STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Romance Crime Fantasy

3  

Nityananda Banerjee

Romance Crime Fantasy

বৃত্তের বাইরে পর্ব একাত্তর

বৃত্তের বাইরে পর্ব একাত্তর

5 mins
3

পর্ব একাত্তর


সন্ধ্যে হল , রাতও হল । মহীউদ্দীনের পাত্তা নেই । মহিম এবং ভাবনা ঝুপড়ি থেকে বেরোয় আর ঢোকে । 

একসময় মহীউদ্দীন হন্তদন্ত হয়ে ঢুকল বাসায় ।

- কই গো তোমরা রেডি তো ? নাও অহন চল গিয়া মাচানে চড়বা ।

মহিম বুঝতে পারল ওদের গোরু ছাগলের মত ঝুলিয়ে কাঁটা তার পার করিয়ে দেবে । উপায় তো কিছু নেই; ওরা মহীউদ্দীনের পিছু পিছু চলল । 

এখান থেকে বেড়া ডিঙোনোর জায়গাটা খানিকটা দূরে । মেঠো রাস্তা বরাবর পা চালিয়ে ওরা অন্ধকারে হাঁটতে লাগল । 

মহীউদ্দীন ' ধীরে আসবা ' বলে ওদের আগে আগে চলল। কিন্তু কোথায় সীমান্তের কাঁটাতারে ঘেরা কল ! যা দিয়ে গোরু বাছুর ঝুলিয়ে ওপারে পাচার করা হয় ।

একটা ক্যাম্পের মত কিছু দেখতে পেল মহিম । বিজলি বাতি জ্বলছে । চার পাঁচ জন জোয়ান ক্যাম্পটা পাহারা দিচ্ছে । একটা জিপ গাড়িতে কয়েকজন জোয়ান তীরগতিতে তাদের দিকে আসছে ।

মহিম বুঝে গেল ওদের ভুলিয়ে উল্টোপথে এনেছে মহীউদ্দীন। বউকে বলল - পিছিয়ে চল । ও যাচ্ছে যাক । আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে চাচা । মনে হচ্ছে বি এস এফের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছে ।

ভাবনার ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেল । মহীউদ্দীন খোশ মেজাজে চলেছে । বোধ করি বি এস এফের সঙ্গে কিছু রফা হয়েছে।

পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মত ধানক্ষেতের আলগুলো উঁচু ও মোটা নয় । এখানে আলপথ খুবই ছোট ও নীচু । মহিম ও ভাবনা পিছন দিকে হাঁটতে লাগল । কিছু দূর যেতেই অন্ধকারে এঁটেল মাটিতে ভাবনা পিছলে পড়ে মুখে ' উঃ ' শব্দ করে ফেলল ।

মহীউদ্দীন পিছনে তাকিয়ে দেখে ওরা নেই । অমনি - পলাই গেল পলাই গেল- বলে চেঁচিয়ে জোয়ানদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে লাগল ।

সার্চ লাইটের আলোয় মহিম ও ভাবনা ধরা পড়ে গেল । তাদের আর দেশের বাড়ি ফেরা হল না । বি এস এফ ওদের গ্রেপ্তার করে সেই রাতেই বনগাঁ থানায় ওদের তুলে দিল ।

থানার হাজতে বড় রকমের খাতিরদারি পেয়ে মহিম স্বীকার করে নিল তারা সুস্থ জীবন যাপনের জন্য দেশে ফিরতে চেয়েছিল ।

পুলিশ তল্লাশিতে তেমন কিছু টাকাকড়িও পায়নি । মাত্র হাজার পাঁচেক টাকাই পেয়েছে । অথচ রিপোর্ট মোতাবেক ভরি ভরি সোনার গয়নার কোন হদিশ পেল না পুলিশ । ওদের ধারণা বি এস এফ সেগুলো গিলে ফেলেছে ।

পরের দিন রিপোর্টসহ ওদের লালবাজারে হস্তান্তর করা হল । ধুরন্ধর পুলিশ অফিসারেরা জিজ্ঞাসাবাদ করেও সোনা দানার হিসেব মেলাতে পারলেন না।

পুলিশ তখন বিশ্বাস করে নিল হয় বিভূতিভূশণ মিথ্যে কথা লিখেছেন ডায়েরীতে নতুবা মহীউদ্দীন নামের দালালটি সব হাতিয়েছে।


মহিম বলল - তারা কোন সোনাদানা আনেনি স্যার । শুধু বাংলাদেশে ফেরার জন্য চাচাকে হাজার টাকা আগাম দিয়েছিল । সোনা দানা ছিল না বলে মহীউদ্দিনের হাতানোর কথাও অস্বীকার করল ।

পুলিশ তথাপি বনগাঁ থানাকে বলল - মহীউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে পাঠিয়ে দিন ।

মহীউদ্দীন যে দালালির টাকা নিত তার সিংহভাগ বি এস এফ খেয়ে নিত । বাটিটুকুর মধ্যে এপারে ওপারে ভাগাভাগি করে নিতান্ত নগন্যই হাতে পেত । তবে সেখান থেকে চুরি করে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছিল ।

ওই টাকা একটা কলসিতে রেখে ধানক্ষেতের গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখত ।

বনগাঁ থানা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সহায়তা চাইল । তাদেরই কেউ মহীউদ্দীনকে খবর দিল পুলিশ আসছে তাকে পাকড়াও করতে ।

মহীউদ্দীন পালিয়ে গেল বাংলাদেশে । কিসসা খতম । বনগাঁ থানা তাকে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেল । মহীউদ্দীনও তার কৃত কর্মের ফল হাতে নাতে পেয়ে গেল।

আবার যখন এপারে আসবে তখন কি আর পুঁতে রাখা কলসি হাতে পাবে ! কারণ ধান কাটার কাজ শুরু হয়ে গেছে ।

যাই হোক, মহিম এবং ভাবনাকে কোক-ওভেন থানার পুলিশ হাতে পেয়ে বিভূতিভূষণকে ডেকে পাঠালেন । খবর পেয়ে গেল দিব্যেন্দু । নিমেষে খবর ছড়িয়ে দিল গোপালপুরে এবং করালীকে । 

কামদাকিঙ্করকে অনুরোধ করল এনি হাউ নির্দোষ মহিম এবং তার বউকে পুলিশি হেনস্থা থেকে বাঁচাতে। 

কামদাকিঙ্কর গুরুত্ব অনুধাবন করলেন । মহিম এবং ভাবনাকে তিনি দেখেছেন । তা ছাড়াও শম্ভুর মুখে মহিম সম্পর্কে কোন নেগেটিভ তথ্য পাননি ।

তিনি শম্ভুকে ডেকে জানিয়ে দিলেন ওরা সস্ত্রীক পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে । জেনেছি টাকা পয়সা গয়নাগাটি বাগিয়ে ওরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছিল ।

শম্ভু বেশ কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বলল - স্যার আমার তা' মনে হয় না । এখানেও বিভূতি স্যারের কোন মতলব কাজ করেছে । মহিম আর যাই হোক চোর ডাকাত নয় । 

- তুই কি ভাবে বুঝলি ?

- স্যার , মহিমের এ ধরণের স্বভাব থাকলে আজ ও এ ভাবে পথে পথে ঘুরত না বা পুলিশের হাতে পড়ত না । আমিও দেখেছি ওই বাড়িতে চুরি হলে তার হিসেব পাওয়া যায় না । কারণ ম্যাডাম বা তাঁর মেয়ে এমনকি স্যার নিজেও খুব অমিতব্যয়ী । তা-ছাড়া.....

কামদাকিঙ্কর শোনার জন্য ব্যগ্র হলেন । 

- তা ছাড়া ?

মহিম ইচ্ছে করলেই দিদিমণি যখন কিডন্যাপ হয়ে গিয়েছিল , সে লক্ষ লক্ষ টাকার ভাগ না নিয়ে স্রেফ বিভূতি স্যারের নেকনজরে পড়তে অরুণ বিনায়ক মিশ্র ও সাঙ্গপাঙ্গদের ধরিয়ে দিয়েছিল ।

যে টুকু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কামদাকিঙ্করের মনে ছিল তাও দূরীভুত হয়ে গেল । বললেন - তাহলে তুই কি বলিস? আমি মহিমকে হেল্প করতে পারি ?

শম্ভু অভিভূত হয়ে বলল - আপনি করবেন স্যার ? বেচারারা তবে তো বেঁচে যায় !

কামদাকিঙ্কর বললেন - ঠিক আছে তুই আয় ! আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দেখি ।

তিনি ভেবেছিলেন কোক ওভেন থানায় ফোন করলেই কাজ হয়ে যাবে । পরে ভাবলেন কিছু তো বিশ্বাস নেই, ওই থানার ওসি বিভূতির পেটোয়া লোক । প্রচুর খেতে পায় তো !

তিনি শ্রীধর মাইতিকে ফোন করলেন । মিঃ মাইতি বললেন - আমিও এরকমই কিছু আন্দাজ করেছিলাম । তবে স্যার, কেস যখন কোক ওভেন থানার ; আমার কথায় কোন কাজ হবে না । আপনি স্যার এস পি সাহেবকে বলুন । উনি বিভূতিভূষণের অনেক কিছুই জানেন ।

কামদাকিঙ্কর বললেন - ধন্যবাদ। আমি মিঃ পাঠককেই বরং বলি ঘটনার কথা ।

মিঃ পাঠক কোক ওভেন থানায় এসেছেন। কারণ লালবাজার তাঁর হাতেই মহিম এবং ভাবনাকে প্রত্যর্পণ করে দিয়েছে । তিনি তাদের চালান করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানায় ।

কামদাকিঙ্কর ফোন করলেন এস পি মিঃ পাঠককে । বললেন - আমি গোপালপুর থেকে প্রাক্তন এডভোকেঊ কামদাকিঙ্কর বলছি ।

মিঃ পাঠক বললেন - হ্যালো মিঃ মুখার্জী ! কেমন আছেন ?

- আমরা সকলেই ভালো আছি । একটা বিশেষ কারণে আপনাকে বিরক্ত করছি ।

- আরে বিরক্ত বলছেন কেন মিঃ মুখার্জী ! এক্ষুণি আপনার কথা হচ্ছিল ।

- আমার কথা ? আপনি কি মনে করেন আমি মহিম ও তার বউকে বিভূতির বাড়ি থেকে চুরি করতে বলেছি ?

- ওহো ! মিঃ মুখার্জী ! রসিকতা রাখুন । আপনি বরং এখনই কোক ওভেন থানায় চলে আসুন । আপনার সঙ্গে গোপন আলোচনা আছে । 

কামদাকিঙ্কর বললেন - সে না হয় যাচ্ছি তবে অনুরোধ করছি অভিযুক্তদের প্রতি নির্মম হবেন না । ওদের কথাগুলো একটু মন দিয়ে শুনবেন ।

মিঃ পাঠক বললেন - আমি বুঝেছি আপনার কথা । চিন্তা নেই - আমি যতক্ষণ আছি কেউ কিছু করতে পারবে না ।

- বিভূতির মত ধুরন্ধর লোক অনেক কিছুই করে দিতে পারে মিঃ পাঠক । 

- আপনি আসুন তো ! সব আলোচনা হবে ।

কামদাকিঙ্কর ক্ষণপ্রভা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে চললেন কোক ওভেন থানায় । শম্ভুকে বলে গেলেন বাড়ি ঘরদোর দেখিস । 

শম্ভু বলল - প্রাণ থাকতে কিচ্ছুটি হতে দেব না স্যার । আপনি নিশ্চিন্তে আসুন ।

( চলবে )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance