Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUPRIYA MANDAL

Classics Inspirational Others


3  

SUPRIYA MANDAL

Classics Inspirational Others


"দুর্গা" (শরৎকাল)

"দুর্গা" (শরৎকাল)

2 mins 186 2 mins 186


"দাদা, শুধু টাকা নিয়ে কী করবো? একটু বাচ্চাটা-কে নিয়ে আসুন, আমরা ওকে দেখে আশীর্বাদ করেই চলে যাবো", দুঃখভরা গলায় দুর্গা বললো।


"না না, ওসবের কোনো প্রয়োজন নেই, এবার তাড়াতাড়ি বিদেয় হও, এই হিজড়েগুলো দেখছি জ্বালিয়ে খেলো", বারীনবাবু বিরক্ত হয়ে বলে উঠলেন।



দুই বছর পরের ঘটনা:


শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ খেলা করে বেড়াচ্ছে। অফিসের চাপ থাকায় মহালয়ার দিন বারীনবাবু তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে দামি গাড়িতে চেপে পুজোর বাজার করতে বেরিয়েছেন। ট্র্যাফিক সিগন্যালে এসে ওনাদের গাড়ি আটকে পড়লো, আর তখনই গাড়ির কাঁচে জোরে জোরে আওয়াজ। বারীনবাবু দেখলেন, একজন হিজড়ে টাকা চাইছে। "উফ্! এরা কোথাওই শান্তিতে যেতে দেবে না দেখছি", রেগে বলে উঠলেন। সবুজ সংকেত পেয়ে গাড়ি ট্র্যাফিক মোড় ছেড়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলো, পেছনে পড়ে রইলো হিজড়ের হাততালি।


কিন্তু কিছুদূর যেতেই উল্টোদিকের একটা লরি রাস্তায় আড়াআড়িভাবে এসে যাওয়াতে বারীনবাবুর গাড়ির স্পিড বেশি থাকায় সোজা গিয়ে ধাক্কা লাগলো লরির সাথে। ড্রাইভার স্পট ডেড, আর বাকিদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। বারীনবাবুর হালকা চোট লেগেছে, স্ত্রীর সেরকম বড় আঘাত লাগেনি। তবে হাসপাতাল থেকে জানানো হলো, তার মেয়ের অবস্থা গুরুতর; দ্রুত রক্তের দরকার, আর A নেগেটিভ রক্ত, যেটা পাওয়া যাচ্ছে না। ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে আত্মীয়-পরিচিত সকলকে ফোন করেও এক বোতল রক্ত জোগাড় করতে পারলেন না। সকলেই পুজোর কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। উদ্ভ্রান্তের মতো যখন তার অবস্থা, কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না, ঠিক সেই সময়েই জানতে পারলেন, একজনের রক্তের সাথে তার মেয়ের রক্তের গ্রুপ মিলে গেছে এবং সে নিজে থেকেই বাচ্চা মেয়েটির জীবন বাঁচাতে রক্ত দিতে রাজি।


বারীনবাবু দেখলেন, একজন মহিলা দাঁড়িয়ে, তার এই দুঃসময়ের ত্রাতা হিসেবে। আরও ভালো করে দেখলেন, এ তো সেই হিজড়ে দুর্গা; হিজড়ে বলে যাকে বা, যাদের দূরে সরিয়ে রাখতেন। আপনা থেকেই তার দু'চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো, হাত জোড় করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। বিবেকের দংশনে জর্জরিত হয়ে তার মনে হলো, দুর্গার চারপাশ যেন আলোয় ভরে যাচ্ছে। ঈশ্বর তো বিভিন্ন রূপে এসে আমাদের দেখা দেন, তাঁর বাস আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই। এই দুর্দিনে মর্ত্যের দুর্গার মধ্যে স্বয়ং মা দুর্গা যেন দেখা দিলেন।





Rate this content
Log in

More bengali story from SUPRIYA MANDAL

Similar bengali story from Classics