Sonali Basu

Romance

2  

Sonali Basu

Romance

ভালোবাসার আগমন

ভালোবাসার আগমন

10 mins
1.1K


প্রতিদিনই ভোর ভোর উঠে পড়ে নীলা। তারপর ওর ছকে বাঁধা কাজ শুরু হয়। বাড়ির কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে দোকান ছোটে ও। তারপর সারাদিন মাঝে দুপুরের কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে সারা সন্ধ্যা ওখানে কাটিয়ে রাতে যখন বাড়ি ফেরে তখন ওর শরীরে বা মনে কোন উৎসাহ আর বাকি থাকে না টিভি বা মোবাইল দেখার। কোনমতে খাওয়াদাওয়া সেরে বিছানায় যেতে পারলেই শান্তি। রাজ্যের ক্লান্তি ওকে পলকে ঘুমের দেশে নিয়ে পালায়। সেখান থেকে আবার বাস্তব জগতে ও ফেরে ভোরের এ্যার্লামে। আজও প্রতিদিনের মতো বাজারের শেষে ওর দোকান যখন খুললো তখনো এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটাকে কুয়াশা পরম আদরে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। রোদের মুখ দেখা পেতে আরও অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। দোকান খুলে সব ঝেড়েমুছে পরিপাটী করে বসতে যাবে এমন সময় একজন পুরো গরম কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় এসে কাঁপতে কাঁপতে হিন্দিতে বলল “এক কাপ কড়া করে চা খাওয়ান তো” হিন্দিতে বললেও নীলার বুঝতে সময় লাগলো না যে লোকটা বাঙালি তাই এক পলক চায়ের খরিদ্দারকে দেখে বাংলায় “এখনি দিচ্ছি” বলেই গ্যাস স্টোভে চা বসালো। লোকটা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলেই ফেলল “আপনি বাঙালি?” নীরবে মাথা নাড়লো নীলা। চা তৈরি করে দিতে বেশীক্ষণ সময় নিলো না ও। চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলো “বিস্কুট লাগবে?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ দিন, খুব খিদে পেয়েছে”

বিস্কুট দিয়ে ও মন দিয়ে লোকটিকে দেখলো। কমবয়সি ছেলে সাথে রুক্স্যাক যার মানে পর্বতারোহণ বা ভ্রমণে বেরিয়েছে। যতদূর মনে হয় কলকাতার বাসিন্দা আর জামাকাপড়ের অবস্থা বলে দিচ্ছে অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে। কিন্তু বেশীরভাগ এরকম ঘরের ছেলেরা তো একা ভ্রমণে বেরোয় না দলে আসে। তাহলে কি সাথীদের হারিয়ে ফেলেছে? নানান প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে শুরু করলো কিন্তু জিজ্ঞেস করা উচিত হবে কি না এই ভেবে আর এগোলো না। চা’টা শেষ করেই যুবকটি বলল “আর এক কাপ হবে? বাপরে কি ঠাণ্ডা! আপনারা এখানে থাকেন কি করে?”

“সবই অভ্যেসের ব্যাপার”

“তা বটে”

“আপনি কি বেড়াতে এসেছেন?”

“এরকম তাই বলা যেতে পারে”

“একা?”

“হ্যাঁ” তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে যুবক বললো “আপনি তো এখানকারই বাসিন্দা। ভালো হোম স্টের খবর দিতে পারবেন? আজ খুব ভোরে এসে পৌঁছেছি এখানে। আসলে এখানে আসার কোন প্ল্যান ছিল না। বন্ধুদের সাথে এসেছিলাম দার্জিলিং। ওখানেই এই জায়গার গুণগান শুনে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। বাকিরা কেউ আসতে চাইলো না। আমি একাই চলে এলাম। কিন্তু এখানে এসে বেশ অসুবিধায় পড়েছি। যে কটা হোটেলে গিয়েছিলাম একটাতেও মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইনি”

“হ্যাঁ জায়গাটা খুব প্রচলিত পাহাড়ি গ্রাম নয়তো তাই খুব বেশি হোটেল গড়ে ওঠেনি। ওই আপনাদের মতো দু চারজন ছিটকে আসা ভ্রমণার্থী আসে এখানে। তাদের ওই হোটেলেই কুলিয়ে যায় নাহলে হোম স্টে। বেশি নেই তবে একা তো মনে হয় জায়গা পেয়ে যাবেন” বলে নীলা একটা কাগজের ওপর দুটো ঠিকানা লিখে দিলো। তারপর যুবকের হাতে দিয়ে বলল “এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন মনে হয়”

যুবকটি চলে গেলে নীলা আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। রোদ উঠেছে ঝলমলিয়ে। পর্যটকরা রাস্তায় নেমেছেন ঘুরতে। তার আগে অনেকেই ওর দোকানে এসে চায়ে গলাটা ভিজিয়ে নিচ্ছেন। নীলাকে আলাপী পেয়ে অনেকেই গল্প করে ওর সাথে আর কাজের ফাঁকে ও নানারকমের গল্প শোনে। ওর মনের ভেতরেও একটা গল্প সারাদিন ছটফট করে কিন্তু আজ পর্যন্ত ও কাউকেই এই গল্প শোনায়নি। ও বিশেষ একজনের অপেক্ষায় আছে যাকে ও গল্পটা শোনাতে পারবে।  

গল্পের সাথে খাবারের খুব সখ্যতা। মানুষ গল্প শুনতে শুনতে খেতে বা খেতে বসে গল্প শুনতে ভালোইবাসে। তাই মা যবে থেকে দোকানে বসা বন্ধ করেছে তবে থেকে ও বসে দোকানে। ওর এই খাবারের দোকানের বয়েস অনেক। এটা প্রথম চালু করেছিল ওর দাদু মাধবজী। দাদু এই পাহাড়ের সন্তান । তখন দোকানে চা বিস্কুট পাউরুটি এসবই পাওয়া যেতো। তবে ও এটাকে শুধু চায়ের দোকান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেনি। সকালের জলখাবারের ব্যবস্থাও রেখেছে এখন।

বেলা বেশ গড়িয়ে গেছে, এখন ও দোকান বন্ধ করবে। এরপর দোকানের কিছু জিনিস কিনতে বাজারে ঘুরবে তারপর সেগুলো দোকানে রেখে বাড়ি যাবে।

দোকান সবে বন্ধ করবে সকালের সেই যুবক এসে হাজির। ও বলল “কিছু লাগবে তাহলে তাড়াতাড়ি বলুন। আমি দোকান বন্ধ করবো”

যুবক বলল “আপনি যে দুটো লজের ঠিকানা দিলেন আমার একটাও পছন্দ হয়নি। আর কোন হোম স্টে পাওয়া যাবে না?”

নীলা এক পলক চেয়ে থেকে বলল “আর কোনো ? ঠিক আছে চলুন আমার সাথে। এটাই শেষ চেষ্টা। এরপর হয়তো আপনাকে ফিরে যেতে হবে”

হাঁটতে হাঁটতে ওরা এসে পৌঁছালো একটা বাড়ির সামনে। ছোট্ট বাড়ি তবে সামনে একটা ছোট্ট বাগানের কারণে পুতুলের বাড়ির মতো দেখতে লাগছে। সেই মুহূর্তে এক বয়স্কা মহিলা বাগানের গাছে থেকে কি যেন তুলছে। নীলা ডেকে উঠলো “মা!”

মহিলা ঘুরে তাকিয়ে ওদের দেখে বলল “কি রে নীলা, আজ এতো তাড়াতাড়ি? আর এ কে?”

“পর্যটক। কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে এখানে থাকার জায়গা চাইতে এসেছে”

“কিন্তু আমরা তো এখন ওই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি … তাই…………”

যুবক বলল “একদিনের জন্য অন্তত দিন। আমি কালকেই চলে যাবো”

খানিক ভেবে নীলার মা বলল “এক রাতের ব্যাপার যখন তখন ঠিক আছে। তা তোমার নাম কি?”

“জয়ন্ত”

“আমি মালতী। আমাকে মালতী আন্টি বলতে পারো ……… নীলা ওকে ওই দক্ষিণ দিকের ঘরটা খুলে দে” তারপর জয়ন্তর উদ্দেশ্যে বলল “তুমি যখন এখানেই থাকছ খাবারের ব্যবস্থাও এখান থেকেই হবে” তারপর আবার মেয়ের উদ্দেশ্যে “এই নে চাবি, ঘরটা একটু ঝাড়পোঁছ করে দিবি”

‘দাও” বলে নীলা এগিয়ে গেলো সেই ঘরের উদ্দেশ্যে। খানিক পরে ফিরে এসে বলল “আসুন” পেছন পেছন জয়ন্ত তার ব্যাগ নিয়ে। জয়ন্তকে ঘরে পৌঁছে দিয়ে ও বলল “এটা পছন্দ হয়েছে?”

“দারুণ। তার সাথে মালকিনকেও ভালো লেগেছে” ভ্রু কুঁচকে ওকে একবার দেখেই ফিরে এলো ও। ফিরে এসে নীলা বলল “মা আমি বাজার যাচ্ছি। দোকানের কিছু জিনিস আনতে হবে। তোমার কি কিছু আনতে হবে?”

“না যা আছে হয়ে যাবে। কিন্তু তুই একে কোথায় পেলি?”

নীলা বলল সব। মালতী সব শুনে বলল “দেখিস বেশি মাখামাখি করিস না। নাহলে আমার মতো পস্তাতে হবে”

নীরবে মাথা নেড়ে নীলা থলি হাতে বেরিয়ে গেলো। বাজার সেরে এসে দেখল মায়ের রান্না তখনো শেষ হয়নি। তাড়াতাড়ি হাতের জিনিসগুলো নামিয়ে রেখে এসে মাকে সাহায্য শুরু করলো। দুপুরে খেতে বসে জয়ন্ত ভূয়সী প্রশংসা করলো রান্নার। নীলা হাসলেও বলল না কে রান্না করেছে পদগুলো।

বিকেলে ঘুম থেকে উঠে জয়ন্ত যখন বাইরে এলো দেখলো আন্টি বাড়ির সামনের ছোট্ট বারান্দায় বেতের টেবিল পেতে চায়ের সরঞ্জাম রেখেছে। ওকে দেখে বলল “এসো জয়ন্ত, চা খাবে নিশ্চই”

জয়ন্ত মাথা হেলিয়ে বলল “হ্যাঁ” তারপর একটা চেয়ার টেনে বসলো ও। এদিকওদিক তাকিয়ে নীলাকে খুঁজে পেলো না। তবে ও নীলা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলো না বরং এই পাহাড়ি গ্রাম থেকে আর কোথায় ঘুরতে যাওযরাস্তায় বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জয়ন্ত বাজারে এসে পড়লো। বাজারে এসে পৌঁছালে ও এ দোকান ও দোকান ঘুরে সেই নীলার দোকানের কাছে এসে দাঁড়ালো। নীলা তখন খরিদ্দার সামলাতে ব্যস্ত। জয়ন্তর ইচ্ছে হল ওর হাতে এক কাপ চা খাওয়ার। তাই ও এক কাপ চায়ের অর্ডার করলো। নীলা ওকে চা এগিয়ে দিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিলো ঠিকই কিন্তু ওর কেন জানি মনে হল জয়ন্ত চা খেতে নয় অন্য কোন কারণেই দোকানে এসে উপস্থিত হয়েছে। সন্ধ্যের পর যখন চা’পায়িদের ভিড় কমে গেলো তখন জয়ন্ত বলল “তুমি রান্না দারুণ করো” আপনি থেকে জয়ন্তর বিনা ভূমিকায় তুমিতে আসাটা নীলার মন্দ লাগেনি।

“ধন্যবাদ কিন্তু বুঝলেন কি করে যে আমিই করেছি?”

“আন্দাজ। তোমার মায়ের কাছে শুনলাম এখানে নাকি সামনে খুব সুন্দর একটা ঝর্ণা আছে”

“হ্যাঁ আছে, বেশি দূর নয় এখান থেকে আধঘণ্টার হাঁটাপথ”

“কাল আমাকে নিয়ে যাবে?”

“সে আমি পথ দেখিয়ে দেবো আপনি একাই চলে যেতে পারবেন”

“একা চলে এসেছিলাম এই জায়গায় কিন্তু এখন বাকি পথটুকু তো একা যেতে ইচ্ছে করছে না যেখানে পাশে হাঁটার মতো একজন আছে”

নীলা হাসল “আপনি ভালোই বলতে পারেন তবে আমি যাবো কি ভাবে আমার এই দোকানের ওপর সব নির্ভর করে আছে”

“আমি খেয়াল করেছি তুমি বেলার দিকে দোকান বন্ধ করে দাও। আমরা নাহয় তারপরেই বেরবো”

উপায় না থাকাতে ও বলল “বেশ তবে আমি কিন্তু বেশীক্ষণ থাকতে পারবো নপরেরদিন ওরা পায়ে হেঁটে ঝরনার কাছে গিয়ে উপস্থিত হল। জয়ন্ত উল্লসিত “কি সুন্দর! যেন স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে”

নীলা বলল “হ্যাঁ সুন্দর তবে ভয়ঙ্কর”

“মানে?”

“সব সুন্দরের পেছনে ভয়ঙ্কর কিছুও থাকে যা মানুষকে আজীবন ভুলতে দেয় না”

“মনে হচ্ছে এর পেছনে কোন গল্প আছে”

আজ কেন জানিনা নীলার মনে হল ওর বলতে চাওয়া গল্পটা শোনার সত্যিকারের শ্রোতা ও এতদিনে পেয়ে গেছে। ও শুরু করলো- 

এই গল্পটা একটা কমবয়সী সংসার সম্পর্কে অনভিজ্ঞ মেয়ে মালতীকে নিয়ে। তার বাবা মা আর তাকে নিয়ে এক ছোট্ট সুখী পাহাড়ি পরিবার। তার বাবার বাজার এলাকায় একটা চায়ের দোকান আছে। তাতে খুব যে রোজগার হয় তা নয় তবে ওটা চালিয়ে আর ওদের ছোট বাড়ি পর্যটকদের ভাড়ায় দিয়ে আর ফলের বাগানের ফল বিক্রি ওদের বেশ চলে যায়। মালতী মাঝেমাঝেই বাড়ির কাজ সেরে দোকানে আসতো বাবাকে সাহায্য করতে। সে সময়টা শরতের শুরু। হঠাৎ এক ঝড় জলের রাতে একদল পর্যটক এসেছিল এখানে তাদের এক আহত প্রায় মৃত সহযাত্রীকে নিয়ে সাহায্য চাইতে। মাধবজী তাকে নিয়ে তুলেছিল নিজের বাড়িতে। পর্যটক নেই বলে রাখতে অসুবিধে হয়নি। মালতীই শুরু করেছিল প্রাথমিকভাবে শুশ্রূষা। বাকিরা বন্ধুকে খানিকটা ভাল হতে দেখে ফিরে গিয়েছিল যে যার বাড়িতে। অসুস্থ জন প্রায় মাস দুয়ের মতো ছিল মালতীদের বাড়িতে। ধীরে ধীরে শুধু সুস্থ হয়নি মন দেওয়া নেওয়াও হয়ে গিয়েছিল দুজনের মধ্যে।

তারপর একদিন সময় এলো ছেলেটির ফিরে যাওয়ার। এবার মালতী বুঝলো ওর প্রাণের টুকরো নিয়ে ওর ভালোবাসার লোক চলে যাচ্ছে, কেঁদে ফেলেছিল ও। ওর ভালোবাসার মানুষটি কথা দিয়েছিল ও আসবে ওকে নিয়ে যেতে। চলে গেলো তবে কথা রেখেছিল সে, এসেছিল তবে জ্যান্ত অবস্থায় নয় মৃত”

এই জায়গায় এসেই জয়ন্তর প্রশ্ন “মানে?”

“সে ছিল পর্বতপ্রেমী। যেবার অসুস্থ হয়ে এসেছিল সেবার এক পর্বত শিখরে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েও শেষ করতে পারেনি। তাই দ্বিতীয়বার যখন মালতীর কাছে আসবে বলে স্থির করলো তখন পরিকল্পনা নিলো সেই অসমাপ্ত পাহাড়ে উঠে ফেরার পথে পাহাড়িয়া কন্যা মালতীকে চেয়ে নিয়ে যাবে। হল না। পাহাড়ে ওঠা হল কিন্তু পাহাড়িয়া কন্যা মালতীর হাত চাওয়া হল না। ফেরত আসার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তার। এদিকে মালতীর শরীরে তখন বেড়ে উঠছে ওদের ভালোবাসার চিহ্ন। ভালোবাসার পুরুষটার শরীরটা ঝরনার জলে ভেসে এসেছিল। মালতীর এক বান্ধবী খবরটা এনেছিল। ও গিয়েছিল ঝরনায় জল আনতে। বান্ধবীর কথা বিশ্বাস করেনি ও, পাগলের মতো ছুটে গিয়েছিল মালতী ঝরনার কাছে। ঘটনার সত্যতা দেখে আছারিপিছারি কেঁদেছিল। তারপর যা হয়। বাবা মা সব জানলো এমনকি অনাগত সন্তানের কথাও। অনেক কথা শুনতে হয়েছে মালতীকে কিন্তু ও গোঁ ধরেছিল ভালোবাসার সন্তানকে ও জন্ম দেবে আর দিয়েছেও। এক ফুটফুটে কন্যার জননী হল ও। মেয়েকে বাবার মতো দেখতে বলে ওকে ওর বাবার মতোই ওকে গড়ে তুলেছে কিন্তু একটা কথাই শিখিয়েছে ভুলেও যেন কোনদিন প্রেমে না পড়ে তাহলে ওর মায়ের মতোই ওকেও ভুগতে হতে পারে। আর এই ঝরনার সামনে এলেই মেয়েটার আজও এই গল্পটা মনে পড়ে”

জয়ন্ত খানিক চুপ করে থেকে বলল “কিন্তু মানুষই ভালোবাসে, ভালোবাসা পেতে ভালোবাসে”

“হয়তো ঠিক কিন্তু……………………” নীলা চুপ করেই রইলো।

“অনেক ঘটনা মানুষের মনে সন্দেহ এনে দেয় কিন্তু তাই বলে ভালো কিছু নেই এটা সত্যি নয়”

“চলুন অনেক দেরী হয়ে গেলো, এরপর ফিরলে মা চিন্তা করবে” ওরা দুজনেই ফিরতে শুরু করলো। জয়ন্ত বলল “তুমি কোনদিন কারো প্রেমে পড়নি?”

“না। আমাদের যা জীবনযাপন তাতে ভালোবাসার সময় কোথায়? মা যার সাথে বিয়ে দেবে তাকেই জীবনসঙ্গী করে নেবো”

“ও… কিন্তু আমি এই প্রকৃতির মাঝে এসে এক প্রকৃতি কন্যার প্রেমে পড়েছি। জানতে চাও না কে সেই কন্যা?”

নীলা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে উত্তর দিলো “না, জেনে লাভ নেই। কারণ আপনারা সমতলের মানুষ পাহাড়ে শুধুই বেড়াতে এসেছেন। আজ বাদে কাল ফিরেও যাবেন। এখানকার জীবনের সাথে সমতলের জীবনযাপন মেলে না। পরিবারের বাকি সদস্যরাও এরকম ভালোবাসা মেনে নেবেন না, কারণ তাদের মনে তাদের ছেলেকে নিয়ে কিছু স্বপ্ন আছে। সেখানে এই পাহাড়ি কন্যার স্থান কোথায়? তাই বেড়াতে আসার সুখ স্মৃতি আপনারা এ্যালবামে তুলে রেখে দিয়ে মাঝে মধ্যে হয়তো দেখবেন বা নতুন জায়গায় গেলে আগেরটা ভুলেও যেতে পারেন। কিন্তু পাহাড়ে যাকে ছেড়ে যাবেন তার তো কোন বিকল্প থাকবে না। তাকে চোখের জলেই বাকি জীবনটা কাটাতে হবে এই আশায়, যদি ফেরে!”

“নীলা…” জয়ন্তর মুখে নিজের নাম শুনে ও একবার ঘুরে তাকালো কিন্তু আর কিছু না বলে ও এগিয়ে যেতে থাকলো। জয়ন্ত বলল “আমি তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি নীলা আর এখন পিছিয়ে আসা তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়” কথাটা শুনেই নীলা স্থির দাঁড়িয়ে পড়লো, যেন কেউ ওকে পুতুলে পরিণত করেছে। জয়ন্ত এগিয়ে এসে আস্তে করে ওর হাতটা ধরলো তারপর বলল “তোমার বাবা তোমার মাকে ঠকায়নি তবে নিয়তি তাদের মিলতে দেয়নি। আমিও তোমায় ঠকাবো না। আমি সত্যিই তোমাকে বিয়ে করে সুখী হতে চাই জীবনে”

এতক্ষণে নীলা বলল “আমার সব বিষয়েই মায়ের কথাই শেষ কথা”

“ঠিক আছে আমি তোমার মায়ের সাথেই কথা বলবো”


জয়ন্ত মালতী আন্টিকে সব বলল। মালতী সব শুনে অবাক হল না। ওর কেন জানি মন বলছিল ওর মেয়ের জীবনেও ওর সাথে ঘটা ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। ও বলল “তোমার বাবা মা মেনে নেবেন এই সম্পর্ক”

জয়ন্ত হাসলো তারপর বলল “আমার কোন পরিবার নেই। ছোট ছিলাম যখন তখনি বাবা মা আলাদা হয়ে গেছেন। আমি হোস্টেলে মানুষ। ওখানকার খরচ সব বাবা দিয়েছেন তবে বাবা মা কোনদিন দেখা করতেও আসেননি। কলেজ পাশ করে এখন চাকরি করি সেই টাকায় উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াই। আজ নীলাকে দেখে আমার মনে হয়েছে জীবনে আমারও এক উদ্দেশ্য আছে। ওর সাথে তাই নতুনভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চাই”

মালতী জয়ন্তর স্বীকারোক্তি শুনে খুব খুশি হল। ঘুরে মেয়েকে ডাকতে যাচ্ছিলো দেখল সে দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে। ও বলল “কাল সামনের শিব মন্দিরে তোমাদের চার হাত এক করে দেবো”

নীলা দেখল জয়ন্ত হাসিমুখে ওর দিকে তাকিয়ে। ও লজ্জায় আড়ালে চলে গেলো।


  


া”

“ঠিক আছে অল্প সময়ই সই”


়া যায় তাই জানতে চাইলো মালতীর কাছে। চা পর্ব শেষ হলে ও বলল “আমি তাহলে একটু আসেপাশে ঘুরে আসি”



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Romance