Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Saswati Roy

Abstract


1  

Saswati Roy

Abstract


জয়িতা

জয়িতা

14 mins 1.0K 14 mins 1.0K

#জয়িতা

#শাশ্বতী_রায় 


আমি জয়িতা। বাবা মায়ের আদরের জয়ী। নামে জয়ী হলেও জেতার সুখ আমি জীবনে কোনোদিন পাইনি। মা বলতো আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে বেঁচে থাকাটাই হার। তাই তো ছিলাম আমি। জীবনের পনেরোটা বছর এমন একজন মানুষের সাথে ঘর করেছি, যে আমায় ভালোবাসা তো দূরে থাক, ন্যুনতম সম্মানটুকুও কোনোদিন দেয়নি।

আমি তাও থেকেছি তার সাথেই। বিছানায় তাকে নিয়মিত সুখ দিয়েছি। তার সন্তান ধারণ করেছি। মুখ বুজে তার বাবা মায়ের সেবা যত্ন করেছি। বিনিময়ে দুটো ভালো কথা কারো মুখে শুনিনি। উঠতে বসতে অপদস্থ হতে হতে আমি সত্যিই ভুলতে বসেছিলাম আমিও একজন মানুষ। পরিপূর্ণ মানুষ। আমারও মন বলে একটা বস্তু আছে। অনুভূতি আছে। সুখ দুঃখের বোধ আছে।

আঘাত করলে আর পাঁচটা মানুষের মত আমারও কষ্ট হয়।


নাহ্, কেউ বোঝেনি। অব্যবহৃত আসবাবের মতই এতগুলো বছর আমি ঘরের এক কোণে পড়ে থেকে কাটিয়ে দিয়েছি। 

বিয়ের চার বছর পর আমি মা হলাম। 

শুনেছিলাম মেয়েরাই মায়ের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু হয়। আমিও ভেবেছিলাম বন্ধু পেলাম।

মেয়েকে কোলে নিয়ে, কপালে ছোট্ট একটা আদর করে বললাম- এ বাড়িতে আমার কেউ নেই রে। তুই আমার বন্ধু হবি?

জানতাম না, ঈশ্বর এ ব্যাপারেও কার্পণ্য করবেন। মেয়ের সাত বছর বয়েস হতে না হতেই সে শিখে গেল তার মায়ের আরেক নাম "অপদার্থ মহিলা"। 

কোনো গুন নেই তার মায়ের। তার মা, না রূপে লক্ষ্মী, না বিদ্যায় সরস্বতী।

মেয়েও তার বাবা আর ঠাকুমার দেখাদেখি আমায় অসম্মান করতে শিখল।


মেয়ে দুর্ব্যবহার করলে খুব কষ্ট পেতাম। দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসতে চাইত। গিলে নিতাম কষ্টটাকে। আহা আমার সন্তানের গায়ে লাগবে যে শ্বাসটা। একটু কাঁদতে পারলে হয়তো হালকা লাগত। কিন্তু এতো বছরের অপমান অনাদরে চোখের জলও শুকিয়ে এসেছে।


যে মা তার আত্মজার কাছেই সম্মান পায় না, তার মা হবার কি অধিকার আছে? 

জানি না। সবার হাসির পাত্রী হতে হতে 

মাঝে মাঝে নিজেকে ভীষণ অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। নিজের কাছেই নিজে কেমন যেন ছোটো হয়ে গেছি। 


তবে হ্যাঁ, এ বাড়ির একটা দায়িত্ব এখনো আমাকেই দেওয়া হয়। যার যেখানে যা অসুবিধা তার সমস্ত দায়ভার আমার ওপরেই বর্তায়। 

"তোমার জন্য এটা হল" এই কথাটা সারাদিনে অন্তত দশবার আমাকে শুনতে হয়। মেনে নিয়েছি এখন।

হয়তো শিরদাঁড়ার জোর কম এবাড়ীর মানুষদের। তাই দোষারোপের জন্য একটা মজবুত শিরদাঁড়ার দরকার পরে।

©শাশ্বতী রায় 

===========================

ইমনের এবছর ক্লাস ফাইভ হয়েছে। নতুন স্কুলে আজ প্রথম পেরেন্টস মিটিং। সাহেবি স্কুলের কড়া নিয়ম বাবা এবং মা দুজনকেই উপস্থিত থাকতে হবে। প্রাইমারি স্কুলে এত বছর রজত একাই যেত ইমনকে সঙ্গে করে। কোনোদিন আমাকে বলেওনি সঙ্গে যেতে। এবার বাধ্য হয়েছে আমায় নিয়ে আসতে। তবে বাবা মেয়ের মুখ দেখে স্পষ্ট বুঝতে পারছি তারা যারপরনাই অসন্তুষ্ট।

মেয়ে গতকাল রাত থেকে আমায় ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছে। সাথে তার বাবাও জুটেছে।


ওদের কান্ড দেখে হাসিও পাচ্ছিলো, কান্নাও। আমাকে কি ভাবে ওরা ? রজতও কি ভুলে গেছে একেবারে অশিক্ষিত মেয়েকে সে বৌ করে আনেনি।


সাদা খোলের ওপর কমলা বুটি দেওয়া মায়ের তাঁতের শাড়িটা বের করলাম অনেক দিন পর। চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ নিলাম। ন্যাপথলিনের গন্ধের সাথে আজও মায়ের গায়ের গন্ধটা পেলাম। একমাত্র মা-ই ছিল যে আমায় একটু হলেও বুঝত। বিয়ের আগে মা বারবার বলেছিল 

-"চাকরি না পেয়ে বিয়ে করিস না জয়ী"।

তখন বাবা চাকরি থেকে সবে অবসর নিয়েছে। বেশ বুঝতে পারছিলাম ভারমুক্ত হলে বাবা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেবে।

তাই বিয়েতে না করিনি। সমস্ত স্বপ্ন বাপের বাড়িতে জমা রেখে বরের হাত ধরে পা রেখেছিলাম নতুন জীবনে। 


-এই শাড়িটা পরছো? ইমনের ডাকে হুঁশ ফিরলো আমার। দেখলাম নাক মুখ কুঁচকে শাড়িটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইমন।

-কেন রে, সুন্দর তো শাড়িটা। জানিস এটা তোর দিম্মার।

-মা প্লিজ, আমার সব বন্ধুর মায়েরা ওয়েস্টার্ন আউটফিটে আসবে। সেটা না পরো, এটলিস্ট একটা বুটিকের শাড়ি টাড়ি পরো। এই শাড়িটা তো যাচ্ছেতাই।

এবার রজতও যোগ দিল ইমনের সাথে।

-তোর মা বরাবরই আমাকে হেনস্তা করতে ভালোবাসে রে। লোককে বোঝাতে হবে তো 

উনি একজন অত্যাচারিতা গৃহবধূ। তবেই না তোর মায়ের মন ভরবে।

দাঁতে দাঁত চেপে রজতের কথাগুলো হজম করলাম।

ইমন আমার হাত থেকে টান মেরে শাড়িটা নিয়ে, অবহেলার সাথে আলমারির এক কোণে ফেলে দিলো। তারপর নিজেই আলমারি ঘেঁটে একটা ভাগলপুরি সিল্ক বেছে আমার হাতে দিয়ে বললো

- মাচ বেটার। প্লিজ মা, এখন আর ওরকম মুখ করে দাড়িয়ে থেকো না। উই আর গেটিং লেট।

শাড়িটা পরে ওদের সাথে গিয়ে গাড়িতে উঠলাম। মেয়েকে পাশে নিয়ে তার বাবা ড্রাইভ করছে। আমার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভুলে ওরা ওদের মতো গল্প করছে, হাসছে। আমি অবাঞ্ছিতের মতো পিছনের সিটে বসে আছি।

মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। বছরে একবার বাবার সাথে মা আমার স্কুলে আসত। অ্যানুয়াল ফাংশনের দিন। সেদিনটা যে আমার কতো আনন্দের ছিল। স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো আমার মাকে নিয়ে কোনোদিন আমার লজ্জাবোধ হয়নি।

সিঁথিতে উজ্জ্বল সিঁদূর, কপালে চাকা টিপ, লালপাড় গরদ বা তসরের শাড়ি পরা মাকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যখন ঢুকতাম, বন্ধুরা বলতো "কাকিমাকে দেবীর মতো সুন্দর লাগছে জয়ী"। সাদামাটা দেখতে আমি হিংসা করিনি মাকে। বরং গর্বে ভরে উঠেছিল বুক।

বিয়ের জন্য যখন পাত্রপক্ষের আমায় দেখতে আসার কথা, বড় কাকি এসে মাকে বলেছিল 

-প্রতিমা, তুমি যেন বেশি সাজগোজ কোরো না। ছেলে কিন্তু আমাদের জয়ীকে ফেলে তোমার দিকেই তাকিয়ে থাকবে। 

ঘৃণায় ভরা মুখ নিয়ে একপাশে সরে গেছিল মা। বাবা এসে মা কে বুঝিয়েছিল 

- ওরা যদি আমাদের মেয়ের গুণ দেখে নিয়ে যেতে চায় তবেই মেয়ে দেব।

হ্যাঁ, ওরা আমায় পছন্দ করেছিল। তবে কি দেখে আমি আজও বুঝিনি। বাবা যখন আমার সম্পর্কে বলছিল, আমার শ্বশুর শাশুড়ি তখন অন্যমনস্ক মুখে চা, মিষ্টি খাচ্ছিলেন। আর রজতের কথা তো ছেড়েই দিলাম। সে তো তখন মা বাবার বাধ্য খোকা।

উঠতে বললে ওঠে, বসতে বললে বসে।


রজতের ডিগ্রি, চাকরি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা সব কিছুর আড়ালে আমি চাপা পড়ে গেলাম।

আমার নিজস্বতা বলে আর কিছু রইল না।

যা ই করতে যাই বাধা আসে। 

গল্প বই পড়তে ভালবাসতাম। দুপুরগুলো যে কিভাবে হুস করে কেটে যেত বুঝতেও পারতাম না। এ বাড়িতে কেউই তেমন বইপোকা ছিল না। বাপের বাড়িতে গেলে কিছু কিছু বই নিয়ে আসতাম। পড়া হয়ে যাওয়া বইগুলোই আবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়তাম। একদিন শাশুড়ি মা এসে বললেন 

-এখনও বই মুখে করে বসে আছো? বিকালের চা টাও কি আমাদের করে খেতে হবে? কি বউ-ই এনেছিলাম বাবা। কুঁড়ের হদ্দ।

দুপুরে বই পড়া ছেড়ে দিলাম। ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতাম একা একা। ভয়ংকর নিঃসঙ্গ লাগত। একদিন ভাবলাম কিছু লিখি।

পুরোনো একটা ডাইরি নিয়ে বসলাম। কিন্তু লিখবটা কি? প্রথমে কিছুই মাথায় এলো না। তারপর ভাবলাম নিজের কথাই লিখি না সাজিয়ে গুছিয়ে। 

দু-তিনদিন এই লেখার খেলা চলল। এরপর একদিন ডিনার টেবিলে দেখলাম বর, শ্বশুর শাশুড়ি সবার মুখ থমথম করছে।

বুঝতে পারছিলাম না কারণটা। বেডরুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করায় রজত ফেটে পড়ল। একটা জেরক্স করা কাগজ আমার মুখে ছুঁড়ে মারল। দেখলাম আমারই লেখা ডাইরির পাতা। যেখানে বড় বড় হরফে আমি লিখেছিলাম

" বিয়ে করে আমি সব পেয়েছি, স্বামী ছাড়া"।


============================


-কি হলো, গাড়িতেই বসে থাকবে নাকি? নামো তাড়াতাড়ি। রজতের ডাকে চমকে উঠলাম। এতাল বেতাল ভাবতে ভাবতে কখন যে স্কুলে পৌঁছে গেছি খেয়ালই হয়নি।


স্কুলের ভিতরে ঢুকে হাঁ হয়ে গেলাম। কত বড়ো স্কুলটা। আর কি সুন্দর পরিবেশ। আমার ইমন এত ভালো স্কুলে পড়ে, ভেবে গর্ব হচ্ছিলো। এক মুহুর্তের জন্য ভুলেই গেছিলাম ইমনের স্কুল, লেখাপড়া কোনো ব্যাপারেই কোনো মতামত দেবার অধিকার আমার ছিল না।


ক্লাস টিচারের সাথে মিটিং বেশ ভালোভাবেই মিটে গেল। উনি বললেন আমরা চাইলে একবার প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করতে পারি।

নতুন যারা অ্যাডমিশন নিয়েছে তাদের সবাইকেই উনি আজ সময় দিচ্ছেন।

প্রিন্সিপাল স্যারের ঘরে এলাম।

বেশ বড়ো ঘরখানা। দেওয়ালে বিভিন্ন মনীষীদের ছবি টাঙানো। ঘরের একপাশে একটা উঁচু টুলে ওনারও একটি ছবি রয়েছে। তবে সেটি হাতে আঁকা। তৈলচিত্র।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রভাবে হিম হয়ে রয়েছে ঘরটা। বাইরে যে এত উত্তাপ এ ঘরে বসে বোঝে কার সাধ্য!

তবু অল্প অল্প ঘামছিলাম আমি। হয়তো অজানা কোনো ভয়ে। ওনার সাথে বেশিরভাগ কথাই হল রজত আর ইমনের। আমায় শুধু একটাই প্রশ্ন করেছিলেন,

আমি চাকরি করি কিনা। উত্তরটা আগ বাড়িয়ে রজতই দিয়ে দিল।

-না, না উনি হাউসওয়াইফ।

-ওহ্। ছোট্ট প্রতিক্রিয়াটি দিয়েই উনি আবারও ওদের সাথেই কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।


বাড়িতে ফিরে মনটা খারাপ করে বসে রইলাম অনেকক্ষণ। কেমন যেন মনে হচ্ছিলো এতদিন সবার সাথে লড়াই না করে, অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে বড্ড ভুল করে ফেলেছি। অশান্তি এড়ানোর জন্য

মুখ বুজে থাকলে তাতে প্রকারান্তরে অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। 

নিজের জীবনটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলাম আজ। শুরুতেই এই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারতাম। সে যোগ্যতাও আমার ছিল। কিন্তু যৌথ পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বাবা মায়ের সম্মানের কথা ভেবে ফিরে যেতে পারিনি। এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম, আমায় বারবার আঘাত করে এরা শুধুমাত্র আমার মনোবল ভেঙ্গে দিতে চেয়েছে। আমিও ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়েছি। দুর্বল হয়ে গেছি মানসিক ভাবে। 


ইমন তখন আমার একমাত্র সম্বল। আমার আশা ভরসা সবকিছুই। ওকে আঁকড়ে যখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, ঠিক তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো শ্বশুরমশাই চলে গেলেন। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, দুপুরে খেয়েদেয়ে খবরের কাগজ নিয়ে শুয়েছিলেন। বিকেলের চা নিয়ে ডাকতে গিয়ে দেখলাম কোনো সাড়া শব্দ নেই। গা বরফের মতো ঠাণ্ডা। ঘুমের মধ্যেই কখন যেন চির ঘুমের দেশে চলে গেছেন তিনি।


শ্বশুর মশাই চলে যেতে শাশুড়ি মা মানসিকভাবে খুব একা হয়ে পড়েছিলেন। ইমনই তখন ওনার বাঁচার রসদ। আমিও হাসি মুখে ইমনের বেশিরভাগ সময়টাই ওনাকে দিয়ে দিলাম। ভেবেছিলাম মেয়ে তো আমারই। কোথায় আর যাবে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। ভুল যখন ভাঙলো, ইমন তখন অনেক দূরে সরে গেছে আমার থেকে। 


===========================

ফোনটা এলো ঠিক দুদিন পর। দুপুরবেলা ইমন তখন স্কুল থেকে ফিরে তার ঠাকুমার ঘরে। বন্ধুদের সাথে কাটানো গোটা দিনের ফিরিস্তি দিচ্ছে। মাঝে মাঝে ঠাকুমা আর নাতনির কুলকুল হাসির শব্দ পাচ্ছিলাম।

মনে মনে বলছিলাম, এই আনন্দের একটু ভাগ তো আমাকেও দিতে পারিস ইমন। আমিও নাহয় একটা দিন মন খুলে হাসতাম।

ঘর থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম ড্রয়িং রুমে ফোনটা বাজছে। এ বাড়িতে বড় একটা আমার ফোন আসে না। নিস্পৃহ ভাবে তাই শুয়েছিলাম। প্রমীলা এসে বললো "বৌদি তোমার ফোন"। প্রমীলা এ বাড়িতেই থাকে। রান্নাবান্না, টুকটাক বাজারহাট, শাশুড়ি মায়ের ফাইফরমাশ খাটার লোক সে। অনেক বছর ধরে থাকার সুবাদে এখন প্রায় নিজের লোকের মতই।


সোফায় বসে রিসিভারটা কানে লাগালাম।

-হ্যালো জয়িতা বলছি। আপনি কে বলছেন?

- সুমন বলছি। কেমন আছো জয়ী?

ধমনীর রক্তকণিকারা চঞ্চল হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেছে। জানতাম ফোনটা আসবে। তবে এত তাড়াতাড়ি আসবে, এটা আশা করিনি।

ওপ্রান্ত আবার সরব।

- জয়ী শুনতে পাচ্ছো আমার কথা?

-পাচ্ছি। অস্ফুটে বললাম।

- বললে না তো, কেমন আছো? 

-আছি, ভালই। তুমি?

- যেমন তুমি রেখে গেছিলে, তেমনই।

দু প্রান্তেই কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস ছাড়া আর কোনো শব্দ ছিল না। নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে সুমনই বলে উঠলো 

-একবার দেখা করতে পারবে জয়ী? 

তোলপাড় হচ্ছিলো মনের মধ্যে।

বিহ্বলতা কাটিয়ে বলে ফেললাম

- কবে?

-কাল। এই ধরো পাঁচটা নাগাদ। তোমার অসুবিধা হবে?

মনে মনে দ্রুত হিসাব কষে নিলাম। আগামিকাল বুধবার। বিকালে ইমনের কম্পিউটার ক্লাস থাকে। ফিরতে ফিরতে রাত আটটা হয়। রজতই অফিস ফেরত ইমনকে নিয়ে আসে।

-আমি আসব। শব্দ দুটো যেন কেউ বলে দিল আমার হয়ে। হয়তো সেই আমিটা যাকে এত বছর ধরে বন্দী করে রেখেছিলাম মনের এক কোণে।


ইমনের মুখে শুনেছিলাম ওদের প্রিন্সিপাল খুব কড়া ধাঁচের মানুষ। সেদিন রজত আর ইমনের সাথে একটু ভয়ে ভয়েই তার ঘরে ঢুকেছিলাম। কিন্তু ঘরে ঢুকেই এক মুহুর্তে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গেল। নিমেষে পৌঁছে গেছিলাম বিশ বছর আগের বৃষ্টি ভেজা এক সন্ধ্যায়। আজকের ইমনের প্রিন্সিপাল ডক্টর.এস.মুখার্জী, আমার ফেলে আসা অতীত, সুমন মুখার্জী। কলেজের প্রথম দিন থেকে আমাদের পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব। কখন যে সেই বন্ধুত্ব ভালোবাসার রূপ নিয়েছিল নিজেরাই বুঝিনি। গ্র্যাজুয়েশনের পর আমি বাড়িতে বসে। সুমন মাস্টার্স করছে। বাড়িতে সাহায্য করার জন্য প্রচুর টিউশনি করে। এদিকে আমার বাড়ি থেকে তখন বিয়ের জন্য চাপাচাপি চলছে। বাবা যেভাবেই হোক অবসরের আগে আমার বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছিল। সুমন তখন মাঝ গঙ্গায়। নিজেই হাবুডুবু খাচ্ছে। আমায় এই বিপদ থেকে উদ্ধার করার অবস্থায় ও ছিল না। তবু বলেছিল অন্তত একটা বছর অপেক্ষা করতে। পারিনি। সুমনের হাতে বিয়ের কার্ড ধরিয়ে কোনমতে পালিয়ে বেঁচেছিলাম। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন। ভাগ্যিস... 

সুমন আর আমি কেউই কারুর চোখের জল দেখতে পাইনি।


বিয়ের পর প্রথম প্রথম খুব মনে পড়ত সুমনকে। বিশেষত যেদিন রজত বা অন্য কেউ দুর্ব্যবহার করতো। মনে হতো এক ছুটে চলে যাই সুমনের কাছে। সুমন তো বলেইছিলো আমার জন্য ওর দরজা সব সময় খোলা। না, এবাড়ির চৌকাঠ পেরোবার সাহস আমার কোনোদিনই হয়নি।

মানিয়ে নিতে আর মেনে নিতে নিতে

সুমনের মুখখানা কবে যে আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেছিল নিজেই বুঝতে পারিনি।

তবে আজ কেন ওর ডাকে সাড়া দিতে ইচ্ছে করছে... আজও কি তবে ওর প্রতি সেই দুর্নিবার আকর্ষণ রয়ে গেছে, নাকি এ শুধুই অসহায় এক গৃহবধূর খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা। কিন্তু সে তো স্বার্থপরতা।

ধুর, কি সব ভাবছি। আমি না রজত সেনগুপ্তর স্ত্রী, ইমনের মা। এছাড়া আমার কিই বা পরিচয়। ওরাই তো আমার জগৎ।

আমার বর্তমান, আমার ভবিষ্যত।

সুমন আমার অতীতের এক ছেঁড়া পাতা। 

একা একাই হাসছিলাম নিজের মনে।

সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আলো আঁধারিতে ভরা ঘরটায় নিজের হাসি নিজের কানেই উন্মাদিনীর খলখল শোনাল।

===========================

অনেকদিন পর আজ একটু বেশি সময় ধরে আয়নায় নিজেকে দেখলাম। আটত্রিশেই যেন আটান্নর ক্লান্তি চোখে মুখে। তবু মায়ের থেকে পাওয়া মসৃণ ত্বক, কুচকুচে কালো একঢাল চুলে এখনও আমাকে বুড়ি বলতে পারবে না। ধূসর রঙা নরম জমির একটা তাঁত বাছলাম। কে জানে কেন উজ্জ্বল রঙগুলো আমায় আজকাল আর টানে না।


শাশুড়িকে বললাম সুপার মার্কেটে যাচ্ছি। ভরদুপুরে বেরোতে দেখে উনি হয়তো একটু অবাকই হলেন তবে মুখে বললেন না কিছু।


কফিশপ টার সামনে পৌঁছে দেখলাম সুমন তখনো আসেনি। একা একা ভিতরে ঢুকতেও ইচ্ছে করছে না। বাইরে একটু ফাঁকা জায়গা দেখে দাঁড়ালাম।

দুপুরের চড়া রোদে বেরনোর অভ্যাস নেই। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। একবার ভাবলাম ফিরে যাই। এই ধরনের ছেলেমানুষি আবেগ অর্থহীন। 


সানগ্লাসটা পরে নিলাম। কেমন যেন অপরাধবোধ হচ্ছে। এত বছর পর পুরোনো ভালোবাসার মানুষটার সাথে দেখা করতে এসে কি অন্যায় করলাম! কিন্তু অন্যায় কেন হবে, আমি তো শুধু সুমনের কথা রাখতে এসেছি। এক সময় সুমনের সঙ্গে যে সম্পর্কটা ছিল তাকে তো নতুন করে জীবন দিতে আসিনি। এমনকি কোথাও লেখা আছে যে বিয়ে হয়ে গেলেই পুরোনো সব সম্পর্ক সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। আর এই বয়েসে এসে সুমনও থোড়াই না পুরনো প্রেম ঝালিয়ে নিতে আসবে। হয়তো শুধু শুধুই এই দেখা করা। তবু কেন বুক দূরদূর করছে, অকারণেই হাতের তালু ঘামছে। কি বলার জন্য ডেকেছে সুমন। আজও কি সুমন আমায় ভুলতে পারেনি?


-সরি, লেট হয়ে গেল। একটা মিটিং পড়ে গেছিল। তারপর ট্র্যাফিকে আটকে গেলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছ না?

সাময়িক উত্তেজনায় আর কিছুটা সংকোচের বশে খেয়ালই করিনি, কখন যে সুমন এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম

-না না, এমন কিছু দেরী হয়নি। আমিও এই মাত্র এসেছি।

-চলো ভিতরে গিয়ে বসি। অসম্ভব গরম আজ।

গরম থেকে বাঁচতে আজ অনেক কপোত- কপোতীই এসে ভীড় করেছে ঝাঁ চকচকে এই কফিশপে। তারই মধ্যে নিরিবিলি দেখে একটা টেবিল খুঁজে নিল সুমন। 

- যা গরম, কোল্ড কফিই খাওয়া যাক, কি বলো? সুমন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমার দিকে।

কোনমতে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালাম।

সুমন উঠে গেছে কফি নিয়ে আসতে।

ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছিলো। তবু আড়ষ্ট হয়ে বসে ছিলাম। সুমন কাউন্টারে দাঁড়িয়ে কফির অর্ডার দিচ্ছে। দূর থেকে দেখছিলাম। এক সময়ের পরিচিত মানুষটা আজ বড়ো অচেনা অচেনা ঠেকে।

ভাবনার মাঝেই কফি এসে গেছে।

কফিতে চুমুক দিতে দিতে সুমনের চোখে চোখ পড়ে গেল। সুমন তাকিয়ে আছে আমারই দিকে। বিশ্বাস অবিশ্বাস মেশানো কেমন যেন অস্বাভাবিক দৃষ্টিটা। খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো আমার। 

সুমন যেন পড়ে ফেললো আমার মনটা। দমবন্ধ করা পরিবেশটা হালকা করার জন্যই হয়তো বলে উঠলো 

-বেশ মুটিয়েছ কিন্তু। কলেজে তো একদম পাটকাঠি ছিলে। জোরে হাওয়া দিলে ভাবতাম এই বুঝি তুমি উড়ে গেলে।

হেসে ফেলে বললাম

-বদল তো তোমারও হয়েছে। 

-হ্যাঁ, পনেরো বছর সময়টা কি কম!

সময়ের হিসাবটা এক মুহুর্তে ঠাণ্ডা ঘরের বাতাসটাকেও ভারী করে দিল। পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটাও তো বড় কম নয়।


-যাই হোক তোমার তো এখন স্বামী কন্যা নিয়ে ভরা সংসার। 

-হ্যাঁ, ওই আর কি। তোমার কথা বলো। বিয়ে করেছো নিশ্চয়ই?

-হঠাৎ এই প্রশ্ন?

-এমনিই জানতে চাইলাম। পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে মানুষ তো তার কুশল সংবাদ জানতে চাইতেই পারে।

-পুরনো বন্ধু! কথাটা বলে সুমন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মনে হচ্ছে কেউ যেন লেসার বিম দিয়ে আমার হৃদপিণ্ড অবধি পুড়িয়ে দিচ্ছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল আমার। সুমনই আমায় বাঁচালো যেন।

-আমার কথা নাহয় পরে একদিন বলা যাবে। আজ তোমার কথাই হোক না জয়ী।

-বেশ, বলো কি জানতে চাও।

-কেমন আছো তুমি?

-কেন, এইমাত্র তো বললে, বেশ নাকি মুটিয়েছি। তা মানুষ তো সুখেই মোটা হয় শুনেছি।

-সত্যিই সুখী হয়েছ তুমি? সুমন গলা নামিয়েছে।

-তোমার এত সন্দেহ কেন বলতো?

-সেদিন তোমার হাজব্যান্ডের সাথে কথা বলে যা বুঝলাম, তোমার মেয়ের জীবনের সমস্ত ডিসিশনই উনি নেন। তোমার কোন মতামতই নেই।

-সেটা কি খারাপ?

- খারাপ তো বলিনি। তবে তোমার মতামতকেও যে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ সেটা ওনার কথা থেকে আমার মনে হয়নি। 

সুমনের কথায় কেন জানি না খুব রাগ হয়ে গেল। ও কি আমায় টিজ করার জন্যই ডেকেছে?

- তুমি হয়তো কিছু ভুল বুঝছ। আমার স্বামী আমার যথেষ্ট খেয়াল রাখেন।

-তুমি রাগ করছো জয়ী। আমি কিন্তু সেভাবে কিছু বলিনি। আসলে আমি খুব অবাক হয়ে গেছিলাম যখন উনি বললেন তুমি হাউস ওয়াইফ। 

-কেন, এতে অবাক হবার মত কি আছে?

-আমার বিশ্বাস ছিল কোনো না কোনোদিন নিশ্চয়ই তোমার সাথে দেখা হবে। আর তখন তোমাকে তোমার প্রিয় সঙ্গীর সাথেই দেখব। রঙ তুলি যে তোমার প্রাণ ছিল তা আমার থেকে ভালো কে জানবে জয়ী।

তুমি কি সেদিন দেখনি আজও তোমার আঁকা ছবিটা আমি সযত্নে রেখে দিয়েছি?


চুপ করে গেলাম। আর কিই বা বলার আছে আমার। ছবিটা সেদিন দেখার পর থেকেই তো তোলপাড় হচ্ছে বুকের ভিতরটা। কিন্তু এ সত্য সুমনকে কি করে বলি! সুখী সুখী গৃহবধূর অভিনয়ে তো আজ দক্ষ আমি।

স্বামী মেয়ে শাশুড়ি নিয়ে ভরা সংসার আমার। লোকে আমার সুখ দেখে হিংসে করে। আজ কেমন করে করুণা দেখব তাদের চোখে! কেমন করে সুমনকে বলব আমার জীবনে আর কোন রঙ অবশিষ্ট নেই।

অবজ্ঞা,অবহেলা আর অনাদর এই তিন 

"অ"-ই আমার জীবনের একমাত্র সত্য।

-আমায় ভুল বুঝোনা জয়ী। জানি না কেন আমার মনে হচ্ছে, তোমার নিজের প্রতি আর কোন ভালোবাসা, কোনো বিশ্বাস নেই।

প্লিজ জয়ী এভাবে নিজেকে শেষ করে দিও না। তোমার হাত আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম যাতে তুমি ভালো থাক। আমায় এভাবে হারিয়ে দেবে তুমি?


ঘড়ির দিকে দেখলাম। সাড়ে ছ'টা বাজে প্রায়। 

-আজ উঠি সুমন। পরে কোনোদিন নাহয় এসব নিয়ে কথা বলব।

- আর পরে নয় জয়ী। আমায় কথা দাও তুমি হারিয়ে যাবে না। সুমন আমার হাতের ওপর হাত রাখল। উষ্ণ স্পর্শটা আমার ভিতরে চারিয়ে যাচ্ছিল। সুমনের হাত থেকে নিজের হাতটা মুক্ত করে উঠে দাঁড়ালাম।

- অনেক দেরী হয়ে গেছে। এবার উঠি কেমন।

অদ্ভুত এক আকুতি সুমনের চোখে মুখে। কষ্ট হচ্ছিল খুব। আমাকে নিয়ে আজও সুমন এত ভাবে!! চোখের কোণটা জ্বালা জ্বালা করে উঠলো। দাঁতে ঠোট কামড়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম

-তোমার কথাগুলো মনে রাখবো। 

এক চিলতে হাসি দেখা দিল সুমনের মুখে।

-তুমি পারবে দেখো।


========================


আজ আমার ছবির প্রদর্শনী শহরের এক বিখ্যাত আর্ট গ্যালারিতে। নাম করা দু তিনজন ক্রিটিক আসবেন। ভয় করছে খুব। আবার আনন্দও হচ্ছে। আমি আবার তুলি ধরেছি। ক্যানভাসও সাড়া দিয়েছে আমার ডাকে। এত বছরের অনভ্যাসের পরেও রঙেরা শূণ্য ক্যানভাসকে নানা রূপ দিয়েছে।

ক্যানভাসে রঙ ভরাতে গিয়ে বুঝেছি আমার জীবনের কোন রঙ হারায়নি। ঘুমিয়ে ছিল কিছুদিনের জন্য। আমার প্রতিটা সৃষ্টির সাথে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।

গত ছ'মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম আজ হয়তো সফল হবে বা হয়তো হবে না। তবু আজ নিজেকে বড় পরিপূর্ণ লাগছে। আমার ছবি আঁকার জন্য বাড়িতে কারুর প্রতি কোন অবহেলা করিনি। সবার জন্য সব দায়িত্ব করে গেছি হেসে, ভালোবেসে। তফাৎ শুধু একটাই, এখন সবার সাথে নিজেকেও একটু একটু ভালোবাসি। 

শুরুর দিকে রজত বা ইমন কেউই তেমন গুরুত্ব দেয়নি। তবে বাধাও দেয়নি। ভেবেছিল এ আমার এক নতুন খেয়াল।

প্রথম ছবিটা যেদিন শেষ করলাম ওদের চোখে মুখে মুগ্ধতা দেখেছিলাম।

আজ নিজের জীবন দিয়ে বুঝলাম নিজেকে ভালো না বাসলে কাছের মানুষদেরও ভালো রাখা যায় না।


রজত আজ অফিসে হাফ ডে নিয়ে চলে এসেছে। আমরা একসাথেই সবাই যাব।

রজত আর ইমন তৈরী হচ্ছে। শাশুড়ি মা যেতে পারছেন না তবে আজ সকাল সকাল পুজো সেরে আমার মাথায় ফুল ছুঁইয়ে দিয়ে গেছেন। ওনার এই আশীর্বাদটুকু আমার উপরি পাওনা। বেরোবার আগে মা বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। মনে মনে বলছিলাম আজকের দিনটা তোমরা দেখে যেতে পারলে না।


পিঠে একটা নরম স্পর্শে চমকে ফিরলাম।

-তোমার আজ দাদা দিম্মার কথা খুব মনে পড়ছে না মা? ইমনের এমন কোমল স্বর আগে শুনিনি। 

-চল, আর দেরী করলে সময়ে পৌঁছতে পারব না। ইমনের গালটা আলগা ছুঁলাম।

-আমি একটা রিকোয়েস্ট করব মা? আজ তুমি দিম্মার শাড়িটা পরবে?

- কেন রে? ওটা তো তোর একদম পছন্দ না।

-আই অ্যাম সরি মা। আমি সেদিন বুঝতে পারিনি, ওই শাড়িটায় দিম্মার ব্লেসিংস আছে। তোমায় ওই শাড়িটায় একদম দিম্মার মত সুন্দর লাগবে দেখো।

অনেক দিন পর ইমন আমায় জড়িয়ে ধরলো, ওর চোখ ভিজে উঠেছে। আমারও চোখের জল আর বাধা মানল না।

ধুয়ে যাচ্ছে, আজ আমার সব কষ্ট চোখের জলের সাথে ধুয়ে যাচ্ছে।

বহু বছর পর আজ গাড়িতে রজতের পাশে বসেছি। পিছনের সিটে ইমন। রজত আর ইমন দুজনেই খুব উত্তেজিত আজকের প্রদর্শনী নিয়ে। এই টুকরো টুকরো খুশী গুলোই আমার পরম প্রাপ্তি। 

সুমনকে বলেছিলাম প্রদর্শনীতে আসতে। সুমন কোন উত্তর দেয়নি। মৃদু হেসেছিল। আমি জানি সুমন আসবে না। সুমন জানে নিঃশব্দে ভালবাসতে। সুমন জানে নীরবে দূরে সরে যেতে। সুমন জানে জয়িতাকে আবার জিতিয়ে দিতে।


Rate this content
Log in

More bengali story from Saswati Roy

Similar bengali story from Abstract