Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

Riya Roy

Drama Romance Inspirational


3  

Riya Roy

Drama Romance Inspirational


জীবনের ওঠা পড়া

জীবনের ওঠা পড়া

17 mins 284 17 mins 284

উপেনবাবু সাদামাটা জীবন এ অভ্যস্ত । সরকারি চাকরি করেন আর স্ত্রী সন্তান দের নিয়ে ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন। উপেনবাবু বড় মেয়ে বিশাখা এবছর কলেজে উঠেছে। তবে বিশাখা নাচে খুবই ভালো। বিশাখার নাচের শিক্ষিকা বিশাখা কে নিয়ে খুবই গর্বিত। উপেন বাবুর মেজমেয়ে পুস্পিতা, ছোট মেয়ে শীলা আর এক ছেলে দীপক। উপেন বাবু একা সংসার টেনে আসছেন। সংসারে যত সমস্যাই হোক ছেলেমেয়েদের কোনো অভাব তিনি হতে দেন না। এভাবেই চলছিল হঠাৎ উপেন বাবুর শরীর অসুস্থ হলো। হার্টের সমস্যা , সংসারে খরচ বাড়লো। তাছাড়া উপেন বাবুর মনে হতে লাগলো তিনি আর বেশি দিন বাঁচবেন না। উপেন বাবু স্ত্রীকে বললেন " দেখো গৌরী আমি যদি আর না থাকি তুমি একা কিভাবে সব সামলাবে আমি সত্যি জানিনা। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা, বিশাখার নাচ শেখা সব কিছু তো তখন ...।"

গৌরী বলে উঠলেন " এসব তুমি কি বলছো? কেন মিথ্যে ভয় পাচ্ছো? আবার তুমি আগের মতো সুস্থ হবে।"

উপেন বাবু -" না না কোনদিন আমি আর সুস্থ হবো না গৌরী । কোনো কিছু আর আগের মতো হবে না।এত খরচ অসুখের জন্য । তাই আমি ভেবেছি আমার কিছু হওয়ার আগেই বিশাখার বিয়েটা দিয়ে যেতে চাই।"

গৌরী বললো, "কিন্তু বিশাখা পড়াশোনা, তাছাড়া ওর নাচ ওকি এখন বিয়ে করতে..."

উপেন বাবু-- " ওকে রাজি করাতে হবে , যেভাবে ই হোক এতে ই ওর ভালো হবে। আর আমি শান্তি তে যেতে পারবো, "

কিছু মাস পর...

বিশাখার সাথে সাহা বাড়ির বড় ছেলে শুভঙ্কর এর বিয়ে হলো। শুভঙ্কর তার বাবা মা সাথে থাকে। শুভঙ্কর রা বড় ব্যবসায়ী পরিবার। শুভঙ্কর এর এক বোন দেবিকা , বাড়ির অমতে একটি ছেলেকে বিয়ে করে। ছেলেটির পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো নয় । দেবিকার অভাবের সংসার। এদিকে দেবিকার দাদা শুভঙ্কর এবং শুভঙ্করের বাবা এই বিয়েটা মেনে নেয় নি তাই দেবিকাকে তারা সহ্য করতে পারে না। এমনকি এ বাড়িতে আসতে পর্যন্ত দিতে চায় না। শুভঙ্কর এর মা খুব ই চিন্তিত। এদিকে তিনি বিশেষ কিছু করেও উঠতে পারেননি মেয়ের জন্য।

ওদিকে বিশাখা বউ হয়ে এলো বাড়িতে। বিশাখা ব্যবহার আচরন সবাইকে মুগ্ধ করলো। বিশাখা দেবিকার কথা জানতে পেরে বাড়িতে সবাইকে বোঝালো। বিশাখা শুভঙ্কর কে বললো," দেখো ও তো তোমারই বোন এভাবে দিনের পর দিন কষ্ট এ থাকবে তা ঠিক নয় আর তুমি যদি ওদের সাহায্য করো তাহলে দেবিকার স্বামী ওদের পরিবারটা স্বচ্ছল হবে। তাছাড়া দেবিকা তো এ বাড়ির মেয়ে এভাবে কষ্ট এ আছে। এতে কি তোমাদের সম্মান বাড়ছে, বলো..?"

বিশাখার কথায় শেষে শুভঙ্কর রাজি হলো।

দেবিকা এখন বাড়িতে আবার আসতে পারে‌।

বিশাখা র সাথে তার খুব ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে। বিশাখার এই আগলে রাখা সব সামলো ঠিকমতো এসব দেখে শুভঙ্কর এর মা বলেন, " আমার কোনো চিন্তাই রইলো না এবাড়ির সব দায়িত্ব তুমি নিলে বউমা।"

দুবছর পর. ...

বিশাখার পুত্র সন্তান জন্মালো। তারপর পরই

হঠাৎ একদিন খবর এলো বিশাখার বাবা মারা গেছে। বিশাখা খুব ভেঙে পড়লো। মৃত্যু র সময় উপেন বাবু বলে গেলেন, " খুব শান্তি পেয়েছি, বিশাখা সুখে আছে।"

 এরপর বিশাখা তার সংসার , ছেলে কে নিয়ে ব্যস্ত হলো।

কিছু বছর পর..

বিশাখা র একটি কন্যা সন্তান হলো ।

আজ তার অন্নপ্রাশন । বাড়িতে খুশির পরিবেশ। বিশাখার মা অসুস্থ ছিলেন। তাই বিশাখার বাড়িতে আসতে পারেনি কিন্তু পুস্পিতা আর দীপক এসেছিল বিশাখার বাড়িতে। বিশাখা-- "শীলাটার আসা হলো, মা কে সাবধানে রাখিস আর আমায় সব কিছু জানাস।"

পুস্পিতা--" দিদি তুমি কোনো চিন্তা করো না, তুমি এখন ছোটো দুটো কে সামলাও।" হাসি মজায় দিনটা পেরিয়ে গেলো।

কেটে গেল কয়েকটা মাস....

কিছু দিনের মধ্যেই খবর এলো বিশাখার মা মারা গেছে। বিশাখা এবার আরোও বেশি চিন্তিত হলো তার ভাইবোন দের দেখার তো কেউ রইলো না। কি করবে কিছুই বুঝতে পারলো না। বিশাখা ইদানিং প্রায়ই তার বাপের বাড়ি যায় এমনকি টাকা পয়সার সাহায্য ও করে। এভাবে চলছিল কিন্তু শুভঙ্কর হঠাৎ বলতে শুরু করলো, "এভাবে বিশাখা তুমি রোজ রোজ ওদের কাছে যাও বাড়িতে তো মায়ের বয়স হচ্ছে তোমার সে খেয়াল আছে। ভাইবোন দের নিয়ে মেতে আছো।"

বিশাখা শুভঙ্কর এর কথায় বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো, "কি সব কথা বলছো.. আমার বাবা ,মা নেই ওরা ছোট আমি না গেলে ওদের কি হবে। কে দেখবে ওদের। ওরা কেউ নিজের পায়ে দাঁড়ায়নি, দীপক, শীলার পড়াশোনা শেষ হয়নি, পুস্পিতা একা কিভাবে সব সামলাবে। তুমি এভাবে কেন বলছো?"

শুভঙ্কর আবার বলে উঠলো, " আমাদের সংসারে র দিকে তুমি আর কিছু খেয়াল রাখছো না। ছেলে মেয়ে রা বড়ো হচ্ছে। বাবা মায়ের বয়স হচ্ছে। ওদিকে দেবিকাদের পিছনে কত টাকা তুমি দিয়েছে আবার এখন তোমার ভাইবোনের পিছনে টাকা ঢালছো। আয় তো করো না তাই লোকসান টা গায়ে লাগে না। জানো রোজগার করতে কত কষ্ট করতে হয়।"

বিশাখা অবাক হয়ে শুভঙ্করের দিকে তাকিয়ে বললো, "এই কথাটা তুমি বলতে পারলে আমাকে? আমি এখানে সুখে থাকবো আর ওরা টাকার অভাবে তা কিছু তেই হতে পারে না। আর তোমার কথাগুলো ভীষণ স্বার্থপর এর মতো লাগলো। আমার ভীষণ অচেনা লাগছে তোমাকে।"

এই নিয়ে শুরু হয়ে গেলো শুভঙ্কর আর বিশাখার দ্বন্দ্ব ।রোজ ঝগড়া অশান্তি।

একদিন বিশাখা তার ছেলেকে টিউটোরিয়ালে দিয়ে ফিরে এসে ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসে পড়লো। ওদিকে টিভি চালিয়ে বিশাখার শাশুড়ি গানের একটা অনুষ্ঠান শুনছিলেন। সেই গানের তালে বিশাখার মেয়ে পিউ নাচ করছে আপন মনে। তার নাচ দেখে বিশাখার হঠাৎ ই মনে হয় সেও এক সময় ভালো নাচতো আর নাচটা যদি আবার শুরু করে তাহলে সে কিছু টাকা রোজগার করতে পারবে। সেই টাকা সে তার ভাইবোন কে দিতে পারবে আর তখন শুভঙ্কর তাকে টাকার জন্য কোনো খোঁটা দিতে পারবেনা।

বেশ কিছু দিন পর ...

বিশাখা তার নাচের শিক্ষিকা র সাথে যোগাযোগ করে সব কথা বলে। নাচের শিক্ষিকা বলে উঠে," কিন্তু তুমি যদি আমাদের সাথে নাচের অনুষ্ঠান করো তাতে তোমার বাড়ির লোক কোনো আপত্তি করবে না তো.. তারা যদি বাধা দেয়।"

বিশাখা-- "দেখুন ম্যাম আপনি তো জানেন বাবার অসুস্থতার জন্য কলেজে পড়তে পড়তে বিয়ে হয়ে গেছিলো ।তাই পড়াশোনা টা শেষ করে উঠতে পারিনি। এই নাচটাই ভালোভাবে আপনার কাছে শিখেছিলাম তাই এটা দিয়েই আমি। এছাড়া আর কোনো উপায় আমার মাথায় আসছে না। ভাইবোনের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। আর শুভঙ্করের আচরণ তো সবই আপনাকে বললাম।"

নাচের শিক্ষিকা -- "হ্যাঁ তোমার হাজব্যান্ড এর ব্যবহার টা ভীষণ বাজে।  তোমার ছেলে মেয়ে ও ছোটো, আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তোমার পাশে আছি।"

বিশাখা খুশি হয়ে ফিরে এলো।

বিশাখা র নাচের কথা কেউ মেনে নিলো না। বিশাখা রোজ প্রায় নাচের ক্লাস থেকে ফিরতে দেরি হয়। কিছু দিন পরে যখন নাচের অনুষ্ঠান করে বাড়ি ফিরে এলো তখনই শুরু হলো অশান্তি।

শুভঙ্কর বলে উঠে, -- "তুমি সংসার, ছেলে, মেয়ে ফেলে এখন নাচ করবে । এভাবে চলতে পারে না।" শুভঙ্কর এর মা , "এই বয়সে এসব দেখতে হবে কখনও ভাবিনি । তুমি কেন সংসারে অশান্তি ডেকে আনছো বউমা।"

বিশাখা বলে উঠে, "আমি অশান্তি করছি.. আমি সব দিক সামলেই এই অনুষ্ঠানে নাচতে গেছিলাম। আর এই নাচটা বেছে নেওয়ার পেছনের কারন টাও তোমরা সবাই জানো। নাচটা ভাইবোনের সাহায্য করার জন্যই করেছি। "

প্রতিদিন নতুন ভাবে অশান্তি । শেষপর্যন্ত বিশাখা ছেলে মেয়ে কে নিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে এলো।

শুভঙ্কর তার ছেলে মেয়ে কে ফেরত চাইলো কিন্তু বিশাখা রাজি হলো না। বিষয়টা কোর্ট অবধি গেলো।

বিশাখা তার ছেলে মেয়ে কে কোর্ট থেকে পেলো। বিশাখা নাচ করে রোজগার করা শুরু করলো।

আর সেই টাকাতে এখন সংসার চলে । ভাইবোন এবং নিজের ছেলে মেয়ে সবাইকে নিয়ে মোটামুটি ভালো ভাবে চলছিলো। বিশাখার সাথে তার ননদ দেবিকার যোগাযোগ আছে। দেবিকা প্রায়ই আসে বিশাখার বাড়িতে।

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর।বিশাখা নৃত্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

বিশাখার ছেলে মেয়ে বড়ো হচ্ছে। বিশাখা পুস্পিতা র বিয়ে দিয়েছে। আর বিশাখার ভাই এখন চাকরি করছে। বিশাখার ভাই এর বিয়ে হলো । শীলা বিশাখার ছোট বোন বাড়িতে থাকে , সে বিয়ে করবে না জানায়। চলছিল সব ঠিকঠাক। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই দীপকের স্ত্রী সবব্যপারেই সমস্যা তৈরি করতে লাগলো। ইদানিং রোজই অশান্তি হয় ।শীলা সামলায়। বিশাখাকে জানালে । বিশাখা সব মিটিয়ে দেওয়া র চেষ্টা করে। কিন্তু দীপক তার স্ত্রীর হয়েই কথা বলে সবসময়। দিদি র প্রতি সৌজন্য বোধ টুকুও দেখায় না। শীলা কিছু বলতে গেলে। দীপক তার সাথেও খারাপ ব্যবহার করে।

একদিন বিশাখার মেয়ে পিউ রান্না ঘরে খাবার বানাতে গেলো । ভাইএর স্ত্রী এটা নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করলো।

শীলা এসে বললো, "আচ্ছা ওর যদি আজকে কিছু খেতে ইচ্ছে করে তাহলে তুমি বাধা দিচ্ছো কেন?"

দীপক এর স্ত্রী বলে উঠলো,

"সংসারে কত খরচ এই তো আগের দিনই লুচি হলো রোজ রোজ এত কি আছে.. তাছাড়া ও রান্না ঘরে ঢুকলেই ভীষণ নোংরা করে পরিষ্কার তো সেই আমাকে ই করতে হবে।"

শীলা বললো, "আমি তো ভাবতেই পারছিনা তোমার এই বিশ্রী আচরন। ওর মা এই সংসারে জন্য যা করে চলেছে সেটাতো তোমার অজানা নয়। দিদি ছাড়া এই সংসার অচল ।"

দীপকের স্ত্রী  বললো, "আমার আচরন নিয়ে কথা বলছো তুমি।"

এভাবেই কথার পিঠে কথা এলো আর তুমুল অশান্তি শুরু হলো।

এরকম নিত্য চলতে থাকে। বিশাখা র সাথেও দীপকের স্ত্রী র মাঝেমধ্যে শুরু হয় তুচ্ছ কারনে ।

কয়েকটা দিন পর..

এই অশান্তি তে বিরক্ত হয়ে বিশাখা তার ছেলে মেয়ে কে নিয়ে বাপের বাড়ি ছেড়ে অন্য একটা ভাড়া বাড়ি গিয়ে উঠলো।

শীলা বাঁধা দেয় যেতে বারন করলে বিশাখা বলে, "দীপকের বউ পরের বাড়ি থেকে এসছে কিন্তু ভাই সেও তো আজকাল আমায় অপমান করে আমি আর আর থাকবো না, তাছাড়া আমাকে আর দরকার নাই তোরা সবাই বড় হয়েছিস, দীপক চাকরি করে।"

একথা শীলা পুস্পিতা কে জানায় সে এসে দীপককে বলে , "ছি ছি যে দিদি তোকে মানুষ করলো তার সব কিছু ফেলে। সেই সব দিনগুলো ভুলে গেছিস দীপক।"

দীপক পরে তার ভুল বুঝতে পারলেও বিশাখা আর ফিরলো না।

বিশাখা এবার একা । একদম একা । বিশাখার নিজের জীবন কে নিজে তৈরী করছে।

ছেলেমেয়ে দের একাই বড়ো করছে। কিন্তু দিনের শেষে ক্লান্ত হলে কেউ যত্ন করার নেই। বিশাখা মনে মনে ভাবে বাবা ভেবেছিল আমি কত সুখে আছি আজ যদি বাবা থাকতো তাহলে এমনটা হয়তো হতইনা। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।

দেখতে দেখতে মাস পেরোয় । বছর পেরোয়।

বিশাখা তার নাচ নিয়ে এগোতে থাকে। দিনরাত পরিশ্রম করে। বিশাখার পরিচিতি বাড়ছে। বিশাখা নাচ শেখায় এখন। বিশাখার মেয়ে পিউ, ছেলে প্রতুলকে সাথে নিয়ে দিন এগিয়ে চলছে।

জীবনের স্রোত বয়ে যায় আর তার সাথে সময়।

আজ বিশাখা ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজেস্ব ফ্ল্যাট কিনলো।

কাটলো আরো কয়েকটা বছর।

পিউ এখন কলেজে পড়ে। প্রতুল চাকরি পেয়েছে। দেবিকা একদিন এলো আর বললো,

"বউদি প্রতুলের বিয়ের ব্যবস্থা করো অনেক কষ্ট করেছো এবার একটু শান্তি করো।

কিরে প্রতুল বিয়ে করবি তো?"

পিউ বলে উঠলো, "জানো পিসিমনি, জানো মা... দাদার এক বান্ধবী আছে ।"

দেবিকা বলে উঠলো, "সেকি কে?, কি রে.. প্রতুল ..পিউ কি ঠিক কথা বলছে।"

প্রতুল বলে উঠলো, "না মানে.. হ্যাঁ ও সোনালী, আমার সাথে বছর চারেক আগে থেকেই..।

বিশাখা--" শোনো না দেবিকা আমরা বরং একদিন ওদের বাড়িতে কথা বলে আসি, প্রতুল যখন ওই মেয়েটিকেই পছন্দ করে।"

কিছু দিনের মধ্যেই সোনালীর সাথে বিয়ের কথা এগোলো।

দেবিকা বললো, "দেখো বউদি প্রতুলের বিয়েটা দাদাকে জানাও এটা আমার অনুরোধ। জানি দাদা তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছে। কিন্তু আজ দাদা একা ওই বাড়িতে , মা , বাবা সবাই চলে গেলো একে একে ।দাদা একা একা এখন খুব আফসোস করে । তোমার কথা বলে। তুমি কি পুরোনো সবটা ভুলে নতুন করে আবার দাদাকে একটা সুযোগ দিতে পারো না।"

বিশাখা বললো,

"প্রতুলের যদি ইচ্ছে থাকে তার বাবা এই বিয়ে থাকুক আমি আপত্তি করবো না। তোমার দাদার সাথে আর এতদিন বাদে নতুন করে কিছু শুরু করার নেই । সময়ের জিনিস সময়ে না পেলে তার কি মূল্য থাকে দেবিকা ?" দেবিকা বলে উঠলো, "বউদি তুমি জানি অভিমান করে আছো আজোও দাদার উপর । তবু ক্ষমা করা কি যায় না..?কিছু ই কি বাকি নেই ?"

শেষপর্যন্ত এই বিয়ের অনুষ্ঠানে শুভঙ্কর এলো।

বিশাখার সাথে শুভঙ্কর এর আবার দেখা হলো এত গুলো বছর পর । দুজনের মধ্যে যে পাঁচিল ছিলো তা খানিকটা ভাঙলো ।

শুভঙ্কর চাইলো তার বাড়িতে সবাইকে নিয়ে যেতে সব কিছু আগের মতো করতে। কিন্তু বিশাখা রাজি হলো না। বিশাখা বললো , "আমার ছাত্রীরা নাচ শিখতে এই বাড়িতে আসে এখন আমি তা পরিবর্তন করতে পারিনা। ছেলেমেয়ে রা যেতে চাইলে যেতে পারে।" শুভঙ্কর বারবার তার বিগত সময়ে র আচরণ এর জন্য ক্ষমা চাইলো। বললো, "বিশাখা জানি তুমি আজ বড়ো ডান্সার, একদিন তোমায় টাকার জন্য যে সব কথা বলেছিলাম জানি তার ক্ষমা নেই।" বিশাখা বললো, "কেন তুমি এসব পুরনো কথা বলছো? ছেলেমেয়ে রা তোমাকে ছাড়াই বড়ো হয়েছে, তোমাকে একটা সময় খুব খুঁজতো ওদের বুঝিয়ে রাখতে হতো। তুমি বরং ওদের নিয়ে যাও ওদের ও ভালো লাগবে।"

পিউ বললো , "সে তার বাবার কাছে থাকবে। পিউ গেলো তার বাবার সাথে।"

এদিকে সোনালী কে নিয়ে প্রতুল রয়ে গেল বিশাখার কাছে।

বেশ কয়েকটি দিন পর..

সকালে বিশাখার ছাত্রীরা নাচ শিখতে এসছে। সকাল থেকে আওয়াজ রোজই হয়। এদিকে সোনালী মেনে নিতে পারে না তার ঘুমের অসুবিধা হয়। বিরক্ত হয়ে যায়।

এই ভাবে আস্তে আস্তে তুচ্ছ করনে বিশাখার সাথে সোনালী তর্ক করতে শুরু করলো।

সোনালী বলে উঠলো, "ছেলে তো রোজগার করে তাহলে এই বয়েসে এই নাচটা না করলেই চলছে না আপনার। প্রতিদিন সকালে এই নাটক অসহ্য।"

বিশাখা বলে, "নাটক! কি বলতে চাইছো তুমি ?যে বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছো সেটা আমি নাচ করেই কিনেছিলাম। আর ছেলেকেও মানুষ করেছি এই নাচ করেই। তুমিতো জানতে যে আমি একজন নৃত্য শিল্পী সেটা জেনেই এই বিয়ে করেছো। আর এই নাচ আমার সঙ্গী ,তাই প্রতুল যতই রোজগার করুক, আমি আমার ছাত্রীদের আসতে বারন করতে পারবো না। ওরাও আমার সন্তানের মতো।"

সোনালী প্রতুলকে তার মা সম্পর্কে অন্যরকম কথা বোঝালো।

একদিন হঠাৎ প্রতুল বলে উঠলো," তুমি আমাদের থেকে তোমার ছাত্র ছাত্রী দের বেশি গুরুত্ব দাও, বেশি দাম দাও। তুমি কারোর সাথে অ্যডজাস্ট করতেই পারো না । না বাবা, না মামাদের সাথে আর আজ সোনালীর সাথে পারছো না। তোমার জন্য সোনালী সাথের আমার সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। তোমার উচিত ওর সাথে মানিয়ে চলা।"

বিশাখা প্রতুলের এই কথাগুলো সহ্য করতে পারলো না। ভীষণভাবে আঘাত পেলো। তারপর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়।

সবাই জানতে পারে বিশাখা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

 

পিউ বলে উঠলো, " দাদা তোর জন্য মা বাড়ি ছেড়ে গেছে।

সোনালী বললো, "কোথায় আর যাবে দেখো কোনো ছাত্রী র বাড়ি আছে। শোনো সবটাই তোমার মায়ের নাটক।"

পিউ বলে উঠলো, "ছি! বউদি ..

দেবিকা বলে উঠলো, "সত্যি সোনালী এমন ব্যবহার আশা করিনি আর প্রতুল তুই তো ঠিক দাদার মতো ভুলটা করলি একদিন ও বাড়ি থেকে বউদি গেছিলো আর আজ এই বাড়িটা ছেড়ে.. মনে রাখিস এই বাড়িটা বউদি নিজের রোজগারে কেনা। "

শুভঙ্কর বললো , "সত্যি বিশাখা কে গোটা জীবন শুধু কষ্টই পেতে হলো। একটা থানায় জানালে যদি ওর খোঁজ পাওয়া যায়।" দেবিকা -- " যা ভালো বোঝো করো আমার আর কিছু বলার নেই।"

অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিশাখাকে পাওয়া গেলো না।

আরো কিছু বছর পেরিয়ে গেছে।

একদিন সকালে শুভঙ্কর কে দেবিকা বললো, "দ্যাখো দাদা, বউদির কোনো খোঁজ নেই। কিছু বুঝতে পারছি না। নাচের গ্রুপ, ছাত্র ছাত্রী কেউই তো বউদির কোনো খোঁজ দিতে পারলো না। কোথায় যেতে পারে।

শুভঙ্কর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "জানি না তবে

প্রতুলের কথা গুলো খুব বাজে লেগেছিল সেদিন তাইতো এভাবে

ওকে আর কি পাওয়া যাবে।"

দেবিকা বললো, "আচ্ছা দাদা , পিউ বিয়ে র বন্দোবস্ত করতে হবে তো। বউদি থাকলে সেই সব করতো।"

শুভঙ্কর বললো, "কিন্তু মা নেই বলে সেই যে মনখারাপ হলো তারপর থেকে উদাস হয়ে থাকে। ওকি বিয়ে করতে রাজি হবে।"

দেবিকা বলে উঠলো, "সে ভার আমার দাদা ওকে আমি বোঝাবো। আমাদের বয়স বাড়ছে আর প্রতুলকে ভরষা করা যায় না ।পিউকে কার কাছে রাখবে। ওর জন্য পাত্র খোঁজা দরকার।" 

শুভঙ্কর বলে উঠে, "বেশতো ..পিউ র সাথে কথা বল দেখ কি বলে.."

দেবিকা পিউকে যখন বললো পিউ বললো,

"তোমারা যা ভালো বোঝ করো আমি জানি না কিছু । মা কে ছাড়া আমি ভাবিনি কখনো আর আজ এত গুলো বছর পেরিয়ে। আচ্ছা পিসি মা বেঁচে আছে তো নাকি..। বলেই পিউ কেঁদে ফেললো।"

দেবিকা বললো, "কি সব বলছিস? বউদি একদিন ঠিক ,"

কয়েকটা মাস পর....

সেদিন ছিল পিউর বিয়ে।

সকাল থেকে ব্যস্ততা। প্রতুল তার স্ত্রী ওদিকে পিউর মামার বাড়ির সবাই , মাসিরা বিয়েতে উপস্থিত হলো। বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু সন্ধ্যে হয়েছে। বর ঢুকলো।

কিছুক্ষন পরে এক ভদ্রলোক , পোশাক সাধারণ। বিয়েবাড়িতে ঢুকে পড়লো ।

গেটের দারোয়ান প্রশ্ন করলো ।

সে বললো "শুভঙ্কর বাবু বাড়ি তে আছেন?"

দোরোয়ান -- " আজ ওনার মেয়ের বিয়ে

উনি ব্যস্ত আজ দেখা হবে না "

ভদ্রলোক বলে উঠলো,

"কিন্তু আমি অনেক দূরে থেকে এসছি ভীষণ দরকার একটিবার ডেকে দাও ।"

দারোয়ান বললো, "আচ্ছা মুস্কিল হলো "

কথা কাটাকাটি র শব্দ শুনে বিয়ে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে বললো দেখো বিয়েবাড়ি দেখে ঢুকে পড়েছে ।"

ভদ্রলোক বললো, "না আমি জানতাম না আজ এখান বিয়ে ।"

শেষপর্যন্ত শুভঙ্কর এর কানে খবর গেলো উনি এলেন

বললো" আমিতো আপনাকে চিনতে পারছিনা আপনি কে?

আজ আমি ভীষন ব্যস্ত আমার মেয়ের বিয়ে

পরে একদিন আপনি যদি আসতেন।"

ভদ্রলোক বলে উঠলো, " আমি ভীষন জরুরী একটা কথা বলতে এসেছি। যদি একটু সময় দেন।"

দেবিকা-- " দাদা কে এসেছে শুনলাম.."

শুভঙ্কর -- হ্যাঁ দেখনা .. কে আমি কিছু ই বুঝতে পারছি না । বলছে কি খবর নিয়ে এসেছে।"

দেবিকা---" কিন্তু ওদিকে বিয়ের মন্ডপে যে তোমায় ডাকছে দাদা , সম্প্রদানের জন্য "

দেবিকা--"আচ্ছা আমি দেখছি তুমি ওদিকে যাও।

আপনি আমার সঙ্গে আসুন।"

ভদ্রলোককে দেবিকা একটা আলাদা ঘরে বসিয়ে দিয়ে বিয়ের দিকে গেলো। উনি বসে আছেন।

অনেক সময় পেরিয়ে যাচ্ছে সেই যে সবাই চলে গেলো আর কেউ এদিকে এলো না ওদিকে সবাই বিয়েতে ব্যস্ত ।

ভদ্রলোকটি শেষ পর্যন্ত থাকতে না পেরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলো সকলের সামনে--" শুভঙ্কর বাবু বিয়েতো শেষ এবার তো আপনি।"

প্রতুল বলে উঠলো, " উফ.. কি আশ্চর্য ! আপনি এভাবে চলে এলেন। কি সব উটকো ঝামেলা।"

ভদ্রলোক বলে উঠলো,

"আমার ভীষণ দরকার

বিশাখা ওদিকে..

পিউ কনের সাজে উঠে দাঁড়িয়ে--" আপনি কি বললেন বিশাখা.? মানে আপনি আমার মা কে চেনেন..? পিসিমনি, বাবা.. উনি কি বলছে..?

দেবিকা -- "বউদি কে আপনি কিভাবে..?

কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।"

শুভঙ্কর বলে উঠলো,

" বুলুন না বিশাখাকে আপনি কি ভাবে

বিশাখা কোথায় কেমন আছেন ..?"

বলুন না.."

ভদ্রলোক বলতে শুরু করল, " আমি অখিল।আজ থেকে কয়েক বছর আগে একটি মহিলা নদীর পাড়ে একা বসে ছিল। আত্মহত্যা করে নিতো হয়তো । কিন্তু আমি বাধা দিই। আমি তাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাই আমার অনাথ আশ্রম এর বাচ্চা দের দেখাশোনা করার দায়িত্ব তাকে দিই। বিশাখা প্রথমে সে কিছু ই বলেনি তার জীবন সম্পর্কে । পরে বিশাখাকে চিনলাম, জানলাম সে একজন নৃত্য শিল্পী। তারপর সে জানিয়েছিলো আপনাদের কথা। তার জীবনের ওঠা পড়া। কিভাবে সে নিজেকে একা দাঁড় করিয়েছে এই জীবন যুদ্ধে। আজ সে খুব অসুস্থ। কিন্তু সে চায় না তার পরিবারের কারোর সাথে যোগাযোগ করতে আমি তাকে না জানিয়ে এখানে এসছি। বিশাখার চিকিৎসা র জন্য অনেক খরচ আমি আর টানতে পারছিলাম না । তাই তার কথা কে না শুনে এখানে এসছি।

শুভঙ্কর বাবু আপনি বিশাখাকে বাঁচান।

প্রতুল বলে ওঠে-- "মা কোথায় আপনি জানেন তাহলে। আমি যাবো মা র কাছে ক্ষমা চাইবো। আমার জন্য ই আজ মার এই অবস্থা।"

দীপক --" দিদির এই অবস্থার জন্য আমি ও দায়ী।"

সবাই মিলে ওরা বিশাখা র কাছে অখিলের সঙ্গে।

সবুজ ঘেরা অনাথ আশ্রম। তার কাছে ই এই অখিলের এর বাড়ি। অখিল এসে বিশাখাকে জানায় সে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছে।

বিশাখা বলে উঠে," অখিল তুমি আমাকে না জানিয়ে এভাবে ঠিক করোনি। আমি কি এতই বোঝা, বেশতো আমি চলে যেতাম। "

অখিল -- "বিশাখা বোকার মত কথা বলো না। তোমার অসুখের চিকিৎসা র খরচ সত্যি আমি আর পেরে উঠছি না। তুমি তিলে তিলে বিনা চিকিৎসায় শেষ হয়ে যাবে তা আমি কিছু তেই দিতে পারি না। তাছাড়া তোমার পরিবার আছে । যারা আজোও তোমার অপেক্ষায়। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। ওদের ক্ষমা করে দাও । তুমি ফিরে যাও। তোমার স্বামী , ছেলে, মেয়ের কাছে।"

বিশাখা--" শোনো অখিল জীবনের পথে চলতে চলতে, আমি এটা বুঝেছি। যখন যার আমাকে প্রয়োজন হয়েছে ততদিন সে আমায় বুঝেছে তারপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে যখন তখন আমাকে আঘাত করছে। আমার মূল্য কিছু কি ছিলো? আমি শুধু প্রয়োজন ছিলাম। আমার স্বামী, ছেলে, আমার ভাইবোন সবার কাছে শুধু প্রয়োজন। "

বিশাখার বাড়ির সবাই ঢুকলো,

বিশাখার মেয়ে পিউ বলে উঠলো, " মা তুমি আমাকে ভুল বুঝলে কেন? আমি তো কিছুই করি নি তবে কেন..?

বিশাখা পিউকে জড়িয়ে ধরে বললো," তুমি বিয়ে করেছো আমি খুব খুশি , তুমি সুখী হোও।"

পিউ আবার বলে ওঠে, " মা তুমি ফিরে চলো, কি অসুখ হয়েছে তোমার, আমি তোমার দেখাশোনা করবো।"

বিশাখা-- "আমার কিচ্ছু হয়নি। তুমি এখন মনদিয়ে সংসার করবে। আমার কথা ভাবতে হবে না।"

দেবিকা--" বউদি কত খুঁজেছি তোমায় আর আজ দেখো পিউর বিয়ের দিনে তোমার খোঁজ এই অখিল বাবু দিলেন..।"

শুভঙ্কর--" বিশাখা বাড়ি ফিরে চলো আমি তোমায় সুস্থ করে তুলতে চাই।"

প্রতুল--" মা আমার ভুল এর কোনো ক্ষমা নেই জানি তবু তুমি ফিরে চলো।"

বিশাখা--"প্রতুল সন্তানের উপর মা কি রাগ করতে পারে। আমার কোনো রাগ নেই।"

অখিল-- " তোমার জীবনের এতগুলো সত্যি কে তুমি অস্বীকার করতে পারো না বিশাখা.. ফিরে যাও নতুন করে শুরু করো। তোমার এই হেমন্ত বেলায় হয়তো অনেক সুখ লেখা আছে, তুমি জীবনে যা যা করছো তার জন্য তোমার শান্তির খুব প্রয়োজন। তোমাকে আমি সুখী দেখতে চাই।"

বিশাখা বলে উঠে, "আমার শান্তি সেদিন ই হয়েছিল যখন এই অনাথ আশ্রম এর শিশুরা বিনা স্বার্থে আমায় আপন করেছিল। অখিল ..তুমি আমায় আশ্রয় দিয়েছিলে। আমি যদি মরি এদের মাঝে মরে যেতে চাই ।আমি যেতে চাই না পুরোনো জীবনে।"

শুভঙ্কর বলে, "বিশাখা, অখিল বাবুতো বললেন টাকার জন্য তোমার চিকিৎসা আটকে গেছে। নইলে তুমি ভালো হয়ে যাবে। "

দেবিকা--" বউদি এখনোও তো সময় আছে তুমি ফিরে চলো, দাদার সাথে বাকি জীবন টা কাটাবে। দাদা র ও তো বয়েস বাড়ছে। দাদাও চায় বাকি দিনগুলো শান্তি পেতে।"

বিশাখা বলে উঠে," দেখো দেবিকা তোমার দাদা বা অন্য কাউকে ই শান্তি দেওয়া আর সম্ভব নয়। তাছাড়া আমাকে ছাড়াই বহু বছর তোমার দাদা আছে। আমাকে তার খুব দরকার হবে না।

আমি জীবনে র সব সময়টাই সংসারের মানুষের জন্য ব্যয় করেছি‌ । নিজের কথা ভাবিনি। আর তাই সেদিন আত্মহত্যা করতেও গেছিলাম, অখিল না থাকলে আমি হয়তো বাঁচতাম না। এই যে জীবন টা নতুন করে পেয়েছি তা আমি অখিলের এই আশ্রয় এ থাকতে চাই। আজ অসুস্থ আমি । হয়তো বেশি দিন বাঁচবো না, ঠিকই ।কিন্তু আমার চিকিৎসার টাকা আমি কারোর থেকে নিতে চাই না। তোমরা ফিরে যাও। "

শুভঙ্কর বলে উঠে, "বিশাখা আমি অনেক আশা নিয়ে তোমায় ফেরাতে এসছি। বাকি দিনগুলো গুলো কি আমরা একসাথে কাটাতে পারি না? "

দেবিকা, " তাছাড়া দাদা থাকতে তুমি অন্য একজনের আশ্রয়ে থাকবে কেন... অনেক দিন তো হলো। এবার ফিরে চলো।"

বিশাখা বলে উঠে, "অন্য একজন অখিল তোমাদের কাছে, আমার কাছে ওই পরম বন্ধু। আমার এই নতুন জীবন ওর জন্য। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে আমি অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। শুধু অখিল কেই ...

দেখো শুভঙ্কর ঠিক যে সময় তোমাকে সত্যি পাশে চেয়েছিলাম সেই সময়টাই তো তুমি.. সেইসব পুরনো সময় আর আর মনে করতে চাই না।

বিশাখা জানায় সে যেতে চায় না। শুভঙ্কর কে সে ফিরিয়ে দেয়। সবাইকে সে চলে যেতে বলে।

সবাই ফিরে গেলো।

সূর্য অস্ত যাচ্ছে। বিকেলে র রঙিন আলো ছড়িয়েছে।

বিশাখা আশ্রমের কাছের বাগানে বসে আছে একা। অখিল এলো বললো, "তুমি সবাইকে ফিরিয়ে দিলে?কেন করলে?"

বিশাখা বললো, " আমি ওদের সাথে চলে গেলে তুমি খুশি হতে? তুমি সত্যি করে বলতো তুমি মন থেকে..।"

অখিল বললো," আমি তোমাকে সুখী দেখতে চেয়েছিলাম, তোমার অসুখটা দিন দিন বাড়ছে। সেটা আমার চিন্তা র কারন।"

বিশাখা অখিলের দিকে তাকিয়ে বললো, " আমি এখানে সবচেয়ে বেশি সুখী আছি। যে যত্নটা এতবছরে কেউ কখনও আমাকে করেনি তা তোমার থেকে পেয়েছি অখিল। বাকি দিনগুলো কি আমি তোমার আশ্রয়ে থাকতে পারি না..?

সন্ধ্যে নেমে গেলো।

কয়েকটা দিন পর....

বিশাখা র শরীর আরো অবনতি হয়েছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অখিল ঘরে ঢুকলো। বিশাখার ওষুধ গুলো টেবিলে রাখলো।

বিশাখা বিছানায় উঠে বসলো , বলে উঠলো, " তুমি টাকা পেলে কোথা থেকে?"

অখিল বললো," আশ্রমের পাশের জমিটা বিক্রি করে দিলাম বিশাখা। "

বিশাখা বলে উঠে," বাচ্চা দের খেলার মাঠ টা তুমি বিক্রি করে দিলে। আমার জন্য তুমি... আমার বোধাহয় ফিরে যাওয়াই ভালো ছিলো। আমি বোধহয় তোমার বোঝাই বাড়ালাম ‌।"

অখিল বিশাখা কাছে বসলো তারপর বললো," আমার প্রথমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিলো।

 আমি তোমাকে জোর করে তোমার পুরনো জীবনে ঠেলে দিচ্ছিলাম। যে জীবন তোমায় শুধু যন্ত্রনা দিয়েছে।

বিশাখা র হাতে হাত দিয়ে অখিল বললো, "যে ভরসা, যে বিশ্বাস তুমি আমাকে করেছো .. আমি তোমার পাশে আছি আর থাকবো।"

বিশাখার চোখে ফুটে উঠলো সুখের হাসি।



Rate this content
Log in

More bengali story from Riya Roy

Similar bengali story from Drama