STORYMIRROR

Nikhil Mitra Thakur

Romance

4  

Nikhil Mitra Thakur

Romance

কয়েদি প্রেম

কয়েদি প্রেম

4 mins
312

কয়েদি প্রেম

নিখিল মিত্র ঠাকুর

৫/৮/২৩


--জেলের বাইরে থেকে শিবা খবর পায় জেল হাসপাতালে শিবানীর বাচ্চা হয়েছে। জেলে ফিরে নিজের বাচ্চা দেখার জন্য শিবা অস্থির হয়ে উঠে।

-- একটা ছোট্ট খাটো অপরাধ করে শিবা পুলিশের হাতে ধরা দিতে চায়।

--জেল হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে শিবানী তখন তার সদ্যজাত বাচ্চা নিয়ে একক সেলে ফিরে এসেছে।

--শিবা জেলে গিয়ে পুলিশকে সন্তুষ্ট করে শিবানীর উল্টো দিকের সেলে নিজে থাকার ব্যবস্থা করে। সেল থেকে বাচ্চাকে দেখে শিবা আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়ে।

-- শিবার জন্মের পরেই দেশজুড়ে আসে করোনা ভাইরাস এর এক অতিমারি। সেই অতিমারি কেড়ে নেয় শিবার বাবার জীবন।

-- কাকা-কাকিমা,জ্যাঠা-জ্যাঠিমাদের কাছে শিবা ও ওর মা কুপয়া স্বজন খেকো হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যায়।

-- অবশ্য এইভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভিতরে অন্য এক অংক ছিল। শিবা কে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা ছিল ওদের মূল লক্ষ্য। সেই অংকেই শুরু হয়ে যায় গঞ্জনা ও অত্যাচার।

-- শিবার মা অর্থাৎ মালতি ঘোষ শশুরের ভিটে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

-- শিবার বয়স তখন দেড়বছর। মালতি দেবী বস্তি এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে উঠে আসে।

-- অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করে,ঝি এর কাজ করে শিবা কে বড় করা ও পড়াশোনা করানোর কাজ সুষ্ঠু ভাবে পালন করতে থাকে।

-- শিবা এখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ও পড়াশোনা তে যথেষ্ট ভালো। ক্লাসে প্রতি বছর ওর এক থেকে তিনের মধ্যে পজিশন থাকে। 

-- শিবার মেধায় অভিভূত শিক্ষকগণ। এমন ছাত্র এর আগেঢ এই বিদ্যালয়ে আসেনি। সবার আশা মাধ্যমিকে সে রাঙ্ক করবে।

-- মালতি দেবীর লড়াই আর শিবার অধ্যবসায় তাদের একমাত্র সম্বল। এই পুঁজির উপর নির্ভর করে মালতি দেবী আর দশটা মায়ের মতো সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। 

-- পরের বাড়ির ঝি এর কাজ করার,মিথ্যা অপবাদে নির্বাসনে পাঠানোর গাঢ় অন্ধকার কেটে গিয়ে একদিন ওদের জীবনে নতুন সূর্য উঠবে। সেই আশায় তাদের কষ্টের এই পথ চলা। 

--দেবার আচার ব্যবহার ও পড়াশোনায় শুধু শিক্ষকগণ নন, সতীর্থরাও যথেষ্ট আকৃষ্ট ও সন্তুষ্ট। 

-- শিবার জীবনে একটাই লক্ষ্য ওকে কিছু হতে হবে, মাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে হবে। মায়ের জন্য একটা ঘর বানাতে হবে...। 

-- কিন্তু, কথায় আছে না "অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকায়ে যায়"। হটাৎ করে শিবার জীবনে নেমে এলো এক চরম বিপত্তি।

-- শিবার সাথে ঠেলাঠেলি করতে গিয়ে এক সহপাঠী পড়ে যায়। হাইবেঞ্চের কোণায় ওর মাথা লাগে। বড় ধরনের ইনটারনেল ইনজুরি হয়। হাসপাতালে ছেলেটি একদিন পর মারা যায়।

-- ছেলেটির বাবা এলাকার কাউন্সিলর। তাই উনার কথা মতো সব জানা সত্ত্বেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ শিবা কে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রেপ্তার করে। 

-- শিবা কে একটা এসাইলামে রাখা হয়। জুভেনাইল কোর্টে ওর বিচার চলতে থাকে।

-- কাউন্সিলর এর সাঙ্গপাঙ্গরা মালতি দেবীর উপর নির্মমভাবে অত্যাচার করে। হাসপাতালে মালতি দেবীর মৃত্যু হয়। 

-- কাউন্সিলর শিবাকেও মারার অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু,পুলিশের অধীনে থাকার জন্য ও বেঁচে যায়।

-- মালতি দেবীর মৃত্যুর জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না। রাজনৈতিক শক্তির ঘেরাটোপে ধর্ষকরা বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়াতে থাকলো।

-- শিবা কে পুলিশী পাহারায় নিয়ে আসা হলো মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য। মায়ের মৃতদেহ দেখে শিবা চমকে ওঠে। বুঝতে পারে মায়ের উপর কতটা পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।

-- মনের মধ্যে নিজের সম্বন্ধে ধিক্কার আসে। ওর জন্যই মা কে এই রকম পাশবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে, অকালে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে। 

-- শিবার মনে অনবরত প্রতিধ্বনি হতে থাকে প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, প্রতিশোধ। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে যায়,হাতের মুঠি দৃঢ় হয়ে পড়ে।

-- শিবা বস্তির মানুষদের কাছে হালকা কিছুটা শুনতে পায় কে বা কারা এতটা নির্দয় ভাবে মায়ের উপর অত্যাচার করেছে।

-- শিবার লক্ষ্যের পরিবর্তন ঘটে। ওর এখন একমাত্র লক্ষ্য মায়ের উপর অকথ্য অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়া।

-- বিচার পর্ব চলে দীর্ঘ দশ বছর ধরে। অবশেষে অনিচ্ছাকৃত খুনের অপরাধে শিবার পাঁচ বছর জেল হয়। কিন্তু, রায় বের হওয়ার আগেই ওর পাঁচ জেল খাটা হয়ে যায়। তাই,রায় বের হওয়ার সাথে সাথেই শিবা ছাড়া পেয়ে যায়।

-- এখন সেই কাউন্সিলর স্থানীয় এম এল এ। তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দুই-ই প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে।

-- শিবা জেলে থেকে ছাড়া পেয়ে প্বার্শবর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ডে চলে যায়। ঢুকে পড়ে একটা গ্যাং এ। শুরু অপরাধ জগতের পাঠ। 

-- বুকের ভিতর জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের গআগুন এখানেও শিবা কে খুব তাড়াতাড়ি বড়ো গ্যাং স্টারে পরিণত করে।

-- শিবা ফিরে আসে নিজের জন্মস্থানে। গড়ে তোলে বড় একটা অপরাধ জগতের গ্যাং।

-- নিতে থাকে একের এক প্রতিশোধ। ঘটতে থাকে সিরিয়াল খুন। পুলিশ হিমশিম খায় গ্যাং ধরতে।

-- অবশেষে,আসে শিবার শেষ টার্গেটে। কিন্তু, ততোদিনে এম এল এ সাহেব জনগনের সেবক পুলিশী নিরাপত্তা পেয়ে গেছেন।

-- কঠিন টার্গেট শিবা পূরণ করে ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে যায়। শিবার আবার জেল হাজত বাস শুরু হয়।

-- এই সময়ে লেডি ডন শিবানী এক বড় ব্যবসায়ীর ছেলে কে কিডনাপের কেসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে আসে।

-- জেলের মধ্যে পরিচয় হয় শিবার সাথে। তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে।

-- জেলের মধ্যে এই প্রেম পর্বে জেলের কর্মচারী সহ সকলেই ওদের নানা ভাবে সমর্থন করে।

-- জেলের মধ্যে কালী মন্দিরে শিবানী কে বিয়ে করে শিবা।

-- জেলের সমস্ত কর্মচারী কে মাদক খাইয়ে পালিয়ে যায় শিবা। কিন্তু, শিবানী পালতে গিয়ে ধরা পড়ে।

-- কিছু দিন পরে জেল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে শিবানী গর্ভবতী। খবর টা হুহু করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই জেলার ও কিছু কর্মচারীর শাস্তি হয়। তাদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হয়।

-- প্রকৃতির নিয়মে যথাসময়ে শিবানী জেল হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে।

-- শিবানীর সন্তান হওয়ার খবর শিবার কাছে পৌছে যায়।

-- শিবা ছটফট করতে থাকে নিজের বাচ্চা কে দেখার জন্য।

-- কিন্তু, ছোট্ট খাটো অপরাধে পুলিশ শিবা কে সন্দেহ করে না। তাই তাকে ধরতে যায় না।

-- অবশেষে, শিবা প্রকাশ্য দিবালোকে একটা বড় সোনার শোরুম লুটপাট করে । খবর পেয়ে পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

-- শিবা গ্যাং এর অন্যদের পালিয়ে যাওয়ার পথ করে দিয়ে নিজে ধরা দেয়।

-- জেলে এসে শিবানীর উল্টো দিকের সেল থেকে দুচোখ ভরে নিজের সন্তান কে দেখতে থাকে।

-- মাঝে দশ ফুটের দূরত্ব তবু নিজের সন্তান কে কোলে নিয়ে আদর করার ক্ষমতা বা অধিকার নেই।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance