মেঘের দেশে , তারার রাজ্যে যেখানে তার জন্য সেই কখন থেকে খাবার সাজিয়ে অপেক্ষা করছে তার চাঁপা মা।"

- " দিদু, আমি যেনো চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পেলাম দৃশ্যটা। কিন্তু আজ কাকে ধরলো পরশু? আর কাকেই বা উদ্ধার করলো?"

- " ধরে নে চাঁপার মতই কোনো অভাগীকে।"

- " না। ওটুকু বললে হবে না দিদু। শহুরে পরশু যে অপারেশনটা করলো তার ডিটেলস দাও। "

- " আচ্ছা শোন। চোখ বোজ। বলছি।

-"হম, বলো"

-"পরশু প্রতিবারের মত এবারও একটা মেয়েকে বা বলা ভালো একটা ছোট্ট মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিল অন্নপূর্ণার কাছে। এই নিষ্ঠুর শহরে একমাত্র অন্নপূর্ণাকেই যে সে চেনে। প্রথম যেদিন চাঁপাকে খুঁজতে এসে পথে পথে ঘুরে খিদেয় তেষ্টায় জ্ঞান হারিয়েছিল, সেদিন অন্নপূর্ণাই তাকে ঘরে এনে সেবা শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। তারপর পরশুকে জেরা করে শোনে সব ঘটনা।"

-" সব শুনে কি বলেছিল অন্নপূর্ণা?"

-" বলেছিল - " পরশু এই শহরে শুধু চাঁপা নয় , অনেক ফুলই শুকিয়ে যাচ্ছে, ছিঁড়ে পড়ছে, পিষে যাচ্ছে প্রতিদিন। তাদের কান্না শোনার কেউ নেই। ভেঙে পড় না পরশু। উঠে দাঁড়াও। যদি লড়াই করতেই হয় তবে এই সবার হয়ে লড়াই করো। কি ভাবে করবে তা আমি জানি না। সেই পথ খুঁজে নিতে হবে তোমাকেই। আমি শুধু পাশে থাকতে পারি। সেটুকুই আমার সাধ্যি। যতদিন না এরা মুক্তি পাচ্ছে ততদিন যেনো তোমার মেয়েও শান্তি পাবে না। সে যেখানেই থাকুক না কেনো। মন শক্ত করো পরশু। আমার বিশ্বাস তুমি পারবে ।"

অন্নপূর্ণার কথা কিংবা মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা কোনটা পরশুকে এই দুঃসাহসিক পথের সন্ধান দিয়েছিল তা ঈশ্বরই জানেন।পরশুর সেই থেকে বিশ্বাসই বল আর ভরসাই বল, সব কিছুই এই অন্নপূর্ণা। পরশুর হাত ধরে উদ্ধার পাওয়া অসহায় মেয়েদের কাছেও অন্নপূর্ণাই একমাত্র সহায়। সে এই একলা শহরে নিজের বুকে করে আগলে রাখে ওই মেয়েদের। অন্নপূর্ণার নিজের সম্বল বলতে কাপড় সেলাইয়ের কাজ। তা থেকে যা আয় হয় তার সবটুকু উজাড় করে দেয় ওই হতভাগিনীদের জন্য।

আজও পরশুর হাত ধরে ভয় ভয় চোখে দাঁড়িয়েছিল এক রত্তি একটা মেয়ে। অন্নপূর্ণা শুধোল - "নাম কি মা তোমার?"

মিনমিন করে বললো - "শেফালী। মাসিরা তাই ডাকতো। মা ডাকতো শিউলি।"

-"মা কোথায় তোমার?"

-"ওই আকাশে থাকে"

অন্নপূর্ণা গাল টিপে চুমো খেয়ে বললো - " তুমি ভেতরে যাও মা। ওখানে অনেক দিদি আছে। ওদের সাথে খেলা করো। আমি এক্ষুনি আসছি। " অন্নপূর্ণার কথার মধ্যে এমন কিছু ছিল যে অচেনা হলেও তার কথাগুলোকে অবিশ্বাস করতে পারেনি শিউলি। সে সাথে সাথে ঘাড় নেড়ে ধীর পায়ে ভেতরে যেতেই অন্নপূর্ণা পরশুকে জিজ্ঞেস করলো - " একে কোথায় পেলে পরশু?"

-"মালোপাড়ায়, ওই যেখানে লম্পটগুলো ভিড় জমায় রেতের বেলা"।

-"বুঝেছি। জ্যোৎস্না বিবির কোঠায়, তাই তো?

-"হ্যাঁ। ওই বেহুদ্দে মেয়ে মানুষের নাম মুখে আনাও পাপ।"

-"হম, তা তুমি সেখানে কি করছিলে পরশু?"

-"আমি ও পাড়ায় টহল দিতে গিয়ে শুনলাম কে যেনো প্রাণপণে চিৎকার করে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু পারছে না। আমি শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি সেই বাড়ির দোতলার একটা ঘর থেকে আসছে শব্দটা। নজর করে দেখলাম মূল ফটকে পাহারা আছে। আমি দেওয়াল বেয়ে বুক ঘষে ঘষে উঠলাম । জানলায় চোখ রেখে দেখলাম এই ফুলের মত মেয়েটাকে হাত ধরে বিছানায় টানছে একটা মুষকো মাতাল লোক। বুঝলাম সে লোকের মতলব ভালো না। খুন চেপে গেল মাথায়। ঘরে ঢুকে লোকটার ঘাড়ে দিলাম এক রদ্দা। তারপর ব্যাটাকে ঝোলায় বেঁধে মেয়েটাকে নিয়ে সোজা এসেছি তোমার কাছে। "

-"বেশ। কিন্তু জ্যোৎস্না যদি খবর পেয়ে ফেরত নিতে আসে শিউলিকে? আমি একা পারবো আটকাতে।"

-"পারবে দিদি, খুব পারবে। তোমাকে আমি চিনি না!" বলে কান এঁটো করে এক গাল হাসলো পরশু।

অন্নপূর্ণা উঠে দাঁড়িয়ে বলল -"তুমি আজ এসো।পরশু। পেছনের খিড়কি খোলা আছে। আর কৌটোটা ধরো। খানিক চিড়ে আর গুড় আছে। খেয়ে নিও।"

পরশু কথা না বাড়িয়ে প্রণাম ঠুকে রওয়ানা দিল গাঁয়ের পথে।

বাকি রাত শিউলিকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোলো যমুনা। শিউলিও গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পরলো।। দিন গেলো, হপ্তা গেলো। না, কেউই খোঁজ করল না শিউলির। এতবড় শহরে রোজ দু চারটে হা ঘরে মেয়ে এরকম গায়েব হয়েই থাকে। যেন তেমনটাই দস্তুর। কেউ তাদের খবর রাখে না।"

-"আর যে লোকগুলো পরশুর ঝোলায় ঢুকে গায়েব হয়ে যেত তাদের খোঁজ পড়ত না? পুলিশ কোনো তল্লাশি বা তদন্ত করতো না?"

-" এই প্রশ্ন তোর মনে আসা স্বাভাবিক। আসলে পেয়াদা দারোগারা যাদের গরাদে ভরতে নাকাল হত কিংবা বলতে পারিস যাঁরা ঘৃণ্য অপরাধ করেও আইনের ফাঁক গলে, কখনো প্রভাব খাটিয়ে অথবা অর্থের জোরে পেয়াদাদের নাকের ডগায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াত তাদের বিচার হত অন্নপূর্ণার এজলাসে। সে কথা পেয়াদারা ভালো মতই জানত আর তাতে তাই তাদের একরকম সায়ও ছিল।"

-" হমমম, সেরকমই মনে হচ্ছিল শুনে। যাই হোক। তুমি বরং শিউলির কথা বলো। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে তার কি হল। "

-" শিউলিও অন্য সকল আশ্রিতাদের মতই পরম যত্নে আর ভালোবাসায় বেড়ে উঠতে লাগলো অন্নপূর্ণার আঁচলের ছায়ায়। এভাবেই কেটে যেতে লাগলো দিন, হপ্তা, মাস।

তারপর একদিন রাতের বেলা খাবার পর অন্নপূর্ণা শিউলিকে চুল বেঁধে দিতে বসলে শিউলি তোর মতই আবদার করে বললো - "ছোটমা আমায় একটা গল্প বলবে? মা ছোটবেলায় আমাকে তোমার মতই রোজ গল্প বলে ঘুম পাড়াতো।"

-" আর তোর বাবা? তাঁর কথা তো কই বলিস না দেখি।"

-" বাবা কে তাই জানি না। তাঁকে তো দেখিইনি কোনদিন।"

-"আচ্ছা। থাক এসব কথা। তুই বরং গল্প শোন। কিসের গল্প বলবো বল।"

-" কালকে যে গল্পটা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, সেটা আগে তুমি বলে শেষ করে দাও।"

-"কোনটা বল তো?"

-"ওই সেই পরশুরামের গল্পটা, যে কিনা মস্ত যোদ্ধা ছিল। একুশ বার যুদ্ধ করে ক্ষত্রিয় শূন্য করেছিল পৃথিবী। "

-"বাব্বা তোর তো খুব ভালো স্মৃতিশক্তি রে। কিন্তু এই গল্পটা তো আর তেমন বাকি নেই সামান্য অংশটুকু ছাড়া।"

-" তবে সেটুকুই শুনি আগে।"

-" শোন তাহলে। এই বীর ছিলেন স্বয়ং শ্রী বিষ্ণুর অবতার এবং মহাদেবের একনিষ্ঠ ভক্ত। দেবতাদের বরে তাঁর মৃত্যু নেই। প্রতি যুগেই তিনি ফিরে ফিরে আসেন। সত্যের পক্ষে, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অস্ত্র ধরেন। দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করেন। অন্তত পুরাণ তেমনটাই বলে। পৃথিবীতে সেই অনুযায়ী পরশুরামকে নিয়ে এমন মোট সাত জন বীর আছেন যাঁরা কিনা অমর। এঁরা হলেন অশ্বত্থামা, মহারাজ বলি, বেদব্যাস, কৃপাচার্য্য , হনুমান, বিভীষণ, এবং পরশুরাম। এঁদের তাই বলা হয় চিরঞ্জীবি।"

-" দারুণ তো। তার মানে এ যুগেও তিনি আছেন নিশ্চয়ই।"

-" বিশ্বাস করলে আছেন বৈকি।"

-"নিশ্চয়ই আছেন। হয়ত সেই মানুষটাই ওই পরশুরাম।"

-"কে"

-" ওই, যে আমায় দুষ্টু রাক্ষসদের কবল থেকে সেদিন এখানে উদ্ধার করে নিয়ে এলো।"

-" সে আমি কি জানি। স্বয়ং ঈশ্বর রাখেন তার খোঁজ। আজ অনেক রাত হয়ে গেছে সোনা। নতুন গল্প আবার কাল বলবো। তুই বরং ঘুমো দেখি এখন।"

শিউলি লক্ষ্মী মেয়ের মত অন্নপূর্ণাকে আঁকরে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো ।

আমার কথাটিও ফুরোল আর নটে গাছটি মুড়লো।

তুইও এবার ঘুমিয়ে পড় মনি। মণি, এই মণি। ঘুমিয়ে পড়লি নাকি! "

মনিমালা তখন তলিয়ে গেছে গভীর ঘুমের অতলে। তার চারপাশে খেলা করে বেড়াচ্ছে সোনা ঝরা স্বপ্নে মোড়া মেঘের দল। কোনো এক মহাশক্তির আরাধনায় সমস্ত ইহজাগতিক স্বত্তা যেনো বাঁধা পড়েছে অবচেতনের গহীন অন্তরালে। আর সেই নিবিড় অন্তঃস্থল থেকে নিনাদিত হয়ে চলেছে সেই অমোঘ মন্ত্র -


' অশ্বত্থামা বলিরব্যাসঃ হনুমানশ্চ বিভীষণঃ।।

কৃপাঃ পরশুরামশ্চ সপ্তৈতে চিরঞ্জীবীনঃ।।

সপ্তৈতান সমস্মারেননিত্যাম মারকেন্ডেয়ম অথস্তামাম।।

জীবিত বর্ষ শতম প্রজ্ঞা অপমৃত্যু বিবর্জিত ঃ।I'





Rate this content
Log in

More bengali story from Indrani Bhattacharyya

Similar bengali story from Drama